ইজতিহাদ কী ও কেনো?-আব্দুল্লাহ আল মাসুম

0
1662
Quran
Quran

জীবনের অঙ্গন অতি বিস্তৃত এবং বৈচিত্রময়। ইসলাম যেহেতু পূর্ণাঙ্গ দ্বীন- তাই এর মধ্যে জীবনের সকল বৈচিত্র বিদ্যমান। জীবনের সকল দিক তাতে নিখুঁতভাবে সন্নিবেশিত।
ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট্য এই যে, এর প্রধান মৌলিক দুই সূত্র- কুরআন ও সুন্নাহ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। পুরো কুরআন শরীফ এবং হাদীসের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে রেওয়ায়াত ও আমলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে। হাদীসের এই দুই অংশই সনদ সহ বিভিন্ন গ্রন্থ সমূহে সংকলিত হয়েছে। এতে যেমন রয়েছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী ও কর্ম- তেমনি রয়েছে মুজতাহিদ সাহাবা ও তাবেয়ীগণের ফতোয়া ও আমলের বিবরণ। পরবর্তী যুগের মুজতাহিদ ইমামগণের ফতোয়া ও আমলও ইসলামী ফিকাহর মৌলিক গ্রন্থসমূহে সংকলিত হয়েছে।

তাই মুসলিম উম্মাহর পিছনে যেমনিভাবে হাদীসের ইমামগণের অবদান রয়েছে- তেমনিভাবে ফিক্বহের ইমামগণেরও অবদান রয়েছে। হাদীসের ইমামগণ যেমন হাদীস ও আসারকে সূত্র সহ সংরক্ষণ করেছেন, তেমনি ফিকাহর ইমামগণ সংরক্ষণ করেছেন হাদীসের মর্ম ও আমলের ধারাবাহিকতা। বর্ণনা ও রেওয়ায়াতের শুদ্ধাশুদ্ধির বিষয়ে আমরা যেমন হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের মুখোপেক্ষী- তেমনি হাদীসের মর্ম অনুধাবন ও এর যথার্থ অনুসরণের ক্ষেত্রে আমরা ফিক্বহের ইমামগণের উপর নির্ভরশীল।
অতএব আমরা যেভাবে হাদীসকে হাদীস হিসেবে জানার ক্ষেত্রে হাদীসশাস্ত্রের মুজতাহিদ ইমামগণের অনুসারী। তদ্রুপ কুরআন-সুন্নাহ থেকে হালাল-হারামের বিধান, ইবাদতের সঠিক নিয়ম, হুকূক ইত্যাদি জানার ক্ষেত্রে ফিকাহর মুজতাহিদ ইমামগণের অনুসারী। এই অনুসরণের নাম হচ্ছে- তাকলীদ। আর উপরোক্ত দুই জামাত অর্থাৎ, হাদীস শাস্ত্রের ইমাম এবং ফিকাহর ইমামগণ যে গবেষণা করে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মুসলিম উম্মাহর সামনে দ্বীনকে তুলে ধরেছেন- তাকে বলে ইজতিহাদ।
কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগের সাড়ে বারোশত বছর পরে মুসলিম উম্মাহর এই সর্বসম্মত কর্মধারা তথা ইজতিহাদ ও তাকলীদের বিরূদ্ধে একটি নতুন আওয়ায উঠে। আর তা-ও আমাদের এই ভারত উপমহাদেশে ইংরেজদের আমলে। এই বিরোধী আওয়াযটির হাকীকত বড়ই অস্পষ্ট এবং স্ববিরোধিতার এক সমষ্টি। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিকেই লক্ষ্য করে ইজতিহাদ ও তাকলীদ প্রসঙ্গে নিম্নে সংক্ষিপ্ত আলোচনা পেশ করছি।

ইজতিহাদের পরিচয়
আভিধানিক অর্থ-
ইজতিহাদ শব্দটি جهد মূলধাতু থেকে গঠিত। আরবী ভাষায় جَهْدٌ বা جُهْد শব্দটি শক্তি, চেষ্টা ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়।
পারিভাষিক অর্থ-
আল্লামা যাবীদী রহ. বলেন-
الاجتهاد بذل الوسع في طلب الأمر, والمراد به رد القضية من طريق القياس إلى الكتاب والسنة-
ইজতিহাদ বলা হয়- কোনো কিছুর অনুসন্ধাণে সর্ব শক্তি ব্যয় করা। কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে কোনো মাসয়ালার সম্পৃক্তি কিয়াসের মাধ্যমে প্রকাশ করাকে ইজতিহাদ বলে।
ইমাম গাযালী রহ. বলেন-
الاجتهاد بذل المجتهد وسعه في طلب العلم بأحكام الشريعة-
শরীয়তের বিধি-বিধান আহরণ করার জন্য মুজতাহিদের প্রচেষ্টাকে ইজতিহাদ বলে।

ইজতিহাদের শর্তাবলী
বিভিন্ন আলিম এ প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন। আল্লামা আমিদী রহ. তাঁর “ইহ্কাম” নামক গ্রন্থে ইমাম গাযালী রহ. “আল- মুসতাসফা” নামক গ্রন্থে এবং ইবনে খালদুন রহ. তাঁর “আল- মুক্বাদ্দিমা” নামক গ্রন্থে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
নিম্নে আল্লামা শাওকানী রহ. ইজতিহাদের যে শর্তাবলী বর্ণনা করেছেন- তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
(১)
لا بد أن يكون عالما بما اشتملت عليه مجامع السنة التى صنفها أهل الفن…..
হাদীস শাস্ত্রে ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান থাকতে হবে। এ ছাড়াও বিদ্যমান উপকরণাদির মাধ্যমে কোনো মাসআলার যত হাদীস জানা সম্ভব- তা পূর্ণভাবে থাকা আবশ্যক।
(২)
أن يكون عارفا بمسائل الإجماع حتى لا يفتى بخلاف ما وقع الإجماع عليه…
যেসব মাসয়ালায় আলিমগণের ইজমা রয়েছে- তা জানা থাকা আবশ্যক। যাতে ইজমার বিপরীত ফতোয়া না দেওয়া হয়।
(৩)
أن يكون عالما بلسان العرب بحيث يمكنه تفسير ما ورد في الكتاب والسنة من الغريب ونحوه…..
আরবী ভাষায় বুৎপত্তি থাকতে হবে- যাতে কুরআন ও হাদীসের মধ্যে উল্লেখিত দূর্বোধ্য কিংবা অপ্রচলিত শব্দ বা বাক্যের সঠিক ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়।
(৪)
أن يكون عالما بعلم أصول الفقه لا شتماله على نفس الحاجة إليه……
ইজতিহাদের জন্য উসূলে ফিকাহর পারদর্শী হতে হবে। কেননা ইজতিহাদের জন্য প্রথমে উসূলে ফিকাহরই প্রয়োজন হয়।
(৫)
أن يكون عارفا بالناسخ والمنسوخ بحيث لا يخفى عليه شئ من ذلك…..
নাসেখ (রহিতকারী) ও মানসূখ (রহিত) সম্পর্কে ইজতিহাদকারীর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ বিষয়ে তার কাছে যেনো কোনো কিছইু অস্পষ্ট না থাকে। (ইরশাদুল ফুহুলঃ পৃ-৩৭২-৩৭৪)

ইজতিহাদের প্রামাণ্যতা
কুরআনে পাকে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-
وَإِذَا جَآءَهُمْ أَمْرٌ مِّنَ الأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُواْ بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وإلي أُوْلِي الأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ وَلَوْلاَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لاَتَّبَعْتُمُ الشَّيْطَانَ إِلاَّ قَلِيلاً-
অর্থঃ আর যখন তাদের কাছে নিরাপত্তা কিংবা ভয়ের কোনো সংবাদ পৌছে- তখন তারা সেগুলোকে রটিয়ে দেয়। অথচ এমন না করে তারা যদি সেগুলোকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাদের ‘উলিল আমর’-এর নিকট পৌঁছাতো। তাহলে যারা গবেষণার যোগ্যতা রাখে- তারা সে সব বিষয় গবেষণা করে দেখতো। বস্তুত তোমাদের উপর যদি আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ না থাকতো- তবে কিছু লোক ছাড়া সবাই শয়তানের অনুসরণ করতে শুরু করতো। (সূরা নিসা-৮৩)
আলোচ্য আয়াতে নিরাপত্তা, ভয় কিংবা অন্য যে কোনো জটিল বিষয় সামনে আসলে নিজেরাই কোনো মন্তব্য করতে বা রটাতে নিষেধ করে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘উলিল আমর’ বা যারা গবেষণার যোগ্য- তাদের পর্যন্ত তা পৌঁছাতে নির্দেশ করা হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয়- সাধারণ লোক বা কুরআন-সুন্নাহর গবেষণায় অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য শরীয়তের কোনো জটিল বিষয়ে মন্তব্য বা তার সমাধানের চেষ্টা করা সম্পূর্ণ নিষেধ। বরং যারা এ বিষয়ে গবেষণার যোগ্যতা সম্পন্ন- তাদের শরণাপন্ন হয়ে তাদের প্রদত্ত সমাধানের অনুকরণ করতে হবে। এখানে যে গবেষণার কথা বলা হয়েছে- তাকেই ইজতিহাদ বলে। (তাফসীরে কাবীরঃ খন্ড-৫, পৃঃ ২০৬, জাসসাস- আহকামুল কুরআনঃ খন্ড-২, পৃঃ ২১৫)
অন্য জায়গায় ইরশাদ হয়েছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنْكُمْ
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো রাসুলের। আর তাদেরও আনুগত্য করো- যারা তোমাদের মধ্যে উলিল আমর বা বিজ্ঞ। (সূরা নিসা- ৫৯)
এই আয়াতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্যের সাথে সাথে ‘উলিল আমরে’র আনুগত্যকেও ওয়াজিব করা হয়েছে। আর এখানে উলিল আমর দ্বারা কুরআন-সুন্নাহর ইলমের অধিকারী ফকীহ ও মুজতাহিদ তথা যারা ইজতিহাদের যোগ্যতা রাখেন- তাদেরকেই বুঝানো হয়েছে। এটি প্রায় সকল মুফাসসিরীনের মত।
তাদের মধ্যে রয়েছেন- সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি., মুজাহিদ রহ., আতা ইবনে আবী রাবাহ রহ., আতা ইবনে সায়েব রহ., হাসান বসরী রহ. আবুল আলীয়া রহ. সহ আরো অনেকে।
প্রখ্যাত মুফাসসির ইবনে কাসীর ও আরো অনেক তাফসীরকার বলেছেন- এখানে ‘উলিল আমর’-এর অর্থ বিজ্ঞ আলিমগণ হওয়াই শ্রেয়।
হাদীসে ইরশাদ হয়েছে- সাহাবী ইবনে মাসউদ রাযি. সূত্রে বর্ণিত-
فإذا سئلتم عن شئ فانظروا في كتاب الله فإن لم تجدوه في كتاب الله ففى سنة رسول الله فإن لم تجدوه في سنة رسول الله فما أجمع عليه المسلمون- فإن لم يكن فيما اجتمع عليه المسلمون فاجتهد رأيك-
অর্থঃ যখন তোমাদেরকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করা হয়- তখন প্রথমে কুরআনে অনুসন্ধান করো। কুরআনে না থাকলে হাদীসে দেখো। হাদীসেও না পাওয়া গেলে মুসলমানরা যে বিষয়ের উপর ইজমা করেছে- তা গ্রহণ করো। সেখানেও না থাকলে ইজতিহাদ করো।
আমর ইবনুল আস রাযি. সূত্রে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইরশাদ করতে শুনেছেন-
إذا حكم الحاكم فاجتهد فأصاب فله أجران وإذا حكم فأخطأ فله أجر-
অর্থঃ যখন মুজতাহিদ ইজতিহাদ করে এবং এ ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়- তখন তার জন্য দুটি সওয়াব লিখা হয়। আর যদি ইজতিহাদ করতে গিয়ে ভূল করে- তাহলে একটি সওয়াব লিখা হয়। (সহীহুল বুখারীঃ হা-৭৩৫২, সহীহ মুসলিমঃ হা- ১৭১৬)
অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
أن رسول الله –صلى الله عليه وسلم- بعثه – معاذ- إلى اليمن فقال: كيف تقضى؟ قال: أقضى بما في كتاب الله, قال: فإن لم يكن في كتاب الله ؟ قال: فبسنة رسول الله- قال: إن لم يكن في سنة رسول الله؟ قال: أجتهد رأى- قال: الحمد لله الذى وفق رسول رسول الله-
অর্থঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মুয়ায রাযি. কে ইয়েমেনে শাসনকর্তারুপে প্রেরণকালে জিজ্ঞাসা করলেন- মুয়ায! কোনো বিষয়ে ফয়সালা করতে হলে কিসের ভিত্তিতে করবে? উত্তরে মুয়ায রাযি. বললেন- ‘কিতাবুল্লাহর ভিত্তিতে ফয়সালা করবো’ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- যদি কিতাবুল্লাহতে সমাধান না পাও? উত্তরে মুয়ায রাযি. বললেন- সুন্নাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর দ্বারা ফয়সালা করবো। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন- যদি সুন্নাতে রাসুলে না পাও? উত্তরে মুয়ায রাযি. বললেন- ‘তাহলে ইজতিহাদের ভিত্তিতে ফয়সালা করবো’।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উত্তরে খুশী হয়ে তাঁর বুকে চাপড় দিলেন এবং বললেন- সমস্ত প্রশংসা ওই আল্লাহর- যিনি তাঁর রাসুলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফীক দিয়েছেন, যাতে তাঁর রাসুল সন্তুষ্ট রয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদঃ হা-৩৫৯২, সুনানে তিরমিযীঃ হা-১৩২৭)
ইবনুল কাইয়্যিম রহ. লিখেছেন-
الصحابة أول من قاسوا واجتهدوا, فالصحابة –رضى الله عنهم- مثلوا الوقائع بنظائرها وشبهوها بأمثالها- وردوا بعضها إلى بعض في أحكامها وفتحوا للعلماء باب الاجتهاد ونهجوالهم طريقه-
সর্বপ্রথম সাহাবায়ে কেরাম কিয়াস করেছেন, ইজতিহাদ করেছেন। তারা সমশ্রেণীর বিষয়গুলোর বিধান অনুরূপ বিষয় থেকে আহরণ করে আলিমগণের জন্য ইজতেহাদের দ্বার উম্মুক্ত করে দিয়েছেন। তাদের কর্ম-পদ্ধতি থেকে কিয়াস ও ইজতিহাদের নিয়ম-পদ্ধতি নির্ধারিত হয়েছে।
(ইবনে ক্বায়্যিম- ই’লামুল মুয়াকক্কিয়ীনঃ খন্ড-১, পৃঃ ২৭৯)

ইজতিহাদের প্রয়োজনীয়তা
(১) মানুষের জীবন ও কর্মধারার পরিসর সুবিস্তৃত ও বৈচিত্রময়। একেক মানুষের রুচি-স্বভাব এবং দৃষ্টিকোণ একেক রকম। এ জীবন গতিশীল ও প্রতি মূহুর্তে অগ্রসরমান। কোথাও তা থেমে থাকে না। নতুন থেকে নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে জীবনের এ গতিময়তা মানুষের বৈশিষ্ট্য। এ গতিময়তার উপরই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি মহান আল্লাহর কুদরত ও তাঁর শৈল্পিক গুণের পরিচায়ক।

(২) জীবনের পরিসর যত বৈচিত্রময়ই হোক না কেনো- সর্বাবস্থায় মানুষ শরীয়তের নির্দেশিত। কোনো কাজ শরীয়তের আওতা বহির্ভুত হয়ে সম্পাদনের অনুমতি নেই। জীবনকে বিধাতার মর্জি অনুযায়ী চালালে তার জন্য রয়েছে মহাকল্যাণ ও জান্নাত। অপরদিকে তা না হলে তার জন্য নির্ধারিত হবে মহা অন্ধকার ও জাহান্নাম। তাই জীবনের প্রতিটি দিক কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।

(৩) কুরআন-সুন্নাহ হল প্রধানত জীবন-যাপনের মূলনীতির নির্দেশক। এখানে সকল প্রশ্নের সমাধান রয়েছে। তবে কোনোটি স্পষ্টভাবে, আবার কোনোটি মূলনীতি বলে দেওয়ার মাধ্যমে।

(৪) জীবনকে মহান আল্লাহ তায়ালা যেভাবে চালাতে বলেছেন- সেভাবে চালাতে হলে জীবনের সর্বাবস্থায় সকল প্রশ্নের সমাধান ও পথনির্দেশনা কুরআন-সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করা আবশ্যক। আর এই সমাধান ও পথনির্দেশনা খুজতে গেলে কোনোটি পাওয়া যাবে, আবার কোনোটি পাওয়া যাবে না। যেটি পাওয়া যাবে না- সে ক্ষেত্রে আল্লাহর পথ নির্দেশহীন কাজ করার দায়ে তাকে অপরাধী হতে হবে।
আর যার সমাধান পাওয়া যাবে- সেটিও কতটুকু বিশুদ্ধ ভাবে গ্রহণ করা হলো- তাতেও প্রশ্ন থেকে যায়। এ সব কারণেই গোটা জীবনকে বিশুদ্ধ ও যথাসম্ভব নিশ্চিত আস্থা নিয়ে আল্লাহ তায়ালার মর্জি অনুযায়ী পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ইজতিহাদ। আর তা হবে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর।
ইজতিহাদ ছাড়া সদা গতিশীল ও বৈচিত্রময় মানবজীবনের সকল কাজকর্ম শরীয়তের আদলে স্থাপন করা সম্ভব হয় না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর জীবদ্দশায় সাহাবীরা নতুন কোনো কিছুর মুখোমুখি হলে সরাসরি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর শরণাপন্ন হতেন। তাঁর ওফাতের পর মুজতাহিদ সাহাবীরা ইজতিহাদ করতেন এবং অন্যরা তাদের অনুসরণ করতেন। স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রয়োজনের সময় ইজতিহাদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে গেছেন।
(ফিকহে হানাফীর ইতিহাস ও দর্শনঃ পৃ-৪৪৫-৪৪৬ <ঈষৎ সংক্ষেপিত>)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.