লাইলাতুল বারাআতঃ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির কবলে পূণ্যময় এক রজনী- আব্দুল্লাহ আল মাসূম

0
369
Lailatul Bara at
Lailatul Bara at

লাইলাতুল বারাআত একটি পূণ্যময় রাত। আরবী অষ্টম মাস শাবানের ১৪ তারিখের দিবাগত রাতকে লাইলাতুল বারাআত বলা হয়। সমাজে লাইলাতুল বারাআত নাম প্রচলিত থাকলেও হাদীসের ভাষায় এ রাতকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান (শাবানের ১৫ তম রাত্রি) নামে অভিহিত করা হয়েছে। এ রাতে করণীয় সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাই লাইলাতুল বারাআতের মর্যাদা ও ফযীলতকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলা ঠিক নয়।
লাইলাতুল বারাআত নিয়ে আমাদের সমাজে যেমন আছে বাড়াবাড়ি, ঠিক তেমনি আছে ছাড়াছাড়িও। সমাজের এক শ্রেণির মানুষ পূণ্যময় এ রজনীকে এমনভাবে উদযাপন করে, যা সম্পূর্ণ ইসলাম বহির্ভূত। তারা এই পবিত্র রাতে এমন সব কাজ-কর্ম করে, যা সুস্পষ্ট বিদ’আাত ও না-জায়েয। যারা এ রাতকে কেন্দ্র করে বাড়াবাড়ি করেন- তারাই মূল ইবাদাত ও আমলকে এড়িয়ে এসব প্রচলিত মনগড়া প্রথা এবং বিদ’আত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

Baytul Mularrom
Baytul Mularrom

অপরদিকে আরেক শ্রেণির মানুষ এ রাত সম্পর্কে উদাসীন হয়ে যান- তারা বলে থাকেন- কুরআন-হাদীসে লাইলাতুল বারাআত সম্পর্কে সহীহ কোনো বর্ণনা নেই। তাই তারা এ রাতকে অন্যান্য সাধারণ রাতের মতো ধারণা করে থাকেন। এসব লোকেরা এ রাতের ফযীলতকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন প্রচার করে নিজেরা যেমন নফল ইবাদত থেকে দুরে থাকেন, অপরকেও ইবাদত থেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
প্রকৃতপক্ষে এই বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি কোনোটাই ইসলাম সমর্থন করে না। সমাজের কিছু সংখ্যক নামধারি আলিমও দাবি করেন যে, লাইলাতুল বারাআতের কোনো ফযীলত প্রমাণিত নয়। অথচ এ কথা মারাত্মক ভুল। কারণ প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তত ১০ জন সাহাবী থেকে লাইলাতুল বারাআতের ফযীলত সম্পর্কিত হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

Shab e bara at 1
Shab e bara at

নবীজির এ সব সাহাবীগণের সূত্রে প্রায় ১৫টিরও বেশি মুসনাদ (সনদযুক্ত) কিতাবে লাইলাতুল বারাআত সম্পর্কে ২০ টিরও অধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সনদের বিচারে এ হাদীসগুলোর কোনোটা দুর্বল হলেও সমার্থক অন্যান্য হাদীসগুলোর সমন্বয়ে এ সব হাদীস হাসান এবং গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে উন্নীত।
সুতরাং লাইলাতুল বারাআতের ফযীলত এবং এই রাতের ইবাদতকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন তথা বিদ’আত বলা কোনোক্রমেই সংগত নয়। এ রাতে জেগে থেকে নফল ইবাদাত-বন্দেগি করা পুণ্যময় কাজ। তবে ইসলামে এ রাতের ইবাদাতের জন্য বিশেষ কোনো নিয়ম-নীতি নেই।

হাদীসের বর্ণনায় লাইলাতুল বারাআত

সাহাবী মু’আয ইবনে জাবাল রাযি. সূত্রে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

يطلع الله إلي خلقه في ليلة النصف من شعبان- فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن-

অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তা’আলা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক-বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।

(সহীহ ইবনে হিব্বানঃ হা- ৫৬৬৫; আল মু’জামুল কাবীর- তাবারানীঃ ২০/১০৯, ২২/২২৪; আল-মু’জামূল আওসাত- তাবারানীঃ হা-৬৭৭৬; শু’আবুল ঈমান-বায়হাকীঃ হা-৬৬২৮; আস-সুন্নাহ- ইবনে আবি আসেমঃ হা-৫১২)

আসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর তাঁর পিতার সনদে দাদা সাহাবী আবু বকর রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
আল্লাহ তা’আলা শাবানের ১৫ তম রাত্রে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন এবং সকল পাপীকে (যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে) ক্ষমা করে দেন। তবে মুশরিক (আল্লাহ তা’আলার সাথে অপর কাউকে সমকক্ষ সাব্যস্তকারী) ও মুশহিন (হিংসুক) ব্যতীত। (শু’আবুল ঈমান-বায়হাকীঃ হা-৩৮৩৫)

লাইলাতুল বারাআত সম্পর্কে অন্যান্য হাদীসের সূত্রাবলী

সাহাবী মু’আয ইবনে জাবাল রাযি., আবু সালামা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি., আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি., আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি., আবু উমামা রাযি., আবু মুসা আশ’আরী রাযি., আবু হুরায়রা রাযি., আবু বকর রাযি., আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি, উসমান বিন আবিল আস রাযি., আউফ ইবনে মালিক রাযি., ও উ¤মূল মুমিনীন আয়েশা রাযি., আবু মুসা রাযি., আবু সা’লাবাহ রাযি. প্রমুখ সকলেই এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাদীস বিশারদগণ উপরোক্ত হাদীসগুলোর বর্ণনাকারীগণকে বিশ্বস্ত ও গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

(সুনানে তিরমিযীঃ হা-৭৩৯; সুনানে ইবনে মাজাহঃ হা-১৩৮৯, ১৩৯০; মুসনাদে আহমাদঃ হা-৬৬৪২, ২৬০৬০; মুসনাদে আবদে ইবনে হুমাইদঃ ১৫০৯; শু’আবুল ঈমান-বায়হাকীঃ হা-৩৮২৪, ৩৮২৭, ৬৬২৮; আল মু’জামুল কাবীর- তাবারানীঃ ২০/১০৮, ২২/২২৪; সহীহ ইবনে হিব্বানঃ হা-৫৬৬৫; আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব- মুনযারিঃ খন্ড-২, পৃ-১১৮; মাজমা’উল ফাওয়ায়েদঃ খন্ড-৮, পৃ-৬৫; মুসনাদে বাযযারঃ হা-৮০; তারীখে বাগদাদ- খতীবঃ ১৪/২৮৫; মুসনাদুল ফিরদাউস-দায়লামীঃ হা-৫৩৯, ২৯৭৫; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাকঃ হা-৭৯২৭)

সালাফে সালেহীনের বক্তব্য ও আমল

ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন-
وأما ليلة النصف فقد روي في فضلها أحاديث و آثار ونقل عن طائفة من السلف أنهم كانوا يصلون فيها- فصلاة الرجل فيها وحده فقد تقدمه فيه سلف- وله فيه حجة- فلا ينكر مثل هذا-
অর্ধ শাবানের ফযীলত সম্পর্কে অনেক মারফু হাদীস ও আসার (সাহাবীগণের বক্তব্য) বর্ণিত হয়েছে। যেগুলো দ্বারা এ রাতের ফযীলত ও মর্যাদা প্রমাণিত হয়। সালাফে সালেহীনের কেউ কেউ এ রাতে নফল সালাতে মগ্ন হতেন। আর শাবানের সিয়ামের ব্যাপারে তো অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

(ইকতিযাউস সিরাতিল মুসতাকীমঃ ২/৬৩১)

ইবনে রজব রহ. এ প্রসঙ্গে বলেন-
وليلة النصف من شعبان كان التابعون من أهل الشام كخالد بن معدان و مكحول و لقمان بن عامر و غيرهم يعظمونها و يجتهدون فيها في العبادة- وعنهم أخذ الناس فضلها و تعظيمها-
শাবানের ১৫ তম রাতকে খালিদ বিন মা’দান, মাকহুল ও লুকমান বিন আমেরসহ সিরিয়ার অন্যান্য তাবেয়ীগণ সম্মান জানাতেন এবং এ রাতে ইবাদতের প্রতি মনোনিবেশ করতেন। লোকজন এ রাতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং এ রাতের ফযীলত তাদের কাছ থেকেই গ্রহণ করেছেন।

(লাতাইফুল মা’আরিফ- ইবনে রজবঃ ১৬১)

লাইলাতুল বারাআতে ক্ষমার সুযোগ থেকে যারা বঞ্চিত হয়

উপরোক্ত হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ী লাইলাতুল বারাআতে আল্লাহ তা’আলা সব ধরণের পাপ ক্ষমা করে দেন। তবে এর জন্য অন্তরে অনুশোচনা ও আল্লাহ তা’আলার দরবারে রোনাযারি করতে হবে। কিন্তু এরপরেও এই পুণ্যময় রাতে দুই ধরণের লোক ক্ষমাপ্রাপ্ত হয় না। মহাসুযোগের এ পুণ্যময় রাতে তাদের চেয়ে হতভাগা আর কেউ নেই। প্রথমতঃ মুশরিক; যে আল্লাহ তা’আলার সাথে অন্য কাউকে সমকক্ষ মনে করে। দ্বিতীয়তঃ হিংসুক ব্যক্তি; যে স্বীয় অন্তরে অপর মুসলিম ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে।

লাইলাতুল বারাআতে করণীয় ও আমল

সাহাবী আলী বিন আবি তালিব রাযি. সূত্রে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
১৫ শাবানের রাত যখন হয়, তখন তোমরা এ রাতে ইবাদত-বন্দেগি পালন করো এবং পরের দিনে সিয়াম রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তা’আলা প্রথম আসমানে এসে বলেন- কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো; কোনো রিযিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিযিক প্রদান করবো। আছে কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করবো। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্ল¬াহ তা’আলা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।

(সুনানে ইবনে মাজাহঃ হা-১৩৮৮)

লাইলাতুল বারাআতের পরের দিন তথা শাবানের ১৫ তারিখে সিয়াম রাখার বিষয়ে শুধু এই একটি হাদীসই রয়েছে। আর এ হাদীসটির সনদ দুর্বল। তবে যেহেতু পুরো শাবান মাসে সিয়াম রাখার ফযীলত প্রমাণিত এবং ১৫ তারিখটি আইয়ামে বীযের অন্তর্ভূক্ত; আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই চন্দ্র মাসের আইয়ামে বীযের সময় তথা ১৩, ১৪ এবং ১৫ তারিখে সিয়াম রাখতেন, তাই এই তারিখে সিয়াম রাখলে ফযীলত ও সাওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়।

লাইলাতুল বারাআতে নিজের সাধ্যমতো আল্লাহ তা’আলার প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ করে নফল ইবাদাতে মগ্ন থাকা উচিত। নিজের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হিদায়াত ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করে আল্লাহ তা’আলার দরবারে রোনাযারি এবং এর সাথে সাথে সব ধরণের পপা-পঙ্কিলতা থেকে তাওবা ও ইসতিগফার করা কর্তব্য। তবে এর জন্য দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে অবস্থান কিংবা ঘরে সমবেত হওয়া যাবে না। কারণ নফল ইবাদত ও নেক আমলের মৌলিক নীতিই হলো একাকিত্ব বরণ করা। অর্থাৎ এ জাতীয় নেক আমল ও নফল ইবাদাত যত একা একা আদায় করা যাবে, ততই তা আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রিয় ও গ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত হবে।

এছাড়া এ রাতে কবরস্থানে গমন করা আবশ্যক নয়। এ লক্ষ্যে কবর যিয়ারতকে রুসম বা রেওয়াজে পরিণত করা যাবে না। কারণ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপিসারে একাকী জান্নাতুল বাকিতে কবর যিয়ারত করেছেন। এর জন্য তিনি আয়েশা সিদ্দিকা রাযি.-কে নিদ্রা থেকে জাগ্রত করেননি। নিজের কোনো সাহাবীকে ডেকে জান্নাতুল বাকীতে নিয়ে যাননি। পরবর্তীতেও তিনি লাইলাতুল বারাআতে কবর যিয়ারত করার কথা বলেননি। তাই এই রাতে দলবদ্ধ ছাড়া একাকীভাবে কবর যিয়ারতে কোনো বাধা নেই।
পুণ্যময় এই রাতে শরীয়তের বিধান অনুসারে কাম্য হলো- একাকী সালাত আদায় করা, দো’আ-দরুদ ও ইসতিগফার করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা। এছাড়া নিজের সাধ্য অনুযায়ী অন্যান্য ইবাদত করা। মোটকথা, আনুষ্ঠানিকতা ও জামাত ছাড়া একাকীভাবে সামর্থ্যানুযায়ী নফল ইবাদত-বন্দেগী করা যাবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। এর জন্য মসজিদে গিয়ে সমবেতভাবে ইবাদতের কোনো প্রয়োজন নেই।

M. Tareq Jamil
M. Tareq Jamil

লাইলাতুল বারাআতে বর্জনীয়

লাইলাতুল বারাআত উপলক্ষে আলাদা সুনির্দিষ্ট কোনো সালাত কিংবা নির্দিষ্ট সুরা দিয়ে নির্দিষ্ট রাকাত কোনো সালাত আদায় করার নিয়ম ইসলামে নেই। নির্ধারিত রীতিতে কোনো মাহফিল অথবা বিশেষ দো’আ আয়োজনেরও কোনো বিধান নেই। সমাজে প্রচলিত এ জাতীয় কর্মকান্ড প্রথার অন্তর্ভুক্ত। ইসলামে এগুলোর কোনো অনুমোদন নেই। নববী যুগ থেকে শুরু করে সাহাবীগণ ও তাঁদের উত্তরসুরীদের যুগে এসব প্রথার কোনো অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায় না।

লাইলাতুল বারাআতের নামে রাস্তা-ঘাটে পটকা ফুটানো হয়, আতশবাজি করা হয়। এ রাতে ঘর-বাড়ি এবং মসজিদে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা হয়। মরিচ লাইট-তারাবাতি ও বিভিন্ন রকমের আধুনিক নয়ানাভিরাম বর্ণিল বাতির ঝাড়ে এলাকা আলোকিত করা হয়। বাসা-বাড়ির ফটকে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগরবাতি-মোমবাতি জ্বালানো হয়। সব জায়গায় গোলাপজল ছিটানো হয়। কবরে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পক্ষ থেকে পুষ্প অর্পন করা হয়।

এছাড়া বাসাবাড়িতে খিচুড়ি-হালুয়া রুটি কিংবা এ জাতীয় নির্দিষ্ট কোনো তাবারুক তৈরি ও মিষ্টান্ন বিতরণের ধুমধামে সবাই মত্ত থাকে। রাস্তা-ঘাটে, হাটবাজারে যুবকদের আড্ডাবাজি এবং অশূচি প্রতিযোগিতা ব্যাপকহারে পরিলক্ষিত হয়। এ সকল কাজ গর্হিত ও শরিয়ত পরিপন্থী। এগুলো অবশ্যই বর্জনীয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.