সভ্যতা ও সংস্কৃতি ইসলাম থেকেই এসেছে- আব্দুল্লাহ আল মাসূম

0
604
timthumb
timthumb

সভ্যতা-সংস্কৃতি যে কোনো দেশ, জাতি ও গোষ্ঠীর জাতীয় ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত। একটা জাতির অগ্রগতি ও সামগ্রিক বিকাশে সভ্যতা-সংস্কৃতির অবদানের কোনো তুলনা নেই। এছাড়া সভ্যতা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে একটা জাতি সারা বিশ্বে তার পরিচয় তুলে ধরে। এ সভ্যতা-সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর নানা দেশে বিভিন্ন রকমের উৎসব কিংবা অনুষ্ঠান পালিত হয়। কোনো সময় কোনো এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা প্রচলিত রীতি প্রথাও এক পর্যায়ে ওই এলাকার অধিবাসীদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরূপে পরিণত হয়।

পৃথিবীতে কোনো জাতিকে দমন কিংবা শেষ করে দেওয়ার জন্য উক্ত জাতির সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপর সবার আগে আক্রমণ করা হয়। এ আক্রমণ অন্য সব পন্থার চেয়ে ফলদায়কও হয়। কারো সভ্যতা বা সংস্কৃতির ওপর হামলে পড়া খুবই সহজ। কারণ এটা যেমন বাহির থেকে করা যায়, ঠিক তেমনি ভিতর থেকেও করা যায়। এছাড়া এ আক্রমণ অস্ত্রের আঘাতের মতো দৃশ্যমান হয় না; বরং চুপে চুপে এটা নিচ থেকে ওই সভ্যতার ধারক-বাহককে খেয়ে ফেলতে থাকে। এক পর্যায়ে তা ওই জাতিকে ফোকলা ও অকর্মণ্য করে দেয়। এ জন্য বলা হয়- তুমি কোনো জাতিকে ধবংস করে দিতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের প্রয়োজন নেই; বরং ওই জাতির সভ্যতা-সংস্কৃতিকে ধবংস করে দাও, তাহলেই ওই জাতি অল্প কয়েক দিনের ভিতর নিঃশেষ হয়ে যাবে।

বিধর্মী ও আল্লাহ ত’আলার প্রতি অবিশ্বাসী জাতি ইসলামের সভ্যতা-সংস্কৃতিকে ধবংস করার জন্য আরো বহু আগে থেকেই উঠে পড়ে লেগেছে। তারা তাদের কথিত সভ্যতা-সংস্কৃতি দ্বারা পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলতে চাইছে। অথচ বিষ্ময়কর ব্যাপার হলো, এই সভ্যতা-সংস্কৃতি একমাত্র ইসলামেরই অবদান। এমনকি সভ্যতা ও সংস্কৃতি- এ দুটি শব্দও ইসলাম থেকেই এসেছে।

এর আগে আমাদেরকে বুঝতে হবে, সহজ কথায় সভ্যতা ও সংস্কৃতি কাকে বলে? সভ্যতা বলে সাহচর্য অবলম্বন করে কাউকে অনুসরণ করাকে। অপরদিকে সংস্কৃতি শব্দের অর্থ হলো এমন কাজ- যা সবাই মিলে করে। সভ্যতা শব্দের উৎপত্তি আরবী সুহবাত শব্দ থেকে। সুহবাত শব্দের অর্থ অংশগ্রহণ করা বা সমবেত হওয়া। আর যে অংশগ্রহণ করে বা সমবেত হয়, সে হলো সভ্য। যাকে আরবীতে সাহিব বলে। ইসলামে সবচেয়ে বড় সাহিব হলেন নবীজির সাহাবীগণ। তাই তাঁরাই সভ্য। কারণ তাঁরা ঈমান আনার পর থেকে সারাক্ষণ নবীজির সাহচর্য্যে থেকেছেন। সরাসরি নবীজি থেকে তাঁরা শিক্ষা লাভ করেছেন। আরবী শব্দ সাহিব থেকেই পরবর্তীতে সাহাবী শব্দের রূপ পরিবর্তিত হয়েছে।

অপরদিকে সংস্কৃতি শব্দটি আরবী শব্দ সুন্নাহ থেকে এসেছে। সুন্নাহ শব্দের অর্থ হলো- যা সবাই করে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে বলেছেন-
عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين-
অর্থাৎ আমি ও আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাগণ যা করি- তোমরা তাই করবে।
সুতরাং নবীজি ও তাঁর খলীফা সাহাবীগণ যা করেছেন- তা সবাইকে করতে হবে। এটাই সবার কাজ। আর সবাই যা করে- তাই সংস্কৃতি। সুতরাং নবীজি উম্মতকে যা করতে বলেছেন এবং তাঁর চার খলীফাকে অনুসরণ করাপূর্বক যা কিছু করতে নির্দেশ দিয়েছেন- সেগুলোই আমাদের সবার কাজ। আবার যেহেতু নবীজি ও তাঁর চার খলীফার অনুসরণ আমরা সবাই মিলে করবো- এ জন্য আমাদের সবার সম্মিলিতভাবে নবীজির উপরোক্ত নির্দেশ মেনে চলাই হলো আমাদের সংস্কৃতি। এখন বুঝতে হবে- সংস্কৃতি শব্দের ব্যাখ্যা কী?

সংস্কৃতি শব্দটি প্রাচীন সংস্কৃত ভাষার একটি শব্দ। এ শব্দটি মূলত দুটি শব্দের যোগফল। শব্দ দুটি হলো ‘সম’ ও ‘কৃতি’। সম মানে সবাই এবং কৃতি মানে কাজ। সুতরাং সম ও কাজ মানে সবাই যে কাজ করে- ওই কাজ। অর্থাৎ এক কথায় সবার সম্মিলিত কাজ। সম ও কৃতি থেকেই সবার কাজ বা সংস্কৃতি। অতএব সভ্যতা ও সংস্কৃতি এ দুটি আরবী দুটি শব্দ অর্থাৎ সুহবাত ও সুন্নাহ থেকেই এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.