কুরআনের বর্ণনায় জাহান্নামের ভয়াবহ পরিস্থিতি

0
365
you will talk to jahannam youtube thumbnail
you will talk to jahannam youtube thumbnail

জাহান্নামে মূলত চার শ্রেণীর লোকেরা প্রবেশ করবে। তবে এদের মধ্যে প্রথম দুই শ্রেণীর মানুষ চিরকাল জাহান্নামে বসবাস করবে। তাদের কোনো ক্ষমা নেই এবং জাহান্নাম থেকে কোনোদিনই তারা মুক্তি পাবে না। তারা হচ্ছে কাফির ও মুনাফিক।

দ্বিতীয় পর্যায়ে যে দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তারা হচ্ছে পথভ্রষ্ট এবং গোনাহগার মুমিন। পথভ্রষ্ট বলতে তাদের বোঝানো হয়েছে, যারা শয়তানের অনুসারী হয়েছে। আর যে মুমিন গোনাহ করার পরে ইহজগত থেকে তওবা করে আসেনি এবং আখিরাতে তার ব্যাপারে শাস্তির সিদ্ধান্ত হবে।

তবে আল্লাহ তা’আলা জাহান্নামীদের পরিচয় উল্লেখ করতে গিয়ে ব্যাপকভাবে একাধিক শব্দ ব্যবহার করেছেন। কোথাও তাদেরকে পথভ্রষ্ট বলেছেন। আবার কোথাও তাদেরকে অপরাধী অথবা জালেমও বলেছেন। মুশরিক ও কাফির সম্প্রদায়কে তিনি শয়তানের অনুসারী বলেছেন। তবে মুমিনদের মধ্যে অনেকে শয়তানের অনুসারী হতে পারে। অর্থাৎ যারা ইসলামের সঠিক আকীদা থেকে অজ্ঞাতসারে অথবা কারও প্ররোচনায় বিচ্যুত হয়ে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদে বিশ্বাস করতো; কিন্তু নিজেদেরকে মুমিন বলে দাবি করে।

আল্লাহ তা’আলা কুরআনের একাধিক জায়গায় বিভিন্নভাবে জাহান্নামের পরিচয়, সেখানকার পরিস্থিতি এবং ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা তুলে ধরেছেন। জাহান্নামি লোকেরা দারোগা মালিককে ডেকে আল্লাহ তা’আলার কাছে সুপারিশের জন্য অনুরোধ করবে। এর জওয়াবে আল্লাহ তা’আলা তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে ঘোষণা

প্রথমে ফিরিশতাগণ ঘোষণা দিবেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরশাদ করেন-
হে অপরাধীরা! আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও। এরপর আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে বলবেন-
হে আদমের সন্তানগণ! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি, শয়তানের ইবাদত করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্র“? আর তোমরা আমার ইবাদত করো। এটাই সরল পথ।
এরপর তিনি আরও বলবেন-
শয়তান তোমাদের অনেক দলকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝোনি? এটি সেই জাহান্নাম, যার ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করা হয়েছিলো। তোমাদের কুফরির কারণে আজ তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ করো।
আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দিবো। তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দিবে।

(সূরা ইয়াসিনঃ ৫৯-৬৫)

জাহান্নামের ওপর দিয়ে সমগ্র মানব জাতির অতিক্রম

আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-
প্রথমে প্রত্যেককে জাহান্নামের উপরে অবস্থিত পুলসিরাত দিয়ে অতিক্রম করতে হবে। (সূরা মারইয়াম-৭১)

on the day of judgment qiyamah 1
on the day of judgment qiyamah

জাহান্নামীদের বাম হাতে আমলনামা প্রদান

যাদের ব্যাপারে জাহান্নামের ফয়সালা হবে, তাদের আমলনামা তাদের বাম হাতে প্রদান করা হবে। এর ফলে তারা চিরকালের জন্য হতভাগা বলে চিহ্ণিত হবে। তারা এখ যেখানে থাকবে, সেখানে গরম দমকা বাতাস বইবে। উত্তপ্ত পানি ও ধুম্রকুঞ্জের ছায়ায় অবস্থান করবে। যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়।
অথচ তারা ইহজগতে কত আরাম-আয়েশে দিন কাটিয়েছে। ইহজগতে তারা সবসময় ঘোরতর পাপকর্মে ডুবে থাকতো। অবিশ্বাসের সুরে তারা বলতো, আমরা যখন মরে অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হয়ে যাবো, তখনও কি পুনরোত্থিত হবো? আমাদের পূর্বপুরুষগণও তো এখন মাটির সঙ্গে মিশে গেছেন। তারাও কি দ্বিতীয়বার জীবিত হবেন!!
অতঃপর আল্লাহ জওয়াবে ইরশাদ করেন-
বলুন হে নবী! পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ সকলেই দ্বিতীয়বার জীবিত হবে। সবাই একত্রিত হবে এক নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট সময়ে। তোমরা ছিলে পথভ্রষ্ট ও মিথ্যারোপকারী। (সূরা ওয়াকিয়াঃ ৪১-৫১)

জাহান্নামের ফটক উম্মোচন

মুশরিক সম্প্রদায় ও কাফিরদের সামনে জাহান্নাম উম্মোচিত করা হবে। আল্লাহ তা’আলা কুরআনে তাদেরকে বিপথগামী বলে উল্লেখ করেছেন। এরপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তারা কোথায়, আল্লাহকে ছেড়ে দিয়ে তোমরা যাদের পূজা করতে?? আরও জিজ্ঞেস করা হবে, তারা কি আজ তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, অথবা তারা কি প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হবে??
অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের কেউই এর সদুত্তর দিতে পারবে না। অতএব তখন তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে অধঃমুখি করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তাদের সঙ্গে ইবলিস বাহিনীর সকলকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

Hell Gate 1
Hell Gate

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা সেখানে ইবলিস বাহিনীর সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবে, আল্লাহর কসম! আমরা তো প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম। যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব-পালনকর্তার সমতুল্য গন্য করতাম। আমাদেরকে দুষ্ট কর্মীরাই পথভ্রষ্ট করেছিলো। অতএব আজ আমাদের কোনো সুপারিশকারী এবং সহৃদয় বন্ধুও নেই।
হায়!! এবার যদি কোনোভাবে আমরা পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেতাম, তা হলে আমরা (আল্লাহ তা’আলার প্রতি) বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম। (কিন্তু এমন সুযোগ আর কখনোই পাওয়া যাবে না)।

(সূরা শু’আরাঃ ৯১-১০২)

জাহান্নামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা

রপর ফিরিশতাগণ জাহান্নামীদের গ্রেফতার করে শিকল দিয়ে বেঁধে ফেলবেন। ফিরিশতাগণ তাদেরকে গলায় বেড়ি পরিয়ে টেনে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। এরপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করার পর সত্তর গজ দীর্ঘ শিকল দিয়ে তাকে বেঁধে ফেলা হবে। (সূরা হাক্কাহঃ ৩০-৩২)
তাদেরকে উল্টোভাবে টেনে হেচঁড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সূরা কামার-৪৮)

পুনরায় ইহজগতে ফিরে যাওয়ার আবেদন

অবিশ্বাসী সম্প্রদায় যখন কিয়ামতের বিচার শেষে নিজেদের শেষ পরিণতি নিজ চোখে দেখতে পাবে, তখন তাদের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা প্রিয় নবীজিকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেছেন-
যদি আপনি দেখতেন, যখন অপরাধীরা তাদের রবের সামনে নতজানু হয়ে বলবে, হে আমাদের রব! আমরা দেখলাম ও শুনলাম। এখন আমাদেরকে পুনরায় ইহজগতে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করবো। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি।
আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেককে সঠিক দিক নির্দেশ দিতাম; কিন্তু আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য যে, আমি জিন ও মানবজাতি দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।
অতএব এ দিবসকে ভূলে যাওয়ার কারণে তোমরা মজা অনুভব করো। আমিও তোমাদেরকে ভুলে গেলাম। তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের কারণে স্থায়ী শাস্তি ভোগ করো। (সূরা সাজদাহঃ ১২-১৪)
সমগ্র পৃথিবীর সমপরিমাণ মুক্তিপণ দেওয়ার আবেদন
কাফির লোকেরা জাহান্নামের শাস্তি দেখে সমগ্র পৃথিবী মুক্তিপণ হিসেবে দান করে দেওয়ার জন্য ওঠেপড়ে লাগবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন-
যদি সারা পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণও তার পরিবর্তে দেওয়া হয়, তবুও যারা কাফির হয়েছে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের তওবা কবুল করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি! তাদের কোনো সাহায্যকারী নেই।

(সূরা আলে ইমরান-৯১)

EQ05lzsUwAESHcO 1

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে-
যারা কাফির, যদি তাদের কাছে পৃথিবীর সমুদয় সম্পদ এবং তৎসহ আরও অনুরূপ সম্পদ থাকে; আর এগুলো বিনিময়ে কিয়ামতের শাস্তি থেকে পরিত্রান পেতে চায়, তবুও তাদের কাছ থেকে তা কবুল করা হবে না। তাদের জন্যে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
তারা জাহান্নামের আগুন থেকে বের হয়ে আসতে চাইবে; কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না। তারা চিরস্থায়ী শাস্তি ভোগ করবে।

(সূরা মায়েদাহঃ ৩৬-৩৭)

আল্লাহ অন্য আয়াতে আরও বিস্তারিত বলেছেন-
যদি জালেমদের (কাফির) কাছে পৃথিবীর সবকিছু থাকে এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও থাকে, তবে অবশ্যই তারা কিয়ামতের দিন সে সবকিছুই নিস্কৃতি পাওয়ার জন্যে মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দিতে চাইবে। অথচ তারা দেখতে পাবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন শাস্তি, যা তারা কল্পনাও করতো না।
আর তারা দেখতে পারবে, তাদের মন্দ কাজ এবং যে বিষয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো, তা তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলবে। (সূরা যুমারঃ ৪৭-৪৮)
আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে, নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তির মধ্যে চিরকাল থাকবে। তাদের থেকে শাস্তি লাঘব করা হবে না এবং তারা তাতেই থাকবে হতাশ হয়ে। আমি তাদের প্রতি অন্যায় করিনি; কিন্তু তারাই ছিল অত্যাচারী।

জাহান্নামের দারোগা মালিক ফিরিশতার কাছে জাহান্নামীদের অনুরোধ

তারা জাহান্নামের দারোগা মালিককে ডেকে বলবে, হে মালিক! আমাদের রব যেনো আমাদের ব্যাপারটি এখনই মিটমাট করে দেন। আপনি তাঁকে গিয়ে বলুন। জওয়াবে দারোগা মালিক বলবেন, নিশ্চয় তোমরা এখানে চিরকাল থাকবে।
আল্লাহ তা’আলা জওয়াবে বলবেন, ‘আমি তোমাদের কাছে সত্যধর্ম পৌঁছিয়েছি; কিন্তু তোমাদের অধিকাংশই সত্যধর্মে নিস্পৃহ ছিলে! তারা কি কোনো ব্যবস্থা চুড়ান্ত করেছে? তাহলে আমিও এক ব্যবস্থা চুড়ান্ত করেছি।
তারা কি মনে করে, আমি তাদের গোপন বিষয় ও পরামর্শ শুনি না? হ্যাঁ, আমি অবশ্যই শুনি। আমার ফিরিশতাগণ তাদের নিকটে থেকে লিপিবদ্ধ করে’। (সূরা যুখরুফঃ ৭৪-৮০)
যারা কাফির হয়েছে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদেরকে মৃত্যুর আদেশও দেওয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে এবং তাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তিও লাঘব করা হবে না। আমি প্রত্যেক অকৃতজ্ঞকে এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।
সেখানে তারা আর্ত চিৎকার করে বলবে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান থেকে বের করুন। আমরা সৎকাজ করবো, এর আগে যা করতাম, আর তা করবো না।
জওয়াবে আল্লাহ বলবেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এতটা বয়স দেইনি, যাতে যা চিন্তা করার বিষয় চিন্তা করতে পারতে? উপরন্তু তোমাদের কাছে সতর্ককারীও আগমন করেছিলো। অতএব এখন শাস্তি অনুভব করো। জালেমদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী নেই’। (সূরা ফাতিরঃ ৩৬-৩৭)

জাহান্নামীদের বাঁচার আকুতি ও তাদের প্রতি আল্লাহ তা’আলার হুংকার

অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বলবেন-
মীযানের ওজনে যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা জাহান্নামেই চিরকাল বসবাস করবে। আগুন তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা তাতে বীভৎস আকার ধারণ করবে।
আল্লাহ তা’আলা তাদের ধমক দিয়ে জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের সামনে কি আমার আয়াত সমূহ পাঠ করা হতো না? তখন তোমরা তো সেগুলোকে মিথ্যা বলতে।
জওয়াবে তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা দূর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের রব! এ শাস্তি থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন; আর এমন করবো না। যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা অপরাধী সাব্যস্ত হবো।
আল্লাহ তা’আলা বলবেন, তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই পড়ে থাকো এবং আমার সাথে কোনো কথা বলো না। এরপর তিনি বলবেন, আমার বান্দাদের একদল বলতো, হে আমাদের রব! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করো ও আমাদের প্রতি দয়া করো। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু। কিন্তু তখন তোমরা তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে। এমনকি তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুুলিয়ে দিয়েছিলো। তোমরা তাদেরকে দেখে পরিহাস করতে। আজ আমি তাদেরকে তাদের ধৈর্য ধারণের কারণে এমন প্রতিদান দিয়েছি, যা পেয়ে তারা চিরকালের জন্য সফলতা লাভ করেছে’।

(সূরা মুমিনুনঃ ১০৩-১১১)

e309031cf19543f789aadecdcbd7c61e

অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-
নিশ্চয় আল্লাহ কাফিরদেরকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছেন। তথায় তারা অনন্তকাল থাকবে এবং কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
যেদিন অগ্নিতে তাদের মুখমন্ডল ওলট-পালট করা হবে; সেদিন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করতাম। তারা আরও বলবে, হে আমাদের রব! আমরা আমাদের নেতা ও বড়দের কথা মেনেছিলাম। অতঃপর তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিলো। হে আমাদের রব! এখন তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাত করুন।
(সূরা আহযাবঃ ৬৪-৬৮)

জাহান্নামীদের পারস্পরিক বাক-বিতন্ডা

আল্লাহ তা’আলা বলেন-
এটাতো শুনলে, এখন দুষ্টদের জন্যে রয়েছে নিকৃষ্ট ঠিকানা তথা জাহান্নাম। তারা সেখানে প্রবেশ করবে। অতএব কত নিকৃষ্ট হবে সেই আবাসস্থল!! জাহান্নামে থাকবে উত্তপ্ত পানি ও পূঁজ; অতএব তারা একে আস্বাদন করুক। এ ধরণের আরও কিছু শাস্তি আছে।
এইতো একদল তোমাদের সাথে প্রবেশ করছে। তাদের জন্যে অভিনন্দন নেই। তারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তখন এর জওয়াবে অপর দল বলবে, তোমাদের জন্যে ও তো অভিনন্দন নেই। তোমরাই আমাদেরকে এ বিপদের সম্মুখীন করেছো। অতএব এটি কতই না ঘৃণ্য আবাসস্থল।
এরপর তারা নিরূপায় হয়ে বলবে, হে আমাদের রব! যে আমাদেরকে এর সম্মুখীন করেছে, আপনি জাহান্নামে তার শাস্তি দ্বিগুণ করে দিন। তারা আরও বলবে, আমাদের কী হলা, আমরা যাদেরকে মন্দ লোক বলে গণ্য করতাম, তাদেরকে এখানে দেখছি না। আমরা কি অহেতুক তাদেরকে ঠাট্টার পাত্র করে নিয়েছিলাম, না আমাদের দৃষ্টি ভুল করছে? এভাবেই তারা পরস্পরে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়বে।

(সূরা সোয়াদঃ ৫৫-৬৪)

জাহান্নামীদের হাঁকিয়ে নেওয়া হবে

এরপর কাফিরদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌছাবে, তখন তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে। তখন জাহান্নামের রক্ষীরা তাদেরকে বলবেন, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে নবী-রাসুল আসেননি, যারা তোমাদের কাছে এ দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে তোমাদের রবের আয়াত সমূহ তিলাওয়াত করতেন এবং সতর্ক করতেন? জওয়াবে তারা বলবে, হ্যাঁ, এসেছিলো।
এরপর বলা হবে, তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ করো, এখানেই তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে। কত নিকৃষ্ট হবে অহংকারীদের আবাসস্থল!! (সূরা যুমারঃ ৭১-৭২)

neraka jahan

আল্লাহ তা’আলা প্রিয় নবীকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করবেন,
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা কোথায় ফিরে চলেছে? যারা কিতাবের প্রতি এবং যে বিষয় দিয়ে আমি নবী-রাসুলদেরকে প্রেরণ করেছি, সেই বিষয়ের প্রতি মিথ্যারোপ করতো।
এরপর বেড়ি ও শৃঙ্খল তাদের গলদেশে পরিয়ে জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে। ফুটন্ত পানিতে ফেলা হবে। অতঃপর তাদেরকে আগুনে জ্বালানো হবে।
অতঃপর তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, কোথায় গেলো তারা, যাদেরকে তোমরা আল্লাহ তা’আলার সাথে শরিক করতে? আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের অন্য দেবতারা কোথায়?
জওয়াবে তারা বলবে, আজ তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে; পরক্ষণেই তারা অস্বীকার করে বলবে, বরং আমরা তো ইতিপূর্বে কোনো কিছুর পূজাই করতাম না। এমনিভাবে আল্লাহ কাফিরদেরকে বিভ্রান্ত করবেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা নিজেই বলে দিবেন, এটা এ কারণে যে, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে আনন্দ-উল্লাস করতে এবং এ কারণে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে।
এখন প্রবেশ করো তোমরা জাহান্নামের দরজা দিয়ে; সেখানে চিরকাল বসবাস করবে। কত নিকৃষ্ট দাম্ভিকদের আবাসস্থল!

(সূরা গাফেরঃ ৬৯-৭৬)

জাহান্নামে বিভিন্ন প্রকার শাস্তি

এরপর ফিরিশতাগণ কাফিরদেরকে টেনে ধরে জাহান্নামের মধ্যস্থলে নিয়ে যাবে। অতঃপর তাদের মাথায় ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে দেওয়া হবে।
(সূরা দুখানঃ ৪৭-৪৮)
ফুটন্ত পানি মাথায় ঢালার পর নাড়িভুঁড়ি দু’পায়ের মধ্য দিয়ে গলে গলে বের হয়ে যাবে। কিছুক্ষণের মধ্যে নাড়িভুঁড়ি আগের মতো ঠিক হয়ে যাবে। এরপর আবারও এমন হতে থাকবে। (সিলসিলা ছহীহা-১৪৫৫)
জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুন তাদের মুখ ও চামড়া দগ্ধ করবে। এতে তাদের চেহারা বীভৎস আকার ধারণ করবে। (সূরা মুমিনূনঃ ১০৩-১০৪)
এতে তাদের শরীরের চামড়া গলে যাবে; তখন সে স্থানে অন্য চামড়া পুনরায় সৃষ্টি হবে। (সূরা নিসা-৫৬)

জাহান্নামের খাদ্য-পানীয় কী হবে?

maxresdefault

জাহান্নামে যাক্কুম নামে একটি গাছ আছে। এর গুচ্ছগুলো দেখতে শয়তানের মাথার ন্যায়। এগুলি অপরাধীদের খেতে দেওয়া হবে। ফলে ফুটন্ত পানি যেভাবে আগুনের তাপে ফুটতে থাকে, ওভাবে গলিত তামার মতো এগুলি পেটে ফুটতে থাকবে। (সূরা ছাফফাতঃ ৬২-৬৬; সূরা দুখানঃ ৪৩-৪৬)
ক্ষত নিঃসৃত পুঁজ খেতে দেওয়া হবে। এটা জাহান্নামীদের খাদ্য হবে। গোনাহগার লোকদের খেতে দেওয়া হবে। (সূরা হাক্কাহঃ ৩৬-৩৭)
পুঁজ মিশ্রিত পানি পান করতে দেওয়া হবে। পিপাসার আধিক্যে ঢোক গিলে তা পান করতে চাইবে; কিন্তু গলধঃকরণ করতে পারবে না। (সূরা ইবরাহিমঃ ১৬-১৭)

ফুটন্ত পানি পান করতে দেওয়া হবে। এতে নাড়িভুঁড়ি ছিড়ে যাবে। (সূরা ছাফফাত-৬৭; মুহাম্মাদ-১৫)
জাহান্নামে যারা যাবে, তারা মরবেও না বাঁচবে না। (সূরা আ’লা-১৩)

তাহরিকুল কলম সংকলন বিভাগ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.