ইসলামী স্থানসমূহের ভৌগোলিক পরিচিতি

0
2281
Islamic Map
Islamic Map

 شام (শাম)- আরবদের যুগে ফিলিস্তীন, জর্দান, লেবানন, সিরিয়া, দামেস্ক, হিমস, ও কুনসুরীন সম্মিলিত এলাকাকে ‘শাম’ বলা হতো । হাদীসের কিতাবে বর্ণিত ‘শাম’ দ্বারা ওই অঞ্চলগুলোই উদ্দেশ্য। পরবর্তীতে শাম বলতে সিরিয়াকে বুঝাতো। বর্তমানে দামেস্ককে শাম বলা হয়।
 تركستان (তুর্কিস্তান)- আগে মধ্য এশিয়ার বর্তমান তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজিস্তান ও কাজাকিস্তান সম্বলিত এলাকাগুলোকে বলা হতো।
 كنعان (কিন’আন)- ফিলিস্তিন ও ফিনিকিয়া এলাকার নাম ছিলো কিন’আন। এ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে বলা হতো কিন’আনী। বর্তমানে লেবাননের অধিকাংশই ছিলো এককালে ফিনিকিয়া রাজ্য।
 خراسان (খুরাসান)- মধ্য এশিয়ার এক বিশাল ভূ-খন্ডের নাম ছিলো খুরাসান। ইরানের উত্তরাঞ্চল, আফগানিস্থানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং তুর্কমেনিস্তানের দক্ষিণ পুর্বাঞ্চলীয় বিশাল ভূ-খন্ড নিয়ে বিস্তৃত ছিলো প্রাচীন খুরাসান। বর্তমানে খুরাসান বলতে ইরানের উত্তর পুর্বাঞ্চলীয় একটি এলাকাকে বুঝায়।
 روم (রূম)-তুরস্ক, ফিলিস্তীন, লেবানন, লিবিয়া, জর্দান ও কায়রো সহ মিশরের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত বিশাল ভূ-খন্ডের নাম ছিলো রূম। বর্তমানে সে রূমই হলো ইতালীর রাজধানী।
 فارس (ফারেস)-এটি পারস্য বা সাসানী সাম্রাজ্য বলে পরিচিত। পারস্য প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে দুই পরাশক্তির একটি ছিলো। উক্ত সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিলো মাদায়েন। বর্তমানে পারস্য বলতে ইরানকে বুঝায়।
 بعلبك (বা’লাবাক্ক)-এ শহরটি বর্তমানে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের পুর্ব-উত্তর দিকে অবস্থিত।
 حضر موت (হাযারামাউত)-বর্তমানে এটা ইয়ামানের পুর্বাঞ্চলীয় একটি প্রশস্ত প্রান্তর- যা আরব সাগরের তীরে অবস্থিত।
 حبشة (হাবশা)- আফ্রিকা মহাদেশের বর্তমান ইথিওপিয়ার প্রাচীন নাম হলো হাবশা। এক সময় তাঁর নাম ছিলো আবিসিনিয়া।
 ما وراء النهر (মা-ওয়ারা-উন নাহার)-অর্থ নদীর ওপার। রাশিয়ার ফারগানা, আসীজান, শাশ, সমরকন্দ, বুখারা, ফারাব, তিরমিয, নাসাফ, কাশগর ও খাওয়ারেযম সম্বলিত অঞ্চলগুলোকে “মা-ওয়ারা-উন নাহার” বলা হয়ে থাকতো। বর্তমানে আধুনিক বই পুস্তকে তাঁর নাম “ট্রান্স অক্সিয়ানা” লেখা হয়।
 سمرقند (সমরকন্দ)- রাশিয়া থেকে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত উজবেকিস্তানের দক্ষিণ-পুর্বাঞ্চলীয় একটি শহরকে বলা হয়।
 بخاري (বুখারা)-বুখারা নগর উজবেকিস্তান প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত। এই নগরটি মধ্য এশিয়ার রুশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। বর্তমানে তা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সমরকন্দ থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৪২ কিলোমিটার।
 ترميذ (তিরমিয)- জায়হুন নদীর যে অংশটি তাজিকিস্তানের সাথে মিলিত এরই তীরবর্তী শহর হলো তিরমিয।
 نسا (নাসা)- বর্তমানে তুর্কমেনিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি শহর। যা প্রাচীন বৃহত্তর খুরাসানের অন্তর্ভুক্ত।
 بحر كلزوم (বাহরে কুলযুম)- এটি আরব সাগরের একটি শাখা। বাহরে কুলযুমের অপর নাম বাহরে আহমার। বাংলায় বলে লোহিত সাগর।
 دجلة (দিজলাহ/দাজলাহ)-ইরাকের রাজধানী বাগদাদের পুর্ব দিকে উত্তর দক্ষিণে একটি নদী। যার বর্তমান নাম ট্রাইগ্রিস নদী।
 فراط (ফুরাত)- ইরাকে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক নদী। ফুরাতের বর্তমান নাম ইউফ্রেটিস।
 سيحان زيحان- (সায়হান যায়হান)- বর্তমানে তুরস্কের দুটি নদী । যেগুলো সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- এ দুইটি হলো জান্নাতের নদীর অন্তর্ভুক্ত।
 بابل (বাবেল)- বর্তমান নাম ব্যাবিলন । ইরাকের দাজলাহ ও ফুরাত নদীদ্বয়ের মধ্যবর্তী একটি উর্বর উপত্যকা। এটা একটা প্রসিদ্ধ শহর।
 কুসতুনতিনিয়াহ- উসমানী খেলাফত বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৯৩০ ঈসায়ীতে এ নগরীর নাম রাখা হয় ইস্তাম্বুল । বর্তমানে এই নামেই প্রসিদ্ধ। ইস্তাম্বুল তুরস্কের প্রাচীন রাজধানী।
 আসকালান- জর্দানের পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি জনপদ- যা ভূমধ্য সাগরের পুর্ব তীরে অবস্থিত। হাদীসের বিখ্যাত ভাষ্যকার ইবনে হাজার আসকালানীর জন্মভূমি।
 ত্বাহা- আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্গত মিসরের নীল নদের তীরে অবস্থিত একটি জনপদ।
 মারগীনান- বৃহত্তর রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত ফারগানা। বর্তমানে উজবেকিস্তান প্রদেশের একটি প্রসিদ্ধ শহর মারগীনান। হানাফী ফিকাহর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘হিদায়া’-এর রচয়িতার জন্মভূমি।
 সুয়ূত- মিসরের নীল নদের পশ্চিমপাশে অবস্থিত একটি শহর। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা সুয়ুতির জন্মভূমি।
 ইন্তাকিয়া- শাম দেশের একটি প্রখ্যাত ও বিরাট নগরী। বর্তমানে শহরটি সিরিয়ার বায়ুকোণে ভুমধ্য সাগরের উপকূলে অবস্থিত।
 বুসরা- বর্তমানে সিরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত একটি গুরুত্বপুর্ণ স্থান।
 উন্দুলূস- এটা স্পেনের প্রাচীন নাম। দেশটি বর্তমানে স্পেন নামে পরিচিত।
 জাযীরাতুল আরব- এশিয়ার দক্ষিন পশ্চিম কোণে অবস্থিত একটি বিশাল উপদ্বীপ। এশিয়া-ইউরোপ ও আফ্রিকা এই তিনটি মহাদেশের সংযোগস্থলে আরব দেশ অবস্থিত।
 মায়দানে তীহ- বর্তমানে মিসরের সুয়েজ খালের পুর্বে এবং ঐতিহাসিক তূর পাহাড়ের উত্তর দিকে অবস্থিত একটি ছোট প্রান্তর।
 বালখ- আফগানিস্থানের উত্তরাঞ্চলীয় একটি প্রসিদ্ধ শহর। ইবরাহিম ইবনে আদহাম বলখী রহ.-এর সময় এটি আফগানিস্তানের রাজধানী ছিলো।
 দিমাশক- বর্তমান সিরিয়ার রাজধানী। এটি বর্তমান বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলোর অন্যতম একটি।
 আন-নীল- মিসরে অবস্থিত পৃথিবীর সর্ববৃহত নদী। বিশুদ্ধ হাদীসে একে জান্নাতের নদী বলা হয়েছে।
 ইস্কান্দারিয়া/আলেকজান্দ্রিয়া- রূম সাগরের (বর্তমানে ভূমধ্যসাগর) দক্ষিণ উপকলীয় মিসরের একটি প্রসিদ্ধ শহর।
 মাদইয়ান- লোহিত সাগরের পুর্ব তীরে ও আরব পশ্চিম উত্তর দিকে এমন একটি স্থান- যেটি জর্দান সংলগ্ন এবং হিজাযের শেষাংশে অবস্থিত।
 নহরে জায়হুন- জায়হুন নদীর অপর নাম আমু দরিয়া। বর্তমানে (ঈধৎফলঁ) নামে সোভিয়েত ইউনিয়নের তুর্কমেনিস্তানের অন্তর্গত।
 শাহরযূর- ইরাকের মূসল নগরীর পুর্বদিকে অবস্থিত একটি বিখ্যাত শহর।
 সাবা- ইয়ামানের একটি প্রসিদ্ধ শহর। যার অপর নাম মা’আরিব। ইয়ামানের রাজধানী সান’আ থেকে ২০০ কিলোমিটার পুর্বে অবস্থিত। রানী বিলকিসের সাম্রাজ্য ছিলো এটি।
 দুসূক- মিসরের ভূমধ্য সাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত গারবিয়া জেলার অন্তর্গত একটি গ্রাম।
 বায়হাক- ইরানের একটি গ্রাম।
 বাহরে মাইয়্যিত- জর্দানের একটি প্রসিদ্ধ মৃত সাগর। এটি মোট ৫০ মাইল দীর্ঘ এবং ১১ মাইল প্রশস্ত। এর গভীরতা ১৩০০ ফুট। লুত আলাইহিস সালামের কওম এ স্তানেই ধবংস হয়ে গিয়েছিলো।
 নাহরে উরদুন- জর্দান নদী। অনেক প্রাচীন নদী। একে নহরে তালূতও বলে।
 সাক্কাকা- ইরানের নিশাপুর বা ইরাক কিংবা ইরানের একটি জনপদের নাম সাক্কাকা।
 কুরতুবা- কুরতুবা স্পেনের অন্যতম একটি প্রাচীন নগরী। এর বর্তমান নাম কর্ডোভা।
 জুরজান- ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় একটি প্রসিদ্ধ শহর- যা কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ-পুর্ব দিকে অবস্থিত। এ শহরটিকে ফারসীতে গরগান বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
 সাজাওয়ান্দা- ‘বিহারে আজম নামক গ্রন্থে’ এ সম্পর্কে তিনটি মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে-
১. আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের নিকটবর্তী একটি জনপদের নাম।
২. প্রাচীন খোরাসানের অন্তর্গত একটি স্থানের নাম।
৩. সাজাওয়ান্দ শব্দটি ফারসী সাগাওয়ান্দ শব্দের পরিবর্তীত আরবী রূপ। যা ইরানের সীস্তান প্রদেশের একটি পাহাড়ের নাম।
 ইউনান- ইউরোপ মহাদেশের বর্তমান গ্রীসই প্রাচীন ইউনান। এক সময় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শন শাস্ত্রের কেন্দ্র ছিলো এটি। তিনদিকে তার সমুদ্র আর এক দিকে স্থলভাগ।
 তাবরীয-ইরানের উত্তর পশ্চিম কোণে (বায়ুকোণ) অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ শহর। এটি ফারসী সাহিত্যের অমর কবি শায়খ সাদীর জন্মভূমি।
 খাওয়ারেযম- বৃহত্তর এশিয়ার অন্তর্গত বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী একটি শহর। শহরটিকে খীবা/ খীওয়াহও বলা হয়।
 যামাখশার- তুর্কমেনিস্থানের উত্তর সীমান্তবর্তী শহরের নাম যামাখশার।
 ফারাব- প্রাচীন তুর্কিস্তানের অন্তর্গত বর্তমান কাজাকিস্তানের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি শহর।
 সরখস- প্রাচীন যুগের খুরাসানের অন্তর্গত বর্তমান তুর্কমানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর।
 ইস্পাহান- বর্তমানে ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে অবস্থিত।
 সাইনা/সিনাই- ঐতিহাসিক সিনাই স্থানটি আরব প্রজাতন্ত্রের উত্তর পূর্বাংশে অবস্থিত একটি উপদ্বীপ। লোহিত সাগরের উত্তর প্রান্তে সুয়েজ উপসাগর ও আকাবার মধ্যখানে এর অবস্থান।
 হিজায- সৌদি আরবের নাজদ ও তিহমার মাঝামাঝি অবস্থিত বিশাল এলাকা- যেখানে মক্কা-মদীনা, জিদ্দাহ, তায়েফ, খায়বর, ফাদাক, তাবুক ইত্যাদি শহরসমূহ বিদ্যমান।
 আলূস- ইরাকের ফোরাত (ইউফ্রেটিস) নদীর পশ্চিমতীরে আবু কালাম এবং রামাদীর মধ্যস্থানে অবস্থিত একটি স্থান।
 ইয়ামামাহ- সৌদি আরবের নাজদের অন্তর্ভুক্ত একটি স্থান।
 দাবিক- বর্তমান সিরিয়ার হালব শহরের উত্তর দিকে অবস্থিত একটি স্থান।
 আ’মাকব-সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় হালব ও ইন্তিকিয়া শহরের মধ্যবর্তী একটি স্থান।
 খুজিস্তান- ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি শহর।
 হুলওান-ইরাকের একটি শহরের নাম। রাজধানী বাগদাদ ও হামদাদের মাঝে অবস্থিত।
 হামদান- এ শহরটি ইরানের উত্তর পুর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের খুরাসানে অবস্থিত।
 তূস- এটি ইরানের খুরাসান প্রদেশের রাজধানী- যার বর্তমান নাম ‘মাশোহাদ’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.