কুরবানীর পশু কীভাবে যবেহ করবে??

0
527
Qurbani system
Qurbani system

যবেহ কাকে বলে?
যবেহ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো রগ কাটা। শরীয়তের পরিভাষায় আল্লাহ তা’আলার নাম উচ্চারণ করে কোনো হালাল প্রাণীর গলার চারটি রগ তথা খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং গলার দুই পাশে রক্তনালীর দুটি মোটা রগ কেটে রক্ত প্রবাহিত করাকে যবেহ বলে। তবে এই চারটির নুন্যতম তিনটি রগ কাটা হলেও প্রাণী হালাল হবে। অন্যথায় তা হারাম হয়ে যাবে। (রদ্দুল মুহতারঃ ৯/৪৫৫)

যবেহ করার উদ্দেশ্য
পশু যবেহ করার দুটি দিক রয়েছে। এক. জান কুরবান বা প্রাণ উৎসর্গ করা। দুই. পশু যবেহ করার মাধ্যমে শুধু গোশতের মালিক হয়ে তা সদকা করে সাওয়াব লাভ করা অথবা মেহমানদারী করানোর উদ্দেশ্যে যবেহ করা। ইসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে পশু যবেহ করার মধ্যেও এ দুটি দিক সম্পৃক্ত হতে পারে। আর এ দু’টির হুকুম ভিন্ন ভিন্ন। নিচে এগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-
এক. পশু যবেহ করার দ্বারা গাইরুল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। অর্থাৎ কোনো বুুযুর্গ, বা অন্য কারো নৈকট্য অর্জন এবং তাকে সম্মান করার জন্য পশু যবেহ করা। এটা স্পষ্ট হারাম। এই উদ্দেশ্যে পশু যবেহ করলে উক্ত পশুর গোশতও হারাম হয়ে যায়।
দুই. যবেহ করার দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভ করা। অর্থাৎ যবেহকারী একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইবাদতের উদ্দেশ্যে যবেহ করা। তারপর এ কাজের সাওয়াব অন্যকে দিয়ে দেওয়া। যবেহকারীর জন্য এ কাজ জায়েয এবং উক্ত পশু হালাল। এ কাজের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত নেই।
তিন. যবেহ করার দ্বারা নৈকট্য অর্জন উদ্দেশ্য নয়; বরং গোশতই মূখ্য উদ্দেশ্য থাকে। এক্ষেত্রে শরী’অত নিদের্শিত পদ্ধতিতে যবেহ করলে উক্ত পশু হালাল হবে।
এ পশুর গোশত সদকা করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে। এমতাবস্থায় উক্ত পশু যবেহ করার জন্য কোনো স্থান নির্দিষ্ট করে নেওয়া, যথা- কবরস্থানে গিয়ে যবেহ করা এবং এটাকে জরুরি মনে করা বা একে সাওয়াবের কারণ মনে করা না-জায়েয।
গোশত সদকা করা বা রান্না করা অথবা অন্যের প্রতি সাওয়াব রেসানী করার উদ্দেশ্যে যে কোনো স্থানেই পশু যবেহ করা যেতে পারে। আর এর জন্য কবরস্থানকে অথবা অন্য কোনো স্থানকে নির্দিষ্ট করে নেওয়ার কোনো ভিত্তি শরী’য়তে নেই।

যবেহ করার অস্ত্র
যা দ্বারা রগ কাটা যায় এবং রক্ত প্রবাহিত হয়, তা দ্বারা যবেহ করা জায়েয। (কিফায়াতুল মুফতীঃ ৮/১৮০; ৪৫৪)
হালাল পশু যবেহ করার দু’টি পদ্ধতি।
এক. স্বাভাবিক পদ্ধতি।
দুই. অপারগ অবস্থায় বিকল্প পদ্ধতি।
অর্থাৎ কোনো ধারালো বস্তু দ্বারা পশুর যে স্থানে সম্ভব আঘাত করে রক্ত প্রবাহিত করা। যদি পশুকে স্বাভাবিকভাবে বশে আনা সম্ভব না হয় এবং যবেহ বা নহর করা না যায়, তা হলেই কেবল এ প্রকার যবেহ কার্যকর বিবেচিত হবে।
যথা- পশু যদি কোনোস্থানে মাটি চাপা পড়ে যায় আর তা উদ্ধার করতে যে সময় লাগবে, ততক্ষণ সেটি বেঁচে না থাকার আশঙ্কা হয় অথবা গর্তে পড়ে যায় এবং তা থেকে জীবিত বের হওয়া সম্ভব না হয়, তা হলে এ পন্থা কার্যকর বিবেচিত হবে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে যবেহ বা নহর করাকে স্বাভাবিক যবেহ বলে। যবেহ করলে প্রবাহিত রক্ত বেরিয়ে যায়। উপর্যুক্ত উভয় অবস্থাতেই প্রবাহিত রক্ত বের করে দেওয়া আবশ্যক। প্রথমটির সাথে যেই ব্যাখ্যা রয়েছে, দ্বিতীয়টির সাথেও সেই ব্যাখ্যা প্রযোজ্য। (কিফায়াতুল মুফতীঃ ৮/২৫৬)
যবেহকারী মুসলমান হলে এবং আল্লাহ তা’আলার নাম অথবা তাকবীর বলে যবেহ করলে যদি রগগুলো কেটে যায়, তা হলে ওই পশুটি হালাল। যবেহকারী যদি সালাত-সিয়ামের ইহতিমাম না-ও করে এবং দাঁড়ানো পশুর গলায়ও ছুরি চালানো হয়, তবুও তা হালাল। (আযীযুল ফাতাওয়াঃ ২/১৭৮)
সোনা-রূপা অথবা পিতল যদি ধারানো হয়, তা হলে তা দ্বারা যবেহ করলেও পশুটি হালাল হবে। এমনিভাবে ধারালো পাথর, বাঁশের ধারালো কঞ্চি কিংবা কাঠ দ্বারাও যবেহ করলেও তা হালাল হবে। যে দাঁত বা নখ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি, তা দ্বারা যবেহ করলে পশুর গোশত হালাল হয় না।

যবেহ করার (কাটার) স্থান
আর যবেহ করার জায়গা হলো, সিনার উপরে গলার উঁচু হাড্ডির নিচের স্থানটিতে ছুরি চালানো। এটি ‘হিদায়া’ এবং ‘জামিউর রুমুস’ কিতাবের ভাষ্য। আর ‘জামিউস সগীর কিতাবে আছে- কণ্ঠনালী সবটাই যবেহ করার জায়গা। (খোলাসাতুল মাসায়েলঃ ১০৬)
গরু বা মহিষ যদি কূপে পড়ে যায় আর তা সেখান থেকে জীবিত বের করে উঠিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক যবেহ সম্ভব না হয়, তা হলে সেটির শরীরের যে কোনো স্থানে ধারালো কিছু দ্বারা ক্ষত করে দেওয়াই যথেষ্ট। এরপর পশুটি খাওয়া হালাল হবে। (আযীযুল ফাতাওয়াঃ ৭০২)
গলার উঁচু হাড্ডির উপরে যবেহ করা হয়ে গেলে পশু হারাম হয়ে যায় না। কারণ চোয়ালের হাড্ডির নিচ থেকে সিনার হাড্ডির উপর পর্যন্ত পুরো জায়গাটিই যবেহ করার জায়গা। সেখানে যবেহ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হাসিল হয় অর্থাৎ প্রবাহিত রক্ত এবং রূহ বেরিয়ে যায়। কাজেই যবেহ শুদ্ধ হয়ে যাওয়াটাই প্রাধান্য প্রাপ্ত এবং শক্তিশালী মত। (কিফায়াতুল মুফতীঃ ৮/২৫৮)
অভিজ্ঞ আলিমগণের মতে গলার উঁচু হাড্ডির উপর যবেহ করলেও যবেহ করার মধ্যে কর্তন আবশ্যক রগগুলো ফেঁটে যায়। সুতরাং এ পশুটি হালাল হওয়ার মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই। (আযীযুল ফাতাওয়াঃ ১/৭০৮)
যবেহ করার সময় মুরগীর (বা অন্য পশুর) মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তা খাওয়া দুরস্ত আছে; মাকরূহ হবে না।
ভুলক্রমে আল্লাহ তা’আলার নাম কিংবা তাকবীর ছুটে গেলে উক্ত পশু হালাল। কাজেই উক্ত কুরবানী দুরস্ত হবে। (ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ২/৫৫৬)
স্বাভাবিক যবেহ করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’আলার নাম কিংবা তাকবীর যবেহ করার সাথে সাথে হওয়া শর্ত অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলার নাম কিংবা তাকবীর বলেই যবেহ করে দিবে। আল্লাহ তা’আলার নাম কিংবা তাকবীর বলে যবেহ করার আগে অন্য কোনো কাজ করবে না।
এমনকি যদি একটি ছাগল শুইয়ে দিয়ে আল্লাহ তা’আলার নাম কিংবা তাকবীর বলে তা যবেহ না করে ছেড়ে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ অপর একটি ছাগল উক্ত আল্লাহ তা’আলার নাম কিংবা তাকবীর দ্বারা যবেহ করে, তা হলে যবেহ করা ছাগলটি খাওয়া যাবে না। (খোলাসাতুল মাসায়েলঃ ৬০৮)
একই কুরবানীর পশুর অংশীদার ব্যক্তিদের সবারই যবেহ করার সময় তাকবীর কলতে হবে না; শুধু যবেহকারীর জন্য আল্লাহ তা’আলার নাম কিংবা তাকবীর বলা আবশ্যক।
কুরবানীর দো’আ ছাড়লেও কুরবানী জায়েয। কারণ এ দো’অ পড়া মুস্তাহাব; আবশ্যক নয়।
(আগলাতুল আওয়ামঃ ১৩৪)
যে ব্যক্তি ছুরি চালনাকারীর সাথে ছুরি চালায় অর্থাৎ যবেহ করার মধ্যে অংশ নেয়, তার জন্য আল্লাহ তা’আলার নাম কিংবা তাকবীর বলা ওয়াজিব। পশুর পা-মাথা শরীর ইত্যাদি ধরা ব্যক্তিরা যবেহ করার মধ্যে শরীক নয়; তারা সাহায্যকারী মাত্র। (ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৩/৫৪৭)

সুতরাং মহিলা এবং নাবালক যদি যবেহ করতে সক্ষম হয় আর সশব্দে আল্লাহ তা’আলার নাম উচ্চারণরণ করে, তা হলে এদের যবেহকৃত পশু হালাল। (ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৩/৫৪৮)

যবেহ করার জন্য শর্তাবলী
ইসলামী শরীয়তে যবেহ করার জন্য ৩টি শর্ত রয়েছে। সেগুলো এই-
১. যবেহকারী ব্যক্তি মুসলমান হতে হবে। পুরুষ হোক বা নারী হোক।
২. যবেহ করার সময় আল্লাহ তা’আলার নাম উচ্চারণ করতে হবে।
৩. যবেহ করার সময় পশুর খাদ্যনালী, শ্বাসনালী ও গলার দুই পাশে অবস্থিত দুটি রক্তনালীর মোটা দুটি রগ কাটতে হবে। উক্ত চারটি রগের তিনটিও কাটা গেলে যবেহ সহীহ হবে। তিনটির কম হলে যবেহ সহীহ হবে না এবং ওই পশু মৃত ও হারাম বলে গণ্য হবে। (জাওয়াহিরুল ফিকাহঃ ২/৩৭৫)

বন্দুক দ্বারা বধ করা পশুর হুকুম
বন্দুক দ্বারা শিকার করা মাছ হালাল। নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ এখানে বিদ্যমান নেই। মাছ ছাড়া অন্য কোনো পশু যদি বন্দুক দিয়ে শিকার করা হয় আর পশুটি মারা যায় এবং যবেহ করার অবকাশ না পাওয়া যায়, তা হলে সে পশু হারাম। তা খাওয়া জায়েয নয়।
বন্দুক চালানোর সময় আল্লাহ তা’আলার নাম উচ্চারণ করলেও উক্ত পশু হালাল হবে না। আর যদি বন্দুক দিয়ে শিকার করা পশু জীবিত ধরা পড়ার পর তা যবেহ করা হয়, তা হলে তা হালাল।
বিসমিল্লাহ কিংবা আল্লাহ তা’আলার নাম উচ্চারণরণ করলে তীর নিক্ষেপ করলে তাতে যদি পশু মারাও যায়, তথাপিও তা হালাল। তবে বন্দুকের হুকুম ভিন্ন। (কিফায়াতুল মুফতীঃ ৮/২৩৯)

বেহুঁশ করে যবেহ করার হুকুম
যবেহ করার আগে পিস্তল ইত্যাদি দ্বারা মাথায় গুলি করা সুন্নাত পরিপন্থী কাজ। এর দ্বারা পশুটি হারাম হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে। কারণ উক্ত আঘাতে যদি পশুটির প্রাণনাশ নিশ্চিত হয়ে যায়, তা হলে এমতাবস্থায় পশুর গলায় ছুরি চালানো অনর্থক এবং উক্ত পশুটি হারাম হয়ে যাবে।
(কিফায়াতুল মুফতীঃ ৮/২৫৬)

যবেহ করার সময় লক্ষ্যণীয়
যবেহ করার সময় শুধু অন্তরে কুরবানীর নিয়ত করলেই যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। তবে হ্যাঁ, যবেহ করার সময় বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার মুখে বলা আবশ্যক।
অনেক জায়গায় কুরবানীর পশু শুইয়ে রেখে যবেহ করার আগে অংশীদারদের নাম ও পিতার নাম উচ্চারণ করা হয়। এসব করা আবশ্যক নয়; বরং এতে কুরবানীর পশুর অনর্থক কষ্ট হয়। তাই তা মাকরূহ। (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়াঃ ৪/২৯৯)
কুরবানী করার সময় শরীকদের নাম উচ্চারণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, যবেহকারী সকলের পক্ষ থেকে যবেহ করার নিয়ত করবে। তাবে যদি উচ্চারণ করে, তা হলে তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু এরূপ উচ্চারণ করাকে আবশ্যক মনে করা ভিত্তিহীন। (কিফায়াতুল মুফতীঃ ৮/১৮৪)

যবেহ করার নিয়মাবলী
সাহাবী শাদ্দাদ ইবনে আওস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা সকল বিষয়ে ইহসান (উত্তম পদ্ধতি) ফরয করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন (কিসাস ইত্যাদির মধ্যে) কাউকে কতল করবে, তখন উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করো। আর যখন (কোনো পশু) যবেহ করবে, তখন উত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করো। আর (তার উত্তম পদ্ধতি হলো) তোমরা নিজ নিজ ছুরি ধার দিয়ে নিবে এবং পশুর মৃত্যু যন্ত্রণা লাগব করবে।
– সুতরাং যবেহ করার আগে পশুকে ঘাস-পানি ইত্যাদি ভালোভাবে খাওয়াতে হবে। কুরবানীর প্রাণীকে ক্ষুধার্থ বা পিপাসার্ত রাখা অন্যায়।
– পশুকে কুরবানী করার স্থানে টেনে হিঁচড়ে নেওয়াও অন্যায়। পশুকে সামনে থেকে টেনে নিয়ে যাবে বা পিছন থেকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাবে। পিছনের পায়ের নলা ধরে টেনে হিঁচড়ে নেওয়ার ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। (আত্-তারগীব ওয়াত-তারহীবঃ ২/৩৯১-৪০০)
– কিবলার দিকে ফিরিয়ে বাম পার্শ্বের ওপর শোয়াতে হবে।
– যবেহ করার জন্য পশুকে শোয়াতে হবে সহজ সুন্দরভাবে। কোনোভাবেই কঠোরভাবে নয়। সুন্নাত হলো যবেহ করার আগে পশুকে কিবলামুখী করে শোয়াবে।
– পশুর চার পায়ের মধ্যে তিনটি পা বাঁধবে।
– যবেহ করার আগে ছুরি ভালো করে ধার করে নিতে হবে। কুরবানীর পশু শোয়ানোর পর ছুরি ধারানো অন্যায়; বরং আগে থেকেই ধার দিয়ে নিবে। (আলমগীরীঃ ৪/৮১; ফতোয়ায়ে রহীমিয়াঃ ১/৯৮)
– ধারালো ছুরি দিয়ে যবেহ করতে হবে। হাদীসে এই ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আগে থেকেই ছুরি ধার দিয়ে রাখবে। ভোঁতা ছুরি দিয়ে যবেহ করবে না। ছুরি যদি ধারাতে হয়- তাহলে পশুর সামনে ধারাবে না; বরং আড়ালে ধারাবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছুরি ভালোভাবে ধার করতে, সেটি পশুর সামনে থেকে লুকিয়ে রাখতে এবং পশুর সামনে ছুরি ধার না করতে আদেশ করেছেন।
– যবেহকারীর সঙ্গে যারা ছুরি বা তলোয়ার ধরবে তাদের সকলকেই বিসমিল্লাহ পড়তে হবে। যদি কিছু সংখ্যক লোক পড়ে এবং বাকী কিছু সংখ্যক লোক ইচ্ছাকৃতভাবে না পড়ে- তাহলে উক্ত পশুর গোশত ভক্ষণ করা হালাল হবে না। (ফতোয়ায়ে কাযী খান)
– যবেহ করার পর যতক্ষণ পর্যন্ত পশু ঠান্ডা না হয়- ততক্ষণ পর্যন্ত চামড়া খুলবে না বা গোশ্ত বানানোর কাজে হাত দিবে না। কারণ এতে পশুর কষ্ট হয়। শরী’অত কর্তৃক নির্দেশিত পদ্ধতিতে যবেহ করার পর পূর্ণ নিস্তেজ হওয়ার পরে পশুর চামড়া আলাদা করা জায়েয।
পূর্ণ চামড়া একসাথে আলাদা আলাদা টুকরো করে এবং শরীরের চামড়া মাথার চামড়ার সাথে মিলিয়ে সবভাবেই চামড়া খসানো জায়েয। ইসলামী শরী’অত এসব পদ্ধতিই বৈধ। একে নির্দয় কর্ম আখ্যা দেওয়া অযৌক্তিক এবং শরী’অতবিরোধী।
– কসাইরা সাধারণত যবেহ করার পর পশু পূর্ণ নিস্তেজ হওয়ার আগেই চামড়া খসানো শুরু করে দেয়। এ কাজটি হারাম। ভালোভাবে স্মরণ রাখবেন, পশু পূর্ণ নিস্তেজ হওয়ার পরেই কেবল চামড়া খসানো উচিত।
– যবেহকৃত পশু নিস্তেজ হওয়ার আগে সেটির শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা মাকরূহ। তবে এরকম হয়ে গেলে উক্ত পশুর গোশত হালাল।
(কিফায়াতুল মুফতীঃ ৮/২৫৭; আগলাতুল আওয়াম-আশরাফ আলী থানবীঃ ১৩৪; ইমদাদুল মুফতিয়ীনঃ ১/১৭৫)
– যবেহ করার শরয়ী নিয়ম হলো- চার রগ কাটা। সেগুলো হচ্ছে শ্বাসনালী, খাদ্যনালী ও তার দু’পাশের রক্তনালীর দু’টি মোটা রগ। কমপক্ষে তিনটি রগ কাটা গেলে ভক্ষণ করা হালাল, নতুবা তা হারাম হবে।
– গলায় যবেহ করতে হবে। এমনভাবে যবেহ করা যাবে না- যাতে গলা পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু যবেহ করার সময় যদি পশুর মাথা সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়- তাহলে মাকরূহ হবে। কিন্তু কুরবানী হয়ে যাবে। পশু হালালই থেকে যাবে।
– উটের বেলায় সুন্নাত হলো নহর করা। অর্থাৎ পা বেঁধে দাঁড় করিয়ে ধারালো বর্শা অথবা ছুরি গলদেশে ঢুকিয়ে রক্ত প্রবাহিত করে দেওয়া। উট ব্যতীত অন্যান্য পশুর বেলায় যবেহ করা সুন্নাত।
– যবেহ করার সময় ‘বিসল্লিাহি আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে।
– ঘাড়ের দিক থেকে যবেহ করা যাবে না। তবে বিশেষ কোনো কারণে কেউ ঘাড়ের দিক থেকে যবেহ সম্পন্ন করে ফেললে কুরবানী সহীহ হয়ে যাবে।
– যাতে দ্রুত যবেহ হয়ে যায় এবং পশুর কষ্ট কম হয়- সেদিকে খেয়াল রাখবে।
– একটি পশুকে আরেকটি পশুর সামনে যবেহ না করা ভালো।
– যবেহ সম্পন্ন হওয়ার পর পশুর রশি ও গলার মালা ইত্যাদি দান করে দিতে হবে।
– মহিলাদের পশু যবেহ করার পদ্ধতি জানা থাকলে এবং যবেহ করতে সক্ষম হলে তারাও যবেহ করতে পারবে। (সহীহুল বুখারীঃ হা-৫৫০৪)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.