থার্টি ফাষ্ট নাইটঃ নববর্ষ উদযাপন না অপসংস্কৃতির আগ্রাসন?

0
569
Thirty first night 01
Thirty first night 01

থার্টি ফাষ্ট নাইট কী
প্রতি বছর ঈসায়ী নববর্ষ শুরুর আগ মুহুর্তে বিদায়ী সনের শেষ মুহুর্তে ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে বিশ্বজুড়ে আচার-অনুষ্ঠানের নামে আশরাফুল মাখলুকাত মানব জাতির একাংশ যেসব অপকর্মে মেতে উঠে- তাই থার্টি ফাষ্ট নাইট নামে পরিচিত। এ রাতে নববর্ষকে বরণ করে নেওয়ার নামে নানা রকমের আতশবাজি, জুয়া-আড্ডা এবং অসামাজিক কার্যকালাপে পেতে উঠে বিশ্বের অনেক মানুষ।
বাংলাদেশে থার্টি ফাষ্ট নাইট ডে-এর ব্যাপক প্রচলন ঘটে ২০০০ সনের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে মিলেনিয়াম বা সহস্রাব্দ পালনের মধ্য দিয়ে।

‘থার্টি ফাষ্ট নাইট ডে’-এর কার্যকালাপের বিধান

অশ্লীলতা ও বে-হায়াপনাঃ এ রাতে নববর্ষ বরণ উপলক্ষে শুরু হয় অশালীন ও বে-হায়াপনার খেলা। যুবতীরা আর্টশাট ও সংক্ষিপ্ত পোশাক পড়ে রাস্তায় নামে। পর পুরুষের সাথে অবাধে চলাফেরা করে। হাদীসে নববীতে ইরশাদ হয়েছে-
কিছু মেয়ে এমন হবে- যারা পোশাক পরিধান করেও (পোশাক আর্টশাট কিংবা পাতলা হওয়ার কারণে) নগ্ন হবে। তারা এর মাধ্যমে পর পুরুষকে আকৃষ্ট করবে আর নিজেরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথার চুল হবে বক্র এবং উঁচু কুঁজ বিশিষ্ট উটের মতো। তারা কখনো জান্নাতে প্রবেশ করা তো দূরের কথা, জান্নাতের সুগন্ধিও অনুভব করতে পারবে না। (সহীহ মুসলিমঃ হা-২১২৮)

নাচ-গান অনুষ্ঠানঃ এ রাতে আয়োজিত বিভিন্ন কনসার্টে নারী-পুরুষের একসাথে গান-বাজনা ও নগ্ন নৃত্য যেনো আবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এগুলো অপসংস্কৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়। ইসলামে এ সব কিছু হারাম ও নিষিদ্ধ। দেখুন- (সূরা লুকমান-৬; সহীহুল বুখারীঃ হা-৫৫৯০, ৬৮৯১)

আতশ ও পটকাবাজিঃ এ রাতে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশের নামে বিভিন্ন স্থানে আতশ ও পটকাবাজিতে মেতে উঠে যুবকেরা। এসব কার্যকালাপ জনমনে আতংক সৃষ্টি করে। এছাড়া এর কারণে জনসাধারণের খুবই কষ্ট হয়। বাসা-বাড়িতে অসুস্থ কিংবা বয়স্ক মানুষের কষ্টের কথা তো বলা দায়। রাতে তাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। অথচ আল্লাহ তা’আলা কুরআনে ইরশাদ করেন-
والذين يؤذون المؤمنين والمؤمنات بغير ما اكتسبوا فقد احتملوا بهتانا وإثما مبينا-
যারা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও নারীদেরকে কষ্ট দেয়- তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। (সূরা আহযাব-৫৮)

এছাড়া হাদীসে নববীতেও এ ব্যাপারে সতর্কবাণী করা হয়েছে- দেখুনঃ সহীহুল বুখারীঃ হা-২৯০৫

অর্থ-সম্পদ অপচয়ঃ এ রাতে বিভিন্ন রকমের অপসংস্কৃতি এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ খরচ করা হয়- এগুলো সরাসরি অর্থ-সম্পদ নষ্ট করা ও অপচয়ের শামিল। ইসলামে এরূপ অপচয়কারীকে সরাসরি শয়তানের ভাই বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-
لا تبذر تبذيرا- إن المبذرين كانوا إخوان الشياطين- وكان الشيطان لربه كفورا-
তোমরা অপচয় করো না; নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই। আর শয়তান তো রবকে অস্বীকার করে। (সূরা ইসরা-২৬)

নারী-পুরুষের অবাধ মিলনঃ এ রাতে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, সমুদ্র সৈকত, নাইট ক্লাব ইত্যাদি স্থানগুলোতে নারী ও পুরুষরা অবাধ মিলামিশা ও ফুর্তিতে লিপ্ত হয়। এসব কার্যকালাপ যিনা-ব্যাভিচারের অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে এগুলো কঠোর নিষিদ্ধ। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-
ولا تقربوا الزنا، إنه كان فاحشة- وساء سبيلا-
তোমরা যিনা-ব্যাভিচারের (করা তো দূরের কথা;) ধারে কাছেও যেও না। (সূরা ইসরা-৩২)

মাদক কিংবা নেশাদ্রব্য সেবনঃ এ রাতে মাদক সেবনের কথা বলার অপেক্ষা যেনো রাখে না। যুবক-যুবতী সবাই মিলে গোগ্রাসে নেশাদ্রব্য সেবন করে মাতাল হয়ে পড়ে। উম্মত্ত অবস্থায় নানা রকমের অপকর্ম ঘটায়। এ কারণেই ইসলাম সর্বপ্রকার মাদক ও নেশাদ্রব্য নিষিদ্ধ করেছে। কুরআন ও হাদীসে নববীর আলোকে দেখুন- (সূরা মায়িদাহ-৯০-৯১; সূরা নিসা-১৪; সহীহ মুসলিমঃ খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৯৬৭)

বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্যঃ থার্টি ফাষ্ট নাইট ডে উদযাপন সম্পূর্ণরূপে বিধর্মী অপসংস্কৃতি। যার কোনো মূল্য অথবা যার মধ্যে প্রকৃত আনন্দ বলতে কিছুই নেই। এ রাতে বলে অভিবাদন জানানো, ফ্যাশন শো, ফায়ার প্লে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ট্যাটো কিংবা উল্কা অংকন করা, ডিজে পার্টি বা কনসার্টের আয়োজন করা এবং অশ্লীলতার নামে নানা ধরণের উৎসবের আয়োজন করা হয়। এগুলো সব বিধর্মী জাতির অসামাজিক ও অপসংস্কৃতির আওতাভুক্ত। ইসলামের সাথে এসব কার্যকালাপের কোনো সম্পর্ক নেই। আর বিধর্মী জাতির কোনো কিছুর সাথে কোনোভাবে সম্পর্ক রাখা অথবা সাদৃশ্য অবলম্বন করা ইসলামে সরাসরি নিষিদ্ধ।
যথা- হাদীসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যারা যে জাতির সাথে সাদৃশ্য রাখবে- তারা সে জাতিরই বলে গণ্য হবে। (মুসনাদে আহমাদ; সুনানে আবি দাউদ; মিশকাতঃ হা-৪৩৪৭)

ঈমান-ইসলাম বিধবংসী হাতিয়ার
একটা জাতি অথবা কোনো সভ্যতাকে নির্মূল করে দেওয়ার জন্য মূল হাতিয়ার হলো উক্ত জাতি ও সভ্যতার জাতীয় চেতনা এবং এর যুব চরিত্রকে ধবংস করে দেওয়া। ইসলামকে শেষ করে দেওয়া এবং মুসলিম যুবকদেরকে অথর্ব অকর্মণ্য করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিধর্মী শক্তি সামনে অগ্রসর হয়ে চলছে। এসব পদক্ষেপের একটি হলো ‘থার্টি ফাষ্ট নাইট ডে’ উদযাপন।
সুতরাং আপনিই সিদ্ধান্ত নিন। আপনি কি ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হবেন, না দেশ-জাতি ও ইসলামের রক্ষক হয়ে পরকালে চির সুখ ও শান্তির আবাসন জান্নাতের অধিকারী হবেন ????

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.