আল্লাহ তা’আলার গুণবাচক নাম ও এর অর্থ

0
1081
Allah
Allah

الله (আল্লাহু) শব্দটি আল্লাহ তা’আলার সত্তাগত নাম। এর অর্থ পৃথিবীর কোনো ভাষায়ই কখনোই করা সম্ভব নয়। আর এছাড়া তাঁর নিরানব্বইটি সিফাতী অর্থাৎ গুণবাচক নাম রয়েছে। এগুলোরও প্রকৃত অর্থ বাংলা বা অন্য কোনো ভাষায় করা যায় না। এখানে যে অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে- এগুলো ইঙ্গিত মাত্র।
এসব গুণবাচক নামগুলোর মধ্য থেকে কিছু একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্যই সত্তাগত। এ সিফাতগুলোকে যাতি সিফাত অথবা সত্তাগত গুণাবলী বলা হয়। এ জাতীয় গুণাবলী আল্লাহ তা’আলার মোট ৮ টি। যথা- অনাদি-অনন্ত থেকেই তিনি জীবিত জীবন্ত, কুদরত তথা অসীম শক্তি, নিখুত জ্ঞান- যা সব কিছুকে বেষ্টন করে রেখেছে, ব্যাপক ইচ্ছাশক্তি, সর্বময় শ্রবণ শক্তি, সর্বময় সর্বত্র দৃষ্টিশক্তি, অসীম এবং অস্তিত্ব প্রদান ইত্যাদি।

অপরদিকে অন্যান্য গুণাবলীর কিছু অংশ আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে মানবজাতিকে অস্থায়ী এবং সীমিতরূপে দেওয়া হয়েছে। এগুলোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নামের মিল; অন্য কোনো মিল নেই। কারণ বান্দা এসব গুণাবলীর ক্ষেত্রেও পৃথিবীর আসবাব-উপকরণের মুখোপেক্ষী।
অপরদিকে আল্লাহ তা’আলা এক্ষেত্রে কোনো কিছুরই মুখোপেক্ষী নন। যথা- বান্দা দৃষ্টিপাত করার জন্য চোখের মুখোপেক্ষী; শ্রবণ করার জন্য কানের মুখোপেক্ষী ইত্যাদি। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা এসবের কোনো কিছুরই মুখোপেক্ষী নন।
আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বইটি গুণবাচক নাম সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِنَّ لِلهِ تَعَالي تِسْعَةً وَتِسْعِيْنَ إِسْمًا- مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّة-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বইটি গুণবাচক নাম রয়েছে। যে এই নামগুলো মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সুনানে তিরমিযীঃ হা-৩৫০৭)

আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বইটি নাম নিম্নরূপঃ

هُوَ اللهُ الَّذِيْ لَا إِلهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمنُ- الرَّحِيْمُ- الْمَلِكُ- الْقُدُّوْسُ- السَّلَامُ- الْمُؤْمِنُ- الْمُهَيْمِنُ- الْعَزِيْزُ- الْجَبَّارُ- الْمُتَكَبِّرُ- الْخَالِقُ- الْبَارِئُ- الْمُصَوِّرُ- الْغَفَّارُ- الْقَهَّارُ- الْوَهَّابُ- الرَّزَّاقُ- الْفَتَّاحُ- الْعَالِمُ- الْقَابِضُ- الْبَاسِطُ- الْخَافِضُ- الرَّافِعُ- الْمُعِزُّ- الْمُذِلُّ- السَّمِيْعُ- الْبَصِيْرُ- الْحَكَمُ- الْعَدَلُ- اللَّطِيْفُ- الْخَبِيْرُ- الْحَلِيْمُ- الْعَظِيْمُ- الْغَفُوْرُ- الشَّكُوْرُ- الْعَلِيُّ- الْكَبِيْرُ- الْحَفِيْظُ- الْمُقِيْتُ- الْحَسِيْبُ- الْجَلِيْلُ- الْكَرِيْمُ- الرَّقِيْبُ- الْمُجِيْبُ- الْوَاسِعُ- الْحَكِيْمُ- الْوَدُوْدُ- الْمَجِيْدُ- الْبَاعِثُ- الشَّهِيْدُ- الْحَقُّ- الْوَكِيْلُ- الْقَوِيُّ- الْمَتِيْنُ- الْوَلِيُّ- الْحَمِيْدُ- الْمُحْصِي- الْمُبْدِي- الْمُعِيْدُ- الْمُحْيِي- الْمُمِيْتُ- الْحَيُّ- الْقَيُّوْمُ- الْوَاجِدُ- الْمَاجِدُ- الْوَاحِدُ- الْأَحَدُ- الْصَّمَدُ- الْقَادِرُ- الْمُقْتَدِرُ- اَلْمُقَدِّمُ- الْمُؤَخِّرُ- الْأَوَّلُ- الْآخِرُ- الظَّاهِرُ- الْبَاطِنُ- الْوَالِي- الْمُتَعَالِي- الْبَرُّ- التَّوَّابُ- الْمُنْتَقِمُ- الْعَفُوُّ- الرَّؤُوْفُ- مَالِكُ الْمُلْكِ- ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ- اَلْمُقْسِطُ- الجَامِعُ- الْغَنِيُّ- الْمُغْنِي- الْمَانِعُ- الضَّارُّ- النَّافِعُ- النُّوْرُ- الْهَادِي- الْبَدِيْعُ- الْبَاقِي- الْوَارِثُ- الرَّشِيْدُ- الصَّبُوْرُ-

আল্লাহ তা’আলার নিরানব্বইটি গুণবাচক নামের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থঃ

১. আর-রহমান (অত্যন্ত দয়ালু)
২. আর-রহীম (পরম করুণাময়)
৩. আল-মালিক (অধিপতি)
৪. আল-কুদ্দুস (পবিত্র)
৫. আস-সালাম (শান্তিময়)
৬. আল-মুমিন (তত্ত্বাবধায়ক)
৭. আল-মুহাইমিন (রক্ষক)
৮. আল-আযীয (পরাক্রমশালী)
৯. আল-জাব্বার (শক্তি প্রয়োগে সংশোধনকারী)
১০. আল-মুতাকাব্বির (মহিমান্বিত)
১১. আল-খালিক (সৃষ্টিকারী)
১২. আল-বারিউ (আবিস্কারক)
১৩. আল-মুসাওয়ির (আকৃতিদাতা)
১৪. আল-গাফফার (পরম ক্ষমাশীল)
১৫. আল-কাহহার (মহাপরাক্রান্ত)
১৬. আল-ওয়াহহাব (মহাদাতা)
১৭. আর-রাযযাক (রিযিকদাতা)
১৮. আল-ফাত্তাহ (মহাবিজয়ী)
১৯. আল-আলীম (মহাজ্ঞানী)
২০. আল-কাবিদ (সংকোচনকারী)
২১. আল-বাসিত (সম্প্রসারণকারী)
২২. আল-খাফিয (অবমাননাকারী)
২৩. আর-রাফি (উন্নয়নকারী)
২৪. আল-মুইয (সম্মানদাতা)
২৫. আল-মুযিল (অপমানকারী)
২৬. আস-সামি (সর্বশ্রোতা)
২৭. আল-বাসির (সর্বদ্রষ্টা)
২৮. আল-হাকাম (বিচারক)
২৯. আল-আদাল (ন্যায়পরায়ণ)
৩০. আল-লাতীফ (সূক্ষ্মদর্শী)
৩১. আল-খবীর (সর্বজ্ঞ)
৩২. আল-হালীম (চরম ধৈর্য্যশীল)
৩৩. আল-আযীম (মহিমাময়)
৩৪. আল-গফুর (পরম ক্ষমাকারী)
৩৫. আশ-শাকুর (গুণগ্রাহী)
৩৬. আল-আলিয়উ (সর্বোচ্চ সমাসীন)
৩৭. আল-কাবীর (সুমহান)
৩৮. আল-হাফীয (মহারক্ষক)
৩৯. আল-মুকীত (আহার্যদাতা)
৪০. আল-হাসীব (হিসাব গ্রহণকারী)
৪১. আল-জালীল (মহিমান্বিত)
৪২. আল-কারীম (অনুগ্রহকারী)
৪৩. আল-রাকীব (পর্যবেক্ষণকারী)
৪৪. আল-মুজীব (ডাকে সাড়া দানকারী)
৪৫. আল-ওয়াসিউ (সর্বব্যাপী)
৪৬. আল-হাকীম (প্রজ্ঞাময়)
৪৭. আল-ওয়াদুদ (প্রেমময়)
৪৮. আল-মাজীদ (গৌরবময়)
৪৯. আল-বাইস (পুনরুত্থানকারী)
৫০. আশ-শাহীদ (প্রত্যক্ষকারী)
৫১. আল-হক (সত্য প্রকাশকারী)
৫২. আল-ওয়াকীল (কর্ম ব্যবস্থাপক)
৫৩. আল-কওয়িয়্যু (মহা শক্তিশালী)
৫৪. আল-মাতীন (দৃঢ়তা সম্পন্ন)
৫৫. আল-ওয়ালিয়্যু (অভিভাবক)
৫৬. আল-হামীদ (প্রশংসিত)
৫৭. আল-মুহসী (হিসাব গ্রহণকারী)
৫৮. আল-মুবদি (আদি স্রষ্টা)
৫৯. আল-মুঈদ (পুনঃসৃষ্টিকারী)
৬০. আল-মুহয়ী (জীবনদাতা)
৬১. আল-মুমীত (মৃত্যুদাতা)
৬২. আল-হাইয়্যু (চিরঞ্জীব)
৬৩. আল-কাইয়্যুম (সর্ব ব্যবস্থাপক ও পরিচালক)
৬৪. আল-ওয়াজিদ (প্রাপক)
৬৫. আল-মাজিদ (মহান)
৬৬. আল-ওয়াহিদ (একক)
৬৭. আল-আহাদ (এক অদ্বিতীয়)
৬৮. আস-সামাদ (অমুখোপেক্ষী)
৬৯. আল-কাদির (সক্ষম)
৭০. আল-মুকতাদির (ক্ষমতাবান)
৭১. আল-মুকাদ্দিম (অগ্রগামী)
৭২. আল-মুআখখির (পিছুগামী)
৭৩. আল-আওয়াল (সর্বপ্রথম অর্থাৎ অনাদি)
৭৪. আল-আখির (সর্বশেষ অর্থাৎ অনন্ত)
৭৫. আয-যাহির (প্রকাশ্য)
৭৬. আল-বাতিন (গোপন সত্তা)
৭৭. আল-ওয়ালি (দায়িত্বশীল)
৭৮. আল-মুতা’আলি (সর্বোচ্চ মর্যাদাশীল)
৭৯. আল-বার (কৃপাময়)
৮০. আত-তাওয়াব (তওবা গ্রহণকারী)
৮১. আল-মুনতাকিম (শাস্তি প্রদানকারী)
৮২. আল-আফুউ (ক্ষমাশীল)
৮৩. আর-রঊফ (করুণাময়)
৮৪. মালিকুল মূলক (সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র অধিকারী)
৮৫. যুল জালালি ওয়াল ইকরাম (মহিমাময় মহানুভব)
৮৬. আল-মুকসিত (ন্যায়পরায়ণ)
৮৭. আল-জামিউ (একত্রকারী)
৮৮. আল-গনিউ (বিত্তবান)
৮৯. আল-মুগনিউ (অভাব মোচনকারী)
৯০. আল-মানিউ (প্রতিরোধকারী)
৯১. আদ-দার (ক্ষতির ক্ষমতাধিকারী)
৯২. আন-নাফিউ (কল্যাণকারী)
৯৩. আন-নুর (জ্যোতির্ময়)
৯৪. আল-হাদি (পথ প্রদর্শক)
৯৫. আল-বাদীউ (নমুনাবিহীন সৃষ্টিকারী)
৯৬. আল-বাকি (চিরস্থায়ী)
৯৭. আল-ওয়ারিস (স্বত্ত্বাধিকারী)
৯৮. আর-রশীদ (সত্যদর্শী)
৯৯. আস-সবুর (ধৈর্যশীল)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.