নারী তুমি সেরা সৃষ্টি !

0
908
flower arranging
flower arranging

আল্লাহ তা’আলা তাঁর শক্তির অসীমতা, ক্ষমতার ব্যাপকতা, রবুবিয়্যতের সার্বজনীনতা প্রকাশ করার ইচ্ছা করলেন। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন- তিনি তার প্রতিনিধি বানাবেন। তিনি ইরশাদ করেন-

إني جاعل في الأرض خليفة-

অর্থঃ আমি এই পৃথিবীতে খলীফা বানাবো।   (সূরা বাকারাঃ আয়াত-৩)

তিনি তো সবকিছুর স্রষ্টা। তিনি কারো সৃষ্ট নন। তিনি একচ্ছত্র ক্ষমতার একমাত্র অধিপতি। আগে-পরে পরোক্ষভাবে-প্রত্যক্ষ্যভাবে তিনি সবকিছু সম্পূর্ণ নিখুতভাবে জানেন। ফেরেশতারা তাকে বললেন-

أتجعل فيها من يفسد فيها ويسفك الدماء-

অর্থঃ আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন- যারা সেখানে সন্ত্রাস করবে, রক্তপাত ঘটাবে?  (সূরা বাকারাঃ আয়াত-৩০)

তিনি ইরশাদ করলেন- اني أعلم مالا تعلمون-

অর্থঃ আমি যা জানি- তোমরা তা জানো না।    (সূরা বাক্বারাঃ আয়াত-৩০)

তাঁর এই ঘোষণার মঝে অনেক অনেক অনেক কিছুই লুকায়িত ছিলো, এখনো আছে, কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। অবশেষে তিনি পৃথিবীর মাটিতে ফেরেশতা পাঠালেন মাটি আনার জন্য। ফেরেশতারা নিয়ে গেলেন অধঃজগতের মাটিকে উর্দ্ধজগতে।

অতঃপর আল্লাহ তা’আলা স্বীয় হাতে তাঁর অসীম কুদরত দিয়ে মাটি দিয়ে বানালেন পৃথিবীর প্রথম মানুষ হযরত আদমকে। তার দেহ বানিয়ে রোদে শুকাতে দিলেন। দীর্ঘ চল্লিশ দিন আদমের দেহ কোনো আবরণ ছাড়াই পড়ে রইলো রোদের প্রখর তাপে। ফেরেশতারা নির্বাক। তারা হতবাক। এ কি হচ্ছে? তারা জানবেনই বা কিভাবে? আল্লাহ তা’আলার এই ঘোষণার সামনে তাদের চিন্তা, যুক্তির কোনো সুযোগই নেই। এর কোনো প্রশ্নই আসে না।

এই পৃথিবীতে মানুষের গতি-প্রকৃতি, শ্রেণী, ধারা কেমন হবে, কিভাবে হবে- তা তিনি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন। তিনি কোনো কিছু শুরু করার আগে এর জন্য একটা কারণ তৈরি করেন। প্রয়োজনীয়তা সামনে আনেন। পরিবেশ সৃষ্টি করেন। আদমের দেহ শুকানোর পর তার ভিতরে তিনি স্বীয় হুকুম প্রয়োগ করলেন। রূহে ফুঁক দিলেন। নবুয়ত দ্বারা তাকে সম্মানিত করলেন।

অতঃপর তাকে শান্তির আবাসন জান্নাতে স্থান দিলেন। অসংখ্য নিয়ামতরাজী তাকে দান করলেন। কিন্তু আদম আলাইহিস সালাম জান্নাতের অ-তুলনীয় অণির্বচনীয় অ-সংখ্য নিয়ামতরাজীতে আচ্ছাদিত হয়েও স্বস্তি পেলেন না। কেমন যেনো একাকীত্ব অনুভব করতে লাগলেন। আরাম-আয়েশ ও প্রয়োজনীয় সবকিছু সামনে থাকা সত্ত্বেও মনের পছন্দমতো সবকিছু পাওয়ার পরও তিনি কোনো কিছুর প্রচন্ড অভাববোধ করতে লাগলেন। তিনি অনুভব করলেন- আমার কাউকে দরকার। আল্লাহ তা’আলার কাছে আরয করলেন- হে মালিক! আমার এখানে ভালো লাগে না।

ওই দিকে আল্লাহ তা’আলা সবকিছুর আড়ালে, সবার- এমনকি ফেরেশতাদের অজান্তে আদম আলাইহিস সালামের জন্য একজন সঙ্গীনী সৃষ্টি করতে লাগলেন। যাকে তিনি অতি সঙ্গোপনে সৃষ্টি করলেন- সেও তাঁর খলীফা মানবজাতির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু প্রকৃতি ও সৃষ্টিগতভাবে সে আদম আলাইহিস সালাম থেকে ভিন্ন ধরণের। দেহে-গঠনে, আবেগে-মনে, কন্ঠে, কর্মে একে অপর থেকে আলাদা। এ যেনো দিবস ও রাত। তিনি হলেন- মানবকুলের মা হাওয়া আলাইহাস সালাম। স্বয়ং আল্লাহ তা’আলাই মানবজাতিকে দুই শ্রেণীতে ভাগ করলেন। প্রথম শ্রেণীর নাম পুরুষ ও দ্বিতীয় শ্রেণীর নাম নারী রাখলেন। উভয়ের কাছে উভয়কে প্রয়োজনীয় করলেন। একের প্রতি অপরের কিছু দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিলেন। এই দুইয়ের মিলনে মানবজাতির ধারা অব্যহত রাখার ব্যবস্থা করলেন। তিনি ইরশাদ করেন-

يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالا كثيرا ونساء-

অর্থঃ হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো- যিনি তোমাদেরকে একই ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে অসংখ্য পুরুষ ও নারী সৃষ্টি করেছেন। (সূরা নিসাঃ আয়াত-১)

আল্লাহ তা’আলা ইচ্ছা করলে হাওয়া আলাইহাস সালামকে আদম আলাইহিস সালামের মতো প্রকাশ্যে সৃষ্টি করতে পারতেন। রোদে তাঁর দেহ শুকিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। হাওয়া আলাইহাস সালামকে সবার অগোচরে সৃষ্টি করার পর অ-তুলনীয় রূপ দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে ঘোমটার আড়ালে জান্নাতে নিয়ে গেলেন। পৃথিবীর প্রথম মানুষ ও প্রথম নবীর স্ত্রীর মর্যাদায় তাকে আসীন করলেন। সবকিছু আয়োজন সম্পন্ন করার পর আল্লাহ তা’আলা আদম আলাইহিস সালামকে বললেন- হে আদম! তুমি তাঁর কাছে যাও। আমি তাকে তোমার সঙ্গীনীরূপে সৃষ্টি করেছি।

আল্লাহ তা’আলা জান্নাতের ভিতরে হাওয়া আলাইহাস সালামকে আদম আলাইহিস সালামের জন্য প্রস্তুত করলেন। উভয়ের সাক্ষাতের সব আয়োজন করলেন, অথচ ফেরেশতারাও জানলেন না। এমনকি আদম আলাইহিস সালামও না। তিনি জান্নাতের অভ্যন্তরে অবস্থান করেও এ সবের কোনো খবর পেলেন না। আদম আলাইহিস সালাম হাওয়া আলাইহাস সালামের কাছে গিয়ে তাঁকে সালাম দিলেন। তাঁর ঘোমটা সরালেন। তিনি বিস্মিত হলেন। পৃথিবীর প্রথম নারীর সৌন্দর্য্য অবলোকন করলেন। আল্লাহ তা’আলা উভয়ের মাঝে এক অনাবিল সম্পর্ক কায়েম করলেন। তাদের একে অপরের প্রতি আকর্ষণবোধ সৃষ্টি করলেন। তাদের মাঝে প্রশান্তি দান করলেন। তিনি ইরশাদ করেন-

ومن آياته أن خلق لكم من أنفسكم أزواجا لتسكنوا اليها وجعل بينكم مودة ورحمة- ان في ذلك لآيات لقوم يتفكرون-

অর্থঃ তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন- যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া-মায়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে যারা চিন্তা-ভাবনা করে- তাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। (সূরা রূমঃ আয়াত-২১)

পৃথিবীর নারীর মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব সেদিনই প্রতিষ্ঠিত হলো। তার মূল্য কতটুকু, তার অবস্থান কোথায়- সেদিনই তা ঘোষিত হলো। আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে এমন কিছু শ্রেষ্ঠত্ব দিলেন- যা পুরুষজাতিকে দেননি। যথা- পুরুষদের আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করতে হয়। শারীরিক-মানসিক পরিশ্রম করে উপার্জন করতে হয়। হাড় ভাঙ্গা খাটুনী খাটতে হয়। ঘরের বাইরে, রাস্তা-ঘাটে, মাঠে-ময়দানে বিভিন্ন জঞ্জালযুক্ত পরিস্থিতি তাকে সামাল দিতে হয়্।

অপরদিকে নারীরা জন্মের পর থেকে নিয়ে বিবাহের আগ পর্যন্ত মা-বাবার দায়িত্বে এবং বিবাহের পর স্বামীর দায়িত্বে জীবন-যাপন করবে। দুনিয়ার কোনো দায়িত্বের বোঝা তাদের উপর আল্লাহ তা’আলা চাপিয়ে দেননি। তারা ঘরে থেকে ঘরের কাজ-কর্ম করেই জিহাদের সমতুল্য সওয়াবের অধিকারিণী হয়।  

নারী হলো সৌন্দর্যের প্রতীক। কমনীয়তা, মুগ্ধতা, রূপ ও লাবণ্যের আধার। নারীকে আল্লাহ তা’আলা অনন্য রূপ, মোহনীয় সৌন্দর্য্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। রূপের মাধুরী, সৌন্দর্য্য চর্চা, সাজ-গোজের ব্যবস্থা একমাত্র তাদের জন্যই বরাদ্দ করেছেন। তাদেরকে তিনি সজীবতা ও প্রশান্তির নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন। নারী হয়তো মা হবে, নয়তো বোন হবে, নয়তো কন্যা হবে। ইসলামে মায়ের মর্যাদা সবার উপরে। কোনো বোন বা কন্যা সন্তানের বিবাহের আগ পর্যন্ত দেখা-শোনার দায়িত্ব পালন করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়।

عن أبي سعيد الخدري –رضي الله عنه- قال: قال رسول الله –صلي الله عليه وسلم- : من كانت له ثلاث بنات أو ثلاث أخوات أو ابنتان أو أختان فأحسن صحبتهن واتقي الله فيهن فله الجنة-

অর্থঃ সাহাবী আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান অথবা তিনজন বোন রয়েছে, অথবা দুইটি কন্যা সন্তান বা দুইজন বোন রয়েছে এবং তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে ও তাদের হক আদায়ের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করে- তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায়। (সুনানে তিরমিযীঃ হা-১৯১৬)

عن عائشة –رضي الله عنه- قالت: قال رسول الله –صلي الله عليه وسلم-  من يلي من هذه البنات شيئا- فأحسن اليهن كن له سترا من النار-

অর্থঃ সাহাবী আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

যে ব্যক্তি এই কন্যা সন্তানদের বিষয়ে কোনো যিম্মাদারী গ্রহণ করলো এবং তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করলো- তবে এই কন্যাগণ তার জন্য দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার ওসীলা হবে। (সহীহ বুখারীঃ হা-৫৯৯৫)

ইসলাম পূর্ব জাহিলিয়্যাতের যুগে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়ার প্রথাকে ইসলামই কঠোর হস্তে প্রতিহত করেছে। অথচ এই আধুনিকতার যুগে কোনো কোনো ধর্মে এখনো নারীকে চরম অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখা হয়। ইহুদী ও বিকৃত নাসারা ধর্মে নারীদেরকে শুধুমাত্র ভোগের বস্তু মনে করা হয়। হিন্দু ধর্মে নারীজাতিকে নীচুজাত শ্রেণীর অন্তর্গত বলে ধরা হয়। অতএব বুঝাই যায়- ইসলামে সে কতো মূল্যবান!

পৃথিবীর প্রত্যেক বুদ্ধি-বিবেকওয়ালারাই জানে যে, দামী বা মূল্যবান কোনো কিছুকে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। অন্য সব সাধারণ বস্তুর মত একে যেখানে-সেখানে ফেলে রাখা যায় না। যেমন স্বর্ণ-রৌপ্যকে খুব সাবধানে সংরক্ষিত করে রাখা হয়। সুতরাং নারীর অবস্থাও তেমনি। সম্মানের সাথে, সংরক্ষণ করে তাকে রাখতে হয়। যাতে তার অভ্যন্তরে খোদা প্রদত্ত অনন্য নিয়ামতের উপর কোনো আঘাত না আসে।

নারীকে কিভাবে সংরক্ষণ করতে হবে- স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তাঁর প্রেরিত পয়গম্বরগণের মাধ্যমে তিনি তা শিক্ষা দিয়েছেন। কিভাবে রাখলে তার সর্বোচ্চ সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে- তা শুধুমাত্র আল্লাহ তা’আলার বিধান-যা তিনি নবী-রাসূলদের মাধ্যমে নাযিল করেছেন- তার মাঝেই পাওয়া যায়।

হবেই না বা কেনো? আল্লাহ তা’আলার দ্বীন তাকে এই পৃথিবীতে যেই ইজ্জত-সম্মান, অধিকার ও নিরাপত্তা দিয়েছে- পৃথিবীর ইতিহাসে আর কেউই দিতে পারেনি। কিয়ামত পর্যন্ত পারবেও না। তার মর্যাদাতো আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পর পর জান্নাতেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে- যেমনটি উপরে বলা হয়েছে।

আম, কলার ছোকলা খুলে রাখলে মাছি এসে বসে। বাজার থেকে বাকল-ছোকলা ছাড়া আম কোনো নির্বোধ লোকও কিনে না। এমনকি প্যাকেট খোলা কোনো বিস্কুটও কেউ কিনতে চায় না। কারণ তখন এগুলোর মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ বা ধুলোবালির মিশ্রণের আশংকা থাকে। ফলে এগুলো মূল্যহীন হয়ে পড়ে। তদ্রুপ নারীকে খুলে রাখলে, সে আবরণমুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে বের হলেই তার উপর কাম-রিপুওয়ালা লোলুপদের ছোবল পড়বে না- এটা কিভাবে সম্ভব?

এর ফলে নারীর সম্মান-মর্যাদা অর্জিত হয় না; বরং তার সম্মান, সম্ভ্রম-আব্র“র পতন ঘটে। চুম্বকের সামনে লোহাজাতীয় কোনো কিছু কাছাকাছি মাঝখানে কোনো প্রতিবন্ধক ছাড়া রাখলে তা চুম্বকের কাছে যেতে বাধ্য। তদ্রুপ নারী আবরণমুক্ত হলে নিরাপত্তাহীনতায় পতিত হবে। তাই নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার স্বাধীনতা আবরণের ভিতরে। এর বাইরে নয়।

যারা নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে ইসলামকে বিষেদাগার করে- তারাই মূলত নারীর মর্যাদাহানী করে। তারা চায় নারীর মর্যাদাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিতে। তারা নারীকে শুধুমাত্র ভোগের বস্তু মনে করে। তাই যখন ইসলামে নারীর অবস্থান তাদের সামনে আসে- তখন তারা নারীকে ভোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে মনে করে অর্ধ-মাতাল উম্মাদের মতো চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দেয়। নারীর সাধীনতা হরণ করা হয়েছে, তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে- এ রকম গালভরে অনেক বাকবাণে লিপ্ত হয়। তাদের অবস্থা উপরোক্ত মাছির মতো।

অপরদিকে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে, অপপ্রচারের ফলে কিংবা শয়তানের প্ররোচনায় অনেক নারীরা তাদের স্বীয় মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব কী, তাদের অবস্থান কোথায়- তা তারা নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়। কোনো অবুঝ ছোট বাচ্চার সামনে যদি চকলেট কিংবা চিপ্স এবং স্বর্ণের টুকরা রাখা হয়- তাহলে সেই বাচ্চা চকলেট কিংবা চিপ্স গ্রহণ করবে, স্বর্ণকে নয়। কারণ চকলেট কিংবা চিপ্সের স্বাদ সে বুঝেছে, স্বর্ণের দাম বোঝার বয়স এখনো তার হয়নি। যারা ইসলামে নারীর অবস্থানকে নারীর বন্দিত্ব, স্বাধীনতা হরণ বলে আখ্যায়িত করেন- তাদের অবস্থা উপরোক্ত ছোট অবুঝ বাচ্চার মতো।

কিন্তু আজ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়কে মর্যাদাহীনতা আর অমর্যাদা, লাঞ্চনা-বঞ্চনার বিষয়কে মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। নির্বুদ্ধিতা বোকামীরও একটা সীমা থাকা দরকার নয় কি!       

আব্দুল্লাহ আল মাসূম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.