ঈসা মাসিহ আ. এবং ইমাম মাহদিঃ ইসলাম কী বলে!

0
228
Mahdi and Nuzule Maseeh
Mahdi and Nuzule Maseeh

প্রশ্ন

প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদী ও মাসীহ আ. ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি-এ সম্পর্কে সহীহ দলিল জানতে চাই। তাদের প্রত্যেকের পরিচয় ভিন্ন ভিন্ন করে জানালে আমাদের জন্য বুঝতে সহজ হবে।

উল্লেখ্য, কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইমাম মাহদী ও মাসীহ আ. একই ব্যক্তি হওয়া সম্পর্কে সুনানে ইবনে মাজাহর বরাতে একটি হাদীস পেশ করে থাকে যে,

لا مهدي إلا عبيسى بن مريم

অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়ামই হলেন মাহদী। হাদীসটির তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা জানতে চাই।

উত্তর

যরত ঈসা আ. আল্লাহ তাআলার রাসূল। যিনি বনী ইসরাইলের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন। আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগে দুনিয়ায় তাঁর আগমন হয়েছে। কুরআন মজীদে তাঁর পরিচয় ও ঘটনা বিদ্যমান রয়েছে। পক্ষান্তরে মাহদী রা. এখনও আবির্ভূত হননি। কিয়ামতের পূর্বে তার আবির্ভাব হবে। তিনি নবী হবেন না। আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত হিসেবে দুনিয়ায় থাকবেন। হাদীস শরীফে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ হয়েছে।

কুরআন ও হাদীসের এ সকল দলিল থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, হযরত ঈসা আ. ও মাহদী রা. ভিন্ন দুজন ব্যক্তি। তাদের সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে যা বলা হয়েছে তা জানা থাকলে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এখানে কুরআন ও হাদীস থেকে তাদের প্রত্যেকের পরিচয় ও কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হল।

ঈসা আ.-এর পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য

ক) তিনি মারইয়াম রা.-এর পুত্র।

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) সে মারইয়ামের পুত্র ঈসা।

(সূরা মারইয়াম : ৩৪)

খ) ঈসা আ. আল্লাহ তাআলার কুদরতে পিতা ছাড়া শুধু নিজ মা (মারইয়াম) এর মাধ্যমে জন্মলাভ করেছেন।

কুরআন মজীদে আছে, (তরজমা) তিনি (মারইয়ামকে) বললেন, আমি তো তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করার জন্য। মারইয়াম বলল, আমার পুত্র হবে কেমন করে, যখন আমাকে কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি নই কোনো ব্যভিচারিণী নারী? ফিরিশতা বলল, এভাবেই হবে। তোমার রব বলেছেন, আমার পক্ষে এটা একটা মামুলি কাজ। আমি এটা করব এজন্য যে, তাকে মানুষের জন্য (আমার কুদরতের) এক নিদর্শন বানাব এবং আমার নিকট হতে রহমতের প্রকাশ ঘটাব।

(সূরা মারইয়াম : ১৯-২১)

গ) ঈসা আ. ছিলেন আল্লাহ তাআলার রাসূল। তিনি বনী ইসরাইলের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) স্মরণ কর সেই সময়কে যখন ঈসা ইবনে মারইয়াম বলেছিল, হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহ তাআলার রাসূল হয়ে এসেছি। (সূরা সাফ্ফ : ৬)

অন্যত্র বলা হয়েছে, হে নবী! আমি তোমার প্রতি ওহী নাযিল করেছি সেইভাবে যেভাবে নাযিল করেছি নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের প্রতি। এবং আমি ওহী নাযিল করেছিলাম ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাদের বংশধরগণ-ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলাইমানের প্রতি।

(সূরা নিসা : ১৬৩)

ঘ) ঈসা আ.কে আল্লাহ তাআলা আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন। আখেরী যামানায় কিয়ামতের কিছুদিন পূর্বে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন।

কুরআন মজীদে আছে, যখন আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন, হে ঈসা! আমি তোমাকে সহীহ সালামতে ওয়াপস নিয়ে নিব। তোমাকে নিজের কাছে তুলে নিব। এবং যারা কুফুরি অবলম্বন করেছে তাদের (উৎপীড়ন) থেকে তোমাকে মুক্ত করব। (সূরা আল ইমরান : ৫৫)

অন্য আয়াতে আছে, তারা বলে আমরা আল্লাহর নবী ঈসা ইবনে মারইয়ামকে হত্যা করেছি। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি, শুলেও চড়াতে পারেনি।বরং তাদের বিভ্রম হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে যারা এ সম্পর্কে মতভেদ করেছে তারা এ বিষয়ে সংশয়ে নিপতিত। এবং এ বিষয়ে অনুমানের অনুসরণ ছাড়া তাদের প্রকৃত কোনো জ্ঞানও ছিল না। সত্য কথা হচ্ছে তারা ঈসাকে হত্যা করেনি। বরং আল্লাহ তাআলা তাকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন। (সূরা নিসা : ১৫৭)

ঙ) তিনি কিয়ামতের আগে আসমান থেকে অবতরণ করবেন। কিছুদিন দুনিয়ায় অবস্থান করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কসম সেই সত্ত্বার, যার কুদরতী হাতে আমার প্রাণ, অতি নিকটবর্তী সময়ে তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন মারইয়ামের পুত্র (ঈসা)। (সহীহ বুখারী ১/৪৯০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ২২৩৩)

চ) ঈসা আ. আকাশ থেকে অবতরণের পর ৪০ বছর দুনিয়াতে থাকবেন।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, ঈসা আ. আকাশ থেকে অবতরণ করে দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং ৪০ বছর দুনিয়াতে থাকবেন।

(মুসনাদে আহমদ ৬/৭৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৮৬২৯)

ইমাম মাহদীর পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য

ক) ইমাম মাহদী ফাতেমা রা-এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন্

উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মাহদী হবে ফাতেমার বংশধর।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪২৮৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৪০৮৬)

খ) মাহদী রা.-এর নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তার পিতার নাম হবে আবদুল্লাহ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মাত্র একদিনও বাকি থাকে তবুও-আল্লাহ তাআলা ঐ দিনকে দীর্ঘ করবেন এবং আমার বংশের এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। তার নাম আমার নামের সাথে এবং তার পিতার নাম আমার পিতার নামের সাথে মিলে যাবে। (অর্থাৎ তার নাম হবে মুহাম্মাদ ও তার পিতার নাম হবে আবদুল্লাহ)।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪২৮১; জামে তিরমিযী, হাদীস : ২২৩০)

উপরোক্ত হাদীসে কিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদীর আগমনের বিষয়টি এবং তার নাম ও বংশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ) মাহদী রা. নবী হবেন না। তিনি হবেন একজন নেককার ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি মুসলমানদের খলীফা হবেন।

আবু উমামা বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত, এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নেককার লোক বলে অভিহিত করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৪০৭৭)

উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে মানুষ তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবেন। (অর্থাৎ তার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী চলার জন্য তার হাতে হাত রেখে শপথ করবে।)।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪২৮৫)

ঘ) মাহদী রা. সাত বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করবেন এবং দুনিয়াতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।

আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মাহদী আমার বংশের হবে। তার চেহারা উজ্জ্বল হবে। (তার দ্বারা) গোটা দুনিয়ায় ইনসাফ কায়েম হবে। যেমনিভাবে (ইতিপূর্বে) পুরো দুনিয়ায় অন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তিনি সাত বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করবেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪২৮৪)

উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মাহদী (খলীফা হওয়ার পর) সাত বছর বেঁচে থাকবেন। এরপর মৃত্যুবরণ করবেন। মুসলমানগণ তার জানাযা পড়বে। (সুনানে আবু দাউদ, হা: ৪২৮৬)

উপরে ঈসা আ. ও মাহদী রা. সম্পর্কে কুরআন মজীদ ও হাদীস শরীফ থেকে যে তথ্যগুলো দেওয়া হল এগুলো থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে, ঈসা আ. ও মাহদী রা. ভিন্ন দুই ব্যক্তি। কিয়ামতের আগে মাহদী রা.-এর আবির্ভাব হবে এবং ঐ সময় ঈসা আ.ও আসমান থেকে অবতরণ করবেন। কিছুকাল তারা দু’জন একত্রেও থাকবেন।

সুতরাং তাদেরকে এক ব্যক্তি দাবি করার অর্থ, দু’জনের কোনো একজনকে অস্বীকার করা। অথচ ঈসা আ.-এর দুনিয়ায় আসা, তাকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া এবং কিয়ামতের আগে আবার দুনিয়াতে আগমন করার বিষয়টি কুরআন মজীদ ও মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তদ্রূপ কিয়ামতের আগে ইমাম মাহদীর আগমনও মুতাওয়াতির হাদীসে রয়েছে। তিনি ফাতেমা রা.-এর বংশধর হওয়া, একজন নেককার ও ন্যায়পরায়ণ শাসক হওয়া ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিবরণও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলন করে একটি আলাদা পুস্তিকাই লিখেছেন। যা তার আলহাভী লিলফাতাভী গ্রন্থের ২য় খন্ডে বিদ্যমান রয়েছে। তাতে ২১৩-২৪৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোট ৩০ পৃষ্ঠাব্যাপী ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলিত হয়েছে। এরপর সুয়ূতী রাহ. লিখেছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন বলেন, ইমাম মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।

হাফেয ইবনে হাজার রাহ. ফাতহুল বারীতে (৬/৫৬৯) লিখেছেন,

আবুল হাসান মানাকেবুশ শাফেয়ী তে বলেছেন, ইমাম মাহদী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত হবেন এবং ঈসা আ. তার পিছনে নামায পড়বেন। তার আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।

সুতরাং ইমাম মাহদীকে অস্বীকার করার অর্থ, মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত অকাট্য বিষয়কে অস্বীকার করা। অতএব এ ধরনের চিন্তা ও বিশ্বাস থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

উল্লেখ্য, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রধান মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকারের মিথ্যা দাবি করেছে। কোনো সময় নিজেকে নবী ও রাসূল, কোনো সময় আদম ও মারইয়াম হওয়ার দাবি করেছে। কখনো যুগের মুজাদ্দিদ হওয়ার দাবি করেছে। এমনিভাবে নিজেকে ঈসা ও মাহদী বলেও দাবি করেছে।

এমন আরো অনেক দাবি সে করেছে যেগুলো কুরআন ও হাদীসের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট মিথ্যা ও ঈমান পরিপন্থী।

মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজের ব্যাপারে এ ধরনের দাবি করায় সে সময়ের সাধারণ লোকজনও বুঝতে পারত যে, লোকটি মিথ্যাবাদী। এক সময় যখন তাকে বলা হল, মাহদী ও মাসীহ তো দু’জন। আপনি একত্রে ঐ দুজন হলেন কীভাবে? তখন সে ঐ মিথ্যা দাবির সমর্থনে উক্ত বর্ণনাটি পেশ করে। অথচ ইতিপূর্বে কুরআন ও হাদীস থেকে ঈসা আ. ও মাহদী রা.-এর যে পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, তারা দু’জন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি।

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ঈসা বা মাহদী নয়। কারণ ঈসা আ. ও মাহদী রা.-এর বংশ পরিচয়ের সঙ্গে গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বংশ পরিচয়ের কোনো মিল নেই।

গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর পিতার নাম গোলাম মুর্তজা। সে পাঞ্জাবের গুরদাসপুর জেলার কাদিয়ান নামক এলাকায় ১৮৩৯ মতান্তরে ১৮৪০ খৃস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করে।

পক্ষান্তরে ঈসা আ. পিতা ছাড়া আল্লাহর কুদরতে নিজ মা মারইয়ামের মাধ্যমে জন্মলাভ করেছেন। তিনি বনী ইসরাইলের নিকট নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। কিয়ামতের আগে আসমান থেকে অবতরণ করবেন।

আর ইমাম মাহদী এখনো দুনিয়াতে আসেননি। তিনি ফাতেমা রা.-এর বংশে জন্মলাভ করবেন। তার নাম হবে মুহাম্মাদ। তার পিতার নাম হবে আবদুল্লাহ। তাদের উভয়ের বংশ-পরিচয়, বৈশিষ্ট্য কুরআন ও হাদীস থেকে বিস্তারিতভাবে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর এ ধরনের দাবি ও বিশ্বাস মিথ্যা এবং ঈমান পরিপন্থী।

প্রসঙ্গ : সুনানে ইবনে মাজার হাদীস

গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তার দাবি-(ঈসা আ. ও মাহদী রা. এক ও অভিন্ন ব্যক্তি) এর সপক্ষে সুনানে ইবনে মাজাহ-এর যে বর্ণনাটি বলে থাকে, হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণ বর্ণনাটিকে শরীয়তের অন্যান্য অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বলেছেন। কেউ কেউ মাওযূও বলেছেন।

হাদীস বিশারদ ইমাম সাগানী রাহ. বলেছেন, উক্ত হাদীসটি মওযূ (জাল)। দেখুন : মীযানুল ইতিদাল ৪/১০৭; সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/৩৫১; আলফাওয়ায়িদুল মাজমূআ, শাওকানী ২/১২৭; আলমানারুল মুনীফ ১৪১

লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, সুনানে ইবনে মাজাতেই ইমাম মাহদীর আগমন সম্পর্কে বেশ কয়েকটি সহীহ হাদীস বিদ্যমান রয়েছে। (দেখুন : সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৪০৮৫, ৪০৮৬, ৪০৮৭)

সুতরাং হাদীস বিশারদগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেটি অগ্রহণযোগ্য বা মওযূ বর্ণনা, তার উপর ভিত্তি করে একটি অকাট্য আকীদাকে কখনো অস্বীকার করা যায় না।

আল্লাহ তাআলা সকলকে ঈমান ও হেদায়েতের উপর অবিচল রাখুন এবং ঈমান বিনষ্টকারী সকল প্রকার ষড়যন্ত্র থেকে হেফাযত করুন। আমীন।

কাদিয়ানী সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার জন্য আরো পড়তে পারেন :

ছুবুত হাজের হেঁ; আয়নায়ে কাদিয়ানিয়্যত, কাযিবাতে মির্জা, কাদিয়ানী কিউ কাফের হ্যায় (উর্দু)। কাদিয়ানী সম্প্রদায় : তত্ত্ব ও ইতিহাস, কাদিয়ানী ফিতনা ও মুসলিম মিল্লাতের অবস্থান, কাদিয়ানী মতবাদ ও উলামায়ে ইসলাম।
*****

প্রশ্ন

ড. আহমদ আমীন তার ‘দুহাল ইসলাম’-এ বলেন, মাহদী আ.-এর আগমনের বিশ্বাস নাকি শীয়াদের মাহদীবাদ থেকে গৃহীত। সহীহাইনে নাকি এ সংক্রান্ত কোনো হাদীস নেই। আর হাদীসের অন্যান্য কিতাবে এ সংক্রান্ত যেসব হাদীস আছে সেগুলোর সনদও আপত্তিমুক্ত নয়। অথচ আমরাও তো মাহদী আ.-এর আগমনে বিশ্বাস করি। প্রকৃত বিষয়টি কী এবং এ বিষয়ে কোনো কিতাব আছে কি না জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ইমাম মাহদী রা.-এর আবির্ভাবের বিষয়টি অনেক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং উম্মতের‘তালাক্কী বিল কবুল’ দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে শুরু করে আহলে সুন্নত ওয়ালজামাতের প্রায় সকল আলিম এ বিষয়ে একমত।

কিয়ামতের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতের মধ্য হতে এমন একজন ব্যক্তির আগমন হবে যার নাম ও পিতার নাম হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম ও পিতার নামের অনুরূপ। অর্থাৎ মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ। যার উপাধি হবে ‘মাহদী’।

ইমাম আবুল হুসসাইন মুহাম্মাদ বিন হুসাইন আল আবুরী রাহ. (৩৬৩ হি.) বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাওয়াতুর পরিমাণের প্রচুর হাদীসে মাহদীর আলোচনা এসেছে। একথাগুলিও খুবই বিশ্বস্তভাবে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি আহলে বাইত থেকে হবেন। তিনি সাত বছর পৃথিবীর বুকে হুকুমত করবেন, অন্যায়-অবিচারে নিমজ্জিত পুরো ভূখন্ডে ইনসাফ ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। আসমান থেকে হযরত ঈসা আ.-এর অবতরণের পর তিনিও ইমাম মাহদীকে দাজ্জালের সাথে যুদ্ধে সহযোগিতা করবেন। তিনি উম্মতের ইমামতি করবেন এবং হযরত ঈসা আ.ও তাঁর পিছনে নামায আদায় করবেন।’ (আল মানারুল মুনীফ- ১৪২)

এ বিষয়ে সহীহ-হাসান ও নির্ভরযোগ্য পর্যায়ের এত প্রচুর হাদীস রয়েছে যে, অনেক আলিম একে‘মুতাওয়াতির’ বলেছেন। ইমাম মাহদী ও তাঁর আগমন সংক্রান্ত বহু মৌলিক এবং বহু খুটিনাটি বিষয়ও এইসব হাদীসে রয়েছে। কোনো হাদীসে তাঁর শাসনামলের কথা, কোনো হাদীসে ঈসা আ.-এর সাথে তাঁর মোলাকাত ও ইমামতির কথা, কোনো হাদীসে তাঁর নাম ও বংশ পরিচয়, কোনো হাদীসে তাঁর গুণ ও বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে। এভাবে হাদীসের প্রায় সব ধরনের কিতাবেই এই হাদীসগুলো বর্ণিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘সহীহাইন’ও ব্যতিক্রম নয়। নাম উল্লেখ ছাড়াই ঈসা আ.কে নিয়ে তাঁর ‘ইমামত’ সংক্রান্ত একাধিক হাদীস সহীহাইনেও বর্ণিত হয়েছে।

(দেখুন : সহীহ বুখারী হাদীস : ৩৪৪৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৫৫, ১৫৬, ২৯১৯, ২৯১৪)

এসব হাদীসে ‘আমীরুহুম’, ‘ইমামুকুম’ ও ‘খলীফা’ ইত্যাদি শব্দের দ্বারা উদ্দেশ্য ইমাম মাহদী। এই হাদীসগুলোরই নির্ভরযোগ্য রেওয়ায়েতে ‘আমীরুহুম আলমাহদী’ শব্দ উল্লেখিত হয়েছে। (দেখুন : আলমানারুল মুনীফ ১৪৭-১৭৮) তাছাড়া অন্যান্য সহীহ হাদীসে তো এই ব্যাখ্যা একেবারেই সুস্পষ্ট।

‘ইমামাতুল মাহদী’ নিয়ে হাদীসের প্রায় সকল কিতাবে স্বতন্ত্র অধ্যায় থাকার পরও শুধু সহীহাইনের হাদীসগুলোর কথা বিশেষভাবে বলার কারণ এই যে, হাদীসের এই দুটি কিতাব সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রসিদ্ধ এবং অবশ্যই সহীহ হাদীসের সংকলন হিসেবে এই কিতাব দুটির যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, কোনো বিষয় প্রমাণিত হওয়ার জন্য সহীহাইন কিংবা বিশেষ কোনো কিতাবে থাকা অপরিহার্য। বরং এ ধরনের চিন্তা অহেতুক হঠকারিতা ছাড়া আর কিছু নয়। ইমাম বুখারী রাহ. ও ইমাম মুসলিম রাহ.-এর কেউই এমন দাবী করেননি যে, সকল সহীহ হাদীস তাঁরা তাঁদের কিতাবে একত্র করেছেন বা একত্র করার ইচ্ছা করেছেন; বরং ইমাম বুখারী রাহ, নিজেই বলেন,

لم أخرج في هذا الكتاب إلا صحيحا وما تركت من الصحاح أكثر

আমি এই কিতাবে শুধু সহীহ হাদীস সংকলন করেছি। এর বাইরেও অনেক সহীহ হাদীস আছে।

(তারীখে বাগদাদ ২/৯)

তেমনি একথাও সহীহ সনদে প্রমাণিত যে, ইমাম মুসলিম রাহ.-এর কিতাব তাঁরই উস্তাদ ইমাম আবু যুরআ রাযী এবং ইবনে ওয়ারা রাহ.-এর হাতে পৌঁছলে তাঁরা বলেছিলেন, তুমি সহীহ নামে কিতাব লিখে বিদআতীদের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে। যখন তাদের সামনে কোনো সহীহ হাদীস পেশ করা হবে তখন তারা এই বলে প্রত্যাখ্যান করবে যে, এটি তো সহীহ মুসলিমে নেই।

ইমাম মুসলিম তখন আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছিলেন যে, আমি তো শুধু আমার ও আমার নিকট যারা হাদীস শিখতে আসবে তাদের স্মরণ রাখার সুবিধার্থে কিছু হাদীস সংকলন করেছি। আমি বলিনি যে, এই সংকলনের বাইরের সকল হাদীস দুর্বল; বরং আমি শুধু এটুকু বলি যে, এই সংকলনের হাদীসগুলো সহীহ।

(তারীখে বাগদাদ ৪/২৭৪)

অতএব কোনো বিষয় সহীহাইনে নেই তাই প্রমাণিত নয়-এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল ও অযৌক্তিক। যাহোক, সহীহাইনের বাইরেও সহীহ ও নির্ভরযোগ্যতার মানদন্ডে উত্তীর্ণ অনেক হাদীস রয়েছে, যেখানে ইমাম মাহদীর নাম, বংশ-পরিচয় এবং তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি বর্ণিত হয়েছে। এমনকি খোদ ইমাম বুখারীর বিখ্যাত শাগরিদ ইমাম তিরমিযী রাহ. এই ধরনের একাধিক হাদীস সম্পর্কে ‘হাসান-সহীহ’ বলেছেন। (দেখুন : জামে তিরমিযী, হাদীস : ২২৩০-২২৩২)

সংক্ষিপ্ত পরিসরে সব হাদীস উল্লেখ করা এবং সেগুলোর সনদগত মান আলোচনা করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আলাদা কিতাব লেখা হয়েছে এবং এখনও লেখা হচ্ছে। এখানে প্রকাশিত কয়েকটি কিতাবের নাম লিখা হল।

  • আলবায়ান ফী আখবারি ছাহিবিয যামান, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইউফুফ (মৃত্যু : ৬৫৮ হি.)
  • ইকদুর দুরার মিন আখবারিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার, শায়খ ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আসসুলামী
  • আল আরফুল ওয়ারদী ফী আখবারিল মাহদী, জালালুদ্দীন সুয়ূতী (৯১১ হি,)
  • তালখীসুল বায়ান ফী আলামাতি মাহদিয়্যি আখিরিয যমান, প্রাগুক্ত
  • আল কাওলুল মুখতাছার ফী আলামাতিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার, ইবনে হাজার হাইতামী (৯৭৪ হি.)
  • আল বুরহান ফী আলামাতি মাহদিয়্যি আখিরিয যামান, শায়খ আলী আলমুত্তাকী আলহিন্দী (৯৭৫ হি.)
  • ইবরাযুল ওয়াহমিল মাকনূন মিন কালামি ইবনি খালদূন, শায়খ আহমদ আলগুমারী (১৩২০-১৩৮০ হি.)
  • আল মাহদিয়্যিউল মুনতাযার, শায়খ আবদুল্লাহ আলগুমারী
  • আল আহাদীসুল ওয়ারিদাহ ফিল মাহদী ফী মিযানিল জারহি ওয়াত তাদীল, ড. আবদুল আলীম আলবাসতাবী আলহিন্দী
  • আকীদাতু আহলিল আছার ফিল মাহদিয়্যিল মুনতাযার, শায়খ আবদুল মুহসিন ইবনে হামদ আলআববাদ
  • আল ইহতিজাজু বিলআছার আলা মান আনকারাল মাহদিয়্যাল মুনতাযার, শায়খ হামূদ ইবনে আবদুল্লাহ তুয়াইজারী
  • আকীদায়ে যুহুরে মাহদী আহাদিস কি রৌশনি মে, ড. মাওলানা নিযামুদ্দীন শামযী রাহ.।

তবে একথাও সত্য যে, সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসের বাইরে এ বিষয়টিতে জাল, অতি দুর্বল, ও অনির্ভরযোগ্য বর্ণনার সংখ্যাও কম নয়, কিন্তু এই কারণে সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত বিষয়ে কোনো প্রভাব পড়তে পারে না। সহীহ হাদীসে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো এতই সুস্পষ্ট যে, সময়ে সময়ে গোলাম আহমদ কাদিয়ানির মত কিছু বিকৃত চিন্তার মানুষের মাহদী হওয়ার মিথ্যা দাবিতেও কিছু যায় আসে না।

সাথে সাথে একথাও সুস্পষ্ট যে, অসংখ্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ও সুস্পষ্ট আলামত সম্বলিত ইমাম মাহদী রা.-এর সাথে শিয়া-রাফেযীদের কথিত মাহদীবাদের দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। তাদের মতবিশ্বাসটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বরং ইবনুল কাইয়িমের ভাষায়, ‘পুরো মানবজাতির জন্য লজ্জাকর ও সকল বুদ্ধিমানের কাছে হাস্যকর’ শিয়া-রাফেযীদের এই মাহদীবাদ বিশ্বাসের মূল কথা হল, প্রায় বার শত বছর পূর্বে তাদের বিশ্বাস মতে-নবীদের মতো নিষ্পাপ বারজন ইমামের সর্বশেষ জন জন্ম গ্রহণ করেছিলেন, যার নাম মুহাম্মাদ বিন হাসান আসকারী। কিশোর বয়সে তিনি ইরাকের সামরো বা সুররা মান রাআ শহরে পানির গভীরে জলজ কুঠিরে আত্মগোপন করে গেছেন। লোকচক্ষুর আড়ালে গেলেও বারশত বছর পরও তিনি পানিতে জীবিত! তারা প্রতিদিন তার জন্য অপেক্ষা করে কথিত জলজ কুঠিরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে!! সারাদিন চিৎকার করে তাকে আহবান করতে থাকে!!!

এবার আপনিই বলুন, ইমাম মাহদী সংক্রান্ত প্রশ্নের শুরুতে উল্লেখিত ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কোন কথাটির সাথে শীয়াদের এই অলীক কল্পনার মিল আছে??

শীয়াদের এই আকীদা সম্পর্কে হাফেয যাহাবী রাহ. বলেছেন, ‘বিবেকহীনতা থেকে আল্লাহর পানাহ! পূর্ব যুগে এমন কিছু ঘটেছিল বলে যদি ক্ষণিকের জন্য মেনেও নেয়া হয়, তখন প্রশ্ন হল, এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কে? এতদিন পরও তিনি জীবিত আছেন-এরই বা সূত্র কি? এ কথাই বা কে বলেছে যে, তিনি নিষ্পাপ ও সর্বজ্ঞানীও। এসব অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের দ্বারা যদি চিন্তাশক্তিকে আচ্ছন্ন করে রাখা হয়, তাহলে তো বাস্তব-অবাস্তবের পার্থক্যই হারিয়ে যাবে এবং সকল অসম্ভবকে সম্ভব মনে করার পথ খুলে যাবে!!

মিথ্যা ও অবাস্তব; বরং অসম্ভব বিষয়কে দলীল মনে করা এবং এর দ্বারা ন্যায় ও সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা থেকে আল্লাহ আমাদের সকলকে রক্ষা করুন, যা ইমামিয়া ফের্কার বৈশিষ্ট্য।’

(সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৩/১২১-১২২)

অতএব ইমাম মাহদীর আগমনের সহীহ আকীদা এবং শীয়াদের ঐ অলীক বিশ্বাসকে এক মনে করা অজ্ঞতা ও জাহালত ছাড়া আর কিছু নয়।

এখানে সংক্ষিপ্ত কয়েকটি কথা আরজ করলাম। বিস্তারিত জানার জন্য এই বিষয়ের কিতাবাদি মুতআলাআ করা যেতে পারে।

তবে এখানে যে কথাটি বিশেষভাবে বলা প্রয়োজন, তা হল, মিসরের ড. আহমদ আমীন সমকালীন আরবী ভাষা ও সাহিত্যের পন্ডিত ছিলেন বটে, কিন্তু হাদীস ও ইসলামের ইতিহাসসহ অন্যান্য ইসলামী উলূমে তার ধারণা ছিল খুবই সামান্য ও ভাসাভাসা। আর এই ধারণার অধিকাংশই তিনি গ্রহণ করেছিলেন অনির্ভরযোগ্য কিছু মাসাদির ও খ্রিস্টান প্রাচ্যবিদদের রচনাবলি থেকে। ফলে তিনি ছিলেন ঐ সব চিন্তাবিদদের অন্যতম, যাদের ধ্যান-ধারণা পশ্চিমা-প্রভাবিত এবং যাদের চিন্ত-চেতনা প্রাচ্যবাদিতায় আক্রান্ত। এই কারণে তার রচনাবলিতে এত প্রচুর পরিমাণ এমন স্খলন রয়েছে যে, শুধু এর তালিকা করলেও একটি আলাদা রিসালা তৈরি হয়ে যাবে। ইসলামের ইতিহাস নিয়ে তার সিরিজ রচনা-ফজরুল ইসলাম, জুহরুল ইসলাম ও দুহাল ইসলামের পাতায় পাতায় যার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। ইমাম মাহদী রাহ. সম্পর্কেও তার বক্তব্য ঐসব সুস্পষ্ট স্খলনের অন্তর্ভুক্ত।

তার এসব স্খলন ও বিচ্যুতি নিয়ে ড. মুস্তফা সিবায়ী ‘আসসুন্নাতু ওয়ামাকানাতুহা ফিত তাশরীয়িল ইসলামী’ নামে একটি ঐতিহাসিক ও চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা সকলের পড়ার মতো।

এখানে এই কথাও মনে রাখা জরুরি যে, একজন তালিবে ইলম বরং একজন সাধারণ মানুষের জন্যও যে কোনো ধরনের লেখা কিংবা যে কোনো লেখকের বইপত্র পড়তে যাওয়া উচিত নয়। কী পড়বে, কী পড়বে না- এ বিষয়ে তালীমী মুরববী বা কোনো অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ গ্রহণ করা অবশ্য কর্তব্য।

টীকা : * আল্লামা সাফফারিনী রাহ. (১১১৪ হি.-১১৮৮ হি.) তাঁর আকীদা বিষয়ক কিতাব‘লাওয়ামেউল আনওয়ার আলবাহিয়্যাহ’ যা শরহে আকীদাতিত সাফফারিনী নামে প্রসিদ্ধ।

এই কিতাবে (২/৮৪) তিনি লিখেন-

وقد كثرت بخروجه الروايات حتى بلغت حد التواتر المعنوي وشاع ذلك بين علماء السنة حتى عد من معتقداتهم وقد روي عمن ذكر من الصحابة وغير من ذكر منهم رضي الله عنهم بروايات متعددة وعن التابعين من بعدهم ما يفيد مجموعه العلم القطعي فالإيمان بخروج المهدي واجب كما هو مقرر عند أهل العلم ومدون في عقائد أهل السنة والجماعة *

[ মাসিক আলকাউসার ]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.