কুরআনের বর্ণনায় দাওয়াতের কথা

0
461
Dawat wa Tablig
Dawat wa Tablig

আল্লাহ তা’আলা কুরআনে ইরশাদ করেন-
وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَىٰ دَارِ السَّلَامِ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
অর্থঃ আল্লাহ তা’আলা শান্তির ঘর অর্থাৎ জান্নাতের দিকে দাওয়াত দেন। আর তিনি যাকে ইচ্ছা, সরল পথের দিশা দান করেন। (সুরা ইউনুস-২৫)
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِن كَانُوا مِن قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
অর্থঃ আল্লাহ তা’আলা উম্মী লোকদের প্রতি তাদেরই মধ্য থেকে একজনকে রাসুল করে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার আয়ত সমূহ তিলাওয়াত করে শোনান। অর্থাৎ কুরআনের দিকে তাদেরকে দাওয়াত দেন এবং ঈমান আনার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি তাদের চরিত্র সংশোধন করেন। সাথে সাথে তিনি তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞান শিক্ষা দান করেন। অথচ এসব লোকেরা রাসূল আগমন করার আগে নিঃসন্দেহে প্রকাশ্য ভ্রান্তির মধ্যে ছিলো। (সুরা জুমু’আ-২)
وَلَوْ شِئْنَا لَبَعَثْنَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ نَّذِيرًا فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَجَاهِدْهُم بِهِ جِهَادًا كَبِيرًا
অর্থঃ আমি চাইলে এ যুগেই আপনি ছাড়া প্রত্যেক এলাকাতে এক একজন করে সতর্ককারী (নবী-রাসুল) প্রেরণ করতাম। সুতরাং আপনি কাফির লোকদের অনুসরণ করবেন না এবং কুরআন দ্বারা তাদের মুকাবালা করুন। (সুরা ফুরকান-৫১-৫২)
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
অর্থঃ আপনি আপনার রবের পথের দিকে লোকদেরকে জ্ঞানগর্ভ কথা দ্বারা এবং উত্তম উপদেশ সহকারে দাওয়াত দিন। (সুরা নাহল-১২৫)
يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ
অর্থঃ হে কাপড় দ্বারা আবৃত নবী! উঠুন; অতঃপর ভীতি প্রদর্শন করুন এবং লোকদের কাছে আপনার রবের বড়ত্ব বর্ণনা করুন। (সুরা মুদ্দাসসির-১-৩)
لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ
অর্থঃ মনে হয় আপনি তাদের ঈমান না আনার কারণে তাদের চিন্তা করতে করতে নিজেকে শেষ করে দিবেন। (সুরা শু’আরা-৩)

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ فَإِن تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
অর্থঃ নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রতি এমন একজন রাসুল আগমন করেছেন, যিনি তোমাদেরই একজন। তোমাদের কোনো কষ্টকর বিষয় কিংবা কোনো প্রতিকুল পরিস্থিতি তাঁর কাছে দুর্বিষহ মনে হয়। তিনি তোমাদের প্রতি অতিশয় হিতাকাঙ্খী। বিশেষ করে তিনি মুমিনগণের প্রতি বড়ই স্নেহশীল ও করূণাময়। (সুরা তাওবাহ-১২৮)
أَفَمَن زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَنًا فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
অর্থঃ তারা ঈমান না আনার কারণে অনুতাপ করতে করতে আপনার প্রাণ যেনো বের হয়ে না যায়। (সুরা ফাতির-৮)
إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ أَنْ أَنذِرْ قَوْمَكَ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ -قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُّبِينٌ – أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ – يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرْكُمْ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى إِنَّ أَجَلَ اللَّهِ إِذَا جَاءَ لَا يُؤَخَّرُ لَوْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ -قَالَ رَبِّ إِنِّي دَعَوْتُ قَوْمِي لَيْلًا وَنَهَارًا -فَلَمْ يَزِدْهُمْ دُعَائِي إِلَّا فِرَارًا -وَإِنِّي كُلَّمَا دَعَوْتُهُمْ لِتَغْفِرَ لَهُمْ جَعَلُوا أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ وَاسْتَغْشَوْا ثِيَابَهُمْ وَأَصَرُّوا وَاسْتَكْبَرُوا اسْتِكْبَارًا -ثُمَّ إِنِّي دَعَوْتُهُمْ جِهَارًا -ثُمَّ إِنِّي أَعْلَنتُ لَهُمْ وَأَسْرَرْتُ لَهُمْ إِسْرَارًا -فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا -يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا –
وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا -مَّا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا – وَقَدْ خَلَقَكُمْ أَطْوَارًا -أَلَمْ تَرَوْا كَيْفَ خَلَقَ اللَّهُ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا -وَجَعَلَ الْقَمَرَ فِيهِنَّ نُورًا وَجَعَلَ الشَّمْسَ سِرَاجًا -وَاللَّهُ أَنبَتَكُم مِّنَ الْأَرْضِ نَبَاتًا -ثُمَّ يُعِيدُكُمْ فِيهَا وَيُخْرِجُكُمْ إِخْرَاجًا -وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ بِسَاطًا -لِّتَسْلُكُوا مِنْهَا سُبُلًا فِجَاجًا –
অর্থঃ নিশ্চয় আমি নুহ আলাইহিস সালামকে তাঁর জাতির প্রতি এ মর্মে প্রেরণ করেছিলাম যে, তিনি তাদেরকে তাদের প্রতি আযাব আসার আগেই যেনো সতর্ক করেন। তিনি তাঁর জাতিকে লক্ষ্য করে বললেন- হে আমার জাতির লোকেরা! আমি তোমাদেরকে স্পষ্টরূপে নসীহত করছি এ মর্মে যে, তোমরা এক আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করো, তাঁকে ভয় করো এবং আমাকে অনুসরণ করো। এরূপ করলে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিবেন এবং মৃত্যুর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আযাবকে হটিয়ে দিবেন।
আল্লাহ তা’আলার নির্ধারিত সময় এসে পড়লে তা কোনো অবস্থাতেই ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। যদি তোমরা এ কথা বুঝতে!
এরপর নুহ আলাইহিস সালাম বললেন- হে রব! আমি আমার জাতিকে দিবারাত্রি সব সময় দাওয়াত দিয়েছি; কিন্তু এর ফলে তারা দ্বীন থেকে আরো সরে যাচ্ছে। আমি যখনই তাদেরকে ঈমানের দাওযাত দিতাম, যাতে আপনি তাদেরকে ঈমানের কারণে ক্ষা করে দেন, তখনই তারা নিজ নিজ কানে আঙ্গুল ঢুকিয়ে রাখতো এবং কাপড় দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করে নিতো। এভাবে সীমা লংঘন করে অন্যায়ের আশ্রয় নিলো এবং অহংকার করলো।
অতঃপর আমি তাদেরকে উচ্চস্বরে দাওয়াত দিয়েছি। তাদেরকে প্রকাশ্যে বুঝিয়েছি, আবার গোপনেও বুঝিয়েছি। অর্থাৎ আমি কোনো উপায় ছাড়ি নি। আমি তাদেরকে বলেছি- তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিঃসন্দেহে তিনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।
তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত দান করবেন। সাথে সাথে তিনি তোমাদের জন্য বাগান ও নদ-নদীর ব্যবস্থা করে দিবেন। তোমাদের কী হলো! তোমরা আল্লাহ তা’আলার মহত্ত বুঝার চেষ্টা করছো না; অথচ তিনি তোমাদেরকে ধাপে ধাপে সৃষ্টি করেছেন?
তোমরা কি দেখো না, তিনি সাত আসমানকে কীভাবে স্তরে স্তরে সাজিয়ে সৃষ্টি করেছেন? আবার সেই আসমানে তিনি চাঁদ স্থাপন করেছেন আলো বিকিরণ করার জন্য। আর সূর্য্যকে তিনি প্রদীপ করে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে যমীন থেকে বিশেষ এক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি করেছেন আবার মৃত্যুর পরে তোমাদেরকে পুনরায় যমীনেই ফিরিয়ে দিবেন।
এরপর পুনরায় কিয়ামতের সময় যমীন থেকে তিনি তোমাদেরকে বের করে আনবেন। আল্লাহ তা’আলাই তোমাদের জন্য এ যমীনকে বিচরণের স্থান করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা এর প্রশস্ত পথে চলাফেরা করতে পারো। (সুরা নুহ-১-২০)
قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ -قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ -قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ -قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ -قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ -قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ –
অর্থঃ ফিরআওন জিজ্ঞাসা করলো- রব্বুল আলামীন কে? মূসা আলাইহিস সালাম বললেন- তিনি আসমান-যমীন এবং এ দুইয়ের মাঝে সব কিছুর একমাত্র প্রতিপালক। যদি তোমরা বিশ্বাস করতে! ফিরআওন তার আশেপাশে উপবিষ্ট সবাইকে বললো- তোমরা কী শুনছো? মূসা আলাইহিস সালাম বলতে লাগলেন- তিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃ পুরুষগণের প্রতিপালক।
ফিরআওন নিজের লোকদেরকে বললো- তোমাদের প্রতি প্রেরিত এ রাসূল নিঃসন্দেহে পাগল। মূসা আলাইহিস সালাম বলতে লাগলেন- তিনিই পূর্ব-পশ্চিম দিগন্তের এবং এর মাঝে অবস্থিত সব কিছুর একমাত্র প্রতিপালক, যদি তোমাদের সামান্য হলেও জ্ঞান-বুদ্ধি কিছু থাকে!! (সুরা শু’আরা-২৩-২৮)

قَالَ فَمَن رَّبُّكُمَا يَا مُوسَىٰ -قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَىٰ كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَىٰ -قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُونِ الْأُولَىٰ -قَالَ عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لَّا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى -الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَسَلَكَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِّن نَّبَاتٍ شَتَّىٰ –
অর্থঃ ফিরআওন মূসা এবং হারুন আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলো- তোমাদের প্রতিপালক কে? মূসা আলাইহিস সালাম উত্তরে বললেন- ওই মহান সত্ত্বা আমাদের প্রতিপালক, যিনি সব কিছুকে যথাযথ আকৃতি দান করেছেন। অতঃপর সবাইকে সর্বপ্রকার কল্যাণ লাভের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এরপর ফিরআওন বললো- আচ্ছা, পূর্ববর্তী লোকদের অবস্থা বলুন! তিনি বললেন- আগের লোকদের অবস্থা আমার রবের কাছে লওহে মাহফুযে সংরক্ষিত আছে।
আমার রব এমন সর্বজ্ঞ যে, তিনি কখনো বিভ্রান্ত হন না এবং কোনো কিছু ভুলেও যান না। অতঃপর মূসা আলাইহিস সালাম পুনরায় বলতে লাগলেন- তিনি তোমাদের জন্য এ যমীনকে বিছানা করে সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনে তোমাদের জন্য চলার পথ সৃষ্টি করেছেন। তিনিই আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। (সুরা তহা-৪৯-৫৩

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا أَنْ أَخْرِجْ قَوْمَكَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَذَكِّرْهُم بِأَيَّامِ اللَّهِ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ –
অর্থঃ আর আমি মূসা আলাইহিস সালামকে এ আদেশ দিয়ে প্রেরণ করেছি যে, আপনি আপনার জাতিকে কুফরের অন্ধকার থেকে ঈমানের আলোর পথে বের করে নিয়ে আসুন। আর আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে তারা যেসব বিপদ-আপদ ও নিয়ামতের সম্মুখীন হয়, সেসব ঘটনাবলী তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিন। কারণ এসব ঘটনাবলীর মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্য্যশীল ও কৃতজ্ঞ লোকদের জন্য শিক্ষা নেওয়ার অনেক নিদর্শন রয়েছে। (সুরা ইবরাহীম-৫)

لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ -قَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ -قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَالَةٌ وَلَٰكِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ -أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنصَحُ لَكُمْ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ -أَوَعَجِبْتُمْ أَن جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَلَىٰ رَجُلٍ مِّنكُمْ لِيُنذِرَكُمْ وَلِتَتَّقُوا وَلَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ –
فَكَذَّبُوهُ فَأَنجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا عَمِينَ -وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَٰهٍ غَيْرُهُ أَفَلَا تَتَّقُونَ -قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ -قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَٰكِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ -أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ -أَوَعَجِبْتُمْ أَن جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَلَىٰ رَجُلٍ مِّنكُمْ لِيُنذِرَكُمْ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِن بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ -قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ –
অর্থঃ নিশ্চয় আমি নুহ আলাইহিস সালামকে তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন- হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করো। কারণ তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই। অন্যথায় আমি তোমাদের জন্য একটি মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করি।
তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা বললো- আমরা তোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন- হে আমার সম্প্রদায়! আমি কখনোই বিভ্রান্ত নই; আমি বিশ্ব প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। আমি তোমাদের কাছে সেই প্রতিপালকের পয়গাম পৌঁছাই এবং তোমাদেরকে সৎ উপদেশ দেই। আমি আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে এমন সব বিষয় জানি, যা তোমরা জানো না।
তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছো যে, তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এই উপদেশ এসেছে, যাতে তিনি তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করেন, যেনো তোমরা সংযত হও। ফলে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়।
অবশেষে তাঁর জাতির লোকেরা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো। আমি তাঁকে এবং নৌকায় উপস্থিত সবাইকে উদ্ধার করলাম। আর মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। নিশ্চয় তারা অন্ধ ছিলো।
আমি আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হুদ আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করেছি। তিনি বললেন- হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করো। কারণ তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই। কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের লোকেরা তাঁকে লক্ষ্য করে বললো- আমরা তোমাকে নির্বোধ ও মিথ্যাবাদি মনে করি।
তিনি বললেন- হে আমার সম্প্রদায়! আমি মোটেই নির্বোধ নই; বরং আমি বিশ্ব প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। আমি তোমাদের প্রতি প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পয়গাম পৌঁছাই এবং আমি তোমাদের প্রতি বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্খী।
তোমরা কি আশ্চর্য্যবোধ করছো যে, তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এই উপদেশ এসেছে, যাতে তিনি তোমাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করেন।
তোমরা স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে নুহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের পরে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন এবং তোমাদের দেহের বিস্তৃতি করেছেন। তোমরা আল্লাহ তা’আলার নিয়ামত সমূহ স্মরণ করো, যাতে তোমাদের কল্যাণ লাভ হয়।
তারা বললো- তুমি কি আমাদের কাছে এ জন্য এসেছো যে, আমরা এক আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করি এবং আমাদের বাপ-দাদাগণ যাদের উপাসনা করতো, তাদেরকে ছেড়ে দেই? তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদেরকে যে আযাবের ভয় প্রদর্শন করছো, তা নিয়ে এসো। (সুরা আরাফ-৫৯-৭০)
يَا بُنَيَّ أَقِمِ الصَّلَاةَ وَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَانْهَ عَنِ الْمُنكَرِ وَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا أَصَابَكَ إِنَّ ذَٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ -وَلَا تُصَعِّرْ خَدَّكَ لِلنَّاسِ وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ -وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ إِنَّ أَنكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ –
অর্থঃ হে আমার ছেলে! তুমি সালাত কায়েম করো এবং সৎ কাজের আদেশ করো ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো। তোমার ওপর যে মুসীবত আসে, এর জন্য সবর করো। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।
আর তুমি অহংকারবশত মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং মাটিতে গর্বভরে চলাফেরা করো না। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কোনো দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।
তুমি পদচারণার ক্ষেত্রে মধ্যবর্তিতা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নীচু করো। নিঃসন্দেহে গাধার আওয়াযই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর। (সুরা লুকমান-১৭)

وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِّنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ -فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ –
অর্থঃ ওই সময়ের কথা স্মরণ করো, যখন বনী ইসরাঈলের একদল লোক তাদের সৎ কাজের উপদেশকারীগণকে বলতে লাগলো- তোমরা কেনো এমন লোকদেরকে উপদেশ দিচ্ছো, যাদেরকে আল্লাহ তা’আলা ধবংস করে দিবেন অথবা কঠোর শাস্তি প্রদান করবেন।
উপদেশকারীগণ এর উত্তরে বললো- আমরা এ জন্য উপদেশ দিচ্ছি, যাতে আমরা তোমাদের ও আমাদের রবের কাছ থেকে নিস্কৃতি লাভ করতে পারি। এ আশা করে তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার না-ফরমানি থেকে নিষেধ করছি যে, হয়তোবা তারা এ থেকে বিরত হবে।
অতঃপর যখন তারা আমার হুকুমকে অমান্য করলো, যা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিলো, তখন আমি উপদেশ দানকারীদেরকে বাঁচিয়ে দিলাম আর অমান্যকারীদেরকে তাদের না-ফরমানির কারণে আযাবে গ্রেফতার করলাম। (সুরা আরাফ-১৬৪-১৬

فَلَوْلَا كَانَ مِنَ الْقُرُونِ مِن قَبْلِكُمْ أُولُو بَقِيَّةٍ يَنْهَوْنَ عَنِ الْفَسَادِ فِي الْأَرْضِ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّنْ أَنجَيْنَا مِنْهُمْ وَاتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مَا أُتْرِفُوا فِيهِ وَكَانُوا مُجْرِمِينَ -وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهْلِكَ الْقُرَىٰ بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا مُصْلِحُونَ –
অর্থঃ তোমাদের আগে যে জাতি ধবংস হয়েছে, তাদের মধ্যে এমন কোনো বুদ্ধিমান লোক কি ছিলো না? যারা দেশে সন্ত্রাসীদেরকে বাধা প্রদান করতো! তবে সামান্য কয়জনকে আমি রক্ষা করেছিলাম (কারণ তারা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতো)।
আর না-ফরমান লোকেরা তাদের ভোগ-বিলাসিতায় ডুবে রইলো। পরিণতিতে তারা অপরাধী সাব্যস্ত হলো। আর আপনার রব কখনোই এমন নন যে, তিনি ওই সব জনপদকে অকারণে ধ্বংস করে দিবেন, যার অধিবাসীরা নিজের এবং অন্যদের সংশোধনের ফিকির করতো। (সুরা হুদ-১১৬-১১৭)
وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ -يَا قَوْمِ إِنَّمَا هَٰذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ -مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَلَا يُجْزَىٰ إِلَّا مِثْلَهَا وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَٰئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ -وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ -تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ -لَا جَرَمَ أَنَّمَا تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ لَيْسَ لَهُ دَعْوَةٌ فِي الدُّنْيَا وَلَا فِي الْآخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنَا إِلَى اللَّهِ وَأَنَّ الْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحَابُ النَّارِ -فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ -فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ –
অর্থঃ ফিরআওনের কওমের যে লোক গোপনে ঈমান এনেছিলো, সে তার কওমকে লক্ষ্য করে বললো- আমার ভাইগণ! তোমরা আমার অনুসরণ করো। আমি তোমাদেরকে সরল পথের দিশা দেখিয়ে দিবো।
আমার ভাইগণ! দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী এবং আখিরাতের জীবন চিরস্থায়ী। যে মন্দ কাজ করবে, সে ওই রকমই প্রতিফল ভোগ করবে। অপরদিকে যে ঈমানের সাথে নেক কাজ করেছে, সে পুরুষ হোক নারী- অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। অফুরন্ত রিযিক সেখানে লাভ করবে।
আমার ভাইগণ! এটা কেমন কথা! আমি তোমাদেরকে মুক্তির পথে আহবান করছি আর তোমরা আমাকে জাহান্নামের দিকে আহবান করছো? তোমরা আমাকে আহবান করছো এর প্রতি যে, আমি আল্লাহ তা’আলাকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সাথে এমন কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করি- যার ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্যই নেই। আমি তোমাদেরকে প্রবল পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল রবের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছি।
আর তোমরা আমাকে যেগুলোর প্রতি দাওয়াত দিচ্ছো, এগুলোতো দুনিয়াতে ডাকার যোগ্য না; আখিরাতেও না। আমাদেরকে একমাত্র আল্লাহ তা’আলার কাছেই ফিরে যেতে হবে এবং সীমা লংঘনকারীরা জাহ্ন্নাামে যাবে।
আমি তোমাদেরকে যা বলছি, অচিরেই তোমরা তা স্মরণ করবে। আর আমি আমার সব বিষয় একমাত্র আল্লাহ তা’আলার প্রতি সোপর্দ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর সকল বান্দাগণকে দেখছেন। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা সেই মুমিন লোকটিকে কাফিরদের সকল অনিষ্টকর ষড়যন্ত্র থেকে হিফাযত করলেন আর ফিরআওনের লোকদের ওপর কষ্টদায়ক আযাব নাযিল হলো। (সুরা গাফির-৩৮-৪৫)
وَالْعَصْرِ -إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ -إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ –
অর্থঃ সময়ের কসম! নিশ্চয় সমস্ত মানব জাতি ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু যারা ঈমান আনে, নেক কাজ করে এবং যারা একে অপরকে হকের প্রতি উপদেশ দেয় এবং পরস্পরে নেক আমলের পাবন্দী করার ব্যাপারে একে অপরকে উৎসাহিত করে। (সুরা আসর)
وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ –
অর্থঃ তোমাদের মধ্যে একটি জামাত এমন থাকা আবশ্যক, যারা কল্যাণের প্রতি দাওয়াত দিবে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর এসব লোকেরাই প্রকৃত সফলকাম।
(সুরা আলে ইমরান-১০৪)

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ
অর্থঃ তোমরা হলে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। কারণ তোমাদেরকে বের করা হয়েছে মানব জাতির জন্য। তোমরা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর আল্লাহ তা’আলার ওপর ঈমান আনবে।
(সুরা আলে ইমরান-১১০)
قُلْ هَٰذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ –
অর্থঃ হে নবী! আপনি বলে দিন, এটা আমার পথ। আমি মানুষকে আল্লাহ তা’আলার দিকে বুঝে শোনে দাওয়াত দেই। এটা আমার দায়িত্ব। আর যারা আমার অনুসরণ করবে, তাদেরও এটা দায়িত্ব। (সুরা ইউসুফ-১০৮)

وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَٰئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ-
অর্থঃ মুমিন পুরুষ এবং মুমিন নারী একে আপরের সহযোগী। তারা একসাথে মিলে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে লোকদেরকে বিরত রাখবে। এছাড়া তারা সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে। আর তারা সবাই আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে। ফলে আল্লাহ তা’আলা তাদের প্রতি রহম করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা পরাক্রমশালী বিজ্ঞ। (সুরা তাওবাহ-৭১)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ –
অর্থঃ হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে ওই আগুন থেকে রক্ষা করো, যার ইন্ধন মানুষ ও পাথর হবে। এ আগুনের দায়িত্বে কঠোর স্বভাবের শক্তিশালী ফিরিশতা রয়েছেন। তারা কোনো বিষয়েই আল্লাহ তা’আলার না-ফরমানি করেন না। তাদেরকে যা কিছু আদেশ করা হয়, তাঁরা তাই করেন। (সুরা তাহরীম-৬)

الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ –
অর্থঃ এই মুমিনদেরকে যদি আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা প্রদান করি, তা হলে তারা সালাত কায়েম করবে এবং যাকাত প্রদান করবে। আর তারা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকেও নিষেধ করবে। সব কিছুর শেষ পরিণতি তো আল্লাহ তা’আলারই ক্ষমতাধীন। (সুরা হজ্জ-৪১)
وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِي هَٰذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ النَّصِيرُ –
অর্থঃ আল্লাহ তা’আলার দ্বীনের জন্য যথাযথভাবে মেহনত করতে থাকো। তিনি তোমাদেরকে সারা বিশ্বে তাঁর পয়গাম পৌছানোর জন্য নির্বাচিত করেছেন। তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো কঠোরতা আরোপ করেননি। তোমাদের জাতির পিতা ইবরাহীম।
ইবরাহীম তোমাদের নাম মুসলিম বলে রেখেছেন। আমি তোমাদেরকে এ জন্য নির্বাচিত করেছি, যাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের পক্ষে সাক্ষী হন এবং তোমরা অন্যদের পক্ষে সাক্ষী হতে পারো। (সুরা হজ্জ-৭৮)
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ-
অর্থঃ ওই ব্যক্তির কথার চেয়ে আর কার কথা উত্তম হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহ তা’আলার দিকে দাওয়াত দেয় এবং সৎ কাজ করে। আর নিজে বলে- আমিও মুসলিমদের একজন? (সুরা হামীম সাজদাহ-৩৩)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.