হাদীসের বর্ণনায় দাওয়াতের কথা

0
553
According to Hadith Dawat and Tablig
According to Hadith Dawat and Tablig

বর্ণিত আছে, সাহাবিয়া আয়েশা রাযি. বলেন-

خرج أبوبكر رضي الله عنه يريد رسول الله ﷺ ، وكان له صديقا في الجاهلية ، فلقيه ، فقال : يا أبا القاسم ، فقدت من مجلس قومك ، واتهموك بالعيب لآبائها و أمهاتها ، فقال رسول الله ﷺ : ” إني رسول الله ، أدعوك إلى  الله ” فلما فرغ من كلامه أسلم أبوبكر رضي الله عنه ، فانطلق عنه رسول الله ﷺ ما بين الأخشبين أحد أكثر سرورا منه بإسلام أبي بكر رضي الله عنه ، ومضى أبوبكر فراح لعثمان بن عفان وطلحة بن عبيد و زبير بن عوام و سعد بن أبي وقاص رضي الله عنهم ، فأسلموا ، ثم جاء الغد بعثمان بن مظعون و أبي عبيدة بن الجراح و عبد الرحمن بن عوف و أبي سلمة ين عبد الأسد و الأرقم بن الأرقم ، فأسلموا رضي الله عنهم .

সাহাবী আবু বকর রাযি. জাহিলিয়াতের যুগে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বন্ধু ছিলেন। একদিন তিনি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলেন।

সাক্ষাত হওয়ার পরে বললেন- আবুল কাসেম! (এটি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপনাম) কি ব্যাপার! আপনাকে আপনার কওমের মজলিসে দেখা যায় না, আর লোকেরা আপনাকে এই বলে অপবাদ দিচ্ছে যে, আপনি তাদের বাপ-দাদাদের দোষারোপ করেন।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- আমি আল্লাহ তা’আলার রাসূল। তোমাকে আমি আল্লাহ তা’আলার দিকে আহ্বান করছি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা শেষ হতেই আবু বকর রাযি. মুসলমান হয়ে গেলেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবু বকর রাযি. এর কাছ থেকে ফিরে আসলেন। তিনি আবু বকর রাযি.-এর ইসলাম গ্রহণের কারণে এতো আনন্দিত ছিলেন যে, মক্কার উভয় পাহাড়ের মাঝে আর কেউ এতো আনন্দিত ছিলো না।

সাহাবী আবু বকর রাযি. সেখান থেকে সাহাবী উসমান বিন আফ্ফান রাযি., সাহাবী তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রাযি., সাহাবী যুবায়ের বিন আ’ওয়াম রাযি. এবং সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাযি.-এর কাছে দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে গেলেন। তাঁরা সকলেই ইসলাম গ্রহণ করলেন।

দ্বিতীয় দিন তিনি সাহাবী উসমান বিন মাযউন রাযি., সাহাবী আবু উবায়দাহ বিন র্জারাহ রাযি., সাহাবী আব্দুর রাহমান বিন আওফ রাযি., সাহাবী আবু সালামা বিন আব্দুল আসাদ রাযি. ও সাহাবী আকরাম বিন আবু আকরাম রাযি. দেরকে নিয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে হাজির হলেন। তাঁরাও সকলে ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়ে গেলেন।  (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াহ, ৩য় খন্ড, ৮০পৃষ্ঠা)

  لما دخل رسول الله ﷺ مكة يوم الفتح و دخل المسجد ، أتى أبوبكر رضي الله عنه بأبيه يقوده ، فلما  رآه رسول الله ﷺ قال : هلا تركت الشيخ في بيته حتى أكون أنا آتيه فيه؟ فقال أبوبكر رضي الله عنه : يا رسول الله ! هو أحق أن يمشي إليك م أن تمشي إليه ، فقال : فأجلسه بين يديه ثم مسح صدره ثم قال له : اسلم ، فأسلم ، ودخل  به أبوبكر رضي الله عنه على رسول الله ﷺ و رأسه كأنها ثغامة ، فقال رسول الله ﷺ : غيروا هذامن شعره .

সাহাবিয়া আসমা বিনতে আবু বকর রাযি. বলেন- মক্কা বিজয়ের দিন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মক্কায় প্রবেশ করে মসজিদুল হারামে আসলেন। তখন সাহাবী আবু বকর রাযি. তাঁর পিতা আবু কুহাফাকে তার হাত ধরে নবীজির খেদমতে নিয়ে আসলেন।

তিনি তাকে দেখে বললেন- আবু বকর! আব্বাকে ঘরেই রেখে আসতে, আমি স্বয়ং তার কাছে ঘরে আসতাম! আবু বকর রাযি. বললেন- হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার কাছে যাওয়ার চাইতে তার হক বেশি যে, তিনি পায়ে হেঁটে আপনার কাছে আসবেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে নিজের সামনে বসালেন এবং তার বুকে ওপর হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন- আপনি মুসলমান হয়ে যান! ফলে তিনি মুসলমান হয়ে গেলেন।

সাহাবী আবু বকর রাযি. যখন তার পিতাকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আনলেন তখন তার মাথার চুল সাগামা নামক বৃক্ষের ন্যায় সাদা ছিলো। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- তার চুলের রংকে মেহেদী লাগায় পরিবর্তন করে দাও।

(মুসনাদে আহমাদ; তাবারানী; মাজমা’য়ে যাওয়ায়েদ, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা : ২৫৪)

لما أنزل الله عز و جل : ” وأنزر عشيرتك الأقربين ” (سورة الشعراء ،الأية ۲۱٤) ، قال : أتى النبي ﷺ الصفاء فصعد عليه ، ثم نادى : يا صباحاه! فاجتمع الناس إليه ، بين رجل يجيئ إليه ، و بين رجل يبعث رسوله ، فقال رسول الله ﷺ يا بني عبد المطلب! يا بني فهر! يا بني يا بني! أ رأيتم لو أخبرتكم أن خيلا بسفح  هذا الجبل ، تريد أن تغير عليكم ، صدقتموني؟ قالوا : نعم! قال : فإني نذير لكم بين يدي عذاب شديد ، فقال أبو لهب : تبا لك سائر اليوم ، أ ما دعوتنا إلا لهذا؟ فأنزل الله ﷻ : ” تبت يدآ أبي لهب و تب ” (سورة المسد ، الآية ۱)

সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাযি. বলেন- যখন আল্লাহ তা’আলা এই আয়াত নাযিল করলেন- অর্থাৎ আপনি আপনার নিকটতম আত্মীয়দেরকে ভয় প্রদর্শন করুন।

তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফা পাহাড়ের ওপর আরোহণ করে উচ্চস্বরে আওয়ায দিয়ে বললেন- হে লোকসকল! প্রত্যুষে শত্র“ আক্রমণ করবে। অতএব তোমরা সকলে এখানে সমবেত হও’।

সুতরাং সমস্ত লোক তাঁর কাছে সমবেত হলো। কেউ স্বয়ং হাজির হলো, আর কেউ নিজের প্রতিনিধি পাঠালো। অতঃপর তিনি বললেন- হে বনু আব্দুল মুত্তালিব! হে বনু ফিহির! হে অমুক গোত্র! হে অমুক গোত্র! বলো দেখি, যদি আমি তোমাদেরকে এই সংবাদ দেই যে, এই পাহাড়ের পিছনে ঘোড়সওয়ারদের এক সৈন্যদল অপেক্ষমান আছে, যারা তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তবে তোমরা কি আমাকে সত্যবাদী মানবে? সকলে বললো- হ্যাঁ! তিনি বললেন- আমি তোমাদেরকে এক কঠিন আযাব আসার আগেই ভয় প্রদর্শন করছি।

আবু লাহাব বললো- তুমি চিরদিনের জন্য ধ্বংস হও! (নাউযুবিল্লাহ)। আমাদেরকে কি শুধু এজন্যই ডেকেছিলে? তখন আল্লাহ তা’আলা সূরা লাহাব নাযিল করলেন। যাতে তিনি বলেন- আবু লাহাবের উভয় হাত ধ্বংস হোক এবং সে ধ্বংস হোক!     (মুসনাদে আহমাদঃ ৫/১৭)

رأيت رسول الله ﷺ في الجاهلية وهو يقول : يأيها الناس ، قولوا لآ اله إلا الله تفلحون ، فمنهم من تفل في وجهه، و منهم من حثا عليه التراب ، و منهم من سبه حتى انتصف النهار ، فأقبلت جارية بعس من ماء ، فغسل وجهه و يديه ، وقال : يا بنية ! لا تخشى على أبيك غيلة ولا ذلة ، فقلت من هذه؟ قالو : زينب بنت رسول الله ﷺ ، وهي جارية وضيئة .

সাহাবী মুনীব আযদী রাযি. বলেন- আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জাহিলিয়াতের যুগে দেখেছি, তিনি বলেছেন- হে লোকসকল! তোমরা বলো যে, আল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোনো মা’বূদ নেই, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে। তখন আমি দেখলাম, এ কথা বলতেই তাদের কেউ তাঁর চেহারায় থুথু দিয়েছে, আবার কেউ তাকে গালমন্দ করছিলো। এভাবে অর্ধদিন কেটে গেলো।

অতঃপর একটি মেয়ে একটি পেয়ালা নিয়ে আসলো। তিনি তা থেকে পানি নিয়ে নিজের চেহারা ও উভয় হাত ধুতে ধুতে বললেন- হে আমার মেয়ে! তুমি তোমার পিতার ব্যপারে আকস্মাৎ নিহত হয়ে যাওয়া বা কোনো প্রকার অপমানের আশঙ্কা করো না।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম- এই মেয়েটি কে? লোকেরা বললো- সে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে যায়নাব রাযি.। সে একজন সুশ্রী বালিকা ছিলো।   (তাবারানী; মাজমা’য়ে যাওয়ায়েদঃ ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা : ১৮)

  لما أن أظهر الله محمدا أرسلت إليه أربعين فارسا مع عبد شر ، فقدموا عليه بكتابي ، فقال له : ما اسمك؟ قال : عبد شر ، قال : بل أنت عبد خير ، فبايعه على الإسلام ، وكتب معه الجواب إلى حوشب ذي ظليم ، فآمن حوشب .

সাহাবী মুহাম্মাদ বিন উসমান রাযি. তাঁর বাবা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা সাহাবী হাওশাব রাযি. হতে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তা’আলা যখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিজয় দিলেন, তখন আমি আব্দে শার এর সাথে চলি¬শজন ঘোড়সাওয়ারের একটি জামাত তাঁর খেদমতে পাঠালাম।

তারা আমার চিঠি নিয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে পৌঁছলো। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন- তোমার নাম কী? তিনি বললেন- আমার নাম আব্দে শার (অর্থাৎ মন্দের গোলাম)। তিনি বললেন- না; বরং তুমি আব্দে খায়ের (অর্থাৎ কল্যাণের গোলাম)। অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে ইসলামের ওপর বাই’আত করলেন।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিঠির উত্তর লিখে তা হাওশাবের কাছে পাঠালেন (যাতে হাওশাবের প্রতি ইসলামের দা’ওয়াত ছিলো)। হাওশাব ওই চিঠি পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন।   

من رأى منكم منكرا فليغيره بيده ، فإن لم يستطع فبلسانه ، فإن لم يستطع فبقلبه ، وذلك أضعف الإيمان

সাহাবী আবু সাঈদ রাযি. বলেন- আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই ইরশাদ করতে শুনেছি, তোমাদের মধ্য থেকে যে কেউ কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখলে তার উচিৎ, সেটিকে নিজ হাত দ্বারা পরিবর্তন করে দিবে।

যদি এই শক্তি না থাকে, তাহলে নিজ যবান দ্বারা সেটিকে পরিবর্তন করে দিবে। আর যদি এই শক্তিও না থাকে, তাহলে অন্তর দ্বারা সেটিকে দমন করার পরিকল্পনা করবে। আর এটাই হলো ঈমানের সর্বাপেক্ষা দূর্বল অবস্থা।  (আসাবাহঃ ১/৩৮২; সহীহ মুসলিমঃ হা-১৭৭)

  مثل القائم على حدود الله والواقع فيها كمثل قوم استهموا على سفينة ، فأصاب بعضهم أعلاها و بعضهم أسفلها ، فكان الذي في أسفلها إذا استقوا من الماء مروا على من فوقهم ، فقالوا : لو أنا خرقنا في نصيبنا خرقا و لم نؤذ من فوقنا ، فإن يتركوهم وما أرادوا هلكوا جميعا ، و إن أخذوا على أيديهم نجوا ، و نجوا جميعا .

সাহাবী নো’মান বিন বশীর রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

যে ব্যক্তি আল্লাহ তা’আলার হুকুম পালন করে আর যে ব্যক্তি আল্ল¬াহ তা’আলার হুকুম পালন করে নাÑ তাদের উভয়ের উদাহরণ ওই সমস্ত লোকদের মতো, যারা একটি বড় জাহাজে আরোহন করেছে। আর লটারীর মাধ্যমে তাদের মাঝে জাহাজের তলা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে কিছু লোক জাহাজের ওপর তলায় এবং কিছু লোক জাহাজের নিচ তলায় আবস্থান করছে। নিচ তলার লোকদের যখন পানির প্রয়োজন হয়, তখন তারা উপর তলায় এসে সেখানে অবস্থানকারীদের মাঝে অতিক্রম করে। নিচতলার লোকেরা ভাবলো, যদি আমরা আমাদের অংশে একটি ছিদ্র করে উপর তলার লোকদেরকে কষ্ট না দেই, তবে কতই না উত্তম হবে!

এমতাবস্থায় যদি উপর তলার যাত্রীগণ নিচ তলার লোকদেরকে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেয় এবং তাদের এই সিদ্ধান্ত থেকে বাধা প্রদান না করে, তাহলে সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

আর যদি তারা তাদেরকে ছিদ্র করা থেকে তাদের হাতে ধরে বাধা দেয়, তাহলে তারা নিজেরাও বাঁচবে, অন্যান্য সমস্ত আরোহনকারীগণও বেঁচে যাবে।    (সহীহ বুখারীঃ হা-২৪৯৩)

  إن الله لا يعذب العامة بعمل الخاصة حتى تعمل الخاصة بعمل تقدر العامة أن تغيره و لا تغيره ، فذاك حين يأذن الله في هلاك العامة و الخاصة .

সাহাবী উরস্ বিন আ’মীরাহ রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

আল্লাহ তা’আলা কিছু লোকের ভুলের ওপর সকলকে আযাব দেন না, অবশ্য ওই অবস্থায় সকলকে আযাব দেন, যখন তাঁর হুকুম পালনকারীগণ শক্তি থাকা সত্ত্বেও অমান্যকারীদেরকে বাধা না দেয়।

(তাবারানী; মাজমা’য়ে যাওয়ায়েদঃ ৭/৫২৪)

  قال : ألا هل بلغت؟ قلنا : نعم! قال : اللَّهم اشهد فليبلغ الشاهد الغائب، فإن رُب مبلغ يبلغه من هو أوعى له.

সাহাবী আবু বাকরাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১০ই যিলহজ্জ মিনাতে খুৎবা প্রদান শেষে ইরশাদ করলেন-

আমি কি তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলার পায়গাম পৌঁছে দিয়েছি? সাহাবা রাযি. বললেন- জি¦ হ্যাঁ! আপনি পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বললেন- হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী হয়ে যান। অতঃপর তিনি বললেন- যারা এখানে উপস্থিত আছো, তারা ওই সমস্ত লোকদের কাছে আমার বার্তা পৌঁছিয়ে দিবে, যারা এখানে ইপস্থিত নেই। কেননা অনেক সময় দ্বীনের কথা যাকে পৌঁছানো হয়, সে ওই ব্যক্তির চেয়ে বেশি স্মরণ রাখতে সক্ষম হয়, যে নিজে পৌঁছে দেয়।  (সহীহ্ বুখারীঃ হা-৭০৭৮)

و الذي نفسي يده ، لتأمرون بالمعروف و لتنهون عن المنكر ، أو ليوشكن الله أن يبعث عليكم عقابا منه ثم تدعونه فلا يستجيب لكم .

সাহাবী হুযাইফা বিন ইয়ামান রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

সেই যাতের কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, তোমরা অবশ্যই সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করতে থাকো। নতুবা অতিসত্বর আল্লাহ তা’আলা তোমাদের ওপর তাঁর আযাব পাঠিয়ে দিবেন। অতঃপর তোমরা দু’আ করলেও আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের দু’আ কবুল করবেন না।      (সুনানে তিরমিযীঃ হা-২১৬)

قالت زينب لرسول الله ﷺ : يا رسول الله ! أفنهلك وفينا الصالحون ؟ قال : نعم ! إذا كثر الخبث .

সাহাবিয়া যায়নাব বিনতে জাহ্শ রাযি. বলেন-

আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে নেক লোক থাকা সত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো? তিনি বললেন- জি¦ হ্যাঁ, যখন অসৎ কাজ ব্যাপক হয়ে যাবে।      (সহীহ্ বুখারীঃ হা-৭১৩৫)

كان غلام يهودي يخدم النبي ﷺ ، فمرض ، فأتاه النبي ﷺ يعوده ، فقعد عند رأسه فقال له : أسلم! فنظر إلى أبيه و هو عنده ، فقال له : أطع أبا القاسم ! فأسلم ، فخرج النبي ﷺ و هو يقول : الحمد لله الذي أنقذه من النار .

সাহাবী আনাস বিন মালেক রাযি. বলেন-

এক ইহুদী বালক নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমত করতো। সে অসুস্থ হলে নবীজি তাকে দেখতে গেলেন। তিনি তার মাথার সামনে বসে বললেন- তুমি মুসলমান হয়ে যাও! সে তার পিতার দিকে তাকালো, যিনি তার সামনে ছিলেন।

তার পিতা বললেন- তুমি আবুল কাসেমের কথা মেনে নাও! অতএব সে বালক মুসলমান হয়ে গেলো। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বের হয়ে এসে বললেন- সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার, যিনি এই বালককে জাহান্নামের আগুন থেকে বেঁচে দিলেন।  (সহীহ্ বুখারীঃ হা-১৩৫৬)

إن هذا الخير خزائن ، ولتلك الخزائن مفاتيح ، فطوبى لعبد جعله الله مفتاحا للخير و مغلاقا للشر ، و ويل لعبد جعله الله مفتاحا للشر و مغلاقا للخير .

সাহাবী সাহল বিন সা’আদ রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

নিঃসন্দেহে কল্যাণ (দীনের) ভান্ডারসমূহ। (অর্থাৎ দ্বীনের ওপর আমল করা আল্লাহ তা’আলার অফুরন্ত নি’য়ামতের ভান্ডারসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার উপায়)। আর এই সমস্ত ভান্ডারসমূহের জন্য চাবি রয়েছে।

সুসংবাদ সেই ব্যক্তির জন্য, যাকে আল্লাহ তা’আলা কল্যাণের চাবি ও অকল্যাণের তালা বানিয়ে দেন। (অর্থাৎ যাকে হিদায়াতের মধ্যম বানিয়ে দেন)। আর ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য, যাকে আল্লাহ তা’আলা অকল্যাণের চাবি ও কল্যাণের তালা বানিয়ে দেন। ( অর্থাৎ যাকে গুমরাহীর মাধ্যম বানিয়ে দেন)।    (সুনানে ইবনে মাজাহঃ হা-২৩৮)

لقد شكوت إلى النبي ﷺ أني لا أثبت على الخيل ، فضرب بيده في صدري و قال : اللهم ثبته و اجعله هاديا مهديا .

সাহাবী জারীর রাযি. বলেন- একবার আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অভিযোগ করলাম যে, আমি ভালোভাবে ঘোড়ায় আরোহন করতে পারি না। তিনি আমার বুকের ওপর হাত মেরে দু’আ করলেন- হে আল্লাহ্! আপনি তাকে ভালো ঘোড়সওয়ার বানিয়ে দিন এবং নিজে সরল পথে চলে অন্যদের জন্য সরল পথ প্রদর্শনকারী বানিয়ে দিন।     (সহীহ বুখারীঃ হা-১১০৪)

  لا يحقر أحدكم نفسه ، قالوا : يا رسول الله ﷺ ! كيف يحقر أحدنا نفسه؟ قال : يرى أمرا ، لله عليه فيه مقال ، ثم لا يقول فيه ، فيقول الله عز و جل له يوم القيامة : ما منعك أن تقول في كذا و كذا؟ فيقول : خشية الناس ، فيقول : فإياي ، كنت أحق أن تخشى .

সাহাবী আবু সাঈদ রাযি. বর্ণনা করেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

তোমাদের কেউ নিজেদের হেয় মনে করো না। সাহাবায়ে কেরাম রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহর রাসূল! নিজেদের হেয় মনে করার অর্থ কী? তিনি ইরশাদ করলেন- যে বিষয়ে আল্লাহ্ তা’আলার পক্ষ থেকে সংশোধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ সে উক্ত বিষয়ে সংশোধনের জন্য কিছুই বলে না।

আল্লাহ্ তা’আলা কিয়ামতের দিন তাকে বলবেন- কোন জিনিস তোমাকে অমুক অমুক বিষয়ে কথা বলতে বাধা দিয়েছিলো? সে বলবে- মানুষের ভয়ে আমি বলিনি। আল্লাহ্ তা’আলা বলবেন- তোমার জন্য উচিত ছিলো যে, তুমি আমাকে ভয় করবে।  (সুনানে ইবনে মাজাহঃ হা-৪০০৮) 

  إن أول ما دخل النقص على بني إسرائيل كان الرجل يلقى الرجل فيقول : يا هذا ! اتق الله و دع ما تصنع فإنه لا يحل لك ، ثم يلقاه من الغد فلا يمنعه ذلك أن يكون أكيله و شريبه و قعيده ، فلما فعلوا ذلك ضرب الله قلوب بعضهم ببعض ، ثم تلى ﴿ لعن الذين كفروا من بني إسرائيل على لسان داؤد و عيسى بن مريم ، ذلك بما عصوا و كانوا يعتدون ۞ كانوا لا يتناهون عن منكر  فعلوه ، لبئسما كانوا يفعلون ۞ ترى كثيرا منهم يتولون الذين كفروا ، لبئسما قدمت لهم أنفسهم أن سخط الله عليهم و في العذاب هم خالدون ۞ و لو كانوا يؤمنون بالله و النبي و ما أنزل إليه ماتحذوهم أولياء و لكن كثيرا منهم فاسقون ۞﴾ (سورة المائدة ، الآية ۷۸-۸١) ثم قال : كلا و الله ! لتأمرن بالمعروف و لتنهون عن المنكر ، و لتأخذن على يدي الظالم ، و لتأطرنه على الحق أطرا ، و لتقصرنه على الحق قصرا .

সাহাবী আব্দুল্লাহ্ বিন মাস’ঊদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

বনী ইসরাঈলের মধ্যে সর্বপ্রথম অধঃপতন এভাবে শুরু হলো যে, একজন যখন অপরজনের সাথে সাক্ষাত করতো, তখন তাকে বলতো- হে অমুক! আল্লাহ্ তা’আলাকে ভয় করো। তুমি যে কাজ করছো, তা ছেড়ে দাও। কেননা তা তোমার জন্য বৈধ নয়। অতঃপর দ্বিতীয় দিন যখন তার সাথে আবার সাক্ষাত হতো, তখন সেই ব্যক্তি তার কথা না মানা সত্ত্বেও আগের সম্পর্কের কারণে তার সাথে খাওয়া-দাওয়া, উঠা-বসা আগের মতোই করতো।  

যখন তা ব্যপকভাবে হতে লাগলো এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা ছেড়ে দিলো, তখন আল্লাহ তা’আলা সৎ লোকদের অন্তরকে অসৎ লোকদের মতো কঠিন করে দিলেন। অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুর’আনুল কারীমের কয়েকটি আয়াত তিলাওয়াত করলেন, যার অর্থ এই-

“বনী ইসরাঈলের ওপর নবী দাঊদ ও নবী ঈসা বিন মারইয়াম আ’লাইহিমাস সালামের যবানে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। তা এই কারণে যে, তারা নাফরমানী ও সীমা লঙ্ঘন করতো। তারা যে অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকতো, তা থেকে তারা একে অপরকে নিষেধ করতো না। তাদের কাজ কতই না মন্দ ছিলো। আপনি তাদের অনেককে কাফেরদের থেকে বিমুখ হতে দেখবেন।

তো কতই না মন্দ ওই কাজ, যা তারা নিজেরা অগ্রবর্তী করেছে যে, আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারা চিরকাল অযাব ভোগ করবে। যদি তারা আল্লাহর ওপর এবং নবীর ওপর এবং নবীর ওপর যে কিতাব নাযিল করা হয়েছিলো, তার প্রতি ঈমান আনতো, তাহলে তারা তাদেরকে কখনো বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো না। কেননা তাদের অধিকাংশই পথভ্রষ্ট।”

অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক গুরুত্ব দিয়ে বললেন- তোমরা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করো, যালিমকে যুলুম থেকে বিরত রাখো এবং তাদেরকে হক কথার দিকে টেনে আনো এবং হকের ওপর অটল রাখো। (সুনান আবি দাঊদঃ হা-৪৩৩৬)

  يا أيها الناس! إنكم تقرءون هذه الآية : ﴿ يا أيها الذين آمنوا عليكم أنفسكم لا يضركم من ضل إذا اهتديتم ۞﴾ (سورة المائدة – الآية ١۰٥) و إني سمعت رسول الله ﷺ يقول : إنا الناس إذا رأو الظالم فلم يأخذوا على يديه أوشك أن يعمهم الله بعقاب منهم .

সাহাবী আবু বকর সিদ্দীক রাযি. বলেছেন-

হে লোকেরা! তোমরা এই আয়াত তিলাওয়াত করে থাকো- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের নিজেদের বিষয় চিন্তা করো। যদি তোমরা হিদায়াতপ্রপ্ত হও, তাহলে যারা পথভ্রষ্ঠ হচ্ছে, তারা তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।”

অথচ আমি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই ইরশাদ করতে শুনেছি-

যখন কোনো ব্যক্তি যালিমকে যুলুম করতে দেখা সত্ত্বেও তাকে ওই যুলুম থেকে বাধা প্রদান না করে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের সকলকে তার পক্ষ থেকে ব্যাপক আযাবে লিপ্ত করিয়ে দেন। (সুনানে তিরমিযীঃ হা-২১৬৮)

قال : سألت أبا ثعلبة الخشني رضي الله عنه فقلت : يا أبا ثعلبة ! كيف تقول في هذه الآية – ﴿ عليكم أنفسكم ۞﴾ (سورة المائدة – الآية ١۰٥) قال : أما و الله لقد سألت عنها خبيرا ، سألت عنها رسول الله ﷺ فقال : بل ائتمروا بالمعروف و تناهوا عن المنكر ، حتى إذا رأيت شحا مطاعا ، و هوى متبعا ، و دنيا مؤثرة ، و إعجاب كل ذي رأي برأيه ، فعليك يعني بنفسك ، و دع عنك العوام ، فإن من ورآءكم أيام الصبر ، الصبر فيه مثل قبض على الجمر ، للعامل فيهم مثل أجر خمسين رجلا يعملون مثل عمله . فقال أبو ثعلبة : يا رسول الله ﷺ ! أجر خمسين منهم؟ قال : أجر خمسين منكم .

সাহাবী আবু উমাইয়্যাহ শা’বানী রাযি. বলেন- আমি সাহাবী আবু সা’লাবা খুশানী রাযি. কে জিজ্ঞাসা করলাম- আপনি আল্লাহ তা’আলার ইরশাদ-  “তোমরা তোমাদের নিজেদের বিষয়ে চিন্তা করো।” -এর ব্যাপারে কী বলেন? তিনি বললেন- আল্লাহর কসম! তুমি এমন এক ব্যক্তির কাছে এ বিষয় জিজ্ঞাসা করেছো, যে এ বিষয় ভালোভাবে অবগত আছে।

আমি স্বয়ং নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই আয়াতের অর্থ জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন- এই আয়াতের মূল অর্থ হলো, তোমরা একে অন্যকে সৎ কাজের আদেশ করতে থাকো এবং অসৎ কাজ হতে বাধা প্রদান করতে থাকো।

অতঃপর যখন তোমরা দেখবে যে, লোকেরা ব্যপকভাবে কৃপণতা করছে, প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ করছে, দুনিয়াকে দ্বীনের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং প্রত্যেকে অন্যের সিদ্ধান্তকে কোন পরওয়া না করে নিজেদের সিদ্ধান্তের ওপর অটল থাকা শুরু করবে, তখন তোমরা সাধারণ লোকদের চিন্তা বাদ দিয়ে নিজেদের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে।

কেননা শেষ যুগে এমন দিন আসবে, যে দিনে দ্বীনের আহকামসমূহের ওপর অটল থেকে আমল করা জ¦লন্ত কয়লাকে হাতে নেওয়ার মতো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

ওই সময় একজন আমলকারী তার একটি আমলের বিনিময়ে তোমাদের পঞ্চাশজন আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবে। সাহাবী আবু সা’লাবা রাযি. বলেন- হে আল্লাহর রাসূল! যারা আমাদের পঞ্চাশজন লোকের পরিমাণ আমলের সাওয়াব পাবে, তারা কি তাদের মধ্য থেকে হবে? তিনি বললেন- তোমাদের মতো পঞ্চাশজনের সমপরিমাণ আমলের সাওয়াব তাদের মধ্যে একজন আমল করার বিনিময়ে পাবে।      (সুনান আবি দাঊদঃ হা-৪৩৪১)

  إياكم و الجلوس بالطرقات ، فقالوا : يا رسول الله ﷺ ! ما لنا من مجالسنا بد نتحدث فيه ، فقال : فإذا أبيتم إلا المجلس فأعطوا الطريق حقه ، قالوا : و ما حق الطريق يا رسول الله ﷺ ؟ قال : غض البصر ، و كف الأذى ، و رد السلام ، و الأمر بالمعروف و النهي عن المنكر .

সাহাবী আবু সাঈদ রাযিঃ বর্ণনা করেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

তোমরা রাস্তার ওপর বসবে না। সাহাবীগণ রাযি. আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের জন্য তো রাস্তার উপর না বসে কোনো উপায় নেই। আমরা তো সেখানে বসেই কথাবার্তা বলে থাকি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-

যদি তোমাদের বসতেই হয়, তাহলে তোমরা রাস্তার হক সমূহ আদায় করবে। সাহাবীগণ রাযি. আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাস্তার হক সমূহ কী? তিনি বললেন- দৃষ্টিকে অবনত করে রাখা, কষ্টদায়ক জিনিস বা বস্তুকে রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলা, সালামের জওয়াব দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ করা এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা।      (সহীহ বুখারীঃ হা-৬২২৯)

  ليس منا من لم يرحم صغيرنا و لم يوقر كبيرنا و لم يأمر بالمعروف و لم ينه عن المنكر .

সাহাবী আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

ওই ব্যক্তি আমাদের অনুসারীদের অন্তর্ভূক্ত নয়, যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না, আমাদের বড়দের সম্মান করে না, সৎ কাজের আদেশ করে না এবং অসৎ কাজের নিষেধ করে না।  (সুনানে তিরমিযীঃ হা-১৯২১)

١﴾  فتنة الرجل في أهله و ماله و ولده و جاره ، تكفرها الصلاة و الصدقة و الأمر بالمعروف و النهي عن المنكر .

সাহাবী হুযাইফা রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

মানুষের অনেক বিচ্যুতি হয়ে থাকে স্ত্রী-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এবং প্রতিবেশীদের সম্পর্কিত হুকুম পালনের ক্ষেত্রে। আর সালাত আদায় করা, দান-সদকা করা, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করার মাধ্যমে তার কাফ্ফারা হয়ে যায়।  (সহীহ্ বুখারীঃ হা-৭০৯৬)

أوحى الله إلى جبريل عليه السلام أن اقلب مدينة كذا و كذا بأهلها ، قال : يا رب ! إن فيهم عبدك فلانا لم يعصك طرفة عين ، قال : اقلبها عليه و عليهم  فإن وجهه لم يتمعر في ساعة قط .

সাহাবী জাবের রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

আল্লাহ তা’আলা ফিরিশতা জিবরীল আলাইহিস্ সালামকে হুকুম করলেন যে, অমুক শহরকে তার বাসিন্দাদের সহ উল্টিয়ে দাও! তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহ্! ওই শহরে তো আপনার অমুক বান্দা রয়েছে, যিনি এক মুহূর্তের জন্যও আপনার নাফরমানি করেনি।

আল্লাহ বলবেন- তুমি ওই ব্যক্তি সহ সকল বাসিন্দাদের নিয়ে শহরকে উল্টিয়ে দাও। কেননা সে শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদেরকে আমার নাফরমানী করতে দেখেও তার চেহারার রং কখনো পরিবর্তন হয়নি। (মিশকাতুল মাসাবীহঃ হা-৫১৫২)

  قام رجل إلى النبي ﷺ و هو على المنبر فقال : يا رسول الله ﷺ ! أي الناس خير ؟ قال : خير الناس أقرؤهم و أتقاهم و آمرهم بالمعروف و أنهاهم عن المنكر و أوصلهم للرحم .

সাহাবী দুররাহ বিনতে আবু লাহাব রাযি. বলেন-

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে বসে ছিলেন। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ! লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তিনি ইরশাদ করলেন- লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতকারী, সবচেয়ে বেশি তাকওয়ার অধিকারী, সবচেয়ে বেশি সৎ কাজের আদেশ দানকারী ও সবচেয়ে বেশি অসৎ কাজ হতে বাধা প্রদানকারী এবং সবচেয়ে বেশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী।   (মাজমা’ আয-যাওয়ায়েদঃ ৭/৫২০)

  قال : كأني أنظر إلى النبي ﷺ يحكي نبيا من الأنبياء ، ضربه قومه فأدموه و هو يمسح الدم و يقول : اللهم اغفر لقومي فإنهم لا يعلمون .

সাহাবী আব্দুল্লাহ্ রাযি. বলেন- আমি যেনো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে পেয়েছি যে, তিনি এক নবীর ঘটনা বর্ণনা করছেন, তাঁর কওম তাঁকে এতো মেরেছিলো যে, তঁকে রক্তাক্ত করে দিলো, আর তিনি তাঁর চেহারা থেকে রক্ত মুছে মুছে বলছেন- হে আল্লাহ্! আপনি আমার কওমকে ক্ষমা করে দিন, কেননা তারা জানে না।      (সহীহ বুখারীঃ হা-৩৪৭৭)

ما من رجل ينعش لسانه حقا يعمل به بعده ، إلا أجرى الله عليه أجره إلى يوم القيامة ، ثم وفاه الله عز و جل ثوابه يوم القيامة .

সাহাবী আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নিজ যবান দ্বারা কোনো এমন হক কথা বলে যায়, যার ওপর পরবর্তীতে আমল চলতে থাকে, আল্লাহ তা’আলা এর সাওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত জারি করে দেন। আবার আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন এর পুরোপুরি সাওয়াব দান করবেন।    (মুসনাদে আহমাদঃ ৩/২৬৬)

من دل على خير ، فله مثل أجر فاعله

সাহাবী আবু মাসঊদ বদরী রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি সৎ কাজের দিকে কাউকে পথ দেখায়, সে সৎকর্মকারীদের সমান সাওয়াব লাভ করে।  (সুনানে আবি দাঊদঃ হা-৫১২৯)

  من دعا إلى هدى ، كان له من أجر مثل أجور من تبعه ، لا ينقص ذلك من أجورهم شيئا ، و من دعا إلى ضلالة ،  كان عليه من الإثم مثل آثم من تبعه ، لا ينقص ذلك من آثمهم شيئا .

সাহাবী আবু হুরায়রা রাযি. বলেন- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

যে ব্যক্তি কোনো  হিদায়াত ও সৎ কাজের প্রতি কাউকে দা’ওয়াত দিবে, তো যারা তার অনুসরণ করবে, সে তাদের সকলের আমলের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। অনুসরণকারীদের সাওয়াব থেকে কোনো কিছু কম করা হবে না।

এমনিভাবে যে ব্যক্তি কোনো পথভ্রষ্টতার দিকে কাউকে দা’ওয়াত দিবে, তো যারা তার অনুসরণ করবে, সে তাদের সকলের আমলের সমপরিমাণ গুনাহ হবে। অনুসরণকারীদের গুনাহ থেকে কোনো কিছু কম করা হবে না।       (সহীহ্ মুসলিম, হা-৬৮০৪)

  خطب رسول الله ﷺ ذات يوم ، فأثنى على طوائف من المسلمين خيرا ، ثم قال : ما بال أقوام لا يفقهون جيرانهم ، و لا يعلمونهم ، ة لا يوعظونهم ، و لا يأمرونهم ، و لا ينهونهم ، و ما بال أقوام لا يتعلمون من جيرانهم ، و لا يتفقهون ، و لا يتعظون ، و الله ليعلمن قوم جيرانهم ، و يفقهونهم ، و يعظونهم ، و يأمرونهم ، و ينهونهم ، و ليتعلمن قوم من جيرانهم ،  و يتفقهون ، و يتعظون أو لأعاجلنهم العقوبة ، ثم نزل فقال قوم : من ترونه عنى بهؤلاء ؟ قالوا : الأشعريين ، هم قوم فقهاء ، و لهم جيران جفاة من أهل المياه و الأعراب ، فبلغ ذلك الأشعريين ، فأتوا رسول الله ﷺ فقالوا : يا رسول الله ! ذكرت قوما بخير ، و ذكرتنا من شر ، فما بالنا ؟ فقال : ليعلمن قوم جيرانهم ، و ليعظنهم ، و ليأمرنهم ، و لينهونهم ، و ليتعلمن قوم من جيرانهم ، و يتعظون ، و يتفقهون أو لأعاجلنهم العقوبة في الدنيا ، فقالوا : يا رسول الله ! أنفطن غيرنا ؟ فأعاد قوله و أعادوا قولهم . فقالوا : أمهلنا سنة ، فأمهلهم سنة ليفقهوهم ، و يعلموهم و يوعظوهم ، ثم قرأ رسول الله ﷺ هذه الآية : ﴿ لعن الذين كفروا من بني إسرائيل على لسان داؤد و عيسى بن مريم  ، ذلك بما عصوا و كانوا يعتدون ۞﴾ (سورة المائدة ، الآية ۷۸)

সাহাবী আলকামা বিন সাঈদ রাযি. বলেন-

একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুতবা পেশ করছিলেন, যাতে তিনি কিছু মুসলমান কওমের প্রশংসা করলেন। তারপর তিন ইরশাদ করলেন-

এটি কেমন কথা যে, কতিপয় কওম তাদের নিজ প্রতিবেশীদের মধ্যে না দ্বীনের বুঝ পয়দা করে, না দ্বীন শিক্ষা দেয়, না তাদেরকে নসীহত করে, না তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করে, না অসৎ কাজের নিষেধ করে। আর কি ব্যপার যে, কতিপয় কওম নিজ প্রতিবেশীদের থেকে না ইলম শিক্ষা করে, না দ্বীনের বুঝ অর্জন করে, না নসীহত গ্রহণ করে।

আল্লাহর কসম! এই সমস্ত লোকজন নিজ প্রতিবেশীদেরকে ইলম শিক্ষা দিবে, তাদের মধ্যে দ্বীনের বুঝ পয়দা করবে, তাদেরকে নসীহত করবে, তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করবে, এবং তাদেরকে অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে।

অপরদিকে অন্য লোকেরা তাদের প্রতিবেশীদের থেকে দ্বীন শিক্ষা করবে, তাদের থেকে দ্বীনের বুঝ হাসিল করবে এবং তাদের নসীহত গ্রহণ করবে। তা না হলে আমি তাদেরকে দুনিয়াতেই কঠিন শাস্তি দিবো। অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বর হতে নিচে নেমে আসলেন। 

লোকদের মাঝে এ বিষয় বলাবলি আরাম্ভ হলো যে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কওমকে উদ্দেশ্য করে এ কথাটি বলেছেন? লোকেরা বললো- আশআ’রী কওমের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই কথাগুলো বলেছেন। কেননা তারা সকলে ইলমওয়ালা আর তাদের আশপাশে গ্রামের লোকজন দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ।

আশআ’রীর লোকজনের কাছে যখন এই সংবাদ পৌঁছলো, তখন তারা নবীজির খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কতিপয় কওমের প্রশংসা করেছেন আর আমাদের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আমাদের কী অন্যায় হয়েছে?

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন-

এই সমস্ত লোকজন নিজ প্রতিবেশীদেরকে ইলম শিক্ষা দিবে, তাদের মধ্যে দ্বীনের বুঝ পয়দা করবে, তাদেরকে নসীহত করবে, তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করবে, এবং তাদেরকে অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। এমনিভাবে অন্য লোকেরা তাদের প্রতিবেশীদের থেকে দ্বীন শিক্ষা করবে, তাদের থেকে দ্বীনের বুঝ হাসিল করবে এবং তাদের নসীহত গ্রহণ করবে। তা না হলে আমি তাদেরকে দুনিয়াতেই কঠিন শাস্তি দিবো।

আশ’আরীগণ আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আমরা কি অন্যদেরকে জ্ঞান দান করবো? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুনরায় সেই হুকুম করলেন। তারা তৃতীয়বার জওয়াবে একই কথা বললো। আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও একই হুকুম দিতে থাকলেন।

অতঃপর তারা বললো- ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এক বছর সময় দিন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে তাদের প্রতিবেশীদের দ্বীন শিখানোর জন্য এক বছর সময় দিলেন। যাতে তারা তাদের মধ্যে দ্বীনের বুঝ পয়দা করে এবং তাদেরকে নসীহত করে।

অতঃপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনুল কারীমের এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন, যার অর্থ- বনী ইসরাঈলের ওপর নবী দাঊদ ও নবী ঈসা বিন মারইয়াম আলাইহিমাস সালামের যবানে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। তা এই কারণে যে, তারা নাফরমানী ও সীমা লঙ্ঘন করতো।  (আত-তারগীব, ১/১১২)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.