ফিকাহ ও ফতোয়ার পরিচয়ঃ বিধান ও প্রেক্ষাপট

0
715

(তাহরিকুল কলম ফিকাহ বিভাগ থেকে প্রকাশিত)

এই ইলমে ফিকাহ তথা শরীয়তের মৌলিক চার দলীলের আলোকে মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রয়োজন ও সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান দেওয়ার জন্য যে বিন্যস্ত ও সংকলিত সংবিধান রয়েছে- তা স্বয়ং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে শিখিয়েছিলেন। অতঃপর সাহাবীরা তাবেয়ীগণকে এবং তারা তাদের পরবর্তীদেরকে এবং তারা আবার তাদের পরবর্তীদেরকে তা শিখিয়েছেন।
অতএব ফিকাহ কুরআন ও হাদীস থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় হতেই পারে না; বরং এটা ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। আর এ কারণেই যারা ফিকাহ এড়িয়ে চলে- তারা কখনো কুরআন ও হাদীসের অনুসারী হতে পারে না। কুরআন ও হাদীসের মূল অনুসারী তারাই- যারা ফকীহগণের নির্দেশনাক্রমে এবং ফিকাহর আলোকে কুরআন ও হাদীসের অনুসরণ করে থাকেন। স্বয়ং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম বিভিন্ন সহীহ হাদীসে ফিকাহর প্রয়োজনীয়তা-গুরুত্ব এবং ফকীহগণের মর্যাদা ও ফযীলত সম্পর্কে উম্মতকে সতর্ক করেছেন।
বড় বড় মুহাদ্দিসীনে কেরাম এবং সহীহ হাদীসের গ্রন্থের সংকলক সবাই ফিকাহর অনুসারী ছিলেন। ইতিহাস, বর্ণনা ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের আলোকে এটাই প্রমাণিত হয়।

ফিকাহ কী ও কেনো??
ইসলামি জীবনব্যবস্থার মৌলিক দিকনির্দেশনার নামই হলো কুরআন-সুন্নাহ। একজন মুমিনের পুরো জীবনের সর্বক্ষেত্রে দ্বীন তথা আল্লাহ তা’আলার হুকুম ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ কুরআন ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করেই হবে।
মুমিন মাত্র ব্যক্তি কালিমায়ে তাইয়্যেবার মাধ্যমে এই কথার স্বীকৃতি দেন যে, ইসলামই একমাত্র কিয়ামত পর্যন্ত আগত-অনাগত সকলের জন্য পরিপূর্ণ জীবনবিধান। সাথে সাথে তিনি এই বিষয়েও শপথ গ্রহণ করেন যে, তিনি তাঁর সমগ্র জীবন জগতকে ওই আইন অথবা বিধান অনুসারে পরিচালিত করবেন- যা আল্লাহ তা’আলা তাঁর পবিত্র কালামে নাযিল করেছেন এবং তাঁর সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাদীস ও সুন্নাহ-এর মধ্যে রেখে গেছেন। ব্যক্তিও পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও আন্তর্জাতিক জীবনেও কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করবেন।
সুতরাং এক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নির্দেশনা গ্রহণ করতে হলে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজন; কারণ উম্মাহর সব মুসলিমের পক্ষে সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহর মতো বিশাল ভান্ডার থেকে সিদ্ধান্ত আহরণ করা অথবা নিজে নিজে বিধান অনুসন্ধান করে পালন করা সহজ না; বরং তা দুঃসাধ্য ও অসম্ভব।
উম্মাহর এ বিশাল প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ রেখে ইসলামের ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণ দীর্ঘ মুজাহাদা ও গভীর চিন্তা-গবেষণার আলোকে একটি বিন্যস্ত ও পরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। উক্ত নীতিমালাই ইসলামের পরিভাষায় ফিকাহ নামে পরিচিত।

কুরআন-হাদীস থাকতে ফিকাহর প্রয়োজন কেনো?
মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে ইসলামী শরীয়তের স্বীকৃত দলীল চারটিঃ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। এই চার দলীল থেকে মুসলিম জীবনের পবিত্রতা থেকে শুরু করে মৃত ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির সাথে সংশ্লি¬ষ্ট পর্যন্ত জীবনের সকল ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় মাসায়েল বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের অধীনে সন্নিবেশিত করা হয়েছে এবং প্রত্যেক মাসআলার সাথে দলীল উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংকলিত ও সুবিন্যস্ত বিধানকে ফিকাহ বলা হয়।

সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার আলোকে মূলত ফিকাহ হলো- কুরআন ও হাদীসের বিধি-বিধানের বিন্যস্ত সংকলিত রূপকে।
ফিকাহ হলো- ইসলামী ইবাদত সমূহের নিয়ন-কানুন ও পদ্ধতির সন্নিবেশিত রূপকে।
ফিকাহ হলো- ওই সব মাসায়েলের সুবিন্যস্ত একত্রীকরণ- যা কুরআন ও হাদীসে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.