কুরআনুল কারীম কি শুধুমাত্র একটি গ্রন্থই??

0
898
কুরআনুল কারীম কি শুধুমাত্র একটি গ্রন্থই

কুরআনুল কারীম মহাজগতের একমাত্র অপ্রতিদ্বন্দী মহাগ্রন্থ। সমগ্র মানব ও জিন জাতির সার্বজনীন কল্যাণ ও হিদায়াতের লক্ষ্যে আল্লাহ তা’আলা এ মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। এর আগেও আল্লাহ তা’আলা আরো আসমানী গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন এই মানষর জন্যই। কিন্তু ওই সব আসমানী কিতাবের সাথে কুরআনুল কারীমের অনেক পার্থক্য।

এর আবার কারণও রয়েছে। কারণ আগের আসমানী গ্রন্থগুলো অবতীর্ণ হয়েছিলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য; নির্দিষ্ট গোত্র কিংবা সম্প্রদায়ের হিদায়াতের জন্য। নির্দিষ্ট ওই সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে এ সব আসমানী গ্রন্থসমূহের বিধান রহিত হয়ে গেছে। এছাড়া প্রত্যেক আসমানী গ্রন্থই তাদের অবাধ্য কিছু অনুসারীদের হাতে বিকৃতির শিকার হয়েছে।

অপরদিকে কুরআনুল কারীম সর্বকালের সার্বজনীন হিদায়াতের মহাগ্রন্থ। শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আগত অনাগত সমগ্র বিশ্বের সব বর্ণের সব জাতি কিংবা গোত্রের সর্বস্তরের মানুষের জন্য হিদায়াতি গ্রন্থ হলো কুরআনুল কারীম।
আগের আসমানী গ্রন্থগুলো অবাধ্য মানুষের হাতে বিকৃত হয়ে গেলেও কুরআনুল কারীমের হিফাযতের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা নিয়েছেন।

এছাড়া আগের আসমানী গ্রন্থ লিখিতভাবে নবীগণের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিলো, কিন্তু কুরআনুল কারীমের বাণী সরাসরি আল্লাহ তা’আলার পবিত্র স্বত্তার ভিতর থেকে উৎসারিত হয়ে বিশ্বস্ত রুহুল কুদস আল্লাহ তা’আলার বার্তাবাহক জিবরীল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে পৃথিবীর বুকে মহানবী সাইয়্যেদুল কাওনাইন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তরে নিক্ষেপণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা কুরআনে ইরশাদ করছেন-

وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ ( 192 ) نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ ( 193 )  عَلَىٰ قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنذِرِينَ ( 194 )  بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُّبِينٍ ( 195

এই কুরআন তো বিশ্ব-জাহনের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত ফিরিশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছেন। আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শন করতে পারেন। এই (কুরআন) অবতীর্ণ হয়েছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়। (সূরা শু’আরাঃ ১৯২-১৯৫)

পবিত্র স্বত্তার ভিতর থেকে এক আলোকিত বক্ষে আল্লাহ তা’আলার এ মহান কালাম প্রতিস্থাপিত হওয়ায় এ গ্রন্থ শুধু গ্রন্থই থাকেনি; বরং একটি অবিনাশী আদর্শিক চেতনায় পরিগণিত হয়েছে। লিখিত কাগজ কিংবা পান্ডুলিপি আগুনে জ্বালিয়ে অথবা ছিড়ে শেষ করে দেওয়া যায়, কিন্তু বক্ষের অভ্যন্তরে গ্রোথিত আদর্শিক চেতনাকে কোনো কালেই শেষ করে দেওয়া যায় না।

কুরআন নাযিল হয়েছে ওহীর মাধ্যমে। আর এই ওহী শুধু মাধ্যমই নয়; বরং মানব জাতিকে সত্য ও হিদায়াতের পথ দেখানোর জন্য এবং সর্বপ্রকার যাবতীয় সমস্যার সমাধান দেওয়ার সর্বোচ্চ নিখুঁত ও একমাত্র সার্বজনীন পাথেয় হলো এই ওহীর জ্ঞান।

আল্লাহ তা’আলা এই ওহী তাঁর হাজার হাজার নবীর প্রতি নাযিল করেছেন, যার মাধ্যমে তারা নিজ নিজ আমলে মানুষের হিদায়াতের ব্যবস্থা করেছেন। পরিশেষে কিয়ামতকাল পর্যন্ত পৃথিবীতে যত মানুষের আগমন ঘটবে, তাদের সকলের হিদায়াতের জন্য মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কুরআন মাজীদ নাযিল করা হয়েছে এবং তাঁর মাধ্যমে এই পবিত্র নবুয়তী ধারার পূর্ণতা বিধান করা হয়েছে।

তাই কুরআনুল কারীম শুধু পড়ার জন্য কোনো গ্রন্থ নয়। মহাজগতের যাবতীয় জ্ঞানের আকর হলো এই কুরআন। যে কোনো বিষয়ের প্রয়োজন কিংবা সমাধানের পথ এই কুরআনেই দেওয়া হয়েছে। কুরআন তিলাওয়াতের সাথে সাথে এই কুরআন নিয়ে তাদাব্বুর (অনুধাবন করে বুঝে বুঝে পড়া) করতে হবে অবশ্যই। কুরআন তিলাওয়াত এবং কুরআনের তাদাব্বুর উভয়টিই স্বতন্ত্র ইবাদত। আবার কুরআন তাদাব্বুর করার জন্য শরয়ী যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, সে আলোকেই তাদাব্বুর করতে হবে। অন্যথায় এ কুরআন দিয়ে উন্নতির শিখরে পৌঁছা তো দুরের কথা, পিছিয়ে যেতে হবে অন্ধকারের অতল গহ্বরে।

আব্দুল্লাহ আল মাসূম
প্রধান সম্পাদক- তাহরিকুল কলম অরগানাইজেশন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.