চারটি বিষয়ে সংশোধন হলে সমগ্র জাতির অবস্থা শুধরে যাবে- মাও. তারেক জামিল

0
378
M. Taeq Jameel and PM of Pakistan
M. Taeq Jameel and PM of Pakistan

উপস্থাপক শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের সাথে আছেন মাওলানা তারেক জামিল সাহেব। যিনি আজকের প্রোগ্রামে আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করেছেন।

মাওলানা সাহেব! পুরা জাতি আজকে আমাদের এই প্রোগ্রাম দেখতে পাচ্ছেন এবং সবাই অপেক্ষা করছেন যে, সকলেই একত্রিত হয়ে, সমবেত হয়ে, একসাথে মিলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করবেন।
আপনি এটাও বলবেন, মানুষ কিভাবে সাবধানতা অবলম্বন করবেন। পুরা জাতি আপনার কথা অন্তর দিয়ে শুনবেন এবং মানবেন। যতদূর সাবধানতা অবলম্বনের ব্যাপার রয়েছে, তাতো অনেক বেশি ডিসকাস হয়েছে, মিডিয়াও মাশা-আল্লাহ তাকে অনেক ছড়িয়েছে, অনেক প্রচার করেছে এবং আপন আপন জায়গায় সর্বত্রই এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে।

এরপর মাওলানা তারিক জামিল দা. বা. বলেন,

আমি ছোট একটি ঘটনা শোনাতে চাই। হারুনুর রশিদের বাবা ছিলেন মাহদী। মাহদী বিন জাফর মনসুর। তার যুগে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়ে যায়। মানুষ ক্ষুধার তাড়নায় মৃত্যুবরণ করছিল। মানুষ কুকুর-বিড়ালও খেতে শুরু করল। একদিন মাহদী রাত্রে শুয়েছিলেন। একজন খাদেম তার পাশে খেদমত করছিলেন। তিনি খাদেমকে বললেন, তুমি কোন একটা ঘটনা শোনাও, আমি খুব কষ্টে আছি আমার অধীনস্ত ব্যক্তিদের জন্য। দেশবাসীর জন্য।

সে বলল, আমিরুল মুমিনিন! একটা শিয়াল কোথাও সফরে যাচ্ছিল। তার বাচ্চাকে নিয়ে গেল বাঘের কাছে। বাঘকে বলল, তুমি তো বাদশা। আমার এই বাচ্চাটাকে তোমার কাছে আমানত রাখ। সে বলল, ঠিক আছে। সে বাচ্চাটাকে কাঁধে নিয়ে এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করছিল। একদিন শকুনের নজর পড়লো, আর সে ঝাপটা মেরে বাচ্চাটাকে তুলে নিলো। শিয়াল ফেরত এসে বাদশাকে বলল, বাদশা সালামত! আমার বাচ্চাটা কই? বাঘ জওয়াব দিল, তাকে শকুনে নিয়ে গেছে। শিয়াল বলল, আমি তো তাকে আপনার হাওয়ালা করে গিয়েছিলাম। এবার বাঘ বলল, আরে বোন! যদি এটা জমিনের বা জঙ্গলের কোন বিপদ হতো, আমি তার মোকাবেলা করে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করে দেখিয়ে দিতাম। সেটা তো আসমানী বিপদ ছিল। তার সাথে কে লড়াই করতে পারে?

maxresdefault 7

এবার খাদেম বলল, আমিরুল মুমিনিন! এই দুর্ভিক্ষ যদি জমিনের বিপদ হতো, তবে তো আপনি তার সাথে লড়াই করতেন। এই দুর্ভিক্ষ তো আসমানী বিপদ। আসমানে যিনি আছেন, তার সাথে আপনি কথা বলুন। তাহলে কাজ হয়ে যাবে। সে সময়ের যত এগ্রিকালচার ছিল, যত ব্যবস্থাপনা ছিল, সব বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল ছিল। বাদশা খাদেমকে জায়নামাজ আনতে বললেন। এরপর তিনি অজু করে জায়নামাজে দাঁড়ান। আল্লাহ তাআলার দরবারে সেজদায় মাথা রাখলেন। সেজদায় তিনি এত পরিমাণ কাঁদলেন, এত কাঁদলেন যে, জায়নামাজ ভিজে গেল। এটাও মনে রাখবেন যে, তিনি তখনকার সময় একসঙ্গে তিনটি মহাদেশের শাসক ছিলেন। কিছুক্ষণ এভাবে কেটে গেল। এরপর বাদশা জায়নামাজ থেকে ওঠে দাঁড়ানোর আগেই দয়াময় আল্লাহ প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করলেন।পুরা আব্বাসী খেলাফতের রাজ্যে বৃষ্টি বর্ষিত হল।

আমি ওজরখাহি করে বলছি যে, বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করা প্রত্যেকের নিজস্ব হক। আমরা যে একটি শব্দ উচ্চারণ করি “লড়াই করা” এটা আসমানী মুসিবত। এর সাথে লড়াই করা নয়, এর মীমাংসা করে, আল্লাহর সামনে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করা, এবং নিজেদের মাথা সেজদায় রেখে কান্নাকাটি করা। এর সাথে আমরা লড়াই করতে পারবো না। এই শব্দকে নিজেদের মুখ থেকে বের করে দেওয়া উচিত। যদিও এই শব্দ প্রয়োগের সময় নিজেদের অন্তরে কোন অহংকার না থাকে, তবুও এই শব্দ আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় নয়। আমার সাথে লড়াই করতে চাচ্ছ? যেখানে সামান্য একটা ভাইরাস দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা সারা পৃথিবী কে নাড়িয়ে দিয়েছেন।

দেখুন- মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে আমাদেরকে কীভাবে সতর্ক করছেন! তিনি ইরশাদ করেন-

وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ

তোমাদের ওপর যে মুসিবত আসে, এগুলো সব তোমাদের গুনাহের কারণেই। (সুরা শুরা-৩০)

. إِن يَنصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِن يَخْذُلْكُمْ فَمَن ذَا الَّذِي يَنصُرُكُم مِّن بَعْدِهِ

যদি আমি তোমাদের সাথী হয়ে যাই, তাহলে কে তোমাদের ক্ষতি করতে পারে? আর যদি আমি তোমাদের ছেড়ে দেই, তো পৃথিবীর কোন শক্তি আছে, যে তোমাদেরকে বাঁচাবে? (সুরা আলে ইমরান-১৬০)

وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ. وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ. يُصِيبُ بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ. وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ 

আর যদি আমি তোমাদেরকে বিপদে ফেলি, তো আমি ছাড়া আর কেউ এর থেকে তোমাদেরকে বাঁচাতে পারবে না। আর যদি আমি চাই যে, আমি কাউকে কিছু হতে দেব না (অসুস্থতা, মুসিবত ইত্যাদি)। তিনি তাঁর বান্দাদের যাকে যে অবস্থার সম্মুখীন করতে চান, তাকে তাই করে থাকেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সুরা ইউনুস-১০৭)

তাহলে তার জন্য কি মুশকিল? একটি হুকুমইতো। আল্লাহর নবী ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ৪০ দিন আগুনে বসে ছিলেন, ইউনুস আলাইহিস সালাম ৪০ দিন মাছের পেটে ছিলেন। তাতো ফা’আলুল লিমা ইউরীদ– অর্থাৎ, তিনি যা ইচ্ছে তাই করেন।

এখন আমরা যে বাহ্যিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করছি, তাকেও পুরোপুরি গ্রহণ করা উচিত। সকলকেই সাবধান হতে হবে। যদি মসজিদে যাওয়ার কারণে করোনাভাইরাসের বিস্তার লাভ করে, তাহলে সেখানে যাওয়া থেকেও নিজেকে বিরত রাখা উচিত। জীবন রক্ষাও আমাদের দ্বীনের একটি অংশ। একবার বৃষ্টি হয়েছে। সাহাবি বেলাল রাযি. আযান দিলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, বেলাল! এলান করো, সবাই যেন ঘরে ঘরে নামাজ পড়ে, মসজিদে না আসে। অথচ মসজিদে আসার কারণে কাপড় ময়লা হতো। সেখানে জীবনের ভয় তো ছিল না। কিন্তু আমাদের নবীজির উম্মতের ওপর এই পরিমাণ মোহাব্বত আর ভালোবাসার ছায়া রেখেছেন যে, তিনি তাদেরকে ময়লা আবর্জনা থেকে, বৃষ্টি থেকে বাঁচিয়েছেন। আর এখানে তো জীবন মৃত্যুর বিষয়।

যা হোক, বড় বড় ওলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে যা বলবেন এবং সরকার মিটিং করবেন, যা ফয়সালা করবেন, তাই হবে। সবার আগে আমরা আমাদের কথার মধ্যে বিনয় নিয়ে আসবো যে, আমরা আল্লাহর সামনে নতজানু হব, বিনয়ী হবো। আল্লাহকে মানিয়ে নেব যে, আল্লাহ! আপনি এটাকে সরিয়ে দিন। আপনি না সরালে এটা যাবে না। এটাকে কেউ দূর করতে পারবে না। কোন আল্লাহর বান্দা কান্নাকাটি করে যদি আল্লাহকে মানিয়ে নিতে পারেন, তাহলে হয়তো ফয়সালা হয়ে যাবে এবং আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন।

এখন আমি একটি হাদিস শুনিয়ে তারপর দোয়া করছি।

হাদীসের ওপর যদি আমরা আমল শুরু করে দেই, তাহলে আমি আল্লাহর কসম করে বলতে পারি, এ করোনার কোন হদিসই পাওয়া যাবে না যে, কোথায় চলে গেছে। শুধু একটি হাদিস মানলে হয়।।

আমাদের নবীজি বলেছেন, চারটি বিষয় আমার থেকে নিয়ে নাও, তবে দুনিয়াও তোমাদের আখেরাতও তোমাদের হয়ে যাবে। তোমাকে কেউ বাঁকা চোখে দেখতে পারবে না, তোমাকে কেউ কোন ক্ষতি করতে পারবে না। তোমাদের রবের ছায়া তোমাদের ওপর পরিব্যপ্ত হয়ে যাবে।

ওই চারটি বিষয় কি কি?

এক. সর্বদা সত্য বলা, মিথ্যা না বলা-

এখন আমাকে বলুন, এখানে সমস্ত দায়িত্বশীলরা আছেন। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ আছেন। আমাদের উজিরে আজম (প্রধানমন্ত্রী) বসে আছেন। আমরা কি পরিমাণ মিথ্যা বলি? আমরা কি পরিমাণ মিথ্যাবাদী জাতি? আমরা এসব মিথ্যার সাথে আল্লাহর নিকট কোনো গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারবো না। আমাদের নবীজি প্রথম কথা বলেছেন, সত্য বলো।

দুই- কখনও কাউকে ধোঁকা না দেওয়া বা কারও সঙ্গে প্রতারণা না করা-

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ কাউকে ধোঁকা দেবে না, আমাদের নবীজি বলেছেন, হে আমার উম্মত! সব গুনা করতে পারো, দুইটা গুনাহ কখনোই করবেনা। এক. মিথ্যা কখনো বলবে না। দুই. কখনো কাউকে ধোঁকা দিবে না। তো উজীরে আযম! আপনি একা। আল্লাহর কাছে রোনাজারি করনেওয়ালা, সাহায্য প্রার্থনাকারী। তবে ২২ কোটি মানুষের মধ্যে সত্যবাদী কতজন আছে? ২২ কোটি মানুষের মধ্যে দিয়ানতদার (বিশ্বস্ত) কতজন আছেন?

এখানে বহু লোক বসে আছেন, আমি হাতজোড় করে মাফ চেয়ে কথা বলছি, অনেক বড় এক চ্যানেলের মালিক আমাকে বললেন যে, কিছু নসিহত করুন। আমি বললাম, আপনার চ্যানেল থেকে মিথ্যা খতম করে দিন। তিনি বলেন, চ্যানেল খতম হতে পারে, মিথ্যা খতম হতে পারে না। এটা শুধু পাকিস্তানের বিষয় নয়, সারা দুনিয়ার সমস্ত মিডিয়ারা মিথ্যাবাদী। মিডিয়ার মাধ্যমে আজ সবচেয়ে বেশি মিথ্যা প্রচার করা হয়। আমাদের রব, আমাদের নবী সবচেয়ে বেশি মিথ্যাকে অপছন্দ করেন। আমাদের নবীজী বলেন, পেঁয়াজ খেয়ে মসজিদে আসিও না, ফেরেশতাদের কষ্ট হয়। দুর্গন্ধ হয়। এরপর তিনি বলেন, যখন কোনো পুরুষ বা নারী মুখে মিথ্যা কথা বলে, তখন এর দুর্গন্ধে ফেরেশতারা তিন মাইল দূরে চলে যান।

Boyan M. Tareq Jameel Hafizahullah 1
Boyan M. Tareq Jameel Hafizahullah

তো মিথ্যা এবং খেয়ানতের মাধ্যমে আমরা কোন বিপদের মোকাবেলা করতে পারবো না। তিনি বলেন, সত্য বলো, চাই জীবন চলে যাক। আর ধোঁকা দিবে না, মুসলিম কাউকে ধোঁকা দেয় না।

তিন- চরিত্রকে সুন্দর করো; লজ্জাশীল হও-

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিজের চরিত্র সুন্দর করো, আর আখলাকের সর্বোচ্চ জায়গা হলো ‘লজ্জা’।
এখন আমি কিভাবে কথা বলবো? আমার দেশে লজ্জাকে কে এভাবে নিঃশেষ করে দিয়েছে? আমার দেশের মেয়েদেরকে কারা এভাবে নাচাচ্ছে? তাদের কাপড়, তাদের পোশাক এমন সংকীর্ণ কারা করছে? কাদের কাঁধে আমি গুনাহের ভার চাপাবো? আমি অপরাধী, আমি আমার জাতিকে বুঝাতে পারিনি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। কিন্তু যখন মুসলমানের মেয়েরা নির্লজ্জতার দিকে এগিয়ে যায়, যুবকরা নির্লজ্জতার দিকে এগিয়ে যায়, তখন আল্লাহর রহমত বন্ধ হয়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি আল্লাহর আজাব কাওমে লুতের ওপর এসেছিল। তারা নির্লজ্জতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে গিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর ৫ টি আজব পাঠিয়েছিলেন। এর আগে কোনো জাতির ওপর ৫ আজাব আসেনি। একটিমাত্র এসেছিলো। অথচ তাদের ওপর ৫ টি আজাব এসেছিল।

আমাদের নবীজি বলেছেন, লজ্জাশীল হও। লজ্জাশীল হও। প্রথমবার আমার সাথে খান সাহেব কথা বলেছিলেন, আমি চাচ্ছি- আমার জাতি আমাদের কওম যাতে আমাদের নবীজির সাথে জুড়ে যায়। আমাদের কলেজ আমাদের ইউনিভার্সিটি, বিশেষভাবে আমাদের প্রাইভেট স্কুলগুলো আমাদের যুবকদেরকে আল্লাহর রাসূল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যার জন্য আমার অন্তর থেকে দোয়া আসে। তিনি আমাকে বলেছেন, আমি আপনাকে এজন্য ডেকেছি যে, আমার জাতি কিভাবে আমাদের রাসূলের সাথে জুড়তে পারেন। আমি কি বলবো যতক্ষণ পর্যন্ত এই নির্লজ্জতাকে আমরা বন্ধ করতে পারব না। আর এটা বন্ধ করা সম্ভব না, ভিতর থেকে যদি নিয়ত না থাকে।

স্কুলে আমি মেটার করেছি। আমি হোস্টেলে থাকতাম। একজন দায়িত্বশীল ছিলেন। উনি নামাজের জন্য খুব বেশি চাপ দিতেন। আমরা অনেকেই অজু ছাড়া গিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে যেতাম। অজু ছাড়া। ডান্ডা মানুষকে মানুষ বানাতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ দিলের ভিতরে প্রবেশ না করবে, ততক্ষণ জীবনের সৌন্দর্য তারা খুঁজে পাবে না। তুমি আমার জন্য না হতে পারলে অন্তত তোমার নিজের জন্য হও।
হে আমার জাতি! মিথ্যা বলা ছেড়ে দিন, ধোঁকা বা খেয়ানত ছেড়ে দিন। হে আমার জাতি! নির্লজ্জতা ছেড়ে দিন।

চার- হালাল পবিত্র রিজিক খাও-

শেষ কথা হল, আমাদের নবীজি বলেছেন, হালাল রিযিক খাও। পবিত্র খাবার গ্রহণ করো।
যে ব্যক্তি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হালাল রিজিকের জন্য ক্লান্ত হয়ে যায়, তার সেদিনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। যা হোক, আমি উজিরে আযমের কাছে আপিল করব যে, পুরো জাতির পক্ষ থেকে যেভাবে ডোনেশন চাওয়া হয়েছে, সেভাবে থাক। আমি আপনার পক্ষ থেকে সকলের নিকট এই আপিল করছি যে, কাল বা আজ রাতেই রমজান আসছে, সকল মানুষ নিজ নিজ ঘরে দু’রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। আর ১০০ বার লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন পড়ুন। যার মুখস্ত আছে, তিনি এটা পড়ুন। আর যার মুখস্ত নেই, তিনি ১০০ বার ইস্তেগফার পড়ুন। আর আল্লাহর সামনে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে থাকুন।

মুসনাদে আহমদের একটি রেওয়ায়েত আছে, প্রতিদিন সমুদ্র আল্লাহ তাআলার কাছে বলতে থাকে, হে আল্লাহ! অনুমতি দিন আমি পৃথিবীকে গ্রাস করে নেব এবং তাদেরকে ভাসিয়ে নেবো। জমিন বলতে থাকে, হে আল্লাহ! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এসব নির্লজ্জদেরকে মাটিতে চাপিয়ে দেবো। সব মিথ্যাবাদীদেরকে এসব বদমাশদেরকে আমি মাটিতে ধসিয়ে দেব। ফেরেশতারা আল্লাহকে বলেন, হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে অনুমতি দিন, আমরা তাদের খবর নিয়ে ছাড়বো। তাদেরকে ধ্বংস করে দেব।
জওয়াবে আমাদের আল্লাহ বলেন, যাও যাও; নিজেদের কাজ করো। এরা আমার বান্দা। আমি জানি আর আমার বান্দারা জানে। তোমাদের বান্দা হলে তোমরা মেরে ফেলো। যদি তারা আমার বান্দা হয়, তবে আমি তাদের জন্য অপেক্ষা করবো। আমি তাদের জন্য অপেক্ষা করবো। অতীতের এক জাতির কোন একজন গুনাহগার একটা কুকুরকে পানি পান করিয়েছে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এখন তো আল্লাহর কাছে কেউ চাওয়ার মত নেই।

এই চারটি বিষয় আমাদের সবকিছুকে ধ্বংস করে দিয়েছে, শেষ করে দিয়েছে। যে কোন জাতির জন্য মিথ্যা, বদ দিয়ানতি, নির্লজ্জতা আর হারাম খাবার এগুলোই তাদেরকে ধ্বংস আর বরবাদ করে দেয়।
আর যে কোনো জাতি যখন সত্যবাদিতা, আমানতদারী, লজ্জা, আর হালাল খাবার খাবে, তখন আল্লাহর রহমতের ছায়া তাদেরকে ঘিরে নিবে। দুনিয়ার কোন শক্তি তাদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর ক্ষমতা রাখবে না। আমরাতো অনাবাদী বিরান ভূমির মালি। ইমরান খান তো অনাবাদি জমি পেয়েছেন, তিনি কতটুকু আবাদ করতে পারবেন? আল্লাহ তার সাহায্য করুন।

Lacture of M. Tareq Jameel about Coronavirus 1
Lacture of M. Tareq Jameel about Coronavirus

এখন ইমরান খান সাহেব ইয়ারমুক আর কাদেসিয়ার কথা বললেন। কতজন ছিলেন? খালেদ বিন ওয়ালিদের অধিনে ৩০ হাজার ছিলেন। আর মুশরিক বাহিনী ৩ লক্ষ সৈন্য নিয়ে এসেছিল। কাদেসিয়ার ময়দানেও ৩০ হাজার সাহাবী ছিলেন। আর অপর পাশে রুস্তমও ৩ লক্ষ সৈন্যবাহিনী নিয়ে এসেছিল। তাদের সাথে আল্লাহ ছিলেন। আমরা আল্লাহকে সাথে নেবো। যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বড় লোকদেরকে বলছি, (এ ব্যাপারে আমি আলাদা ক্লিপ রেকর্ড করিয়েছি।) এই বছরের সমস্ত যাকাত এ সকল গরীবদের মাঝে বন্টন করে দিন। আপনাদের কাছে তো সকল মানুষ পৌছাতে পারবে না। যার যার এলাকায় যে যে ধনী আছেন, তারা তাদের এলাকার গরিবদের মধ্যে নিজেদের যাকাতগুলো বন্টন করে দিন। তাদের ঘরে গিয়ে দিন। যদি কারো দোয়া লেগে যায়, তাহলে আমাদের সাত বংশ আবাদ হয়ে যাবে।

যা হোক, আমি ক্ষমা চাচ্ছি, আপনারা আমাকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখেছেন, আমিও আপনাদের থেকে কিছু সময় নিয়েছি। আপনারা দরুদ শরীফ পড়ে নিন। আমরা আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করছি।

অনুবাদ :
মুফতী মুহাম্মদ নোমান কাসেমী
পরিচালক : আল-মারকাযুল হানাফী বাংলাদেশ, ঢাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.