ঈমানের বিষয় কী কী? -ধারাবাহিক-২

0
583
Allah
Allah

দুই. ফিরিশতাগণের ওপর ঈমান
ফিরিশতাগণের ওপর ঈমান আনার অর্থ হলো এই কথা বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তা’আলা এক ধরণের মাখলুককে নূর দ্বারা সৃষ্টি করে তাঁদেরকে আমাদের চক্ষুর অন্তরালে রেখেছেন। তাদেরকে ফিরিশতা বলে। তাঁরা পুরুষ বা মহিলা কোনোটিই নন; বরং তাঁরা ভিন্ন প্রকৃতির মাখলুক।
আসমান ও যমীনে বিভিন্ন ধরণের কাজ আল্লাহ তা’আলা তাঁদের ওপর সোপর্দ করে রেখেছেন। যথা-
আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের নিকট ওহী অবতীর্ণ করা, পৃথিবীর আকাশে মেঘ পরিচালনা করা, পানি ও বৃষ্টির পরিচালনা, ক্ষেত-খামারে ফসল ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা করা, প্রাণীর রূহ কবয করা, সৎ কর্ম-অসৎ কর্ম লিখে রাখা এবং মানুষের নিরাপত্তা বিধান করা ইত্যাদি। তাঁরা সম্পূর্ণ নিষ্পাপ। তাঁরা বিন্দুমাত্র আল্লাহ তা’আলার নাফরমানী করেন না। তাঁরা আল্লাহ তা’আলার প্রিয় ও অনুগত বান্দা।
তাঁদের মধ্যে চারজন ফিরিশতা যথা- জিবরীল আ., মিকাঈল আ., ইসরাফিল আ. এবং আযরাঈল আ. সমগ্র ফিরিশতাকুলের প্রধান।

কুরআনের বর্ণনায় ফিরিশতাগণের পরিচয়
ফিরিশতা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে ইরশাদ করেন-
لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ-
অর্থঃ ফিরিশতাগণকে আল্লাহ তা’আলা যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা এর অমান্য করেন না। তাঁরা তাই করেন, যার ব্যাপারে তাঁদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। (সূরা তাহরীম-৬)
وَمَنْ عِندَهُ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَلَا يَسْتَحْسِرُونَ- يُسَبِّحُونَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ لَا يَفْتُرُونَ-
অর্থঃ আল্লাহ তা’আলার সান্নিধ্যে থাকা ফিরিশতাগণ তাঁর ইবাদত করার ক্ষেত্রে অহংকার করেন না এবং অলসতাও করেন না। তাঁরা দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করেন। এতে তাঁরা কখনোই ক্লান্ত হন না। (সূরা আম্বিয়া-১৯-২০)
وَإِنَّ عَلَيْكُمْ لَحَافِظِينَ- كِرَامًا كَاتِبِينَ- يَعْلَمُونَ مَا تَفْعَلُونَ-
অর্থঃ তোমাদের দায়িত্বে কিছু ফিরিশতা নিয়োজিত আছেন। তাঁরা হলেন সম্মানিত লেখক। তোমরা যা কিছু করো, সে সম্পর্কে তাঁরা অবগত আছেন। (সূরা ইনফিতার-১০-১২)
لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِّن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُوا مَا بِأَنفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلَا مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ-
অর্থঃ মানুষের জন্য পালাক্রমে ফিরিশতাগণ নিয়োজিত আছেন। আল্লাহ তা’আলার হুকুমে তাঁরা সামনে ও পিছন থেকে মানুষকে নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন। (সূরা রা’দ-১১)

জিন সম্পর্কে আকীদা
আরেক প্রকার জীবকে আল্লাহ তা’আলা আগুনের দ্বারা সৃষ্টি করে আমাদের চক্ষুর অগোচর করে রেখেছেন। তাদেরকে জিন বলে। তাদের মধ্যে ভালো-মন্দ সব রকমই হয়। তারা নারী-পুরুষও বটে এবং তাদের সন্তানাদিও হয়। তাদের খানা-পিনার প্রয়োজনও হয়।
জিন জাতির ওপরও আল্লাহ তা’আলার বিধি-বিধান কার্যকর হয়। জিন মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ ও বড় দুষ্ট হচ্ছে ‘ইবলিস শয়তান’। হাশরের ময়দানে জিনদেরও হিসাব-নিকাশ হবে। এই কথা কুরআনে কারীমে উল্লেখ আছে। সুতরাং তা বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ।

কুরআনের বর্ণনায় জিন জাতি
কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-
وما حلقت الجن والإنس إلا ليعبدون-
অর্থঃ আমি জিন এবং মানব জাতিকে শুধুমাত্র ইবাদাত করার জন্য সৃষ্টি করেছি। (সূরা যারিয়াত-৫৬)
وَمِنَ الْجِنِّ مَن يَعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِإِذْنِ رَبِّهِ وَمَن يَزِغْ مِنْهُمْ عَنْ أَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِير-
অর্থঃ জিন জাতির একটি দল আল্লাহ তা’আলার নবী সুলামান আলইহিস সালামের নির্দেশে কাজ করতো। (সূরা সাবা-১২)
يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ-
অর্থঃ হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! যদি তোমরা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের প্রান্তসীম্ াঅতিক্রম করতে পারো, তা হলে করো। কিন্তু ছাড়পত্র ছাড়া তা অতিক্রম করতে তোমরা কখনোই পারবে না। (সূরা রহমান-৩৩)
قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا-
অর্থঃ হে নবী! আপনি বলে দিন- আমার প্রতি এ বিষয়ে ওহী অবতীর্ণ করা হয়েছে যে, জিন জাতির একটি দল কুরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছে- আমরা এক বিষ্ময়কর কুরআন শ্রবণ করেছি। (সূরা জিন-১)
উল্লেখ্য, কুরআনে জিন জাতির নামে স্বতন্ত্র একটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে।
জিন জাতির দুষ্ট শ্রেণি শয়তান সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে-
إِنَّ الشَّيْطَانَ لِلْإِنسَانِ عَدُوٌّ مُّبِينٌ-
অর্থঃ নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের জন্য প্রকাশ্য শত্র“। (সূরা ইউসুফ-৫)
إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ-
অর্থঃ শয়তান এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখো না। (সূরা আরাফ-২৭)
الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُم بِالْفَحْشَاءِ وَاللَّهُ يَعِدُكُم مَّغْفِرَةً مِّنْهُ وَفَضْلًا وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ-
অর্থঃ নিশ্চয় শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রতার ভয় দেখায় এবং সে তোমাদেরকে অশ্লীলতার দিকে নির্দেশিত করে; অথচ আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে মাগফিরাত ও অনুগ্রহের পথ প্রদর্শন করেন। (সূরা বাকারাহ-২৬৮)

চলবে …

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.