নারীদের দ্বীনের কাজ কখন থেকে শুরু হয়?

0
574
flower
flower

আল্লাহ তা’আলা যখন আদম ও মা হাওয়া আলাইহিমুস সালামকে জান্নাত থেকে পৃথবীর বুকে নেমে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন, তখন তিনি আদম ও হাওয়া আলাইহিমুস সালামকে সামনে রেখে প্রথম হিদায়াতের কথা বলেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন-
اهبطوا منها جميعا- فإما يأتينكم مني هدي، فمن اتبع هداي فلا خوف عليهم ولا هم يحزنون-
অর্থঃ তোমরা এখান থেকে সবাই নেমে যাও এবং যখন আমার পক্ষ থেকে হিদায়াতপ্রাপ্ত লোকেরা হিদায়াতের কথা নিয়ে যাবেন, তখন যে আমার হিদায়াতের কথাকে গ্রহণ করবে- তাঁর কোনো ভয় ও চিন্তা থাকবে না। (সূরা বাকারা-৩৮)
উপরোক্ত আয়াত দ্বারা যেনো এ কথাই বুঝা যায় যে, পৃথিবীর প্রথম মানুষ পৃথিবীর বুকে নেমে আসার সময় থেকেই পুরুষ ও নারীদের কাজ শুরু হয়। আর হিদায়াতের কথাও আল্লাহ তা’আলা পুরুষ ও নারীকে একসাথে লক্ষ্য করে বলেন।

আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে সগ্র মানবজাতি এ হিদায়াতের অন্তর্ভুক্ত। এ সংক্ষিপ্ত হিদায়াতের পর আল্লাহ তা’আলা সমস্ত আসমানী কিতাবে হিদায়াতের কথা বিস্তারিতভাবে বলেছেন। যথা- তাওরাত কিতাব মূসা আলাইহিস সালামের ওপর যাবুর কিতাব দাউদ আলাইহিস সালামের ওপর ইনজিল কিতাব ঈসা আলাইহিস সালারে ওপর এবং সর্বশেষ হিদায়াতের সবচেয়ে বড় কিতাব কুরআন নাযিল করেছেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর।
কুরআনের মধ্যেই কুরআনকে সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াতের কিতাব বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যথা- ইরশাদ হয়েছে- هدي للناس- অর্থাৎ এ কিতাব সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াতস্বরূপ। (সূরা বাকারা-১৮৫)
এখানে সম্বোধিত অর্থাৎ সমগ্র মানবজাতির মধ্যে পুরুষ-নারী সবাই আছেন। সুতরাং পৃথিবীতে মানবজাতির প্রথম দিন থেকেই দ্বীনের মেহনত পুরুষ ও নারীর মধ্যে একসাথে শুরু হয়েছে। অন্যান্য আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের জীবনীতেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
যথা- ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর বিবি সারা আলাইহাস সালামকে সাথে নিয়ে ইরাক থেকে ফিলিন্তীনে হিজরত করেছেন। আবার তিনি ফিলিস্তীন থেকে তাঁর অপর বিবি হাজেরা আলাইহাস সালাম এবং শিশুপুত্র ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে সাথে নিয়ে মক্কা মুকাররামায় হিজরত করেছেন।
এ জন্যই আল্লাহ তা’আলা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবারকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য আদর্শ বানিয়েছেন। তিনি ইরশাদ করেন-
قد كانت لكم أسوة حسنة في إبراهيم والذين معه-
অর্থঃ তোমাদের জন্য ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবারবর্গের মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে। (সূরা মুমতাহিনা-৪)
উক্ত আয়াতের আলোকেও আমাদের জন্য নবীগণের জীবনে তাঁদের স্বীয় বিবিগণকে নিয়ে আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় বের হওয়ার নমুনা পাওয়া যায়।
রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীনের মেহনত শুরু হয়েছে খাদীজা রাযি.-এর ঘর থেকে। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে যখন আল্লাহ তা’আলা প্রথম দ্বীনের মেহনত শুরু করার নির্দেশ দেন, তখন নবী খাদীজা রাযি.-এর ঘরেই ছিলেন। ইরশাদ হয়েছে- يا أيها المدثر- قم فأنذر- وربك فكبر-
হে কম্বল আবৃতকারী। আপনি উঠুন এবং সতর্ক করুন। আর আপনার রবের বড়ত্ব বর্ণনা করুন। (সূরা মুদ্দাসসির-১-৩)
এ আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় বিবি খাদীজা রাযি.কে দাওয়াত দেন। দাওয়াত পেয়ে খাদীজা রাযি. মুসলিম হয়ে যান এবং তিনিও নবীজির সাথে দ্বীনের মেহনত শুরু করেন।

এছাড়া নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর অন্য বিবিদেরকেও সাথে করে নিয়ে হজ্জ-উমরায় গিয়েছেন। বিভিন্ন গাযওয়াতেও তাঁদেরকে নিয়ে গেছেন। আবার কখনো তিনি একাধিক বিবিকে নিয়ে সফর করেছেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুয়তি জীবন যেমন শুরু হয়েছে তাঁর এক বিবির ঘর থেকে, ঠিক তেমনি তাঁর নবুয়তি জীবনের পরিসমাপ্তিও ঘটেছে অন্য এক বিবি তথা আয়েশা রাযি.-এর ঘরে। আয়েশা রাযি.-এর কোলে মাথা রেখে শেষ মুহুর্তে তিনি বারাবর বলছিলেন- الصلاة الصلاة! وما ملكت أيمانكم-
সালাত সালাত! আর তোমরা তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীগণের ব্যাপারে সতর্ক থেকো!! (আস-সীরাতুন নববিয়্যাহ)
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সারা জীবনে মাত্র দুইবার নারী ছাড়া সফর করেছেন। প্রথমতঃ নবুয়তের ১০ম বছরে তিনি মক্কা থেকে তায়েফে সফর করেছেন কোনো নারী ছাড়া।
দ্বিতীয়তঃ মক্কা থেকে মদীনা মুনাওয়ারা তিনি নারী ছাড়া সফর করেছেন। এছাড়া যতবারই তিনি আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় সফর করেছেন, ততবারই তিনি স্ত্রীদের সাথে নিয়ে বের হয়েছেন।
নারীগণের ওপরও যেমন হজ্জ ফরয হয়, নারীরাও যেমন পুরুষের মতো উমরাহ করতে পারেন এবং এছাড়া রোগের চিকিৎসা করানোর লক্ষ্যে যেমন তারা ঘর থেকে বের হয়ে থাকেন, ঠিক তেমনি তারাও আল্লাহ তা’আলার রাস্তায় মাহরাম পুরুষের সাথে বের হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.