রমযানে সালাতুত তারাবীহ আদায়ঃ একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

0
712
Salatut Tarabeeh
Salatut Tarabeeh

তারাবীহ শব্দটি আরবী। এটা তারবীহ শব্দের বহুবচন। এর আভিধানিক অর্থ- বিশ্রাম করা, আরাম করা। ইসলামের পরিভাষায় রমযান মাসে এশার পরে বিশ রাকাত তারাবীহের সালাত আদায়কালীন প্রতি চার রাকাত পরপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়াকে তারাবীহ বলে। প্রতি চার রাকাত আদায় করার পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হয় বলেই এ সালাতকে তারাবীহের সালাত বলে।
তারাবীহের সালাত ইসলামে একটি বিশেষ তাৎপর্য ও ফযীলতপূর্ণ ইবাদত। রমযানে এশার সালাত আদায় করার পরে বিশ রাকাত তারাবীহ জামাতের সাথে আদায় করা সুন্নাত। পুরুষ-নারী উভয়ের জন্যই তারাবীহের সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ; তবে পুরুষের জন্য জামাতের সাথে এ সালাত আদায় করা সুন্নাত।

তারাবীহ আদায় করার বিধান
পুরো রমযান মাসে এ তারাবীহ সালাতে কুরআন খতম করা স্বতন্ত্র সুন্নাত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে তারাবীহ সালাত আদায় করেছেন। তবে উম্মাহর ওপর এ সালাত ফরয হয়ে যাওয়ার আশংকায় মাঝে মাঝে তিনি তারাবীহ আদায় করা ছেড়ে দিয়েছেন।
কারণ নবীজির নিয়মিত কোনো আমল উম্মতের ওপর ওয়াজিব বলে গণ্য হতো। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরশাদ করেন- আমার ভয় হয় যে, আমার উম্মতের ওপর তারাবীহ ফরয হয়ে যায় কিনা।
অবশ্য নবীজির সাহাবীগণ নিয়মিত তারাবীহ আদায় করেছেন। নববী ও ইসলামের প্রথম যুগে মদীনা মুনাওয়ারার বিভিন্ন স্থানে তারাবীহর জামাত হতো; তবে ওই সময় এর নিয়মিত প্রচলন ছিলো না। পরবর্তীতে ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর যুগে সম্মিলিতভাবে জামাতের সাথে বিশ রাকাআত তারাবীহ আদায় করার ব্যাপারে উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ওমর বিন খাত্তাব রাযি. অন্যান্য সাহাবীগণের সাথে পরামর্শ করে সর্বসম্মতিক্রমে জামাতের সাথে তারাবীহ আদায় করার ব্যবস্থা করেন। তখন থেকেই উম্মাহ এ নিয়মেই তারাবীহ জামাতে আদায় করে আসছে।

হাদীসের বর্ণনায় তারাবীহ আদায়
তারাবীহ সম্পর্কে হাদীসে সাহাবী সালমান ফারেসী রাযি. সূত্রে বর্ণিত হয়েছে-
এ মাসে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করেছেন এবং রাত্রি জাগরণ অর্থাৎ তারাবীহ আদায় করাকে তোমাদের জন্য পুণ্যের কাজ করে দিয়েছেন।
(সহীহুল বুখারী; সহীহ মুসলিম; সহীহ ইবনে খুযাইমাহ; বায়হাকী- শু’আবুল ঈমান)

তারাবীহ সালাতের রাকাত নিয়ে বিতর্ক
ইসলামের সোনালী যুগ থেকে সর্বযুগের উম্মাহ তারাবীহ বিশ রাকাত আদায় করে আসছেন। এ নিয়ে কোনো মতবিরোধ কিংবা বিতর্ক না থাকলেও ইদানিং বিশেষ একটি ফিরকার দাবিদারগণ তারাবীহের রাকাত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। তাদের দাবিমতে তারাবীহ মূলত আট রাকাত। এখন তারাবীহের রাকাত নিয়ে মুসলিম সমাজে বিতর্ক চরম তুঙ্গে। রমযান ও তারাবীহের বরকত-ফযীলত অর্জনে যতœবান না হয়ে তারাবীহের রাকাত সংখ্যার পিছে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
মূলতঃ তারাবীহ বিশ রাকাত নাকি আট রাকাত, প্রশ্ন সেটি নয়; বরং প্রশ্ন হচ্ছে তারাবিহ আছে কি নেই!
আমরা বলি- তারাবীহ আছে। বিশেষ একটি ফিরকার লোকদের মতে তারাবীহ নেই। অবশ্য তারা তারাবীহ না থাকার কথাটা সরাসরি বলেন না। আর এ কারণেই এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির শেষ নেই।
নবী ও সাহাবা যুগ থেকেই তারাবীহ বিশ রাকাত আদায় হয়ে আসছে। উম্মাহর সর্বযুগে এ আমলই বিদ্যমান।

আট রাকাত দাবিদারদের প্রমাণ
উক্ত বিশেষ ফিরকার লোকেরা তারাবীহের সালাত আট রাকাত হওয়ার ব্যাপারে শক্ত দাবি করেন। এ দাবির স্বপক্ষে তারা নিম্নে উল্লেখিত উ¤মূল মুমিনীন আয়েশা রাযি. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি প্রমাণ হিসেবে পেশ করে থাকেন। হাদীসটির মূলপাঠ নিম্নরূপঃ
عن أبى سلمة بن عبد الرحمن أنه سأل عائشة رضى الله عنها كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فى رمضان؟ فقالت: ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد فى رمضان وال فى غيره على إحدى عشرة ركعة، يصلى أربعا، فلا تسل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلى أربعا، فلا تسل عن حسنهن و طولهن، ثم يصلى ثلاثا، قالت عائشة: فقلت يارسول الله! أتنام قبل أن توتر؟ فقال يا عائشة! إن عينى تنامان ولا ينام قلبى.
(সহীহুল বুখারীঃ হা- ১১৪৭, ২০১৩, ৩৫৬৯)
অর্থঃ একবার আম্মিজান আয়েশা রাযি.কে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রমযানের রাতের সালাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। উত্তরে আয়েশা রাযি. বললেন- নবীজি এগারো রাকাতের বেশি আদায় করতেন না…
উপরোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় তারা বলেন- নবীজির এই এগারো রাকাতের মধ্যে আট রাকাত হলো তারাবীহ এবং তিন রাকাত ছিলো বিতর। সুতরাং তারাবীহের সালাত আট রাকাত বলেই প্রমাণিত হয়।

উক্ত হাদীসে সুক্ষ্ম জালিয়াতিঃ একটি বিশ্লেষণ
এ ফিরকার লোকেরা তারাবীহের সালাত আট রাকাত প্রমাণিত করার লক্ষ্যে ওপরের যে হাদীসটি উল্লেখ করে থাকেন, এখানে একটি ছোট বাক্যকে গোপন করে তারা সুক্ষ্ম জালিয়াতির আশ্রয় নেন। অথচ এ হাদীসের মধ্যেই তাদের জালিয়াতির জওয়াব রয়েছে।
এখানে আম্মিজান আয়েশা রাযি.কে রমযানের রাতের সালাত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিলো। আর আয়েশা রাযি. বুঝতে পেরেছিলেন, প্রশ্নকারী নবীজির তাহাজ্জুদের সালাত সম্পর্কেই জানতে চাইছেন। তাই তিনি তাহাজ্জুদ আট এবং বিতর তিন- এভাবে মোট এগারো রাকাতের কথা জানিয়েছিলেন। উত্তর পেয়ে প্রশ্নকারীও সন্তুষ্ট হয়ে বিদায় নিলেন।
এখন কথা হলো- আয়েশা রাযি.-এর হাদীসে তাহাজ্জুদের কথাই বলা হয়েছে, এটা কীভাবে প্রমাণিত হয়?
প্রকৃতপক্ষে আম্মিজান আয়েশা রাযি.-এর উত্তরে সিদ্ধান্তমূলক যে বাক্যটি রয়েছে, তারাবীহ আট রাকাতের দাবিদারগণ সেটা সুকৌশলেই এড়িয়ে যান। সে বাক্যটি হচ্ছে-
ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد فى رمضان وال فى غيره-
অর্থাৎ এটা ছিলো নবীজির বারো মাসের আমল। অর্থাৎ সাধারণত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ও রমযানের বাইরে সর্বদা তাহাজ্জুদ আট রাকাতই আদায় করতেন; এর বেশি করতেন না।
এখন প্রশ্ন হলো, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বারো মাসই তারাবীহ আদায় করতেন?
-তারা বলবেন, ‘না’।
-তাহলে কেনো বলছেন, এটা তারাবীহ সংক্রান্ত হাদীস?তারা তখন এদিক ওদিক করে বলার চেষ্টা করেন, তারাবীহের সালাত আট রাকাতই। এই আট রাকাত রমযানে হয় তারাবীহ এবং রমযানের বাইরে বাকি এগারো মাসে এটাই হয় তাহাজ্জুদ। মোটকথা, তারাবীহ নামে আলাদা কোনো সালাতের অস্বিত্বই তারা স্বীকার করতে রাজি না। এগারো মাসের তাহাজ্জুদের সালাতকে রমযানে তারা তারাবীহ নাম দিয়ে চালিয়ে দিতে চান।

মূলত তারাবীহ কত রাকাত?
এখানে যে ব্যাপারটি মনে রাখতে হবে- সেটি হলো, যে হাদীসগুলোতে রমযানের রাতের সালাতের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোতে রাকাতের কথা উল্লেখ নেই। অপরদিকে যেসব হাদীসে রাকাতের কথা আছে, সেগুলোতে সময়ের কথা উল্লেখ নেই। যার ফলে আট এবং বিশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

তবে তারাবীহ সংক্রান্ত যতগুলো হাদীস আছে, এগুলোর কোনোটায় কিয়ামুল লাইল আবার কোনোটায় কিয়ামু রামাযান বলে তারাবীহের কথা বুঝানো হলেও একটি মাত্র হাদীসে তারাবীহ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। আর সেই হাদীসেই বিশ রাকাতের কথা উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।
সাইয়্যিদুনা আলী রাযি. কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে-
عَنْ زيد بن علي عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ ، ” أَنَّهُ أَمَرَ الَّذِي يُصَلِّي بِالنَّاسِ صَلَاةَ الْقِيَامِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ أَنْ يُصَلِّي بِهِمْ عِشْرِينَ رَكْعَةً ، يُسَلِّمُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ ، وَيُرَاوِحُ مَا بَيْنَ كُلِّ أَرْبَعِ رَكْعَاتٍ فَيَرْجِعُ ذُو الْحَاجَةِ ، وَيَتَوَضَّأُ الرَّجُلُ ، وَأَنْ يُوتِرَ بِهِمْ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ حِينَ الِانْصِرَافِ ” .
الكتاب :مسند زيد، كتاب الصلاة، باب القيام فى شهر رمضان
আলী রাযি. লোকজনকে রমযানে রাতের সালাত বা তারাবীহ সম্বন্ধে নির্দেশ দিতে গিয়ে বললেন- তোমরা এই সালাত বিশ রাকাত আদায় করবে, প্রতি দু’ রাকাত পরপর সালাম ফিরাবে এবং প্রতি চার রাকাত শেষ করে নতুন চার রাকাত শুরু করার মধ্যখানে বিশ্রাম নিবে… । (মুসনাদে ইমাম যায়েদ)
এই একটি মাত্র হাদীসই পাওয়া যায়, যেখানে তারাবীহ শব্দ (يُرَاوِحُ) এবং সাথে রাকাত সংখ্যাও ( عِشْرِينَ) বলা আছে।

প্রাসঙ্গিক একটি বিশ্লেষণ
কুরআনে তো বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুসলিমদের কিবলা’ বলা হয়েছে। অথচ এখন সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করলে তা আদায় হবে না। কারণ এ বিধান নবীযুগেই রহিত হয়ে গেছে।
সহীহুল বুখারীতে দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করা সম্পর্কে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তাই বলে কি সাধারণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করা যাবে?? কখনোই নয়। কারণ দাঁড়িয়ে প্রশ্রাব করা বিশেষ অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট।
কুরআনে কারীমে পরিষ্কার বলা আছে, মুশরিক লোকদেরকে যেখানে পাও, হত্যা করো। অথচ এটাই কি ইসলামের বিধান?
উত্তর হলো- না। কারণ এই আয়াতের কার্যকারিতা আগেই রহিত হয়ে গেছে।
কুরআন ও হাদীসে এ জাতীয় উদাহরণ আরো আছে।

এর দ্বারা বুঝা গেলো, কুরআন কিংবা হাদীসে থাকলেই যথেষ্ট হবে না; বরং এর সংশ্লিষ্ট বিধান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির আলোকে আরো কিছু যাচাই করতে হবে। যথা- আগে দেখতে হবে- এ সব আয়াত কিংবা হদীসের কোনটা নাসিখ (রহিতকারী) এবং কোনটা মানসুখ (রহিত)। অর্থাৎ বর্তমানে কোনটি আমলযোগ্য আর কোনটি রহিত। আর এটা জানার পদ্ধতি দুটি। সেগুলো হলোঃ
এক. যদি নবীজি নিজে সমাধান দিয়ে যান, তাহলে তো আর কোনো কথা নেই; ওটাই চূড়ন্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে।
দুই. অথবা দেখতে হবে, সাহাবায়ে কেরাম কোনটার ওপর আমল করেছিলেন।
সুতরাং সে আলোকে দেখা যায়, নববী যুগে এই ব্যাপারে পরিস্কার কোনো ফয়সালা না থাকার কারণে ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. সমস্ত সাহাবায়ে কেরামের উপস্থিতিতে সবার সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তারাবীহ হবে বিশ রাকাত। আলী রাযি.ও জানিয়েছেন, তারাবীহ বিশ রাকাত।
সুতরাং বুঝা গেলো, সাহাবীগণের ইজমার ভিত্তিতে তারাবীহের রাকাত বিশ রাকাতই নির্ধারিত হয়েছে। এ নিয়ে ওই সময়ে বা পরবর্তীতে সাহাবীদের কেউই কোনো আপত্তি কিংবা প্রতিবাদ করেননি। অথচ তখন নবীজির অনেক সাহাবী মদীনা মুনাওয়ারায় জীবিত ছিলেন।
অতএব নবীজির সাহাবীগণের আমল ও সিদ্ধান্তের আলোকে তারাবীহের সালাত বিশ রাকাতই প্রমাণিত হয়।

ব্যাকরণ ও যুক্তির আলোকে তারাবীহ বিশ রাকাত
বাংলা উচ্চারণে আমরা তারাবীহ বলি। শব্দটি আসলে তারউয়ীহ। তারউয়ীহ তারউয়িহাতুন শব্দের বহুবচন। তারউয়িহাতুন শব্দের অর্থ বিশ্রাম। অতএব তারাউয়ীহ মানে বিশ্রাম সমূহ।
বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় বচন দুই প্রকার। একবচন ও বহুবচন। কিন্তু আরবী ভাষায় বচন মোট তিন প্রকার। ওয়াহিদ, তাসনিয়া ও জমা; অর্থাৎ একবচন দুইবচন এবং বহুবচন।

বাচনিক ব্যাখ্যার কারণ এই-
তারাবীহকে তারাবীহ বলা হয় কারণ হলো, এই সালাত বিশ্রাম করে করে আদায় করতে হয়। অর্থাৎ প্রতি চার রাকাত পরপর বিশ্রাম নিতে হয়। একবার বিশ্রাম হলে সেটাকে আরবীতে তারউয়িহা বলে। অপরদিকে দুইবার বিশ্রাম নিলে সেটাকে তারউয়ীহাতান এবং কমপক্ষে তিনবার বিশ্রাম নেওয়া হলে তাকে তারাবীহ বলা হয়।
এখন তারাবীহের সালাত চার রাকাত হলে তারবীহ নামটিই সঠিক হয় না; তখন বলতে হবে তারউইহা। কারণ এক্ষেত্রে বিশ্রাম মাত্র একবার হচ্ছে। অপরদিকে তারবীহের সালাত আট রাকাত হলে সেটাকে তারাবীহ না বলে বলতে হবে তারউয়িহাতান।কারণ এখানে চার রাকাত পরপর দুইবার বিশ্রাম পাওয়া গেছে। আর তারউইহা এর দ্বি-বচন হলো তারউইহাতান।
আবার তারাবীহের সালাত বারো রাকাত হলে সেটাও তারাবীহ হবে না। ব্যাকরণিক-ভাবে তিন বিশ্রাম অর্থে বারো রাকাতে তারাবীহ শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ হলেও সেটাকেও মূলত তারাবীহ বলা যাবে না। কারণ তারাবীহকে তারাবীহ বলতে হলে কমপক্ষে চারবার বিশ্রাম নেওয়া লাগবে। আলী রাযি. বর্ণিত হাদীসে লক্ষ্য করলে বিষয়টি বুঝা যায়। যথা- হাদীসে মূল বাক্যটি হচ্ছে-
وَيُرَاوِحُ مَابَيْنَ كُلِّ أَرْبَعِ رَكْعَاتٍ-
অর্থাৎ দু’টি চার রাকাতের মাঝখানের বিশ্রামকে তারউয়িহা বলা হয়। এই অর্থে কম করে হলেও ১৬ রাকাত আদায় না করলে তারাবীহ শব্দের প্রয়োগই সঠিক হয় না।
অতএব যৌক্তিকভাবেও তারাবীহের সালাত আট রাকাত হতেই পারে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.