হাদীস সংকলনের সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিক ইতিহাস- ২য় পর্ব

0
528
Nababi Maszid
Nababi Maszid

বিভিন্ন গভর্নরদের নিকট প্রেরিত নবীজির লিখিত নির্দেশনা
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীগণের মধ্যে আরো যাদেরকে বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন, তাঁদেরকেও তিনি লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। যথা-
সাহাবী আবু হুরায়রা এবং আলী বিন হাযরামী রাযি.কে হিজর প্রদেশে যুরথ্রুস্তের অনুসারীদের নিকট প্রতিনিধি করে প্রেরণ করার সময় লিখিতভাবে দিক নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। তাতে যাকাত ও উশরের ব্যাপারে শরীয়তের বিধিমালা উল্লেখিত ছিলো।
এমনিভাবে সাহাবী মু’আয বিন জাবাল ও মালিক বিন মুরারা রাযি.কে ইয়ামানে প্রেরণ করার সময় শরীয়তের কিছু বিধান লিখিয়ে দিয়েছিলেন।

আগত প্রতিনিধিদলের প্রতি লিখিত নির্দেশনা প্রদান
মদীনা মুনাওয়ারার বাইরের অঞ্চলের অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণের পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে নিজেদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতো। আগত প্রতিনিধিরা কিছুদিন মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করে কুরআন-হাদীস ও ইসলামের জরুরি অন্যান্য বিষয় শিক্ষা লাভ করতো।
এরপর ফিরে যাওয়ার সময় তারা নিজের গোত্রের লোকজনের জন্য নবীজির কাছে লিখিতভাবে নির্দেশনা প্রদান করার জন্য আবেদন করতো। তখন নবীজি তাদেরকে জরুরি বিষয়ের নির্দেশনা লিখিয়ে দিতেন। এর কিছু উদাহরণ নিম্নরূপঃ

ইয়ামানে ওয়াইল বিন হুজর রাযি.-এর গোত্র
ওয়াইল বিন হুজর রাযি. ইয়ামান থেকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে আগমন করেন। কিছুদিন মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থানের পর তিনি নবীজির কাছে আরয করে বললেন-
আমার গোত্রের লোকজনের জন্য কিছু লিখে দেন।
এদিকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবী মুয়াবিয়া রাযি.কে দিয়ে তিনটি ফাইল লিখিয়েছিলেন। এর মধ্য থেতে একটি তিনি ওয়াইল বিন হুজর রাযি.কে প্রদান করেন।
(তাবাকাতে ইবনে সাদঃ ১/১৮; আল-ওয়াসাইকুস সিয়াসিয়্যাহ- নং-১০১, পৃ-১২৬-১৩০)

আব্দুল কায়েস গোত্র
আব্দুল কায়েস গোত্রের মুনকিয ইবনে হাইয়ান নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর গোত্রের কাছে ফিরে যাওয়ার সময় নবীজি তাঁকে লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেন। মুনকিয বিন হাইয়ান উক্ত লিখিত নির্দেশনা নিয়ে গোত্রের কাছে ফিরে আসেন। প্রথমে তিনি কাউকে এ ব্যাপারে কিছু জানাননি। পরে গোত্রের প্রধান ইসলাম গ্রহণ করলে তিনি এ লিখিত নির্দেশনা তার কাছে হস্তান্তর করেন।
গোত্রপ্রধান এ নির্দেশনা সকলের সামনে পড়ে শোনান। ফলে গোত্রের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করে। এ গোত্রের প্রতিনিধিদল উক্ত ঘটনার পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে আগমন করেছিলো। সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিমে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
(মিরকাতঃ ১/৮৮; শরহে মুসলিম- নববীঃ ১/৩৩)

গামেদ গোত্রের প্রতিনিধিদল
গামেদ গোত্রের প্রতিনিধিদল নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে ইসলাম গ্রহণ করে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সবাইকে সাহাবী উবাই বিন কাব রাযি.-এর কাছে প্রেরণ করেন। উবাই বিন কাব রাযি. তাদেরকে কুরআন শিক্ষা দেন।
এরপর ফিরে যাওয়ার সময় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে লিখিত একটি নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। যার মধ্যে ইসলামের প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান লেখা ছিলো। (তাবাকাতে ইবনে সাদঃ ১/৩৪৫)

খাস’আম গোত্রের প্রতিনিধিদল
খাস’আম গোত্রের পক্ষ থেকেও একটি প্রতিনিধিদল নবীজির দরবারে এসে ইসলাম গ্রহণ করে। ইসলাম গ্রহণ করার পর তারা বললো- আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে, তার প্রতিও ঈমান এনেছি।
সুতরাং হে নবী! আপনি আমাদেরকে লিখিত নির্দেশনা দিন, যা অনুসরণ করে আমরা চলবো। অতঃপর নবীজি তাদের জন্য একটি কিতাব লিখিয়ে দিয়েছিলেন। ওই সময়ে জাবির আব্দুল্লাহ সহ আরো অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

‘সালামাহ’ ও ‘হাদ্দান’ গোত্রের প্রতিনিধিদল
মক্কা বিজয়ের পর ‘সালামাহ’ ও ‘হাদ্দান’ গোত্রের প্রতিনিধিদল নবীজির দরবারে এসে ইসলাম গ্রহণ করে। নবীজি তাদের জন্যও একটি কিতাব লিখিয়ে দিয়েছিলেন। তাতে যাকাতের বিধান উল্লেখিত ছিলো। এ কিতাবটি লিখেছিলেন সাবিত বিন কায়েস রাযি.। ওবাদাহ এবং মুহাম্মাদ বিন মাসলামাহ তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সাবিত বিন কায়েস রাযি.-এর গোত্রের প্রতিনিধিদল
সাবিত বিন কায়েস রাযি.-এর গোত্রের প্রতিনিধিদেরকেও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। সে সময় আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ এবং ওমর রাযি. উপস্থিত ছিলেন। (তাবাকাতে ইবনে সাদঃ ১/৩৪৮, ৩৫৩)

চলবে ….

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.