তোমাকে উৎসর্গিত হে নবী!- আব্দুল্লাহ আল মাসুম

0
482
I love Muhammad S.M.
I love Muhammad S.M.

শিল্পী তার তুলি দিয়ে ছবি আঁকে। কোনো কিছুর প্রতি সে দৃষ্টি দেয় আর ভাবতে থাকে। এরপর নিজ মস্তিস্কে সাজিয়ে তুলি দ্বারা তা ফুটিয়ে তুলে। দর্শক দেখে অবাক হয়। শিল্পীর কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। মূল ব্যক্তি কিংবা বস্তু ও শিল্পীর আঁকা ছবির মাঝে একটা সামঞ্জস্যতা ফুটে উঠে। পৃথিবীর সবকিছুৃ আঁকা যায়, কিন্তু আমার নবীর ছবি আঁকা যায় না। তাঁর গঠন-আকৃতি এতো অতুলনীয়, এতো অসাধারণ যে, শিল্পীর তুলি তা ফুটিয়ে তুলতে অক্ষম হয়েছে। পৃথিবীর ভাষাবিদের ভাষার বর্ণনা, কবির কবিতা, সাহিত্যিকের সাহিত্য কিংবা লেখকের কলমের কালি তাঁর গঠন ও আকৃতির বর্ণনা তুলে ধরতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া স্ল্লাামের পরিচয় দিতে গিয়ে উম্মে মা’বাদ রাযি. যে ভাষা ও শব্দাবলী উচ্চারণ করেছেন, আজ পর্যন্ত এর বিশুদ্ধ অর্থ করতে পৃথিবীর কেউই সক্ষম হয়নি। তিনি বলেন-
رأيت رجلا ظاهر الوضائة- أبلج الوجه- حسن الخلق لم تعبه ثجلة- ولم تزر به صعلة- وسيم قسيم- في عينيه دعج- وفي أشفاره وطف- وفي صوته صحل- وفي عنقه سطع- أحول- أكحل- أزج- أقرن- شديد سواد الشعر- إذا صحت علاه الوقار- وإن تكلم علاه البهاء- أجمل الناس وأبهاهم من بعيد- وأحسنه وأعلاه من قريب- خلو المنطق- فضل- لا نذر ولا هذر- كان منطقه خرزات نظمن-
يتحددن ربعة- لا تقحمه عين من قصر ولا تشنؤه من طول- غصن بين غصنين- فهو أنظر الثلاثة منظرا وأحسنهم قدرا- له رفقاء يحفون به- وإذا قال استمعوا لقوله- وإذا أمر تبادروا إلي أمره- محفود محشود لا عابس ولا مفند-
অর্থঃ আমি একজন উজ্জল ও প্রসন্ন চেহারার লোক দেখলাম, যার গঠন অত্যন্ত সুন্দর, দেহ গঠনে একেবারে লম্বা নয়; আবার কুজোও নয়। তাঁর দৈহিক সৌন্দর্য্যরে সাথে সাথে দৈহিক গঠনও মনোমুগ্ধকর। তাঁর দু চোখ নিকষ কালো। তাঁর পলক দীর্ঘ। তাঁর কণ্ঠস্বর মধ্যম। তাঁর গ্রীবা চওড়া। ডাগড় চোখ। চোখের পলক সুরমা কালো। ভ্রু পরস্পর সম্পৃক্ত। তাঁর চুল কুচকুচে কালো ও চিকন। যখন তিনি নীরব থাকেন, গাম্ভীর্য তাঁকে ছেয়ে যায়। যখন তিনি কথা বলেন, জৌলুশ যেনো ঠিকরে পড়ে। দূর থেকে দেখতে সবচেয়ে সুন্দর এবং জৌলুশপূর্ণ মানুষ তিনি। কাছে এলে যেনো তিনি আরো সুন্দর আরো মধুর। তিনি মিষ্টভাষী, প্রকাশভঙ্গিও স্পষ্ট। কথা সংক্ষিপ্তও নয়; আবার অতি দীর্ঘও নয়। তাঁর কথামালা যেনো সুতায় গ্রথিত পুতির দানা।
তিনি খাটোও নন; আবার দীর্ঘ লম্বাও নন। তাঁর দৈহিক আকৃতি মধ্যম। দুই পুরাতন ডালের মাঝে সদ্য অংকুরিত তিনি যেনো এক নতুন ডালা। যে কোনো তিন জনের মাঝে তিনি অধিক সুদৃশ্য এবং পরিমিত আকৃতির। তাঁর কিছু সাথী রয়েছে, যারা তাঁকে বেষ্টন করে রাখে। যখন তিনি কথা বলেন, তখন তাঁরা মনোযোগ দিয়ে তাঁর কথা শোনেন। তিনি কোনো নির্দেশ করলে তাঁরা তাঁর নির্দেশ পালনের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। তাঁর সাথীগণ তাঁর খুবই অনুগত এবং তাঁরা তাঁকে সর্বাধিক সম্মান ও শ্রদ্ধা করেন। তাঁর সামনে কেউ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন না এবং কোনোরূপ অতিরিক্ত কথাও বলেন না। (আর রহীকুল মাখতুম-৪১২)
সাহাবী হাসসান ইবনে সাবিত রাযি. মদীনার মিম্বরে দাঁড়িয়ে আবৃত্তি করেন-
وأحسن منك لم تر قط عيني
وأجمل منك لم تلد النساء-
خلقت مبرأ من كل عيب
كأنك قد خلقت كما تشاء-
আমার চোখ তোমার চেয়ে সুন্দর দেখেনি কাউকে..
কোনো নারী তোমার চেয়ে সুদর্শন জন্ম দেয়নি কাউকে…
সব ধরণের খুঁত থেকে মুক্ত করে সৃষ্টি করা হয়েছে তোমাকে…
যেনো তুমি সৃজিত হয়েছো যেমন করে তুমি চেয়েছিলে…..
অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রুহ মুবারক পরস্পরে মুখোমুখি হয়ে বসেছিলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা জিজ্ঞাসা করলেন- হে প্রিয় বন্ধু! আমি আপনাকে কীভাবে সৃষ্টি করবো? নবীজি বললেন- হে আল্লাহ! যেভাবে আপনি ইচ্ছা করেন, সেভাবেই আমাকে সৃষ্টি করুন। তখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর সর্বাধিক প্রিয় বন্ধু ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সবচেয়ে সুন্দর করে সৃষ্টি করলেন।
পৃথিবীর সব সুন্দরকে পরিমাপ করা যায়, তুলনা করা যায়। কিন্তু আমার নবীর সুন্দরকে তুলনা করা যায় না। সমগ্র মানবকুল ভাবতে অক্ষম, তিনি কত সুন্দর ছিলেন! সাহাবী আয়েশা রাযি. বলেন-
পৃথিবীর সর্বাধিক সুদর্শন নবী ইউসুফ আলাইহিস সালামকে দেখে মিসরের নারীরা স্বীয় হাতের অঙ্গুলি কেটে ফেলেছিলো। অপরদিকে আমার নবী! তিনি এতো সুন্দর যে, তাঁর সব সৌন্দর্য্য অবলোকন করলে তারা হাতের পরিবর্তে নিজেদের কলিজা কেটে ফেলতো।
পৃথিবীর চর্ম চোখ তাঁর সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে অক্ষম। আল্লামা কুরতুবী রহ. বলেন-
আল্লাহ তা’আলা ইউসুফ আলাইহিস সালামের পুরো সৌন্দর্য্য পৃথিবীতে প্রকাশ করে দিয়েছেন। কিন্তু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সৌন্দর্য্যরে সবটুকুই গোপন রেখেছেন। আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবীর সম্পূর্ণ সৌন্দর্য্য এই পৃথিবীতে প্রকাশ করেননি। অন্যথায় মানুষ তাঁর পরিপূর্ণ সৌন্দর্য্যরে ঝলকানিতে আত্মহারা হয়ে যেতো। নবীজিকে স্বচক্ষে দেখতে অক্ষম হয়ে যেতো। আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৌন্দর্য্যরে সবটুকু আখিরাতে উম্মোচন করে দিবেন।
স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাও তাঁর প্রিয় বন্ধু ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেহারা মুবারকের দিকে তাকিয়ে থাকেন। যথা- কিবলা পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি ইরশাদ করেন-
قد نري تقلب وجهك في السماء-
অর্থঃ নিশ্চয় আমি আসমানের দিকে বারবার আপনার চেহারা ফিরানো দেখেছি। (সূরা বাকারা-১৪৫)
সাহাবী জাবির রাযি. বলেন-
رأيت رسول الله صلي الله عليه وسلم في ليلة أضحيان وعليه حلة حمراء- فجعلت أنظر إليه وإلي القمر- فلهو عندي أحسن من القمر-
আমি একবার চাঁদনী রাতে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে তাকাই। তখন তিনি লাল লুঙ্গি ও একটি চাদর পরিহিত ছিলেন। আমি একবার রাতের আকাশে পূর্ণিমার উজ্জল চাঁদের দিকে তাকাই, আরেকবার আমার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে তাকাই।
তুলনা করি একবার আকাশের চাঁদকে আবার আমার প্রাণের নবীকে। বুঝার চেষ্টা করি- কে বেশি সুন্দর, কার চেহারা অধিকতর ঝলমল! কিন্তু আমি নিশ্চিত হই, আমার নবী অধিক সুন্দর। তাঁর উজ্জল চেহারা মুবারকের সামনে পূর্ণিমার চাঁদের আলো ম্লান হয়ে যায়। (শামায়েলে তিরমিযী)
قال أنس بن مالك رضي الله عنه: كان النبي صلي الله عليه وسلم أربعة- ليس بالطويل البائن ولا بالقصير- ولا بالأبيض الأمهق ولا بالآدم- حسن الجسم أسمر اللون-
সাহাবী আনাস ইবনে মালিক রাযি. বলেন-
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মধ্যম আকৃতির ছিলেন। দীর্ঘ লম্বাও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না। তাঁর দেহের রং না একেবারে চুনের মতো সাদা ছিলো না আবার গোধুলী বর্ণের শ্যামল ছিলো। তাঁর দেহ ছিলো সুন্দর অবয়ব বিশিষ্ট এবং সাদা ও আলতা মিশ্রিত। (শামায়েলে তিরমিযী)
قال أبو هريرة: كان النبي صلي الله عليه وسلم أبيض- كأنما صيغ من فضة-
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন উজ্জল বর্ণের অধিকারী ছিলেন, যেনো তাঁকে চাঁদ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
رجل الشعر- وكان شعره ليس بالجعد القطط ولا بالسبط- عظيم الجمة إلي شحمة أذنيه-
তাঁর চুল ছিলো কিছুটা কুঞ্চিত। অর্থাৎ তাঁর চুল মুবারক না ছিলো একেবারে সোজা আবার না ছিলো বক্র; বরং তাঁর চুল ছিলো সামান্য বক্র ঢেউ খেলানো। এছাড়া তাঁর চুল দুই কানের লতি পর্যন্ত দীর্ঘ ছিলো। (শামায়েলে তিরমিযী)
بعيد ما بين المنكبين- ضليع الفم و ضخم الرأس- أشكل العين- شتن الكفين والقدمين منهوس العقب- ضخم الكراديس- طويل المسربة- إذا مشي يتكفأ تكفأ- كأنما ينحط من صبب-
তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান কিছুটা প্রশস্ত ছিলো। মুখমন্ডল ও মাথা বড় ছিলো। তাঁর দুই চোখের সাদা অংশে লাল দাগ ছিলো। উভয় হাত এবং পায়ের পাতা মাংসল ছিলো। পায়ের উভয় গোড়ালীতে মাংস কম ছিলো। তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়ার হাড় মোটা ছিলো। বক্ষদেশ থেকে নিয়ে তাঁর নাভী পর্যন্ত পশমের একটা সরু রেখা ছিলো। যখন তিনি পথ চলতেন, সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকে চলতেন। মনে হতো যেনো তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচে অবতরণ করছেন। (শামায়েলে তিরমিযী)
قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: لم أر قبله ولا بعده مثله-
সাহাবী আলী ইবনে আবি তালিব রাযি. বলেন- আমি নবীজির আগে এবং তাঁর পরেও তাঁর মতো অন্য কাউকে দেখি নাই।
قال براء بن عازب رضي الله عنه: عليه حلة حمراء- ما رأيت شيئا قط أحسن منه-
সাহাবী বারা ইবনে আযিব রাযি. বলেন- নবীজির দেহ মুবারকে লাল রঙের লুঙ্গি এবং চাদর ছিলো। পৃথিবীতে আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর অন্য কোনো কিছুই দেখি নাই।
قال ابن عباس رضي الله عنه: كان النبي صلي الله عليه وسلم أفلج الثنيتين- إذا تكلم رأي كالنور يخرج من بين ثناياه-
সাহাবী ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন-
নবীজির সামনের দিকের দাঁত মুবারক ফাঁকা ফাঁকা ছিলো। তিনি যখন কথা বলতেন, তখন তাঁর দাঁত মুবারকের মধ্য থেকে এক প্রকার জ্যোতি বিচ্ছুরিত হতো। (শামায়েলে তিরমিযী)
قال جابر بن سمرة رضي الله عنه: رأيت الخاتم بين كتفي رسول الله صلي الله عليه وسلم غدة حمراء مثل بيضة الجمامة-
সাহাবী জাবের ইবনে সামুরাহ রাযি. বলেন- আমি নবীজির দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে লাল মাংসল মোহরে নবুয়ত দেখেছি। যা দেখতে কবুতরের ডিমের মতো। (শামায়েলে তিরমিযী)
আমার নবীর জন্মের মুহুর্তে আরব থেকে ইয়ামান পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন রাজ প্রাসাদ পর্যন্ত আলো ছড়িয়ে পড়েছিলো।
পারস্যের অগ্নিকুন্ড যা হাজারো বছরেও এক মুহুর্তের জন্যও নিভেনি, তা সম্পূর্ণ নিভে ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিলো। যা আজো ঠান্ডা হয়ে আছে।
এছাড়া তিনি যখন পৃথিবীর মাটিতে প্রথম অবস্থান গ্রহণ করছিলেন, তখনি পারস্যের দাম্ভিক রাজার গর্বের প্রতীক রাজ প্রাসাদের সর্বোচ্চ চূড়ায় নির্মিত ১৪টি গম্বুজ খসে খসে ধসে পড়েছিলো। অথচ ওই সময় না ছিলো কোনো ভূমিকম্প আর না কেউ প্রাসাদ আক্রমণ করেছিলো।
রাস্তা দিয়ে আমার নবী যখন পথ চলতেন, তখন রাস্তার পাশের গাছগুলো তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় নুয়ে যেতো। তাঁকে সালাম করতো।
একবার নবীজি মসজিদে নববীতে বসা ছিলেন। এক গ্রাম্য বেদুইন লোক এসে নবীর দিকে ইঙ্গিত করে সাহাবীগণকে জিজ্ঞাসা করলো- এই লোকটা কে? সাহাবীগণ জওয়াব দিলেন- তিনি সবার নবী। তখন বেদুইন লোকটি নবীজির সামনে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলো- আপনি কি নবী? নবীজি বললেন- হ্যাঁ, আমি নবী। তখন বেদুইন লোকটি বললো- একটি মৃত সাপ শিকার করে এনেছি। যদি এই মৃত সাপটি আপনার নবুয়ত সম্পর্কে স্বাক্ষ্য দেয়, তাহলে আমি আপনাকে নবী বলে মেনে নিবো।
এ কথা বলে সে মৃত সাপটিকে নবীজির সামনে রেখে দিলো। নবীজি সাপটিকে লক্ষ্য করে বললেন- يا ضب! ‘হে গুই সাপ! তখনি গুই সাপটি দুই চোখ খোলে একটু নাড়াচাড়া দিয়ে বলে উঠলো- لبيك وسعديك يا زين من وافيك- ‘আমি উপস্থিত। আপনার সাহায্য কিয়ামতের দিবসকে সমুজ্জল করবে।’ এরপর নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন- من تعبد؟ ‘তুমি কার ইবাদত করো?’ তখন গুই সাপটি বলতে লাগলো-
من في السماء عرشه وفي الأرض سلطانه- وفي البحر سبيله- وفي الجنة رحمته وفي النار عقابه-
‘(আমি তাঁরই ইবাদত করি)- যার আরশ আসমানে, যার রাজত্ব পৃথিবীর বুকে, যার পথ সমুদ্রে, যার রহমত জান্নাতে এবং যার শাস্তি জাহান্নামে।’
এরপর নবীজি জিজ্ঞাসা করলেন- من أنا؟ ‘বলো- আমি কে?’ গুই সাপটি বললো-
أنت رسول رب العالمين وخاتم النبيين- قد أفلح من صدق وقد خاب من كذب-
‘আপনি সারা বিশ্বের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল। আপনিই শেষ নবী। যে আপনাকে বিশ্বাস করবে- সে সফল হবে আর যে আপনাকে মিথ্যা বলবে- সে ধংস হয়ে যাবে।’
আসমানী সফর শেষে তিনি যখন বোরাক থেকে মক্কার মাটিতে অবতরণ করলেন, কুরাইশরা তাঁকে নিয়ে তামাসা শুরু করতে লাগলো, তাঁকে মিথ্যাবাদী যাদুকর বলতে লাগলো, এক পর্যায়ে তারা দাবি করলো- হে মুহাম্মাদ! বলো- বায়তুল মুকাদদআস কেমন? তিনি একে একে সব বলে দিলেন। কাফিররা ব্যর্থ হয়ে তাঁকে ফাঁসানোর মতলব করলো। তারা পুনরায় বললো- এবার বলো- বায়তুল মুকাদ্দাসের দরজা কেমন? জানালা কেমন? মসজিদে আকসার জানালা কয়টি ইত্যাদি?
আল্লাহ তা’আলার ইশারায় পুরো বায়তুল মুকাদ্দাস আমার নবীর সামনে ভেসে উঠলো। তিনি মসজিদে আকসার দরজা-জানালার সংখ্যা বিবরণ এমনভাবে বলে দিলেন, যেনো তিনি মসজিদে আকসা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। অথচ তিনি ফিলিস্তীন থেকে শত মাইল দূরে বসে আছেন মক্কায় কাবা চত্বরে।
হে প্রিয়! যে তোমার সাহাবীগণকে ভালোবাসলো, তোমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই সে তাঁদেরকে ভালোবাসলো। আর যে তোমার সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলো, সে যেনো তোমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলো।
যে তোমার সুন্নাতকে ভালোবাসলো, সে যেনো তোমাকেই ভালোবাসলো। আর যে তোমাকে ভালোবাসলো, সে তোমার সাথে জান্নাতে থাকবে। স্বীয় পিতা-মাতা, সন্তান ও সমগ্র মানবজাতির চেয়ে যে তোমাকে অধিক ভালোবাসলো, তার ঈমান পরিপূর্ণ হলো।
তোমার প্রতি ভালোবাসা, তোমার আনীত দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা, তোমার আদর্শ ও সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসা আমার বাঁচার উপায়। আমার জীবন আমার মরণ আমার সবকিছু উৎসর্গিত তোমার জন্য হে নবী!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.