কোন দুশমন ভয়ংকর; ভিতরের না বাইরের

0
710
enemy
enemy


ইসলাম নিয়ে ছিনিমিনি খেলা নতুন নয়; সেই নবুয়তের যামানা থেকেই এর শুরু। তবে এর প্রকৃতি ও গতি যামানার ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন রূপ নিয়েছে। এই খেলা যেমন খেলেছে ইসলামের বিদ্বেষীরা, ঠিক তেমনি ইসলামের নামধারী মুনাফিকরাও এ নিয়ে কম খেলেনি। এখনো তা অব্যাহত আছে। খেল তামাশার এসব খলনায়কদের চরিত্র সব সময় এক রকম থাকে না বিধায় এদের স্বরূপ সব সময় সবার সামনে একইভাবে উম্মোচনও হয় না।
এছাড়া এদের খেলার পদ্ধতি কিংবা গতিও বারাবার পরিবর্তন হতে থাকে। যার ফলে সত্য-মিথ্যা বাছাই হতে গিয়ে একনিষ্ঠ আদর্শবাদী লোকদের গলদর্ঘম হতে হচ্ছে। কে দুশমন আর কে মিত্র- তা নির্ণয় তো দূরের কথা, এতে সত্য যেনো অসহায়ভাবে বারবার চাপা পড়ে যাচ্ছে। আর মিথ্যা, ষড়যন্ত্রের কালো থাবা ফুলে ফেঁপে বেড়ে উঠছে। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকান-
ওহুদের জিহাদের আগ মুহুর্তে স্বয়ং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নেতৃত্বে যখন মুসলিম বাহিনী এগিয়ে যাচ্ছিলো রনাঙ্গন অভিমুখে, তখন হঠাৎ করে প্রাণ বাঁচানোর অজুহাতে ৩০০ সৈন্য নিয়ে পিছুটান দিয়েছিলো কারা?
ইরাকের কুফাবাসীদের অনুরোধ ও তাদের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে এগিয়ে যাওয়া নবী দৌহিত্র সাইয়্যেদুনা হুসাইন রাযি.কে কারবালার প্রান্তরে পৈশাচিকভাবে শহীদ করে দিয়েছিলো কারা?
বাগদাদের উসমানীয় খেলাফতের আওতাধীন ইসলাম ও মুসলিম জাতির মহান সিপাহসালার দামেস্কের গভর্নর সুলতান নুরুদ্দীন জঙ্গীকে গোপনে খাদ্যের মধ্যে বিষ মিশিয়ে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছিলো কারা?
এক মুসলিম বোনের প্রেরিত চিঠির তাৎক্ষণিক জওয়াবে আরব থেকে ছুটে আসা তরুণ সেনাপতি যখন ভারতের বর্বর হিন্দু রাজাকে পরাজিত করে এ অঞ্চলে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করলেন, হিন্দুদের প্রকোষ্ঠশালা থেকে উদ্ধার করলেন হাজারো মাযলুম নারী-শিশুকে, ঠিক তখনি এই মহান যোদ্ধাকে ষড়যন্ত্র করে দামেস্কে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো কারা?
আবু হানিফা নোমান ইবনে সাবিত, আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. প্রমুখ ইসলামের মণীষীগণকে বেত্রাঘাত করে চাবুক দ্বারা দেহকে ঝাঁঝরা করে জেল খানার সেলের ভিতর হত্যা করেছিলো কারা?
ইংরেজ হানাদারদের সাথে আঁতাত করে স্বাধীনচেতা নবাবের বিরুদ্ধে পলাশীর রনাঙ্গনে ষড়যন্ত্র করে স্বাধীন বাংলার আযাদীর সূর্য্যকে অস্তমিত করেছিলো কারা?
বালাকোটের ময়দানে সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ রহ.কে শহীদ করে নারকীয় উল্লাসে মেতে উঠেছিলো কারা?
ইংরেজ গুপ্তচরের কাছে আরব থেকে রওয়ানা হওয়া রেশমী রুমালের ভিতর রাখা চিঠি ফাঁস করে দিয়ে শায়খুল হিন্দ রহ.কে মাল্টা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলো কারা?
জওয়াব একটাই। কোনো কাফির এগুলো করেনি। বরং ইসলামের নামধারী কুখ্যাত খলনায়করাই এসব কান্ড ঘটিয়েছে। স্বজাতির বুকে এরা চাবুক মেরেছে। স্বীয় ধর্ম ও দেশের সাথে এরা গাদ্দারি করেছে। এসব মুনাফিক গাদ্দারদের কারণেই যুগে যুগে ইসলামের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

দুশমন যখন আক্রমণ করতে উদ্যত হয়, তখন ঘরের লোকেরা পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে দুশমনের জন্য মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়, দুশমনের বিজয়ের দ্বার খুলে যায়। বরঞ্চ এর ফলে দুশমনের যুদ্ধ অর্ধেক আদায় হয়ে যায়। সুতরাং ঘরের ভিতর ঘরের লোকদের সাথেই যারা দুশমনির জাল বুনে, ঘরের লোক হয়েও ঘরের লোকদেরকেই কুপোকাত করার মানসে বাইরে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে অপেক্ষারত দুশমনের সাথে হাত মিলায়, তখন সে ঘরকে আর পরাজিত করা লাগে না।
কারণ হাত মিলানোর সাথে সাথেই উক্ত ঘরের পরাজয় ঘটে। ঘরেরই কিছু লোকের সাথে আঁতাত করার দ্বারা উক্ত ঘর বাইরের দুশমনের দখলে চলে যায়। আর ওই সময় বাইরের দুশমনের ঘরে প্রবেশ না করলেও চলে। কারণ ঘরের ভিতরেই তাদের মিত্র তৈরি হয়ে আছে। তাদের হাতেই ঘর তুলে দিয়ে বাইরের দুশমন বিজয়ের উল্লাস শুরু করে। ফলে বুঝা গেলো, ঘরের ভিতরেরই এসব কিছু লোক বাইরে অপেক্ষারত আক্রমণকারীদের চেয়েও অধিক ভয়ংকর।
ইসলামকে যদি উপরোক্ত ঘরের সাথে তুলনা করা হয়, তাহলে ইসলামের এসব খলনায়করা ঘরের ভিতরের ওই একাংশ, যারা বাইরের দুশমনের সাথে আঁতাত করে। সুতরাং ইসলামের সর্বাধিক ভয়ংকর
দুশমন কারা- তা ইতিহাসের ওপর চোখ বুলালেই স্পষ্ট হয়ে উঠে। যুগে যুগে এরাই ইসলামের ক্ষতি করেছে এতো বেশি- যা কাফিররাও করেনি। এটাই বাস্তব ও প্রমাণিত কথা। এখন আপনি আগে কাকে হটাবেন? বাইরের দুশমনকে না ভিতরের এসব ভয়ংকর দুশমনকে ??

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.