কুরবানী ইসলামের প্রতীকি বিধান- আব্দুল্লাহ আল মাসুম

0
240
و عيدنا
و عيدنا

কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক সামর্থ্যবান নর-নারীর ওপর কুরবানী ওয়াজিব। এটি মৌলিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। আদম আলাইহিস সালাম থেকে সকল যুগে কুরবানী ছিলো। তবে তা আদায়ের পন্থা এক ছিলো না।

শরীয়তে মুহাম্মাদীর কুরবানী মিল্লাতে ইবরাহীমির সুন্নাত। সেখান থেকেই এসেছে এই কুরবানী। এটি শা’আইরে ইসলাম তথা ইসলামের প্রতীকি বিধানাবলীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এর মাধ্যমে শা’আইরে ইসলামের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের শর্তহীন আনুগত্যের শিক্ষা রয়েছে কুরবানীতে।

কুরবানী সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন- فصل لربك وانحر-

অতএব আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী আদায় করুন। (সূরা কাউসার-২)

প্রিয় নবীজিকে আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ প্রদান করে বলছেন-

قل إن صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين-

(হে রাসূল!) আপনি বলুন- আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ (অর্থাৎ আমার সবকিছু) আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য উৎসর্গিত। (সূরা-আনআম-১৬২)

لن ينال الله لحومها ولا دمائها ولكن يناله التقوي منكم-

(মনে রেখো, কুরবানীর পশুর) গোশত অথবা রক্ত আল্লাহর কাছে কখনোই পৌঁছে না; বরং তাঁর কাছে কেবলমাত্র তোমাদের তাকওয়াই পৌঁছে। (সূরা-হজ্জ-৩৭)

Qurbani in the Holy Quran 1
Qurbani in the Holy Quran

হাদীসের বর্ণনায় কুরবানীর গুরুত্ব ও ফাযায়েল

সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

من وجد سعة لأن يضحي فلم يضح- فلا يقربن مصلانا-

যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করলো না, সে যেনো আমাদের ঈদগাহে না আসে।

(মুসনাদে আহমদঃ হা-৮২৭৩; মুস্তাদরাকে হাকেমঃ হা-৭৬৩৯; আত্-তারগীব ওয়াত-তারহীবঃ ২/১৫৫)

সাহাবী ইবনে ওমর রাযি. বলেন-

أقام رسول الله صلي الله عليه وسلم بالمدينة عشر سنين يضحي-

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনা মুনাওয়ারায় দশ বছরের জীবনে প্রতি বছর কুরবানী করেছেন।

(সুনানে তিরমিযীঃ হা-১৫০৭; মুসনাদে আহমাদঃ হা-৪৯৩৫)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

أن رسول الله صلي الله عليه وسلم قال: ما عمل آدمي من عمل يوم النحر أحب إلي الله من إهراق الدم- إنه ليأتي يوم القيامة بقرونها وأشعارها وأظلافها- وإن الدم ليقع من الله بمكان قبل أن يقع من الأرض- فطيبوا بها نفسا-

কুরবানীর দিনের আমলসমূহের মধ্য থেকে পশু কুরবানী করার চেয়ে কোনো আমল আল্লাহ তা’আলার নিকট অধিক প্রিয় নয়। কিয়ামতের দিন এই কুরবানীকে তার শিং, পশম ও ক্ষুরসহ উপস্থিত করা হবে। আর কুরবানীর রক্ত ভূ-পৃষ্ঠে পড়ার আগেই আল্লাহ তা’আলার নিকট গ্রহণীয় হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা সন্তুষ্টচিত্তে কুরবানী আদায় করো। (সুনানে তিরমিয়ীঃ হা-১৪৯৩)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযি. বলেন-

قلت يا رسول الله! أستدين وأضحي؟ قال: نعم- فإنه دين مقضي-

আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- আমি ঋণ করে কুরবানী করবো কি না? জওয়াবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- হ্যাঁ, করো। আল্লাহ তা’আলা ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিবেন। (সুনানে দারা কুতনীঃ হা-৪৭১০)

Qurbani 3
Qurbani

সাহাবী যায়েদ বিন আকরাম রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

قال أصحاب رسول الله صلي الله عليه وسلم: يا رسول الله ما هذه الأضاحي؟ قال سنة أبيكم- قالوا فما لنا فيها يا رسول الله قال: بكل شعرة حسنة- قالوا فالصوف يا رسول الله؟ قال: بكل شعرة من الصوف حسنة-

সাহাবায়ে কেরাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই কুরবানী প্রথাটা কী? তিনি ইরশাদ করলেন- এটা তোমাদের পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সুন্নাত। সাহাবায়ে কেরাম পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! এতে আমাদের লাভ কী?
তখন নবীজি বলেন- কুরবানীর পশুর প্রত্যেকটা চুলের পরিবর্তে একটি করে নেকি পাওয়া যাবে। সাহাবায়ে কেরাম আবার জিজ্ঞাসা করলেন, যে সমস্ত পশুর মধ্যে পশম রয়েছে- ওগুলোর মধ্যে কি সাওয়াব হবে? তিনি বললেন- ওগুলোতেও প্রতিটি পশমের বদলে একটি করে নেকি পাওয়া যাবে।

(সুনানে ইবনে মাজাঃ হা-৩১২৭; মুসনাদে আহমাদঃ হা-১৮৭৯৭; তারগীবঃ হা-২৫৫)

সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাযি. বলেন-

قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: يا فاطمة! قومي إلي أضحيتك فاشهديها- فإن لك بأول قطرة تقطر من دمها أن يغفر لك ما سلف من ذنوبك قالت: يا رسول الله! لنا خاصة أهل البيت أو لنا وللمسلمين؟ قال: بل لنا وللمسلمين-

একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতেমা রাযি.-কে ডেকে ইরশাদ করেন- হে ফাতেমা! তুমি তোমার কুরবানীর পশুর নিকট যাও।
কারণ কুরবানীর পশু যবেহ করার পর রক্তের প্রথম ফোঁটা মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তোমার যাবতীয় গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। ফাতেমা রাযি. জিজ্ঞেস করলেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা কি শুধু আমার জন্য? নবীজি বললেন- এটা আমাদের জন্যে এবং সকল মুসলিমের জন্যে।

(আত-তারগীব ওয়াত তারহীব- আল্লামা মুনজারিঃ হা-২৫৬)

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

قال الرجل: أرأيت إن لم أجد إلا منيحة أنثي أفأضحي بها؟ قال: لا ولكن تأخذ من شعرك وأظفارك وتقص شاربك وتحلق عانتك فتلك تمام أضحيتك عند الله-

এক সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রাসূলাল্লাহ! এক ব্যক্তি দুধ খাওয়ার জন্যে আমাকে একটি উট দিয়েছে। আমি কি তা দ্বারা কুরবানী করবো?
নবীজি তাঁকে নিষেধ করে বললেন, না, তবে তুমি নখ-চুল ইত্যাদি কাটো। এটাও তোমার জন্য আল্লাহর দরবারে পূর্ণ কুরবানী। এ বলে নবীজি ওই গরীব সাহাবীকে সুসংবাদ দিলেন।
(সুনানে আবি দাউদঃ হা-২৭৮৯; সুনানে নাসায়ীঃ হা-৪৩৬৫; সুনানে দারা কুতনীঃ হা-৪৬৬৪; সুনানে কুবরা- ইমাম বায়হাকিঃ হা-১৮৪৪৯)

হাদীসের গ্রন্থসমূহে কুরবানীর ফাযায়েল সম্পর্কিত আরও অনেক হাদীস রয়েছে। সব এখানে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। বলাবাহুল্য, ইবাদতের মূলকথা হলো আল্লাহ তা’আলার আনুগত্য এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই যে কোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় আবশ্যক। ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা পালন করা এবং শরীয়তের নির্দেশনা মেনে সম্পাদন করা।

উপরোক্ত বর্ণিত এ সমস্ত ফযীলত ওই সময় অর্জিত হতে পারে- যখন কুরবানী শরীয়ত অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। অন্যথায় সাওয়াবের আশা করা বৃথা। অতএব অসংখ্য সাওয়াব অর্জনের লক্ষ্যে কুরবানীর বিধি-বিধান সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করে সে অনুযায়ী কুরবানী করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য কর্তব্য।

কুরবানীর তাৎপর্য ও শিক্ষা

কুরবানীর বিধানের তাৎপর্য বলার অপেক্ষা রাখে না। ইসলামের নানা নিদর্শন জড়িয়ে আছে এ বিধানের সঙ্গে। এর উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-
 পশু যবেহ করে কুরবানী করার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার ভালোবাসা সমীপে নিজের সকল অবৈধ চাহিদা ও পশুত্বকে বিসর্জন দিতে হয়। সুতরাং কুরবানী থেকে কুপ্রবৃত্তির দমন করার প্রেরণা গ্রহণ করা উচিত। তাই কুরবানীর মধ্যে ইবাদাতের মূল বিষয় তো আছেই, সেই সাথে তাকওয়ার বাস্তব অনুশীলনও রয়েছে।
 কুরবানী শিরক থেকে মুক্ত থাকার একটি কার্যকরী মাধ্যম। কারণ বিধর্মীদের মধ্যে পশু পূজার প্রথা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ইসলাম মুসলিমদেরকে কুরবানীর বিধান দিয়ে তাওহীদ তথা একত্ববাদের বিশ্বাসকে সুসংহত করণের পাশাপাশি এই শিক্ষাও দেয় যে, এসব জীব-জন্তু পূজার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি; বরং এসব প্রাণী সৃষ্টি করা হয়েছে কুরবানী করে আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য।
এর দ্বারা একদিকে যেমন তাওহীদের বিশ্বাস শাণিত হয়। অপরদিকে অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের প্রতিও কার্যত এমন আহ্বান করা হয় যে, তোমরা তোমাদের এহেন কার্যকলাপ ছেড়ে ইসলামের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হও। উদ্বুদ্ধ হও সুস্থ-জীবন যাপনে। বেরিয়ে যাও সত্যের অনুসন্ধানে। জাগিয়ে তোলো নিজেদের বিবেক প্রহরীকে। ফিরে এসো অসাড়-অনুভূতিহীন দেব-দেবীর উপাসনা থেকে। ছেড়ে দাও জীব-জন্তুর আরাধনা। শাণিত করো নিজেদের চিন্তা-চেতনা। আশ্রিত হও ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে।

1
our Qurbani

 কুরবানী করার মাধ্যমে সবাই আল্লাহ তা’আলার ক্ষমতা ও আধিপত্য দৃঢ়চিত্তে মেনে নেওয়ার অনুপ্রেরণা পায়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার তাওহীদের স্বীকৃতি ঘোষিত হয়।
বিধর্মী ও অবিশ্বাসী সম্প্রদায় আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত গায়রুল্লাহ বা দেব-দেবীর নামে পশু উৎসর্গ করে। অপরদিকে মুসলিমরা সমস্ত দেব-দেবীকে উপেক্ষা করে একমাত্র মহান আল্লাহ তা’আলার নামেই কুরবানী করে তাওহীদের স্বীকৃতি দানের এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
 এসব পশুর অধিকার যে একমাত্র আল্লাহ তা’আলারই- কুরবানীর মাধ্যমে কার্যত তার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। অর্থাৎ মুসলিমগণ বিশ্বাস করে থাকেন, আল্লাহ তা’আলাই হলেন এ বিশ্বজাহানের ¯্রষ্টা ও সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং এসব পশু সব তাঁরই। এটা তাদের বিশ্বাসগত স্বীকৃতি। আর কুরবানী হলো এরই কার্যত স্বীকৃতি।
 আল্লাহ তা’আলা যে এ সকল পশুকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন এবং এসবের দ্বারা আমাদের নানাভাবে উপকৃত হওয়ার সুযোগ দান করেছেন- তার শুকরিয়া আদায় করা হয় কুরবানীর মাধ্যমে।
 কুরবানীর মাধ্যমে আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মূসা আলাইহিস সালাম ও ঈসা আলাইহিস সালাম প্রমুখ নবীগণের পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের স্মৃতি রক্ষা করা হয়। তিনি তাঁর প্রিয় পুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে কুরবানী করার চেষ্টার মাধ্যমে এর প্রবর্তন করেন।
 কুরবানী করার দ্বারা দুনিয়ার সম্পদ এবং পার্থিব জীবনের মোহ-মায়া ইত্যাদি হতে পরিশুদ্ধি অর্জন করা হয়। কুরবানীর পশু যবেহ করার দ্বারা বাহ্যত কুরবানী আদায়কারীর সম্পদ ব্যয় হয়। আর সম্পদের এই ক্ষয় আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্যই হয়ে থাকে।

image of Qurbani
image of Qurbani

তাই যাকাতের মতো এর দ্বারাও সম্পদের মোহে কিছুটা ঘাটতি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এর সাথে কুরবানী আদায়কারীর মনে এই অনুভূতি জাগ্রত হয় যে, একটি পশুর কুরবানী যখন আল্লাহ তা’আলার দরবারে তাঁর সন্তুষ্টি এবং নৈকট্য অর্জনের কারণ হয়, তাহলে স্বয়ং নিজের প্রাণ-সম্পদ সবকিছু আল্লাহর পথে কুরবানী করে দেওয়া আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের কত বড়ো মাধ্যম হতে পারে। এই অনুভূতি তার নিজের প্রতি ভালোবাসা কমিয়ে দিয়ে নিজেকে আল্লাহ তা’আলার রাহে কুরবানী করার চেতনাকে উজ্জীবিত করে।
 আল্লাহ তা’আলার দীনকে পৃথিবীতে বিজয়ী করতে অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখীন হতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘কিতাল’ বা সম্মুখ অস্ত্রযুদ্ধেও এগিয়ে যেতে হবে মুসলিমদের। শত্র“দের রক্তপ্রবাহের সময় আসবে অনেক। সেক্ষেত্রে মুসলিমদের রক্তপ্রবাহ দেখে যাতে ভয়ে প্রকম্পিত বা বিচলিত হয়ে না যায়- কুরবানীকে এরও একটা প্রশিক্ষণ বলা যায় নিঃসন্দেহে।
 এছাড়া কুরবানীর মাধ্যমে গরীব-দুঃখী ও পাড়া-প্রতিবেশীর আপ্যায়নের ব্যবস্থা হয়। কুরবানীর মাধ্যমে দরিদ্র-অসহায়দের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ হয়।

অতএব পশু কুরবানীর সাথে সাথে মনের পশুত্বেরও কুরবানী করতে হবে। কারণ আমরা মানুষ। আমাদের মধ্যে যেমন ফেরেশতার স্বভাব আছে, তেমনি পশুর স্বভাবও আছে। মানুষের মধ্যে যতো ভালো গুণ রয়েছে, সেগুলো হলো- ফেরেশতার স্বভাব। আর হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা, খারাপ ব্যবহার করা, অন্যায়ভাবে কারো উপর আক্রমণ করা, মানুষের ধন-সম্পদ অবৈধভাবে দখল করা, কারও অধিকার কেড়ে নেওয়া ইত্যাদি হলো পশুর স্বভাব।
কুরবানীর ঈদে আমরা পশু কুরবানী করে থাকি। কুরবানীর মূল ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এই উপলক্ষে অর্জিত তাকওয়া বা আল্লাহভীতি দ্বারা আমরা নিজের পশুর স্বভাবকে কুরবানী করি না। তাই আমাদের সমাজ থেকে অন্যায়-অবিচার দূর হয় না। যদি পশু কুরবানীর সাথে সাথে আমরা নিজেদের পশুর স্বভাবকেও কুরবানী করতে পারি- তবেই আমাদের সমাজ হবে সুখময়, শান্তিময় ও আনন্দময়।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণ করে আগেকার মানুষ যেরূপ শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে জীবন-যাপন করেছে, অনুরূপ পবিত্র স্বভাবের অধিকারী হয়ে আজও সেরূপ শান্তি ও নিরাপত্তা আমরা লাভ করতে পারি। এজন্য আমাদেরকে সাহাবায়ে কেরামের গুণাবলী অর্জন করতে হবে। আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে মুসলিম জাতির জনক ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মহান ত্যাগের অপূর্ব স্মৃতি কুরবানী প্রতি বছর আমাদেরকে এই শিক্ষাই দিয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.