সফর মাসের শেষ বুধবারঃ আখেরি চাহার শোম্বাহ প্রসঙ্গ

0
572
Akheri Chahar Shombah
Akheri Chahar Shombah

‘আখেরি চাহার শোম্বাহ’ ফারসী ভাষার শব্দ। ফারসী ভাষায় ‘আখেরি’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শেষ এবং ‘চাহার শোম্বাহ’ শব্দের অর্থ বুধবার। প্রচলিত পরিভাষায় ‘আখেরি চাহার শোম্বাহ’ বলতে সফর মাসের শেষ বুধবারকে বুঝায়। অনেক মুসলমান এই দিনটিকে আনন্দ ও খুশীর দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। তারা এ দিনে বিশেষ আমল আছে বলে মনে করে থাকে। অথচ এর মূল কারণ ও বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের নুন্যতম ধারণাও নেই।
বাংলাদেশের এক শ্রেণীর সাধারণ মুসলমান- যারা সহীহ ইলম এবং হক্কানী আলিমগণের প্রকৃত পরিচয় ও তাদের সংস্পর্শ থেকে ব্যাপকভাবে বঞ্চিত- তাদের কাছে কিছু অনির্ভরযোগ্য বই-পুস্তিকা পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে কুরআন-সুন্নাহর সহীহ বিবরণ থেকে বিচ্যুত ও ইসলামী শরীয়ত কর্তৃক বিবর্জিত অনির্ভরযোগ্য আলোচনা এবং প্রচলিত রসম-রেওয়াজের উল্লেখ ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়। এসব বইয়ের মধ্যে ‘মকসুদুল মুমিন’ ও ‘বারো চাঁদের ফযীলত ও আমল’ সর্বাধিক প্রচলিত। উক্ত দুটি বইয়ে আলোচ্য বিষয়বস্তু তথা- আখেরি চাহার শোম্বাহ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে- এর কোনো ভিত্তি নেই।
অথচ খাইরুল কুরূন অর্থাৎ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীনদের যমানায় ‘আখেরি চাহার শোম্বাহ’-এর নামে যা করা হয়- এগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিলো না।
আবার খাইরুল কুরূনের হাজার বছরেরও বহু পরে উদ্ভাবিত এই রসম-প্রথার পৃষ্ঠপোষকতা যারা করে আসছে- তাদের এ বিষয়ে দেওয়া মতামতও এই ভিত্তিহীন বিষয়ের ভিত্তি অনুসন্ধানে বিভিন্নমুখী।

আখেরি চাহার শোম্বাহ সম্পর্কে ‘মকসুদুল মুমিন’ বইয়ে বলা হয়েছে-
“এই মাসের শেষ বুধবারকে আখেরী চাহার শোম্বাহ বলা হয়। (আখেরী শব্দের অর্থ শেষ এবং চাহার শোম্বাহ শব্দের অর্থ বুধবার) হিজরী একাদশ সনের সফর মাসের শেষভাগে নবী করীম (দা.) অত্যন্ত অসুস্থ এবং পীড়িত হইয়া পড়েন। তারপর এই মাসের শেষ বুধবার দিন তিনি শরীরে একটু সুস্থবোধ করায় গোছলাদি করতঃ কিছুটা শান্তি লাভ করেন।
এই গোছলই হুযুরের জীবনের শেষ গোছল ছিল। ইহার পর তাঁহার জীবনে আর গোছল করার ভাগ্য হয় নাই। অতএব এই দিন মুসলমানদের বিশেষভাবে গোছলাদি করতঃ নফল নামায এবং রোযা ইত্যাদি আদায় করতঃ নবী করীম (দা.) এর রূহের উপর ছওয়াব বখশেষ করা উচিত।”

অন্যদিকে ‘বারো চাঁন্দের ফজিলত- আমলিয়াত ও ঘটনা’ বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে-
“রাসুলে করীম (সা.) ওফাতের আগের মাসের শেষ দিকে অসুস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সফর মাসের শেষ তারিখ তিনি কতকটা সুস্থবোধ করেছিলেন। এতদসম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, সফর মাসের ২৭ অথবা ২৮ তারিখ সকাল বেলা ঘুম হতে জেগে হযরত রাসুলে করীম (সা.) বললেন, আমার কাছে কে আছে? এটা শ্রবণ করত হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) ছুটে এসে আরজ করলেন, ‘আমার মাতাপিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আমি হাজির আছি।’ তখন হুযুর (সা.) বললেন, ‘আয়েশা! আমার শিরঃপীড়া যেনো দূর হয়েছে এবং দেহও কিছুটা হালকা মনে হচ্ছে। আমি আজকে সুস্থতাবোধ করছি।’
এটা শুনে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) খুবই আনন্দিত হলেন। অতঃপর হযরত রাসূলে করীম (সা.) পানি এনে আপন মাথা মোবারক ধুয়ে সর্বাঙ্গে পানি ঢেলে দিলেন। গোসলের দ্বারা অনেক দিনের অসুখের দরুন ক্লান্তি ও অবসাদ হুযুরের বদন মোবারক হতে দূর হয়ে গেল।
রাসূলে করীম (সা.) বললেন, ‘আয়েশা! কিছু খাবার আছে কি? হযরত আয়েশা (রা.) বললেন, ‘জী হাঁ কিছু রুটি পাকানো আছে।’ নবী করীম (সা.) বললেন, ‘আমার জন্য তা নিয়ে আসো। আর ফাতিমা (রা.)-কে খবর দাও সে যেন তাঁর পুত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইনকেও সাথে নিয়ে আমার নিকট তাড়াতাড়ি চলে আসে। হযরত আয়েশা (রা.) হযরত ফাতিমা (রা.)-কে খবর দিলেন, আর গৃহে যে খাবার যোগাড় ছিল রাসূলে করীম (সা.)- এর খেদমতে হাজির করলেন।
ইতোমধ্যে হযরত ফাতিমা (রা.) পুত্রদ্বয়কে সাথে নিয়ে হুযুর (সা.)-এর দরবারে হাজির হলেন। হযরত রাসূলে করীম (সা.) হযরত ফাতিমাকে নিজের গলার সঙ্গে জড়িয়ে ¯েœহের পরশ বুলালেন, আর নাতিদ্বয়ের পেশানিতে (কপালে) চুমা খেয়ে তাদেরকে নিজের আহারে শরিক করলেন। কয়েক গ্রাস আহার গ্রহণ করার পর হুযুর (সা.)-এর অন্যান্য বিবিগণ সেখানে এসে হাজির হলেন এবং সাহাবীগণও তথায় উপস্থিত হলেন।
হুযুর (সা.) তখন সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে আবেগপূর্ণ গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আমার সাহাবীগণ! হে আমার ভাইগণ! আমার ওফাতের পর আমার অবর্তমানে তোমাদের অবস্থা কিরূপ হবে?’ এটা শ্রবণ করত সাহাবায়ে কেরামগণ আকুল হয়ে কাঁদতে শুরু করে দিলেন। তাঁদের এই ব্যাকুলতা দেখে হযরত রাসূলে করীম (সা.) তাঁদেরকে সান্তনা দিলেন এবং সকলের পক্ষ হতে তিনিই সর্বপ্রথম আল্লাহর দরবারে হাজির হচ্ছেন বলে উক্তি করলেন।
এটা শুনে সাহাবীগণ শান্ত ও আশ্বস্ত হলেন। অতঃপর হযরত রাসূলে করীম (সা.) মসজিদে নববীতে হাজির হয়ে তখনকার ওয়াক্তিয়া নামাজের ইমামতি করলেন। এতে সাহাবায়ে কেরামগণ অত্যাধিক খুশী হলেন।
হযরত রাসূলে করীম (সা.) বহুদিন রোগ ভোগের পর সুস্থ হয়ে মসজিদে নববীতে হাজির হয়ে নামাজের ইমামতি করেছেন- এ আনন্দে অনেক সাহাবী আপন আপন সামর্থ্য অনুযায়ী অনেক অর্থ-সম্পদ দানÑখয়রাত করলেন। কোনো কোনো বর্ণনা হতে জানা যায় যে, এ আনন্দে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) সাত হাজার দীনার, হযরত ওমর ফারূক (রা.) পাঁচ হাজার দীনার, হযরত ওসমান (রা.) দশ হাজার দীনার, হযরত আলী (রা.) তিন হাজার দীনার এবং হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) একশত উট ও একশত ঘোড়া আল্লাহর রাহে দান-খয়রাত করেছিলেন। সাহাবায়ে কেরামগণের নীতি অনুসরণে এখনও মুসলমানরা আখিরী চাহার শম্বা পালন করে আসছেন।
নবী করীম (সা.)-এর এই দিনেরই গোসলই জীবনের শেষ গোসল ছিল। এরপর আর তিনি জীবিতকালে গোসল করেননি। তাই সকল মুসলমানের জন্য এই দিবসে অজু-গোসল করত ইবাদত-বন্দেগি করা উচিত এবং নবী করীম (সা.)-এর প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করত ছওয়াব রেসানী করা কর্তব্য।”

এরপর এই দিন সম্পর্কে বিভিন্ন করণীয় ও আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে- যেগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন। যেমনিভাবে উপরোক্ত উভয় বিবরণও ভিত্তিহীন। এখানে কয়েকটি বিষয় আমাদের জন্য লক্ষ্যণীয়। যথা-
– নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর একবার এক ইয়াহুদী জাদু করেছিলো। এটা ছিলো হুদায়বিয়ার সন্ধির পরে মুহাররম মাসের প্রথম দিকের ঘটনা। এ জাদুর প্রভাব কতোদিন ছিলো- এ সম্পর্কে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এক বর্ণনায় ছয় মাসের কথা এসেছে, আর অন্য বর্ণনায় এসেছে চল্লিশ দিনের কথা। কিন্তু এই দুই বিবরণের মাঝে কোনো সংঘর্ষ নেই। কারণ এক বর্ণনায় জাদুর প্রভাবের পুরো সময়ের কথা এসেছে আর অপর বর্ণনায় এসেছে শুধু ওই সময়টুকুর কথা- যাতে জাদুর প্রতিক্রিয়া বেশি ছিলো।
– তবে যাই হোক, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উক্ত জাদুর ক্রিয়া থেকে সুস্থতার তারিখ কোনো হিসাব অনুযায়ীই সফর মাসের শেষ বুধবার হতে পারে না।
(ফাতহুল বারীঃ খন্ড-১০, পৃ-২৩৭; আল- মাওয়াহিবুল লুদুনিয়্যাহঃ খন্ড-২, পৃ-১৫৪; শরহুয যুরকানীঃ খন্ড-৯, পৃ-৪৪৬-৪৪৭)
– জাদুর ঘটনা হাদীস ও সীরাতের গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে এসেছে। কিন্তু সেখানে না এ কথা আছে যে, সে সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে জামাতে শরীত হতে পারেননি। আর না এ কথা আছে যে, তিনি মুআওয়াযাতাইন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) দ্বারা জাদুর প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার পর গোসল করেছেন।
– নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুস্থতার কারণে কিংবা তাঁর সুস্থতার তথ্য পেয়ে আনন্দিত হওয়া প্রত্যেক মুমিনের স্বভাবগত বৈশিষ্ট। কিন্তু তাই বলে এ কথা দাবি করা যে, সাহাবায়ে কেরাম কিংবা পরবর্তী যুগের মনীষীগণ সে আনন্দ প্রকাশের জন্য উপরোক্ত কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন অথবা একে উদযাপনের দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন- এটি জাহালত-মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। কেননা এ দাবির স্বপক্ষে দুর্বলতম কোনো দলীলও বিদ্যমান নেই।
– নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর পুরো জীবনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে অনেক বিপদ-আপদ বা মুসীবতের সম্মুখীন হয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা তাকে এ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। সান্তনা দিয়েছেন। সাহায্য করেছেন। যথা- তায়েফ ও অহুদের যুদ্ধে আহত হয়েছেন, আল্লাহ তা’আলাই তাকে সুস্থ করেছেন। একবার ঘোড়া থেকে পড়ে পায়ে ব্যথা পেয়েছেন, যার কারণে মসজিদে যেতে পারেননি, আল্লাহ তা’আলা তাকে সুস্থ করেছেন। এরকম অসংখ্য ঘটনা সীরাতের পাতায় উল্লেখ রয়েছে।
– সাহাবায়ে কেরাম থেকে ক্রমধারায় চলে আসা পরবর্তী যুগের কোথাও এসব আনন্দময় স্মৃতিগুলোতে দিবস উদযাপনের কোনো নিয়ম নেই। সুতরাং সফর মাসের শেষ বুধবারে ‘আখেরী চাহার শোম্বাহ’ দিবস উদযাপন- যার কোনো ভিত্তি নেই- কিভাবে হতে পারে?
– কোনো দিনকে বিশেষ ফযীলতের দিবস মনে করা কিংবা ওই দিনকে বিশেষ ধর্মীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা কিংবা ওই দিন বিশেষ কোনো আমল বিধিবদ্ধ রয়েছে- এমন মনে করা এই সবগুলো হচ্ছে ইসলামী শরীয়তের বিধি-বিধানের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এ বিষয়টি শরয়ী দলীল ছাড়া শুধু মনগড়া যুক্তির ভিত্তিতে কখনোই সাব্যস্ত হয় না। এটা ইসলামী শরীয়তের একটি অবিসংবাদিত মূলনীতি। তাই উপরোক্ত তথ্য ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক হলেও এ দিনকে কেন্দ্র করে রসম-রেওয়াজের প্রচলন করার কোনো বৈধতা সাব্যস্ত হয় না।
– ‘মকসুদুল মুমিন’ বইয়ে যা বলা হয়েছে- তাও সঠিক নয়। কারণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইনতিকাল হয় সোমবারে। এর চার-পাঁচ দিন আগে তাঁর সুস্থতার জন্য যে সাত কুঁয়া থেকে সাত মশক পানি আনা হয়েছিলো এবং তাঁর দেহ মোবারককে ধৌত করা হয়েছিলো- তা কি বুধবারের ঘটনা না বৃহস্পতিবারের? ইবনে হাজার রহ. এবং ইবনে কাসীর রহ. একে বৃহস্পতিবারের ঘটনা বলেছেন।
(ফাতহুল বারীঃ খন্ড-৭, পৃ-৭৪৮; কিতাবুল মাগাযীঃ ৪৪৪২; আল- বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহঃ খন্ড-৪, পৃ-১৯৩; সীরাতুন নবী- আল্লামা শিবলী নুমানীঃ খন্ড-২, পৃ-১১৩)
– যদি বুধবারের ঘটনা হয়েই থাকে- তাহলে তা সফর মাসের শেষ বুধবারে কিভাবে হচ্ছে? যারা রসম-রেওয়াজের পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন- তাদের দাবি অনুযায়ী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইনতিকাল হয়েছিলো রবীউল আওয়াল মাসের বারো তারিখে। যেদিন ছিলো সোমবার। আর রবীউল আওয়াল মাসের বারো তারিখ যদি সোমবার হয়েই থাকে- তাহলে এর আগের বুধবার তো সফর নয়; বরং তা রবীউল আওয়ালেই হচ্ছে।
– তাছাড়া এ তথ্যও সঠিক নয় যে, উক্ত বুধবারের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর গোসল করেননি; কারণ এরপর এক রাত ইশার নামাযের আগে গোসল করার কথা সহীহ হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখিত রয়েছে।
(সহীহ মুসলিমঃ হা-৪১৮; সহীহ বুখারীঃ হা-৬৮১ -এর সাথে মিলিয়ে দেখুন- আর-রহীকুল মাখতুম- সফীউদ্দীন মোবারকপুরীঃ পৃ- ৫২৫)
– এ কথাও সঠিক নয় যে, বুধবারের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুস্থতায় কোনোরূপ উন্নতি হয়নি; বরং এরপর আরেকদিন তিনি সুস্থতাবোধ করেছিলেন এবং মসজিদে গিয়ে যোহরের নামাযে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সহীহ হাদীসে এ ব্যাপারে স্পষ্ট বলা হয়েছে। দেখুন-
(সহীহ বুখারীঃ হা-৬৬৪, ৬৮০ ও ৬৮১; সহীহ মুসলিমঃ হা-৪১৮)
– এছাড়া সোমবার সকালেও তিনি সুস্থতাবোধ করেছিলেন- যার কারণে সাহাবী আবু বকর সিদ্দীক রাযি. অনুমতি নিয়ে নিজ ঘরে চলে গিয়েছিলেন। (সীরাতে ইবনে ইসহাকঃ পৃ-৭১১-৭১২)
– ইসলামী শরীয়তে ছুটির যে নীতিমালা রয়েছে- সে আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সফর মাসের শেষ বুধবারে ছুটি থাকা সঠিক নয়।
সর্বশেষ কথা এই যে, আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর সম্মানিত রাসূলের উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করা, অন্তর থেকে মুহাব্বত করা এবং কুরআন-সুন্নাহ ও নবীজির পবিত্র জীবন ও সীরাতের পরিপূর্ণ অনুসরণ করা একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। এক্ষেত্রে মনগড়া বিধি-বিধান কিংবা ভিত্তিহীন রসম-রেওয়াজের আশ্রয় না নিয়ে সহীহ ইলম ও এর ধারক-বাহকগণের সংস্পর্শে থেকে ইসলামী শরীয়তের জ্ঞান অর্জন করে সে অনুযায়ী জীবনকে পরিচালনা করা সমস্ত মুসলমানের জন্য অবশ্য কর্তব্য।

লিখেছেন- আব্দুল্লাহ আল মাসুম

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.