গীবত প্রসঙ্গঃ একটা উপমা!

0
1004
Gheebat
Gheebat

মানুষের ভিতর যে দোষ আছে, তা অন্যের কাছে বা কারো সামনে সরাসরি কিংবা ইঙ্গিত দিয়ে প্রকাশ করাকেই গীবত বলে। আর যা কারো ভিতর নেই- তা তার নামে চালিয়ে দেওয়াই হলো অপবাদ। হাদীসে এ দুটোই কঠিনভাবে নিষিদ্ধ।
এমনকি সাহাবায়ে কেরাম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন-
যে দোষ কারো মধ্যে আছে- তা বললে সমস্যা হবে কেনো? তা তো তার মধ্যে আছেই। এটাতো মিথ্যা হচ্ছে না। এরপরও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-
না, যে দোষ আছে- তাও বলা যাবে না। এটাই গীবত। আল্লাহ তা’আলা যেখানে তাঁর বান্দার দোষ-ত্র“টি গোপন রেখেছেন, সেখানে পৃথিবীর কারো অধিকার নেই- তা প্রকাশ করে দেওয়ার।
আচ্ছা, এরপরও মেনে নিলাম, আপনি কারো গীবত করবেন, তো আগে আপনি যার গীবত করতে চান, নিন্দা গাইতে চান- তাকে তো দেখবেন, তাকে চিনবেন, তার চলাফেরা-উঠাবসা প্রত্যক্ষ্য করবেন। এরপর না হয় একটা কিছু বলতে পারবেন যে, তার ভিতর এই সমস্যা আছে, ওই সমস্যা (হাদীসে নববীর ভাষায় এটাই গীবত) আছে।
তবে যদি আপনি এমন কারো নামে কিছু বলেন বা তাকে কটাক্ষ করে কিছু বলেন, যাকে আপনি কোনো দিনই দেখেননি, এমনকি তার সম্পর্কে আপনার জানা থাকা তো দূরের কথা, তার সম্পর্কে আপনার কোনো ধারণাই নেই, তাহলে প্রশ্ন হলো, এ বিষয়টা কতটা ভয়াবহ বা গুরুতর হবে!!!
হাদীসে নববীর ভাষ্য অনুযায়ী গীবত করা যিনার চেয়েও জঘণ্য ও ঘৃণিত।
قال النبي صلي الله عليه وسلم: الغيبة أشد من الزنا-
অর্থাৎ একজন পুরুষ ও একজন বেগানা নারী আদিম হয়ে আমোদ ফুর্তিতে লিপ্ত হলে যে রকম ঘৃণা ও অশ্লীলতার সূত্রপাত ঘটে এবং এর ফলে যে মাত্রার নোংরামী ও অসভ্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে, কোনো ব্যক্তির (আবার সে যদি মুসলিম হয়, তাহলে তো কত মারাত্মক?) নামে গীবত করা এর চেয়েও নোংরামী ও ঘৃণিত কাজ।
আমরা কোনটি করছি??? দূঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, আমাদের মাঝে এ ব্যাধি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। যখন তখন যার তার সামনে যে কোনো বিষয় সামনে নিয়ে মুখে যা আসছে, মনে যাই উদিত হচ্ছে, তাই বেফাঁস বলে যাচ্ছি। নিজের যবানের সামান্যতমও কি নিয়ন্ত্রণ নেই???
কুরআনে সুরা হুজুরাতে গীবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমতুল্য বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ-
হে মুমিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয় কিছু ধারণা গোনাহ। এবং কারো গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেনো কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই করো। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (সুরা হুজুরাত-১২)
সাহাবী আলী ইবনে আবি তালিব রাযি. বলেছেন-
মানুষের অন্তর একটি দোকান আর তার যবান একটি তালা। এই তালা (যবান) খোললেই বুঝা যায়, তা স্বর্ণের দোকান না কয়লার দোকান।
আমাদের আশেপাশে এ রকম কয়লার দোকান বেড়েই চলেছে। আল্লাহ তা’আলা আমাদের রক্ষা করুন। এর সাথে সাথে যে মুহুর্তে আমরা কারো নামে গীবত করে কটাক্ষ করে একজন বেগানা নারীর সাথে অবৈধ ফুর্তি করার চেয়েও নোংরামী কাজ করছি, সে সময় আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে দেশ-জাতি ও ধর্মের জন্য কিছু করার তাওফীক দান করুন!!!!


আব্দুল্লাহ আল মাসূম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.