হাদীস সংকলনের সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিক ইতিহাস- শেষ পর্ব

0
539
Nababi Maszid
Nababi Maszid

তৃতীয় পর্যায়ঃ হাদীস নিরীক্ষণ ও গ্রহণ সম্পর্কিত শাস্ত্রীয় উদ্ভাবন
এরপর আসলো তৃতীয় শতাব্দীর যুগ। এ শতাব্দীতে হাদীস সংকলনের কাজ উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছিলো। এ পর্যায়ে প্রথম শতাব্দীর সাধারণ অবস্থার তুলনায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো হাদীস সংকলনের ক্ষেত্রে নতুন ধারা হয়ে দেখা দিলো। যথা-
– এ সময়ে সনদ দীর্ঘ হওয়ার পাশাপাশি একটি হাদীস একাধিক সনদে বর্ণিত হতে লাগলো।
– জাল হাদীস থেকে সহীহ হাদীসকে আলাদা করার ধারা শুরু হয়ে গেলো।
– আগের চেয়ে এ সময়ে আরো কঠিন নীতিমালার আলোকে সহীহ হাদীস নির্ণয় হতে লাগলো।
– এরই প্রেক্ষিতে সনদ সম্পর্কে আলাদা শাস্ত্র আবিস্কৃত হলো। ফলে হাদীসের সনদের মান নির্ণয়ের ব্যাপার আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিলো।
এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই দ্বিতীয় শতাব্দীর পূর্ব ও পরের যুগের হাদীস বিশারদগণের মাঝে হাদীস গ্রহণ ও হাদীসের মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি ও শর্তাবলীর অনেক পার্থক্য সৃষ্টি হলো। এর ফলে তৃতীয় শতাব্দীর এ সময় থেকেই নবীজির হাদীস এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণের উক্তি আলাদা করে লেখার ধারা শুরু হয়।
এই তৃতীয় শতাব্দীতেই ‘সিহাহ সিত্তাহ’ রচিত হয়। তাছাড়া এ শতাব্দীতেই সংকলিত হাদীসের নিম্নোক্ত সংকলনও তৈরি হয়-
 ইমাম আহমাদ রহ.-এর ‘মুসনাদে আহমাদ’;
 ইমাম আব্দুর রাযযাক রহ.-এর ‘মুসনাদে আব্দুর রাযযাক’;
 ইমাম দারা কুতনীর ‘সুনানে দারা কুতনী’ ইত্যাদি।
(সূত্রঃ ইমাম ইবনে মাজাহ ওয়া কিতাবুহুস সুনান- আব্দুর রশীদ নোমানী; দরসে তিরমিযী- শায়খুল ইসলাম তাকি উসমানী)

সমাপ্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.