ঈমান ও ইসলামঃ বিধান ও গুণাবলী

0
445
La Ilaha Illallah
La Ilaha Illallah

কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন স্থানে ঈমানের বিভিন্ন গুণাবলীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যথা- হাদীসে নবীজি ইরশাদ করেন-
من كان يؤمن بالله واليوم الآخر- فليكرم ضيفه-
অর্থঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলা এবং কিয়ামতের দিনের ওপর পরিপূর্ণ ঈমান রাখে, সে যেনো মেহমানের সমাদর যথাযথভাবে করে। (সহীহুল বুখারীঃ হা-৬১৩৮)
উক্ত হাদীস দ্বারা বুঝা গেলো, ওই ব্যক্তির ঈমান পরিপূর্ণ, যে তার মেহমানের সমাদর করে। অর্থাৎ মেহমান আগমন করলে আনন্দিত হওয়া এবং তার সমাদর করা ঈমানের নিদর্শন। সুতরাং যার ঈমানে দূর্বলতা থাকবে- সে মেহমানের সমাদর যথাযথ করবে না। আর ঈমান নিভু নিভু হলে তো কোনো কথাই নেই। আর ঈমানের অবস্থা মেহনত অনুযায়ী যে পরিমাণ হবে- উক্ত গুণাবলী সে ব্যক্তির মধ্যে সে পরিমাণ বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। অপরদিকে ঈমান দূর্বল হয়ে পড়লে এসব গুণাবলীর মাত্রাও কমে যেতে থাকবে।
এছাড়া হাদীসে নববীতে ইসলাম প্রমাণিত হওয়ারও কিছু নিদর্শন বলা হয়েছে। যথা- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إذا رأيتم الرجل يعتاد المسجد- فاشهدوا له ابالإيمان-
অর্থঃ তুমি যাকে বেশি বেশি মসজিদে গমন করতে দেখো- তার ঈমানের ওপর সাক্ষ্য দাও। (সুনানে তিরমিযীঃ হা-৩০৯৩)
এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, অধিক পরিমাণে মসজিদে গমনকারীর ঈমান সাক্ষ্য দ্বারা সাব্যস্ত হওয়ার উপযুক্ত। সুতরাং এ আলোকে যার ঈমানের ব্যাপারে সাক্ষ্য দেওয়া যায়, তার ইসলাম প্রমাণিত হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
কারণ ইসলাম হলো উপরোক্ত ঈমানের সংজ্ঞা অনুযায়ী ঈমানের প্রথম ধাপ। আর যেখানে প্রথম ধাপের পরবর্তী ধাপগুলো প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে প্রথম ধাপ সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ঈমান এবং ইসলামের বিধান
ইসলামের বিপরীত হলো দ্বি-মুখী আচরণ করা। যাকে নিফাকি বলা হয়। সুতরাং এরূপ দ্বি-মুখী আচরণ করলে সে মুনাফিক বলে সাব্যস্ত হবে। তবে মুনাফিক ব্যক্তি একেবারে ঈমানহারা হবে না। তার ঈমান থাকবে ঠিক, কিন্তু তা হবে নিভু নিভু ঈমান। এ ঈমান তার কোনো উপকারে আসবে না। এ পর্যায়ের ঈমানের ওপর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলে এর পরিণতি কুফরির দিকে ধাবিত হওয়ার আশংকা আছে।
সুতরাং কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত ইসলামের গুণাবলীর বিপরীত কোনো কিছু কারো কাছ থেকে প্রকাশ পেলে তা মুনাফিকির নিদর্শন বলে আখ্যায়িত হবে।
অপরদিকে ঈমানের বিপরীত হলো কুফরি। সুতরাং ঈমান না থাকলে সে কাফির বলে সাব্যস্ত হবে।
সুতরাং কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত ঈমানের গুণাবলীর বিপরীত কোনো কিছু কারো কাছ থেকে প্রকাশ পেলে তা কুফরির নিদর্শন বলে আখ্যায়িত হবে।

ঈমান বৃদ্ধি পায় আবার হ্রাস পায়
ঈমান তথা বিশ্বাস করা মানব অন্তরের একটা অবস্থার নাম। তবে শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁদের থেকে যা কিছু আমাদের কাছে পৌঁছেছে- সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাকে ঈমান বলা হয়।
এছাড়া অন্যান্য বিশ্বাস করাকে ঈমান বলা হয় না। মানব অন্তরে কোনো কিছুর প্রতি আস্থা কিংবা বিশ্বাস যেরকম বৃদ্ধি পায় আবার হ্রাস পায়, ঠিক তেমনিভাবে ঈমানও বৃদ্ধি পায় আবার হ্রাসও পায়। ঈমান বৃদ্ধি পাওয়া সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা কুরআনে ইরশাদ করেন-
وإذا ما أنزلت سورة، فمنهم من يقول: أيكم زادته هذه إيمانا؟ فأما الذين آمنوا فزادتهم إيمانا-
যখন কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে- এ সূরা তোমাদের মধ্যে কার ইমান কী পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে? মূলত যারা ঈমানদার- এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং এর ফলে তারা আনন্দিত হয়েছে। (সূরা তাওবাহ-১২৪)
অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে-
وإذا تليت عليهم آياته، زادتهم إيمانا-
যখন তাঁদের নিকট সূরা তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাঁদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পায়। (সূরা আনফাল-২)
আল্লাহ তা’আলার আদেশ-নিষেধ সঠিকভাবে এবং পূর্ণভাবে আমল করার মাধ্যমে এই ঈমান কামেল বা শক্তিশালী হয়। তবে অন্তরের ঈমানের অবস্থাকে শক্তিশালী ও সচল রাখার জন্য কিছু মেহনত করতে হয়। এই মেহনতে দূর্বলতা আসলে কিংবা এই মেহনত ছেড়ে দিলে ঈমান দূর্বল হয়। এভাবে ক্রমান্বয়ে ঈমানের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। অনেক সময় ঈমানের শেষ অংশটুকুও চলে যায়।
ঈমানের বিভিন্ন নিদর্শন কিংবা গুণাবলী কুরআন ও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কারো ঈমান শক্তিশালী হলে তার অভ্যন্তরে ঈমানের সেসব নিদর্শন কিংবা গুণাবলী অর্জিত হয়। তখন সে পূর্ণ মুমিন হয়। ঈমানকে শক্তিশালী ও সচল রাখার মেহনতের অবস্থা অনুযায়ী ঈমানের এসব গুণাবলী উৎকর্ষ সাধন করে অথবা এগুলোর অবনতি ঘটে।

উক্ত মেহনতকে ছেড়ে দিলে এক পর্যায়ে তার অভ্যন্তর থেকে ঈমানের গুণাবলী বিলুপ্ত হয়ে যায়। ঈমানের মেহনত নিম্নরূপঃ
 কালিমা বলা।
 ঈমানের কথা আলোচনা করা।
 আল্লাহ তা’আলার বড়ত্ব ও কুদরতের কথা আলোচনা করা।
 আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টি ও কুদরত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা।
 কুরআন তিলাওয়াত করা।
 আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের জীবনী আলোচনা করা।
 আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের সাথে আল্লাহ তা’আলার কুদরতি কার্যাবলী কিংবা সাহায্য সম্পর্কে আলোচনা করা।
 প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের জীবনী এবং তাঁদের প্রতি আল্লাহ তা’আলার কুদরতি মু’আমালা সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনাবলী আলোচনা করা।
 ঈমানদার আল্লাহ ওয়ালাগণের সাহচর্য্য অবলম্বন করা।
 আমল করা দ্বারা। (ঈমানের শাখাগুলোর ওপর আমল করা।)
 শরীয়তের হুকুম অনুযায়ী চলার দ্বারা।
পক্ষান্তরে যেসব কারণে ঈমান দুর্বল হয়ে যায় এবং ঈমানের নূর কমে যায়, এমনকি কখনো কখনো ঈমান নষ্ট পর্যন্ত হয়ে যায়, সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
— কুফর দ্বারা।
— শিরক দ্বারা।
— বিদ’আত দ্বারা।
— কুসংস্কার ও কুপ্রথা পালন করার দ্বারা।
— গুনাহ করার দ্বারা। (আহকামে যিন্দেগী)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.