কুরআন ও হাদীসের বর্ণনায় ইসলামের কালিমা

0
645
islamic calligraphy
islamic calligraphy

কালিমায়ে তাইয়্যেবাহ

কালিমায়ে তাইয়্যেবাহ সম্পর্কে কুরআনে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন-
ألم تر كيف ضرب الله مثلاً كلمةً طيبةً كشجرةٍ طيبةٍ أصلها ثابت و فرعها في السماء-
অর্থঃ আপনি কি লক্ষ্য করেন না, আল্লাহ তা’আলা কেমন উপমা পেশ করেছেন? পবিত্র বাক্য হলো, পবিত্র বৃক্ষের মতো। এর শিকড় মজবুত এবং শাখা উত্থিত। (সূরা ইবরাহীম-২৪)

সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
الإيمان بضع وسبعون شعبة- فأفضلها قول لا إله إلا الله- وأدناها إماطة الأذي عن الطريق- والحياء شعبة من الإيمان-
ঈমানের সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ শাখা হলো- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা। অর্থাৎ এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো- চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আর লজ্জা হলো ঈমানের অঙ্গ। (সহীহ মুসলিমঃ হা-১৫৩)
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
جددوا إيمانكم- قيل يا رسول الله! وكيف نجدد إيماننا؟ قال: أكثروا من قول لا إله إلا الله-
তোমরা তোমাদের ঈমানকে নবায়ন করো। জিজ্ঞাসা করা হলো- ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আমাদের ঈমানকে কীভাবে নবায়ন করবো? তিনি বললেন- অধিকহারে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার মাধ্যমে।
(আত-তারগীবঃ ২/৪১৫; মুসনাদে আহমাদ)
সাহাবী জাবির রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
أفضل الذكر لا إله إلا الله- وأفضل الدعاء الحمد لله-
সর্বোত্তম যিকির হলো- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আর সর্বোত্ম দো’আ হলো- আল হামদু লিল্লাহ। (সুনানে তিরমিযীঃ হা-৩৩৮৩)
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ما قال عبد لا إله إلا الله قط مخلصًا إلا فتحت له أبواب السماء حتي تفضي إلي العرش ما اجتنب الكبائر-
যে ব্যক্তি ইখলাসের সাথে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, তার জন্য আসমানের সাতটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। এমনকি তা আরশ পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। তবে শর্ত হলো- যতক্ষণ সে কবীরা গোনাহ থেকে বিরত থাকে। (সুনানে তিরমিযীঃ হা-৩৫৯)
সাহাবী আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
قال الله تعالي: إني أنا الله لا إله إلا أنا- من أقر لي بالتوحيد دخل حصني- ومن دخل حصني أمن من عذابي-
আল্লাহ তা’আলা বলেছেন- নিশ্চয় আমি আল্লাহ। আমি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। যে আমার একত্ববাদ স্বীকার করলো, সে আমার কিল্লায় প্রবেশ করলো। আর যে আমা কিল্লায় প্রবেশ করলো, সে আমার শাস্তি থেকে নিরাপত্তা লাভ করলো। (জামিউস সগীরঃ ২/২৪৩)
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
أسعد الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال لا إله إلاالله خالصًا من قبل نفسه-
আমার সুপারিশে ওই ব্যক্তিই সর্বাধিক উপকৃত হবে, যে ইখলাসের সাথে স্বেচ্ছায় লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে। (সহীহুল বুখারীঃ হা-১৫৭)
সাহাবী ওমর বিন খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إني لأعلم كلمة لا يقولها عبد حقًا من قلبه فيموت علي ذلك إلا حرمه الله علي النار لا إله إلا الله-
আমি একটি কালিমা জানি। এই কালিমা যে কেউ পড়ে মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তা’আলা তার ওপর জাহান্নামের আযাব হারাম করে দিবেন। কালিমাটি হলো- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। (মুসতাদরাকে হাকিমঃ ১/৭৩)
সাহাবী ইয়ায আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
إن لا إله إلا الله كلمة علي الله كريمةً لها عند الله مكان- وهي كلمة من قالها صادقًا أدخله الله بها الجنة- ومن قالها كاذبًا حقنت دمه وأحرزت ماله- ولقي الله غدًا فحاسبه-
কালিমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আল্লাহ তা’আলার নিকট সম্মানিত। আল্লাহ তা’আলার নিকট এ কালিমার সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে। যে ব্যক্তি সত্য ও সঠিক অন্তরে এই কালিমা বলবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করার অধিকার দিবেন।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অন্য কোনো উদ্দেশে এই কালিমা বলবে, সে পৃথিবীতে নিজের জান-মালের নিরাপত্তা পাবে বটে, কিন্তু কিয়ামতের দিনে সে কঠিন জওয়াবদিহিতার সম্মুখীন হবে। (মাজমাউয যাওয়ায়েদঃ ১/১৭৪)
সাহাবী ইতবান বিন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
لن يوافي عبد يوم القيامة يقول لا إله إلا الله يبتغي به وجه الله إلا حرم الله عليه النار-
যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে এমতাবস্থায় উপস্থিত হবে যে, সে শুধু আল্লাহ তা’আলাকে খুশি করার জন্য লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছিলো; আল্লাহ তা’আলা তার জন্য অবশ্যই জাহান্নামকে হারাম করে দিবেন।
(সহীহুল বুখারীঃ হা-৬৪২৩)

কালিমায়ে শাহাদাত
সাহাবী আবু বকর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
من شهد أن لا إله إلا الله يصدق قلبه و لسانه دخل من أي أبواب الجنة شاء-
যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাক্ষ্য প্রদান করে অন্তর ও যবানে তা বিশ্বাস করবে, সে জান্নাতের যে কোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। (মুসনাদে আবি ইয়ালাঃ ১/৬৮)
সাহাবী রিফা’আ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
أشهد عند الله لا يموت عبد يشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله صادقًا من قلبه ثم يسدد إلا سلك في الجنة-
আমি আল্লাহ তা’আলার নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি, যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালিমাকে বিশ্বাস করে এবং আমাকে আল্লাহ তা’আলার রাসূল বলে সাক্ষ্য দিবে, সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে। (মুসনাদে আহমাদঃ ৪/১৬)
সাহাবী আনাস বিন মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
أن نبي الله صلي الله عليه وسلم و معاذ بن جبل رضي الله رديفه علي الرحل- قال يا معاذ! قال: لبيك يا رسول الله وسعديك! قال يا معاذ! قال: لبيك يا رسول الله وسعديك! قال يا معاذ! قال: لبيك يا رسول الله وسعديك! قال: ما من أحد يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدًا عبده و رسوله صادقًا من قلبه إلا حرمه الله علي النار- قال: يا رسول الله! أفلا أخبر به الناس؟ فيستبشروا- قال: إذًا يتكلوا- فأخبر بها معاذ عند موته تأثمًا-
একদিন সাহাবী মু’আয রাযি. ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একই হাওদার ওপর একসাথে আরোহন করেছিলেন। এমতাবস্থায় নবীজি মু’আযকে ডেকে বললেন- হে মু’আয! উত্তরে মু’আয বললেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ! বলুন, আমি হাযির আছি।
নবীজি আবারো তাঁকে ডেকে বললেন- হে মু’আয! উত্তরে মু’আয বললেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ! বলুন, আমি হাযির আছি। নবীজি আবারো তাঁকে ডেকে বললেন- হে মু’আয! উত্তরে মু’আয আবারো বললেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ! বলুন, আমি হাযির আছি। এভাবে নবীজি মু’আয রাযি.কে তিনবার ডাকলেন এবং মু’আয রাযি.ও তিনবার সাড়া দিলেন।
অতঃপর নবীজি ইরশাদ করলেন- যে ব্যক্তি অন্তরের দৃঢ়তার সাথে সত্য জেনে এ ঘোষণা দিবে যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তা’আলার রাসূল। আল্লাহ তা’আলা তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিবেন। তখন মু’আয রাযি. বললেন- আমি কি এ কথা লোকদেরকে শুনিয়ে দিবো না? নবীজি বললেন- না; কারণ এ কথা জেনে গেলে লোকেরা এর ওপর নির্ভর করে বসে থাকবে।
উল্লেখ্য, হাদীস গোপন করার অপরাধ থেকে বাঁচার জন্য মু’আয রাযি. মৃত্যুকালে এ হাদীসটি বলে গেছেন। (সহীহুল বুখারীঃ হা-১২৮)
সাহাবী মু’আয রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
ما من نفس تموت وهي تشهد أن لا إله إلا الله وأني رسول الله يرجع ذلك إلي قلب موقن إلا غفر الله لها-
যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর এবং আমার আল্লাহ তা’আলার রাসূল হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করে মৃত্যুবরণ করবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে অবশ্যই ক্ষমা করবেন। (মুসনাদে আহমাদঃ ৫/২২৯)
সাহাবী আবু কাতাদাহ রাযি. সূত্রে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
من شهد أن لا إله إلا الله و أن محمدًا رسول الله- فذل بها لسانه و اطمأن بها قلبه- لم تطعمه النار-
যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রাসূল এবং তার যবান এ কথার সাক্ষ্য বহন করে, সাথে সাথে তার অন্তর এ কথার ওপর স্থির হয়, জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে না। (শু’আবুল ঈমান- বায়হাকীঃ ১/৪১)
সাহাবী ইতবান রাযি. সূত্রে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
لا يشهد أحد ان لا إله إلا الله وأني رسول الله فيدخل النار أو تطعمه-
যে ব্যক্তি এ কথার সাক্ষ্য দিবে না যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রাসূল; জাহান্নামের আগুন তাকে গ্রাস করবে। (সহীহ মুসলিমঃ হা-১৪৯)
সাহাবী আবু আমরাহ আল-আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
أشهد ان لا إله إلا الله وأني رسول الله لا يلقي الله عبد مؤمن بها إلا حجبته عن النار يوم القيامة- وفي رواية لا يلقي الله بهما أحد يوم القيامة إلا أدخل الجنة علي ما كان فيه-
আমি আল্লাহ তা’আলার নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি, যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কালিমাকে বিশ্বাস করে এবং আমাকে আল্লাহ তা’আলার রাসূল বলে সাক্ষ্য দিবে, আর এই বিশ্বাসের সাথে কিয়ামতের দিবসে আল্লাহ তা’আলার দরবারে উপস্থিত হবে, কিয়ামতের দিন এ কালিমাটি তার ও জাহান্নামের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করবে।

অপর এক বর্ণনামতে যে ব্যক্তি এ দুই কথাকে স্বীকার করে নিবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আমর রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إن الله سيخلص رجلا من أمتي علي رؤوس الخلائق يوم القيامة- فينشر عليه تسعة و تسعين سجلا- كل سجل مثل مد البصر- ثم يقول: أ تنكر من هذا شيئًا ؟ أ ظلمك كتبتي الحافظون ؟
فيقول: لا يا رب- فيقول: أ فلك عذر ؟ فيقول: لا يا رب- فيقول: بلي- إن لك عندنا حسنتة- فإنه لا ظلم عليك اليوم- فتخرج بطاقة- فيها أشهد أن لا إله إلا الله و أشهد أن محمدًا عبده و رسوله- فيقول: احضر وزنك- فيقول: يا رب! ما هذه البطاقة مع هذه السجلات ؟ فقال: فإنك لا تظلم- قال: فتوضع السجلات في كفة والبطاقة في كفة- فطاشت السجلات و ثقلت البطاقة- فلا يثقل مع إسم الله شيئ-
কিয়ামতের দিনে এক ব্যক্তিকে জন সম্মুখে উপস্থিত করা হবে। তার আমলনামা সর্বমোট ৯৯ ভলিয়মে খোলা হবে। এ সব ভলিয়ম বিস্তৃত হবে দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত।
অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন- আচ্ছা বলো দেখি- তুমি এগুলোর কোনো একটিকে অস্বীকার করতে পারবে? অথবা আমার লিখক ফিরিশতাগণ কি তোমার ওপর যুলুম করেছে? সে বলবে- না, হে আমার রব! তখন আল্লাহ তা’আলা আবারো জিজ্ঞাসা করবেন- তবে কি তোমার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি আছে? সে বলবে- না, হে আমার রব!
অতঃপর আল্লাহ তা’আলা বলবেন- হ্যাঁ, তোমার একটি নেকি আমার নিকট রক্ষিত আছে। তুমি নিশ্চিত জেনে রাখো, আজ কোনোভাবেই তোমার ওপর অবিচার করা হবে না।
এরপর এক টুকরা কাগজ বের করা হবে, যার মধ্যে কালিমায়ে শাহাদাত লেখা থাকবে। অর্থাৎ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রাসূল।
অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাকে বলবেন- তোমার আমলের ওযন দেখার জন্য উপস্থিত হও। তখন ওই ব্যক্তি বলবে- হে পরওয়ারদিগার! ওই বিরাট ভলিয়মের বিপরীতে এই এক টুকরা কাগজের কী মূল্য আছে? তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন- আজ তোমার প্রতি অবিচার করা হবে না।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- অতঃপর এ সব দফতরের ভলিয়মগুলি দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় এবং ওই কাগজের টুকরাকে অন্য পাল্লায় রাখা হবে।
তখন দফতরগুলোর পাল্লা হালকা হয়ে ওপরের দিকে উঠে যাবে এবং ওই একটি কাগজের পাল্লা ভারি হয়ে নিচের দিকে ঝুঁকে যাবে। (মাজমাউয যাওয়ায়েদঃ ১/১৬৫; সুনানে তিরমিযীঃ হা-২৬৩৯)

কালিমায়ে তামজীদ
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
كلمتان خفيفتان علي اللسان ثقيلتان في الميزان حبيبتان إلي الرحمن- سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم-
দুটি বাক্য উচ্চারণ করা অনেক সহজ, আমলের পাল্লায় ভারি এবং আল্লাহ তা’আলার কাছে অনেক প্রিয়। বাক্য দুটি হলো- سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم- (সহীহুল বুখারীঃ হা-৭৫৬৩)
ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
من قال لا إله إلا الله دخل الجنة أو وجبت له الجنة- ومن قال سبحان الله وبحمده مأة مرة كتب الله له مأة ألف حسنة وأربعًا وعشرين ألف حسنة-
যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
অপর বর্ণনামতে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি একশতবার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি পড়বে, আল্লাহ তা’আলা তাকে এক লক্ষ ছাব্বিশ হাজার নেকি দিবেন। (আত-তারগীব ওয়া তারহীবঃ ১/৪৬৭)
সাহাবী আবু যর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাকে বললেন-
ألا أخبرك بأحب الكلام إلي الله؟ قلتُ: يا رسول الله! أخبرني بأحب الكلام إلي الله؟ قفال: إن أحب الكلام إلي الله سبحان الله و بحمده-
আমি কি তোমাকে আল্লাহ তা’আলার কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় কালিমা সম্পর্কে বলে দিবো না? আমি বললাম- অবশ্যই ইয়া রাসুলাল্লাহ! বলে দিন? তিনি ইরশাদ করলেন- আল্লাহ তা’আলার কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় কালিমা হলো- سبحان الله و بحمده-

সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
لقيت إبراهيم ليلة أسري بي- فقال: يا محمد! اقرأ أمتك مني السلام وأخبرهم أن الجنة طيبة التربة عذبة الماء- وأنها قيعان- وأن غرّاسها سبحان الله و الحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر-
মিরাজের সফরে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সাথে আমার সাক্ষাত হলে তিনি আমাকে বললেন- ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি আমার পক্ষ থেকে আপনার উম্মতের কাছে আমার সালাম পৌঁছে দিবেন। আর এ কথা তাদেরকে বলে দিবেন যে, জান্নাত অনেক আনন্দময় স্থান এবং জান্নাতের পানি অনেক মিষ্ট। আর জান্নাতের বৃক্ষ হলো- সুবহানাল্লাহ ওয়াল হামদু লিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। (সুনানে তিরমিযীঃ ২/১৮৪)
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
من سبح الله في دبر كل صلاة ثلاثًا وثلاثين و حمد الله ثلاثًا وثلاثين و كبر الله ثلاثًا وثلاثين فتلك تسعة و تسعين و قال: تمام المأة لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد- وهو علي كل شيئ قدير- غفرت خطاياه وإن كانت مثل زبد البحر-
যে ব্যক্তি প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আল-হামদু লিল্লাহ এবং ৩৩ বার আল্লাহু আকবার তথা সর্বমোট ৯৯ বার এই কালিমাগুলো বলবে, এরপর একবার এই কালিমা অর্থাৎ- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মূলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর’ বলে একশত পুরা করবে, তার সব ধরণের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমপরিমাণ হয়। (সহীহ মুসলিমঃ ১/২১৯)

ঈমানে মুফাসসাল
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন-
أن جبريل قال للنبي صلي الله عليه وسلم: حدثني ما الإيمان؟ قال: الإيمان أن تؤمن بالله واليوم الآخر والملائكة و الكتاب و اللنبيين و تؤمن بالموت و بالحياة بعد الموت- وتؤمن بالجنة والنار والحساب و الميزان و تؤمن بالقدر كله خيره و شره-
قال: فإذا فعلت ذلك فقد آمنتُ؟ قال: إذا فعلتَ ذلك فقد آمنتَ-
একবার ফিরিশতা জিবরীল আলাইহিস সালাম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন- হে নবী! আপনি আমাকে বলে দিন- ঈমান কী?
নবীজি ইরশাদ করলেন-
ঈমানের বিবরণ হলো- তুমি আল্লাহ তা’আলার প্রতি, আখিরাতের প্রতি, ফিরিশতাগণের প্রতি, আল্লাহ তা’আলার কিতাব সমূহের প্রতি, আল্লাহ তা’আলার সমস্ত নবী-রাসূলগণের প্রতি, মৃত্যু ও মৃত্যুর পরবর্তী পুনরায় জীবিত হওয়ার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি, হিসাব নেওয়ার প্রতি এবং আমলের পরিমাপের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। এর সাথে তুমি ভালো-মন্দ তাকদীরের প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করবে।
তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম জিজ্ঞাসা করলেন- এ সব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে কি আমি মুমিন হবো? উত্তরে নবীজি বললেন- হ্যাঁ, তুমি এ সব বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করলে মুমিন হয়ে যাবে। (মুসনাদে আহমাদঃ ১/৩১৯)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.