আশুরা কাকে বলে? এ মাসের করণীয় কী??

0
860
The Day of Ashura’
The Day of Ashura’

হিজরী সনের প্রথম মাস মুহাররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়।
মুহাররম মাসের গুরুত্ব ও ফযীলতঃ কুরআনে ও হাদীসে
হিজরী বছরের সর্বপ্রথম মাস মুহাররম। এ মাসের গুরুত্ব অন্যান্য মাসগুলো থেকে ব্যতিক্রমধর্মী। প্রাচীনকাল থেকেই আরব বিশ্বে চারটি মাস পবিত্র বলে বিবেচিত হতো। সেগুলো হচ্ছে- জিলকদ, জিলহজ্জ, মুহাররম ও রজব। এই মাসগুলোতে আরবে যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি, মারামারি, লুটতারাজ ইত্যাদি থেকে বিরত থাকার নিয়ম প্রচলিত ছিলো। ইসলামের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সূত্রপাত হয় এ মাসে। আবার এই মাসের আশুরা অর্থাৎ ১০ই মুহাররম পৃথিবীর ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত বরকতময় দিন। কারণ মানব ইতিহাসে বহু তাৎপর্যপূর্ণ ও পুণ্যময় ঘটনা এ দিনটির সাথে জড়িয়ে আছে। এ দিনে শুধু উম্মতে মুহাম্মদী নয়; বরং পূর্ববর্তী অনেক উম্মত ও নবীদের অবিস্মরণীয় ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিলো। এর মধ্যে সহীহ বর্ণনায় বিশেষভাবে একটি ঘটনার কথা পাওয়া যায়। তা হচ্ছে- এ দিনে আল্লাহ তা’আলা মুসা আলাইহিস সালাম ও বনী ইসরাঈলকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি দান করেন। সাথে সাথে যালেম ফেরাউনকে সদলবলে নদীতে ডুবিয়ে মারেন।

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারায় তাশরীফ আনার পর দেখলেন যে, ইয়াহুদীরা আশুরার দিনে রোযা রাখে। তিনি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইয়াহুদীরা বললো- এ দিনে আল্লাহ তা’আলা মুসা আলাইহিস সালাম ও বনী ইসরাঈলকে শত্র“র (ফেরাউন) কবল থেকে মুক্তি দান করেছিলেন। এবং ফেরাউনকে সদলবলে ডুবিয়ে মারেন। তাই মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা’আলার উপর শুকরিয়া আদায় করে এ দিনটিতে রোযা রেখেছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-
أنا أحق بموسي منكم- فصامه وأمر بصيامه-
মুসা আলাইহিস সালাম -এর যে কোনো বিষয়ে আমি তোমাদের চেয়ে বেশী হকদার। এরপর তিনি নিজেও আশুরার দিনে রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন।
(সহীহ বুখারীঃ হা-২০০৪, ৩৩৯৭, ৩৯৪৩, ৪৬৮০ ও ৪৭৩৭; সহীহ মুসলিমঃ হা-১১৩০; মুসনাদে আহমদঃ হা-২৬৪৪)
উল্লেখ্য, বনী ইসরাঈলের মুক্তি দিবস হিসেবে ইয়াহুদীরা এ দিনটি পালন করতো।
কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ ফরমান-
إن عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا في كتاب الله يوم خلق السماوات والأرض منها أربعة حرم، ذلك الدين القيم- فلا تظلموا فيهن أنفسكم-
অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা ১২। যেদিন থেকে তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। এর মধ্যে চারটি মাস হচ্ছে সম্মানিত মাস। এটাই প্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অবিচার করো না। (সূরা তওবাঃ আ-৩৬)
হাদীসে নববীতে বর্ণিত আছে-
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি.-এর সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
أفضل الصيام بعد شهر رمضان شهر الله المحرم-
অর্থঃ রমযানের পর আল্লাহ তা’আলার মাস মুহাররমের রোযা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ রোযা। (সুনানে আবি দাউদঃ হা-২৪২৯; সুনানে তিরমিযীঃ হা-৭৪০)
এর মধ্যে আশুরার দিনের রোযার ফযীলত সর্বাধিক।
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন-
ما رأيت النبي صلي الله عليه وسلم يتحري صيام يوم فضله علي غيره إلا هذا اليوم يوم عاشوراء، وهذا الشهر يعني رمضان-
অর্থঃ আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমযান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্ব ও ইহতিমামের সাথে রোযা রাখতে দেখেছি- অন্য সময়ে তা দেখিনি। (সহীহ বুখারীঃ হা-২০০৬; সহীহ মুসলিমঃ হা-১১৩২)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
صيام يوم عاشوراء أحتسب علي الله أن يكفر السنة التي قبله-
অর্থঃ আমি আশা করি- আশুরার রোযার কারণে আল্লাহ তা’আলা অতীতের এক বছরের (সগীরাহ) গোনাহ ক্ষমা করে দিবেন। (সহীহ মুসলিমঃ হা-১১৬২, সুনানে তিরমিযীঃ হা-৭৫২)
সাহাবী আলী রাযি. কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলো- রমযানের পর আর কোন মাস আছে, যাতে আপনি আমাকে রোযা রাখতে আদেশ করেন? তিনি বললেন- এই প্রশ্নই জনৈক সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে করেছিলেন। তখন আমি তাঁর সামনে উপস্থিত ছিলাম। এর উত্তরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إن كنت صائما بعد شهر رمضان، فصم المحرم- فإنه شهر الله تعالي- فيه يوم تاب علي قوم ويتوب فيه علي قوم آخرين-
রমযানের পর তুমি যদি রোযা রাখতে চাও, তবে মুহাররম মাসে রাখো। কারণ এটি আল্লাহর মাস। এ মাসে এমন একটি দিন আছে- যেদিন আল্লাহ তা’আলা একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যান্য জাতির তওবা কবুল করবেন।
(সুনানে তিরমিযীঃ হা-৭৪১)

মুহাররম ও আশুরাকেন্দ্রিক ভিত্তিহীন প্রচারণা
এ দিনের গুরুত্ব ও মর্যাদা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকে নানা ভিত্তিহীন কথাও বলে থাকেন। এক্ষেত্রে তারা জাল হাদীস ও মাওযু রেওয়ায়াতের আশ্রয় নিয়ে থাকেন। অথচ ঐতিহাসিক বর্ণনায় এরকম অনেক ঘটনার কথা উল্লেখ থাকলেও সহীহ হাদীসসমূহে কিংবা নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়াতে এগুলোর কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। যথাযথভাবে এগুলোর সত্যতাও প্রমাণিত নয়। যথা-
 এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বিশ্বজগত সৃষ্টির উদ্বোধন করেন।
 এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বাবা আদম আলাইহিস সালামের দেহে রূহ সঞ্চার করেন।
 এ দিনে আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম বৃষ্টি বর্ষণ করেন।
 এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বাবা আদম আলাইহিস সালাম ও মা হাওয়া আলাইহাস সালামকে জান্নাত থেকে স্থানান্তরিত করে পৃথিবীর মাটিতে নামিয়ে দেন।
 এ দিনে আল্লাহ তা’আলা বাবা আদম আলাইহিস সালামের তওবা কবুল করেছিলেন। আবার এ দিনেই আদম আলাইহিস সালাম ইন্তেকাল করেন।
 এ দিনে আল্লাহর নবী নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর যুগে সংঘটিত মহাপ্লাবন শেষ হওয়ার পর ইরাকের মসুল নগরের জুদী পর্বতে অবতরণ করেন।
 এ দিনে আল্লাহর নবী ইউনুস আলাইহিস সালাম ইরাকের দজলা নদীতে মাছের পেট থেকে মুক্তি লাভ করেন।
 এ দিনে আল্লাহর নবী আইয়ুব আলাইহিস সালাম দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত মারাত্মক রোগে ভোগার পর আরোগ্য লাভ করেন এবং তাঁর হারিয়ে যাওয়া ধন-সম্পত্তি ফিরে পান।
 এ দিনে আল্লাহর নবী ইয়াকুব আলাইহিস সালাম দীর্ঘ ৪০ বছর পর তাঁর হারিয়ে যাওয়া পুত্র ইউসুফ আলাইহিস সালামের সন্ধান লাভ করেন। আবার এ দিনেই তিনি পুত্র শোকের কারণে অন্ধ হয়ে যাওয়া চোখ দুটিতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।
 এ দিনে আল্লাহর নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাঁর হারিয়ে যাওয়া আংটি ফিরে পান।
 এ দিনে আল্লাহ তা’আলা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের উপর যালেম বাদশাহ নমরুদ কর্তৃক প্রজ্জলিত ভয়াবহ অগ্নিকুন্ডকে ঠান্ডা ও আরামদায়ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
অতএব এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই সর্বজ্ঞাত। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন-
(আল-আসারুল মারফু’আহ- আ. হাই লাখনোবীঃ পৃ-৯৪-১০০; মা সাবাতা বিস-সুন্নাহ ফী আইয়্যামিস সানাহ- আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভীঃ পৃ-২৫৩-২৫৭)

আশুরার রোযা সম্পর্কে একটি কথা
কুরআন ও হাদীসে আশুরার রোযা সম্পর্কিত যে ফযীলত ও সওয়াবের কথা বলা হয়েছে- তা মূলত মুহাররম মাসের ১০ তারিখে রোযা রাখার ব্যাপারেই বলা হয়েছে। যাকে আশুরা বলা হয়। অপরদিকে ১০ তারিখের আগে বা পরে একদিন বেশী রোযা রাখার যে হুকুম দেওয়া হয়েছে- তা ইসলামের চির দুশমন ইয়াহুদীদের বিরোধিতা করার জন্য বলা হয়েছে।
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আশুরার দিনে রোযা রাখেন এবং অন্যদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন- তখন সাহাবীরা অবাক হয়ে বলেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ! ইয়াহুদ-নাসারারা তো এ দিনটিকে বড়োদিন মনে করে। (আমরা যদি এ দিনে রোযা রাখি- তাহলে তো তাদের সাথে সামঞ্জস্য হয়ে যাবে। এর উত্তরে নবীজি বললেন-
إذا كان العام المقبل، إنشاء الله، صمنا اليوم التاسع-
তারা যেহেতু এ দিনে একটি রোযা রাখে, তাই) ইনশা- আল্লাহ আগামী বছর থেকে আমরা এই ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোযা রাখবো। (সহীহ মুসলিমঃ হা-১১৩৪)
অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
صوموا عاشوراء- وخالفوا فيه اليهود- صوموا قبله يوما أو بعده يوما-
অর্থঃ তোমরা আশুরার দিনে রোযা রাখো এবং এ ব্যাপারে ইয়াহুদীদের বিরোধিতা করো। আশুরার একদিন আগে কিংবা পরে আরো একদিন রোযা রাখো। (মুসনাদে আহমদঃ হা-২১৫৪)
সুতরাং তাই বলে আশুরার রোযা দুটি নয়; বরং তা একটিই। অর্থাৎ মুহাররমের ১০ তারিখের রোযা। আর এর আগে বা পরের দিনের রোযা রাখার যে হুকুম দেওয়া হয়েছে- তা বিধর্মীদের বিরোধিতার জন্য। আবার আশুরার দিন মুহাররমের শুধুমাত্র ১০ তারিখই। এর আগের বা পরের দিন আশুরার অন্তর্ভুক্ত নয়।

আশুরার দিনে করণীয়
১. রোযা
মুহাররমের ১০ তারিখের রোযা আগের যমানার উম্মতের উপর ফরয ছিলো। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাদানী জীবনেও এই উম্মতের উপর এই রোযা কিছু দিন ফরয থাকে। পরবর্তী সময়ে রমযানের রোযা ফরয হওয়ার পর মুহাররমের ১০ তারিখের রোযা নফল হিসেবে কার্যকর হয়।
(সহীহ বুখারীঃ হা- ১৫৯২, ২০০১ ও ২০০২, ৩৮৩১, ৪৫০১-৪৫০৪; সহীহ মুসলিমঃ হা-১১২৬, ১১২৭)
হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-
عن أبي موسي رضي الله عنه قال: كان يوم عاشوراء يوما تعظمه اليهود- وتتخذه عيدا- فقال رسول الله صلي الله عليه وسلم: صوموه أنتم-
অর্থঃ আবু মুসা রাযি. বলেন- মুহাররমের ১০ তারিখে অর্থাৎ আশুরার দিনকে ইয়াহুদীরা খুব সম্মান করতো এবং এই দিনটিকে ঈদ হিসেবে পালন করতো। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- তোমরাও এই দিনে রোযা রাখো। (সহীহ মুসলিমঃ হা-১১৩১)
বলাবাহুল্য, এই দিনটিতে যেহেতু ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা রোযা রাখে, তাই মুসলমানদের জন্য এদিনে রোযা রাখা বাহ্যিকভাবে বিধর্মীদের অনুকরণ হয়ে যায়। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুহাররমের ১০ তারিখের সাথে আরো একদিন যোগ করে মোট দুই দিন রোযা রাখার নির্দেশ দেন।
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
عن عبد الله بن عباس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: صوموا عاشوراء، وخالفوا فيه اليهود- صوموا قبله يوما أو بعده يوما-
অর্থঃ তোমরা আশুরার দিনে রোযা রাখো এবং এ ব্যাপারে ইয়াহুদীদের বিরোধিতা করো। আশুরার একদিন আগে কিংবা পরে আরো একদিন রোযা রাখো।(মুসনাদে আহমদঃ হা-২১৫৪)
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: إذا كان العام المقبل، إنشاء الله، صمنا اليوم التاسع-
অর্থঃ ইনশা-আল্লাহ আগামী বছর থেকে আমরা এই ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোযা রাখবো। (সহীহ মুসলিমঃ হা-১১৩৪)
২. তাওবা ও ইসতেগফার
আশুরার এই দিনে আল্লাহ তা’আলা আগের উম্মতের তাওবা কবুল করেছেন এবং হাদীস শরীফে এই উম্মতকেও ক্ষমা করার ওয়াদা করেছেন। তাই এই দিনে আল্লাহ তা’আলার কাছে বেশি বেশি ইসতেগফার করা এবং খালেস দিলে অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করা উচিত।

আশুরার দিনে বর্জনীয়
মুহাররম ও আশুরাকে কেন্দ্র করে নানা রকমের কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণার প্রচলন দেখতে পাওয়া যায়। কিছু কিছু কাজ এমনও করা হয়- যেগুলো সম্পূর্ণ শিরক ও কুফরির পর্যায়ের। এসব কুসংস্কার ও কুপ্রথার নেপথ্যে রয়েছে শিয়া সম্প্রদায়। সামনে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসছে। এখানে সেসব কুসংস্কার ও মুহাররম-আশুরা সংশ্লিষ্ট ভ্রান্তিসমূহের বিবরণ দেওয়া হলো।

১. মুহাররম মাস অভিশপ্ত নয়; বরং এ মাস সম্মানিত ও মহিমান্বিত
শিয়া সম্প্রদায় এ মাসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয় নাতি হুসাইন রাযি. শহীদ হওয়ার কারণে মুহাররম মাসকে অত্যন্ত অশুভ ও অভিশপ্ত বলে মনে করে থাকে। ফলে তারা এ মাসে কোনো ধরণের আনন্দ উৎসব করে না। অথচ এ ধারণা যে সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন- তা আগের আলোচনায় প্রমাণিত হয়েছে।
হুসাইন রাযি.-এর শহীদ হওয়ার ঘটনা অবশ্যই সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য খুবই মর্মান্তিক ও বেদনাদায়ক। সকল মুমিনেরই হৃদয় এ কারণে মর্মাহত এবং ব্যথিত। কিন্তু তাই বলে মুহাররম মাসের যে সমস্ত ফযীলত কুরআন ও হাদীসে নববী দ্বারা প্রমাণিত- তা কোনো ব্যক্তির শাহাদাতের কারণে রহিত হতে পারে না। কারণ শুধুমাত্র কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনার কারণেই এ দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় হয়ে উঠেনি; বরং আল্লাহ তা’আলা হুসাইন রাযি.-এর শাহাদাতের জন্য এমন একটি মুবারক দিন নির্বাচিত করেছেন- যার কারণে তাঁর শাহাদাতের মর্যাদা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এই বরকতময় দিনে শাহাদাতের কারণে আরো বেশী মহিমান্বিত হয়েছেন।
বলাবাহুল্য, আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাত অর্জন করা কোনো অশুভ বিষয় নয় যে, এর ফলে শাহাদাত অর্জনের সেই দিন বা সময়টিই অশুভ ও অভিশপ্ত হয়ে যাবে।
অন্য আরেক সম্প্রদায় হুসাইন রাযি.-এর শহীদ হওয়ার ঘটনাকেই আশুরার ফযীলতের কারণ বলে মনে করে থাকে এবং আশুরার রোযা বিধিবদ্ধ হওয়ার কারণও হুসাইন রাযি.-এর শহীদ হওয়ার ঘটনাকেই মনে করে। অথচ হুসাইন রাযি.-এর শহীদ হওয়ার ঘটনার অনেক আগে থেকেই স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আশুরার রোযা রাখার হুকুম ও আশুরার দিনের ফযীলতের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করে মদীনা মুনাওয়ারায় তাশরীফ আনার পর দেখলেন, ইয়াহুদীরা আশুরার দিনে রোযা রাখে। তিনি এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইয়াহুদীরা বললো- এ দিনে মুসা আলাইহিস সালাম ও বনী ইসরাঈল শত্র“র কবল থেকে মুক্তি লাভ করেছিলেন। তাই মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তা’আলার ওপর শুকরিয়া আদায় করে এ দিনটিতে রোযা রেখেছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-
أنا أحق بموسي منكم- فصامه وأمر بصيامه-
অর্থঃ মুসা আলাইহিস সালাম-এর যে কোনো বিষয়ে আমি তোমাদের চেয়ে বেশী হকদার। এরপর তিনি নিজেও আশুরার দিনে রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দিলেন।
(সহীহ বুখারীঃ হা-২০০৪, ৩৩৯৭, ৩৯৪৩, ৪৬৮০ ও ৪৭৩৭; সহীহ মুসলিমঃ হা-১১৩০; মুসনাদে আহমদঃ হা-২৬৪৪)

২. মুহাররম মাসে বিবাহ-শাদী থেকে বিরত থাকা
মুহাররম মাসকে অশুভ মনে করে অনেকে এ মাসে বিবাহ-শাদী করা থেকে বিরত থাকে। এটাও ভ্রান্ত বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত। কারণ মুহাররম মাস কখনোই অশুভ নয়; বরং হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী তা অতি বরকতময় এবং ফযীলতপূর্ণ। যেমনিভাবে উপরে আলোচনা করা হয়েছে।

৩. তাযিয়াহ
প্রচলিত তাযিয়াহ-এর মধ্যে নানা রকমের পাপাচার, শিরক ও কুফরী কাজ এবং চিন্তাধারার সমন্বয় রয়েছে। তাযিয়াহ-এর মধ্যে হুসাইন রাযি. আগমন করে থাকেন- এমন ধারণা পোষণ করা হয়ে থাকে। এ কথা বিশ্বাস করে তারা তাযিয়াহ-এর পাদদেশে টাকা-পয়সা, বিভিন্ন নযর নেয়ায ও মান্নত পেশ করে। অনেকে এর সামনে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকে এবং প্রার্থনা করে। অভাব-অভিযোগ পেশ করে এর প্রতিকার চায়। আবার এর দিকে পিঠ ফিরানোকে বে-আদবী বলে মনে করে। অথচ এ কথা স্পষ্ট ও পরিষ্কার যে, একমাত্র আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কাউকে সর্বত্র হাযির (বিরাজমান বা উপস্থিত) জানা বা প্রার্থনা করা নিঃসন্দেহে শিরক ও কুফরী।
সুতরাং এ কারণে আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কাউকে হাযির জেনে তাযিয়াহ-এর বাক্সের পাদদেশে নযর নেয়ায পেশ করা, হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থাকা এবং এর সম্মানার্থে এর দিকে পিঠ ফিরানোকে বে-আদবী বলে মনে করা সবই শিরক ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
(ইমদাদুল ফতোয়াঃ খন্ড-৫, পৃ-৩৩২-৩৩৬; আহসানুল ফতোয়াঃ খন্ড-১, পৃ-৩৯৩)

৪. তাযিয়াহ মিছিল ও তাতে অংশগ্রহণ করা
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে, উৎসবের আয়োজন করে, শোকের পোষাক পরিধান করে, কারবালার ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে বর্ণনা করতে করতে র‌্যালি ও মিছিল করা হয়। এ ছাড়াও এতে বুক চাপড়ানো হয় এবং ছুরি দিয়ে শরীরকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। এ সমস্ত কর্মকান্ড সবই অন্যায় ও স্পষ্ট হারাম কাজ। হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: ليس منا من حلق ومن سلق ومن خرق-
অর্থঃ যারা গলায় আঘাত করে, কোনো অঙ্গে আঘাত করে কিংবা তা ঝলসে দেয় এবং কাপড় জাতীয় কোনো কিছু ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে- তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
عن إمرأة من المبايعات’ قالت: كان فيما أخذ علينا رسول الله صلي الله عليه وسلم في المعروف الذي أخذ علينا أن لا نعصيه فيه: أن لا نخمش وجها’ ولا ندعو ويلا’ ولا نشق جيبا’ وأن لا ننشر شعرا-
অর্থঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাতে বাই’আতে অংশগ্রহণকারী মহিলা সাহাবীদের একজন বলেন-
নবীজি আমাদের থেকে যেসব বিষয়ে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, সেগুলোর মধ্যে ছিলো- আমরা যেনো চেহারায় খামচে আঘাত না করি, সর্বনাশমূলক কথা বলে হা-হুতাশ না করি, জামা ছিঁড়ে না ফেলি এবং চুল টানাটানি না করি। (সুনানে আবি দাউদঃ হা- ৩১৩০, ৩১৩১)
সুতরাং এ র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করা বা এগুলো দেখা সবই হারাম কাজ। এর দ্বারা গোনাহের কাজে সহযোগিতা করা হয়।

৫. শোকগাথাঁ পাঠ করা ও শোক পালন করা
আশুরার দিনকে মাতম এবং শোকের মাস বলে মনে করা হয়। এ দিনে শোকগাথাঁ পাঠ করা হয় ও শোক পালন করা হয়। এ ছাড়াও শোকের পোশাক (কালো রঙের) পরিধান করা হয়। এগুলো সব বিকৃত কাজ। শরীয়তে এগুলোর কোনো স্থান নেই। ইসলামে শুধু দুই কারণে শোক পালন করার অনুমোদন আছে। সেগুলো হচ্ছে-
১. স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর চার মাস দশ দিন শোক পালন করা। এর বেশী নয়।
২. অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের মৃত্যুতে তিন দিন পর্যন্ত শোক পালন করা। তিন দিনের অধিক শোক পালন করার বিধান শরীয়তে নেই।
সুতরাং আশুরার দিনে বিভিন্ন যে কোনো উপায়ে শোক পালন করা; আবার তা শরীয়ত বিকৃত পন্থায় পালন করা সম্পূর্ণরূপে না-জায়েয ও হারাম। তেমনিভাবে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে অস্বাভাবিক কোনো কিছু করা বা শোকগাথাঁ পাঠ করার ব্যাপারে হাদীসে নববীতে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এ বিষয়ে কিছু হাদীস উল্লেখ করা হলো।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
عن أم عطية قالت: إن رسول الله صلي الله عليه وسلم نهانا عن النياحة-
উম্মে আতিয়্যা রাযি. বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে চিৎকার করে বিলাপ করতে নিষেধ করেছেন।
عن عبد الله رضي الله عنه قال: قال النبي صلي الله عليه وسلم: ليس منا من ضرب الخدود- وشق الجيوب- ودعا بدعوي الجاهلية-
সাহাবী আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
অর্থঃ যারা চেহারায় আঘাত করে, জামা ছিঁড়ে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে এবং জাহিলিয়্যাতের ন্যায় বিলাপ করে- তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (সহীহুল বুখারীঃ হা-১২৯৮; ১৩০৬)
অতএব এসব কাজে অংশগ্রহণ করা কিংবা এগুলোর দর্শক হওয়া সবই হারাম ও শরীয়ত বহির্ভূত কাজ।

৬. ‘হায় হুসাইন’ বলে বিলাপ করা
আশুরার দিনে দেখা যায়- এক শ্রেণীর লোকেরা “হায় হুসাইন হায় হুসাইন” বলে স্বীয় বুক চাপড়িয়ে মাতমের এক দৃশ্যের অবতারণা করে। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে বিলাপ করা কিংবা মাতম করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এগুলো বিদ’আত ছাড়া আর কিছুই নয়। হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
عن أم عطية قالت: إن رسول الله صلي الله عليه وسلم نهانا عن النياحة-
অর্থঃ উম্মে আতিয়্যা রাযি. বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে চিৎকার করে বিলাপ করতে নিষেধ করেছেন। (সহীহুল বুখারীঃ হা-১৩০৬)
عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: لعن رسول الله صلي الله عليه وسلم النائحة والمستمعة-
সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন- নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলাপকারী ও বিলাপ শ্রবণকারী উভয়ের উপর অভিশাপ দিয়েছেন। (সুনানে আবি দাউদঃ হা-৩১২৭, ৩১২৮)

. আশুরার দিনে পানি বা শরবত পান করানো
কারবালার ঘটনাকে স্মরণ করে এ দিনে পানি বা শরবত পান করানোকে বিশেষ আমল ও সওয়াবের কাজ বলে মনে করা হয়। অথচ এ বিষয়টি এই দিনের বিশেষ আমল বলে কুরআন-হাদীসের কোথাও প্রমাণিত নয়। শরীয়তের কোথাও এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না।
অবশ্য যে কোনো সময়ে আল্লাহ তা’আলার যে কোনো মাখলুককে সেবা করা বা পিপাসার্তকে পানি পান করানো, ক্ষুধার্তকে খাওয়ানো ইসলামে অনেক বড়ো সওয়াবের কাজ। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তা নির্দিষ্ট কোনো দিন বা সময় এবং স্থানের সাথে কখনোই সীমাবদ্ধ নয়।

আশুরার দিনে অন্য একটি আমল
আপন পরিবার-পরিজনের জন্য উত্তম খাবারের আয়োজন করাঃ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. সূত্রে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
যে ব্যক্তি আশুরার দিনে আপন পরিবার-পরিজনের জন্য উত্তম পর্যাপ্ত খাবারের আয়োজন করবে- আল্লাহ তা’আলা তার পুরো বছরের রুযী-রোযগারে বরকত দান করবেন। (তাবারানীঃ হা-৯৩০৩ )
উল্লেখিত হাদীস সম্পর্কে আল্লামা ইবনুল জাওযীসহ অনেক মুহাদ্দিস আপত্তি করলেও আরো কয়েকজন সাহাবী থেকে এর সমর্থিত হাদীস বর্ণিত হওয়ায় আল্লামা সুয়ুতীসহ অনেক মুহাক্কিক আলিমগণ উক্ত হাদীসটিকে গ্রহণযোগ্য ও আমলের উপযুক্ত বলে সাব্যস্ত করেছেন। (আল-জামিউস সগীরঃ ১০১৯)
সুতরাং কেউ উপরোক্ত হাদীসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে ওই দিন উন্নত খাবারের আয়োজন করলে এতে শরীয়তে নিষেধ নেই। তবে স্মরণ রাখতে হবে, কোনোক্রমেই যেনো তা বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনের স্তরে না পৌঁছে।

আশুরা সম্পর্কে একটি ভ্রান্তি ও তার জওয়াব
শিয়া সম্প্রদায় আশুরার ঐতিহ্য বলতে হুসাইন রাযি. ও নবী পরিবারের কয়েকজন সম্মানিত সদস্যের রক্তে রঞ্জিত কারবালার ইতিহাসকে বুঝায়। তারা আশুরার রোযা বিধিবদ্ধ হওয়ার কারণও হুসাইন রাযি.-এর শহীদ হওয়ার ঘটনাকেই মনে করে। তাদের কার্যকালাপ অবলোকন করলে মনে হয়- কারবালার রক্তাক্ত ইতিহাসকে ঘিরেই আশুরার সব ঐতিহ্য। এতেই রয়েছে আশুরার সব রহস্য।
আবার তারা একে কেন্দ্র করে শোক পালন করে, মর্সিয়া-ক্রন্দন করে, তাযিয়ার মিছিল বের করে, বুক চাপড়িয়ে মাতম করে, নিজের শরীরকে ছুরি দ্বারা আঘাত করে ক্ষত-বিক্ষত করে এবং এ জাতীয় আরো বিভিন্ন কুসংস্কারে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাদের এসব জাহেলী রুসম-রেওয়াজ এতো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে যে, অনেক সাধারণ মুসলমানও না বুঝে বা ভ্রান্ত প্ররোচনার শিকার হয়ে এগুলোর মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ এর বিপরীত। হুসাইন রাযি.-এর শহীদ হওয়ার ঘটনার অনেক আগে থেকেই স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আশুরার রোযা রাখার হুকুম ও আশুরার দিনের ফযীলতের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আশুরার গুরুত্ব বা ফযীলত হুসাইন রাযি.-এর শহীদ হওয়ার কারণে নয়; বরং এর পূর্বে প্রাচীনকালের বিভিন্ন অবিস্মরণীয় ঘটনাপ্রবাহ থেকেই এর গুরুত্ব ও ফযীলত বিবেচিত হয়ে আসছে। কারবালার যুদ্ধ সংঘটিত হয় ৬১ হিজরীর মুহাররম মাসের ১০ তারিখে। অপরদিকে আশুরার রোযার প্রচলন চলে আসছে ইসলামের আবির্ভাবেরও বহুকাল আগ থেকে। হাদীসে এই সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে। যেমনিভাবে এর আগে আলোচনা করা হয়েছে।
আর এ ব্যাপারেও কোনো সন্দেহ নেই যে, এসব রুসম-রেওয়াজের কোনো কিছুই শরীয়তসম্মত নয়। আর হুসাইনী আদর্শের সাথে শিয়া সম্প্রদায়ের চিন্তাধারা বা এসব কার্যকালাপের কোনোও সম্পর্ক নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.