রজব ও শবে মি’রাজ- হাকীকত ও শরয়ী অবস্থান

0
608
Rajab
Rajab

রজব আরবী বছরের ৭ম মাস। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বর্ণাঢ্য জীবনের অন্যতম ঘটনা মিরাজের কারণে এ মাসটি ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ মাসটি সম্মানিত চারটি মাসের অন্তর্ভুক্তও বটে।
রজব মাসের কত তারিখে মিরাজ সংঘটিত হয়- এ নিয়ে সরাসরি কিংবা নির্দিষ্ট কোনো তারিখের কথা ইতিহাসে নেই। যদিও এ সম্পর্কে একাধিক বর্ণনা কিংবা মতামত পাওয়া যায়, কিন্তু কোনো সহীহ হাদীস অথবা ঐতিহাসিক রেওয়ায়াতে সঠিক তারিখ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। কোনো কোনো বর্ণনায় বলা হয়েছে, মিরাজ রবীউল আওয়াল মাসে সংঘটিত হয়। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় রজব মাসের কথাও এসেছে। আবার অন্য মাসেরও কথা কোনো কোনো জায়গায় বলা হয়েছে। এ সব বর্ণনার কোনোটাই প্রমাণিত নয়।

ইমাম কুরতুবি রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে লিখেছেন-
মিরাজের তারিখ সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের বর্ণনা এসেছে। মুসা ইবনে উকবার বর্ণনা অনুযায়ী মিরাজের ঘটনা হিজরতের ছয় মাস আগে সংঘটিত হয়। উ¤মূল মুমিনীন আয়েশা রাযি. বলেন- খাদীজা রাযি.-এর ওফাত সালাত ফরয হওয়ার আগেই হয়েছিলো। ইমাম যুহরি বলেন- খাদীজা রাযি.-এর ওফাত নবুয়তের সাত বছর পরে হয়েছিলো।
এছাড়া কোনো কোনো বর্ণনায় বলা হয়েছে- মিরাজের ঘটনা নবুয়তপ্রাপ্তির পাঁচ বছর পরে সংঘটিত হয়েছে।
ইবনে ইসহাক বলেন- মিরাজের ঘটনা ওই সময়ে সংঘটিত হয়, যখন আরবের সাধারণ গোত্র সমূহে ইসলামের বাণী ছড়িয়ে পড়েছিলো।
হারবি বলেন- ইসরা ও মিরাজের ঘটনা রবীউস সানী মাসের ২৭ তম রাতে হিজরতের এক বছর আগে সংঘটিত হয়।
ইবনে কাসিম যাহবী বলেনÑ নবুয়তপ্রাপ্তির ১৮ মাস পরে মিরাজ হয়; কিন্তু এ বক্তব্য সঠিক নয়।
হাদীসের ইমামগণ মিরাজের তারিখ সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা উল্লেখ করার পর কোনো তারিখের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেননি। যদিও সাধারণভাবে রজবের ২৭ তারিখের রাতকে মিরাজের রাত্রি বলা হয়। তাছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে ২৭ রজব সম্পর্কে ইমাম ইবরাহীম হারবী এবং ইবনে রজব রহ. স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এ রাতে মিরাজ সংঘটিত হওয়ার কথাটি সঠিক নয়।
(লাতায়েফুল মা’আরিফঃ ১৩৪)

মোটকথা, রজব মাসে মিরাজের নির্দিষ্ট কোনো তারিখের কথা উল্লেখ নেই, তবে রজব মাসেই যে মিরাজ সংঘটিত হয়েছে- এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এছাড়া এ মাসের ফযীলত ছাড়া মিরাজ বা নববী জীবনের অন্য কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত কোনো বিশেষ ইবাদাত কিংবা সালাত নেই।
আল্লাহ তা’আলা স্বীয় বান্দাগণের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহপূর্বক বিশেষ কিছু দিন ও রাতের ফযীলত নির্ধারিত করেছেন। এ সব দিন ও রাতের কোনোটির জন্য নির্দিষ্ট ইবাদত রয়েছে এবং এর জন্য অসংখ্য সাওয়াব প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে কিছু দিন ও রাতের ফযীলতের কথা প্রমাণিত হলেও এ সব দিন ও রাতে কোনো ইবাদতের কথা বলা হয়নি।
উল্লেখ্য, রজব মাস দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। আবার উপরোক্ত এ দুই রকমের দিবারাত্রিতে নানা রকমের বিদ’আত ও কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। রজব মাসের ব্যাপারটিও এর ব্যতিক্রম নয়।

রজব মাসের ফযীলত
প্রকৃতপক্ষে রজব মাসের ফযীলতের কথা বলা হলেও এ মাসে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদত নেই। রজব মাসের ফযীলত সম্পর্কে কুরআনে ইরশাদ হয়েছে-
إن عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرًا في كتاب الله يوم خلق السماوات والأرض منها أربعة حرم- ذلك الدين القيم-
নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলার বিধান ও গণনা অনুযায়ী আসমান ও যমীন সৃষ্টির দিন থেকে সর্বমোট মাস ১২ টি। এগুলোর মধ্যে চারটি মাস সর্বাধিক সম্মানিত। এটাই প্রতিষ্ঠিত বিধান।
(সুরা তাওবা-৩৬)
এ আয়াতে বর্ণিত সম্মানিত চারটি মাসের কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবী আবু বাকরাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إن الزمان قد استدار كهيئته يوم خلق السما وات والأرض، السنة اثنا عشر شهراً، منها أربعة حرم، ثلاث متواليات: ذوالقعدة وذو الحجة والمحرم، ورجب مضر، الذي بين جمادى وشعبان.
অর্থঃ সময় চক্রাকারে ঘুরে আসমান-যমীন সৃষ্টির প্রথম দিনের অবস্থায় ফিরে এসেছে। ১২ মাসে এক বছর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। প্রথম তিনটি ধারাবহিক মাস। সেগুলো হলো- জিলকদ, জিলহজ্জ ও মুহাররম। আর চতুর্থ মাস হলো রজব। যা জুমাদাল উখরা ও শাবান মাসের মাঝে নির্ধারিত।
(সহীহুল বুখারীঃ হা-৪৬৬২)

সম্মানিত এ চারটি মাসের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব ইবরাহীম ও ইসমাঈল আলাইহিমাস সালামের যুগ থেকেই চলে আসছে। এছাড়া এ মাসগুলোতে জাহেলি যুগে মর্যাদা বহিঃপ্রকাশের নামে বহু রকমের প্রথা ও কুসংস্কার প্রচলিত ছিলো। ইসলাম এ সব মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে সব ধরণের প্রথা ও কুসংস্কারের সংস্কার সাধন করেছে।
সম্মানিত এ চারটি মাস মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিবেচনায় সমমানের। সাধারণভাবে এ মাসগুলোতে যে কোনো নেক আমলের সাওয়াব ও ফযীলত অন্যান্য মাসগুলোর তুলনায় বেশি। এমনিভাবে এ মাসগুলোতে গোনাহের ক্ষতি ও ভয়াবহতাও অধিক।
(আহকামূল কুরআন- জাসসাসঃ ৩/১১১; তাফসীরে কুরতুবিঃ ৮/৮৬-৮৭; তাফসীরে ইবনে কাসীরঃ ২/৩৯১; তাফসীরে রুহুল মা’আনীঃ ১০/৯০-৯১; তাফসীরে মা’আরিফুল কুরআনঃ ৪/৩৬৯-৩৭৩)
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دخل رجب قال: اللهم بارك لنا في رجب وشعبان، وبلغنا رمضان.
অর্থঃ রজব মাস শুরু হলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিম্নের এই দো’আ বেশি বেশি করতেন-
اللهم بارك لنا في رجب و شعبان- وبلغنا رمضان-
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং রমযান পর্যন্ত আমাদেরকে পৌছিয়ে দিন। (মুসনাদে আহমাদ (যাওয়ায়েদ)ঃ ১/২৫৯)
মিরাজের রাত নিঃসন্দেহে মহিমান্বিত রাত। কারণ এ রাতে আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রিয় ও সর্বশেষ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সরাসরি নিজের দরবারে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরম সৌভাগ্য দান করেছিলেন। আর মিরাজ সংঘটিত হওয়ার পরে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১১ বছরেরও বেশি সময় জীবিত ছিলেন। এ দীর্ঘ সময়ের ইতিহাসের কোথাও প্রমাণিত নয় যে, তিনি নিজে মিরাজের রাত উদযাপন করেছেন কিংবা এর জন্য তিনি কোনো বিধান আরোপ করেছেন। নববী যুগের পরে সাহাবীগণের যুগেও এর কোনো প্রমাণ নেই।

রজব মাসে সালাতুর রাগিব
কতিপয় মিথ্যা হাদীস বর্ণনাকারীদের কারণে এ সালাতের সূচনা ঘটে। অনেক স্থানে এ সালাত আদায় করার প্রচলন আছে। রজব মাসের প্রথম রাতে এ সালাত আদায় করা হয়। এ ব্যাপারে ইমাম নববী রহ. বলেন-
এটা নিন্দনীয়, ঘৃণিত ও জঘন্যতম বিদ’আত। একে পরিত্যাগ করা, এর থেকে বিরত থাকা এবং অপরকে এ থেকে নিষেধ করা আবশ্যক।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন-
ইমাম আবু হানিফা রহ., ইমাম শাফেয়ী রহ., ইমাম মালিক বিন আনাস রহ., সুফিয়ান সাওরী রহ. এবং লাইস প্রমুখের মতে এ ব্যাপারে বর্ণিত সকল হাদীস মিথ্যা ও বানোয়াট।
রজব মাসে পশু যবেহ কিংবা এ জাতীয় কোনো কিছু উৎসর্গ করা
নবুয়তের আগে জাহিলিয়্যাতের যুগে রজব মাসকে নির্দিষ্ট করে পশু যবেহ এবং তা কারো নামে উৎসর্গ করা হতো। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসের এ প্রথা কঠোরভাবে নিষেধ করে দিয়েছেন। রজব মাসে এ জাতীয় কোনো আমল ইসলামে অনুমোদিত নয়।

রজব মাসে লোক সমাগম ও মাহফিল
মিরাজের রজনী নির্ধারণ করার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ সাব্যস্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে অনেক মতভেদ রয়েছে। তাই এক্ষেত্রে চুপ থাকাই শ্রেয়। তাছাড়া মিরাজের রজনী নির্দিষ্ট করে কোনো সহীহ হাদীসও বর্ণিত হয়নি। হাদীস নামে এ প্রসঙ্গে যা কিছু পাওয়া যায়, এগুলো সবই জাল ও ভিত্তিহীন।
(আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়াঃ ২/১০৭; মাজমা’উল ফাতাওয়াঃ ২৫/২৯৮)
সুতরাং রজব মাসে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদতকে ধার্য করা, রাত্রি জাগরণ, পথে-ঘাটে আনন্দ-উল্লাস করা, পুরুষ-নারীর অবাধ মিলামিশা এবং গান-বাদ্য আয়োজন কিংবা কোনো মাহফিল করা সম্পূর্ণ বিদ’আত ও হারাম।
তাছাড়া মিরাজের রাত তো নির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত নয়। আর প্রমাণিত সাব্যস্ত হলেও এ রাতে মাহফিল কিংবা নির্দিষ্ট কোনো উৎসব করার কোনো অবকাশ নেই। কারণ নববী যুগ থেকে সাহাবী ও তাঁদের পরবর্তী তথা খাইরুল কুরুনের যুগে এর কোনো প্রমাণ কিংবা দিক-নির্দেশনাও নেই।

রজব মাসের উমরা
এর কোনো ভিত্তি নেই। কোনো হাদীসে কিংবা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো জীবনীতে এর কোনো প্রমাণ নেই যে, তিনি রজব মাসের উদ্দেশে উমরা করেছেন।
শায়খ মুহাম্মাদ ইবরাহীম রহ. বলেন-
রজব মাসকে যিয়ারতের মতো কোনো আমল দ্বারা নির্দিষ্ট করণের পিছনে কোনো ভিত্তি নেই। ইমাম আবু শামা প্রমাণ করেছেন যে, শরীয়তকে পাশ কাটিয়ে কোনো সময়, দিন কিংবা মাসের সাথে কোনো ইবাদতকে নির্দিষ্ট করা সম্পূর্ণ বিদ’আত। ইসলামে এর কোনো অনুমোদনই নেই। সুতরাং রজব মাসকে নির্দিষ্ট করে অথবা বিশেষ ফযীলত ও সাওয়াবের বিশ্বাস সহকারে এ মাসে উমরা আদায় করা সম্পূর্ণ বিদ’আত ও হারাম।
কারণ শরীয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ইবাদত ছাড়া অন্যান্য সব দিন-ক্ষণ-সময় সর্বাবস্থায় সম মর্যাদার অধিকারী। আর এ জন্যই উম্মাহর আলিমগণ রজব মাসে বেশি বেশি উমরা করতে নিষেধ করেছেন। তবে রজব মাসকে নির্দিষ্ট না করে স্বাভাবিকভাবে কেউ এ মাসে উমরা আদায় করলে তাতে সমস্যা নেই। কারণ এক্ষেত্রে ধরা হবে যে, এ সময়েই তার উমরা আদায় করার সুযোগ হয়েছে।
(কিতাবুল বিদ’ঈ ওয়াল হাওয়াদিস)

রজব মাসের সিয়াম
উসমান বিন হাকীম রহ. একবার প্রসিদ্ধ তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে জুবায়ের রহ.কে রজব মাসের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন- আমি সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.কে বলতে শুনেছি, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিয়াম রাখা শুরু করলে এতো অধিক সিয়াম রাখতেন যে, আমরা মনে করতাম, তিনি কখনো সিয়াম ছাড়বেন না। আর যখন তিনি সিয়াম ছেড়ে দিতেন, তখন মনে হতো, তিনি আর সিয়াম রাখবেন না। (সহীহ মুসলিমঃ ১/৩৬৫)
উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসগণ বলেন- এ কথার দ্বারা সায়ীদ ইবনে জুবায়ের রহ. বুঝাতে চেয়েছেন যে, রজব মাসে স্বতন্ত্র সিয়ামের কোনো বিধান নেই। তবে নবীজি অন্যান্য মাসের মতো রজব মাসেও স্বাভাবিক সিয়াম রাখতেন। কারণ এটা তাঁর নিয়মিত অভ্যাস ছিলো। শুধু রজব মাসের উদ্দেশে তিনি কখনোই সিয়াম রাখেননি।
(শরহে মুসলিম- নববীঃ ১/৩৬৫; ফাতহুল মূলহিমঃ ৩/১৭৫; বাযলুল মাজহুদঃ ৩/৩৮২)

ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা ও আল্লাহর রাসূলের মহান সাহাবী ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর যুগে কিছু লোক বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রজব মাসের সিয়াম রাখা শুরু করে। তাঁর কাছে এ সংবাদ পৌঁছার সাথে সাথে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় একেকজনকে ধরে বলতে লাগলেন- তোমরা আমার সামনে এখনি খাবার খেয়ে প্রমাণ করো যে, তোমরা আজ সিয়াম রাখো নাই।
এরপর তিনি খুবই গুরুত্বের সাথে লোকদেরকে ধরে ধরে খাবার খাওয়ানোর আয়োজন করলেন, যাতে সাধারণ মানুষ এ ভুল ধারণা করে না বসে যে, রজব মাসে স্বতন্ত্র সিয়ামের বিধান রয়েছে। ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. মূলত রজব মাসে সিয়ামের নামে বিদ’আতকে নির্মূল করার লক্ষ্যে এমনটি করেছেন। তবে সাধারণভাবে অন্যান্য মাসের মতো রজব মাসেও সিয়াম রাখতে কোনো সমস্যা নেই।

সুতরাং মিরাজের রাতকে নির্দিষ্ট কোনো ইবাদতের জন্য নির্ধারিত করা কিংবা এ নিয়ে গুরুত্বারোপ করা বিদ’আত। তাছাড়া মিরাজের রাত তো নির্দিষ্ট নয়। এর তারিখ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বা প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি, যেমনটি আগে আলোচিত হয়েছে। সর্বোপরি অমীমাংসিত অথবা অনির্দিষ্ট কোনো রাতকে অপ্রমাণিত ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করতে যাওয়া নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.