হাদীসের আলোকে কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত

0
507
Reading Quran
Reading Quran

হাদীস-১
عن أبي موسي رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: مثل المؤمن الذي يقرأ القرآن مثل الأترجة- ريحها طيب- وطعمها طيب- ومثل المؤمن الذي لا يقرأ القرآن مثل التمرة- لا ريحها لها وطعمها حلو- ومثل المنافق الذي لا يقرأ القرآن كمثل الحنظلة- ليس لها ريح وطعمها مر- ومثل المنافق الذي يقرأ القرآن مثل الريحانة- ريحها طيب- وطعمها مر-
সাহাবী আবু মূসা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
যে মুসলমান কুরআন তিলাওয়াত করে, তার দৃষ্টান্ত হলো কমলা লেবুর মতো- যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদও চমৎকার। আর যে মুসলমান কুরআন তিলাওয়াত করে না, তার তুলনা হলো খেজুরের মতো- যার কোনো ঘ্রাণ নেই, তবে স্বাদ খুবই মিষ্ট।
অপরদিকে যে মুনাফিক কুরআন শরীফ পড়ে না, তার দৃষ্টান্ত হানযালা ফলের মতো- যার স্বাদ তিক্ত এবং তাতে কোনো ঘ্রাণ নেই। আর যে মুনাফিক কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে তার দৃষ্টান্ত সুগন্ধি ফলের মতো- যার ঘ্রাণ চমৎকার, কিন্তু স্বাদ তিক্ত। (সহীহুল বুখারী; সহীহ মুসলিম; সুনানে ইবনে মাজাহ)

হাদীস-৩
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: تعلموا القرآن فاقرأوه فإن مثل القرآن لمن تعلم- فقرأ وقام به كمثل جراب محشو مسكا تفوح ريحه كل مكان- ومثل من تعلمه فرقد وهو في جوفه كمثل جراب- أوكي علي مسك-
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
তোমরা কুরআন শিক্ষা করে তা তিলাওয়াত করো। কারণ যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে তা রাতের সালাতে তিলাওয়াত করে, তার উদাহরণ ওই থলির মতো- যা মিশকে ভরপুর থাকে এবং তার ঘ্রাণ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। অপরদিকে যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষা করে শুয়ে কাটিয়ে দেয়, তার উদাহরণ ওই থলির মতো- যা মিশকে ভরপুর থাকে, কিন্তু তার মুখ বন্ধ করে রাখা আছে। (সুনানে তিরমিযী; সুনানে নাসায়ী; সুনানে ইবনে মাজাহ)

হাদীস-৪
عن عائشة رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: قرائة القرآن في الصلاة أفضل من قرائة القرآن في غير الصلاة- و قرائة القرآن في غير الصلاة أفضل من التسبيح والتكبير والتسبيح أفضل من الصدقة والصدقة أفضل من الصوم- والصوم جنة من النار-
সাহাবী আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
সালাতের মধ্যে কুরআন তিলাওয়াত করা সালাতের বাইরে তিলাওয়াত করা থেকে উত্তম। আর সালাতের বাইরে কুরআন তিলাওয়াত করা তাসবীহ-তাকবীর থেকে উত্তম। আর সদকা করা তাসবীহ-তাকবীর থেকে উত্তম। আর সিয়াম সদকা করা থেকে উত্তম। আর সিয়াম হলো আগুন থেকে বাঁচার জন্য ঢালস্বরূপ। (বায়হাকী ফী শু’আবিল ঈমান)

হাদীস-৫
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: أ يحب أحدكم إذا رجع إلي أهله أن يجد فيه ثلاث خلفات عظام سمان؟ قلنا: نعم- قال: فثلاث آيات يقرأ بهن أحدكم في صلاته خير له من ثلاث خلفات عظام سمان-
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
তোমাদের কেউ কী এটা পছন্দ করবে যে, নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে ৩ টি বড় আকারের মোটা তাজা গর্ভবতী উটনী লাভ করবে? আমরা সবাই বললাম- অবশ্যই ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা এটা পছন্দ করবো।
তখন তিনি বললেন- সালাতে কুরআনের ৩ টি আয়াত তিলাওয়াত করা এভাবে ৩ টি বড় আকারের মোটা তাজা গর্ভবতী উটনী লাভ করা থেকেও উত্তম। (সহীহ মুসলিম)

হাদীস-৬
عن عثمان بن عبد الله بن أوس رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: قراءة الرجل القرآن في غير المصحف ألف درجة- وقرائته في المصحف تضعف علي ذلك إلي ألفي درجة-
সাহাবী উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আওস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
কুরআন দেখে তিলাওয়াত করলে এক হাজার নেকী লাভ করা যায়। অপরদিকে কুরআন দেখে তিলাওয়াত করলে দুই হাজার নেকী অর্জিত হয়। (শু’আবুল ঈমান- বায়হাকি)

হাদীস-৭
عن بن عمر رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: إن هذه القلوب تصدأ كما يصدأ الحديد إذا أصابه الماء- قيل يا رسول الله! وما جلائها؟ قال: كثرة ذكر الموت و تلاوة القرآن-
সাহাবী ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
পানি লাগলে যেমন লোহার মধ্যে মরিচা ধরে, ঠিক তেমনি তোমাদের অন্তরেও মরিচা পড়ে। লোকেরা আরয করলো- অন্তরের মরিচা দূর করার উপায় কী?
তিনি বললেন- অধিক পরিমানে মৃত্যুর কথা স্মরণ করলে এবং কুরআন তিলাওয়াত করলে অন্তরের মরিচা দূর হয়। (বায়হাকী ফী শু’আবিল ঈমান)

হাদীস-৮
عن أبي ذر رضي الله عنه قلت يا رسول الله! أوصني- قال: عليك بتقوي الله- فإنه رأس الأمر كله- قلت يا رسول الله! زدني- قال: عليك بتلاوة القرآن- فإنه نور لك في الأرض و ذخر لك في السماء-
সাহাবী আবু যর রাযি. বলেন- আমি নবীজিকে বললাম- ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি ইরশাদ করলেন- আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করো; কারণ এটা সর্বপ্রকার নেক কাজের মূল। আমি আরয করলাম- আরো কিছু বলুন- তিনি ইরশাদ করলেন- কুরআন তিলাওয়াতের ইহতিমাম করো। কারণ এটা পৃথিবীর বুকে তোমার জন্য নুর এবং আখিরাতের সঞ্চিত ধন-সম্পদ। (সহীহ ইবনে হিব্বান)

হাদীস-৯
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: ما اجتمع قوم في بيت من بيوت الله يتلون كتاب الله ويتدارسونه بينه إلا نزلت عليهم السكينة وغشيتهم الرحمة وحفتهم الملائكة- وذكرهم الله فيمن عنده-
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
যখন কোনো জামাত আল্লাহ তা’আলার কোনো ঘরে একত্রিত হয়ে কুরআনের তিলাওয়াত ও পরস্পরে দরস প্রদান করে, তখন তাদের উপর সাকিনা (প্রশান্তি) অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ তা’আলার রহমত তাদেরকে আবৃত করে নেয় এবং রহমতের ফিরিশতাগণ তাদেরকে বেষ্টন করে রাখেন। আর আল্লাহ তা’আলা ফিরিশতাদের মজলিসে তাদের কথা আলোচনা করেন। (সহীহ মুসলিম; সুনানে আবি দাউদ)

হাদীস-১০
عن فضالة بن عبيد رضي الله عنه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: الله أشد أذنا إلي قارئي القرآن من صاحب القينة إلي قينته-
সাহাবী ফুযালা বিন উবাইদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
আল্লাহ তা’আলা কুরআন তিলাওয়াতকারীর আওয়াযকে ওই ব্যক্তির চেয়েও অধিক মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেন, যে তার নিজ প্রিয় গায়িকার গান কান লাগিয়ে শোনতে থাকে। (সুনানে ইবনে মাজাহ; সহীহ ইবনে হিব্বান; মুসতাদরাকে হাকিম)

হাদীস-১১
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: من استمع إلي آية من كتاب الله كتبت له حسنة مضاعفة- ومن تلاها كانت له نورا يوم القيامة-
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
যে ব্যক্তি কুরআনের আয়াত শ্রবণ করে, তার জন্য একটি নেকী লিখা হয়। আর যে কুরআন তিলাওয়াত করে, এটা তার জন্য কিয়ামতের দিবসে নুর হবে। (মুসনাদে আহমাদ)

হাদীস-১২
عن عقبة بن عامر رضي الله عنه عن أبي هريرة رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: الجاهر بالقرآن كالجاهر بالصدقة- والمسر بالقرآن كالمسر بالصدقة-
সাহাবী উকবা ইবনে আমির রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
উচ্চ আওয়াযে কুরআন তিলাওয়াতকারী প্রকাশ্যে সদকাকারীর সমতুল্য নেকী অর্জন করে। আর গোপনে তিলাওয়াতকারী গোপনে সদকাকারীর মতো নেকী অর্জন করে। (সুনানে তিরমিযী; সুনানে আবি দাউদ; সুনানে নাসায়ী; মুসতাদরাকে হাকিম)

হাদীস-১৩
عن عبد الله بن عمر رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: من قرأ القرآن فقد الستدرج النبوة بين جنبيه- غير أنه لا يوحي إليه- لا ينبغي لصاحب القرآن أن يجد مع من وجد ولا يجهل مع من جهل وفي جوفه كلام الله-
সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
যে ব্যক্তি কুরআন পড়লো, সে যেনো নবুয়তকে নিজের ভিতরে ধারণ করলো; তবে এতোটুকু পার্থক্য যে, তার ওপর ওহী অবতীর্ণ হয় না। অন্য লোকদের মতো কখনোই একজন কুরআনের বাহকের জন্য উচিত নয় যে, সে কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদ করবে অথবা যে তার সাথে মূর্খতার আচরণ করে, তার সাথে সেও মূর্খ লোকের মতো আচরণ করবে। কারণ তার ভিতরে তো আল্লাহ তা’আলার কালাম রয়েছে।

হাদীস-১৪
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: من قرأ عشر آيات في ليلة لم يكتب من الغافلين-
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
যে ব্যক্তি রাতে কুরআনের অন্তত ১০ টি আয়াত তিলাওয়াত করবে, সে ওই দিনের উদাসীন লোকদের মধ্যে গণ্য হবে না। (মুসতাদরাকে হাকিম)

হাদীস-১৫
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال النبي صلي الله عليه وسلم: من حافظ علي هؤلاء الصلوات المكتوبات لم يكتب من الغافلين- ومن قرأ في ليلة مائة آية كتب من الغافلين-
সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
যে ব্যক্তি প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ইহতিমাম করবে, সে উদাসীন লোকেদের মধ্যে গণ্য হবে না। আর রাতে কুরআন থেকে কমপক্ষে ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করবে, সে ওই রাতে কানিতীন (রাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারী) লোকদের মধ্যে গণ্য হবে। (সহীহ ইবনে খুযাইমাহ; মুসতাদরাকে হাকিম)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.